কুরআন এবং মৌমাছির “মিরাকল”

ভূমিকা

কুরআনকে ঐশ্বরিক কিতাব বলে প্রমাণ করতে ইসলামিস্টরা মৌমাছিদেরও রেহাই দেননি। এবিষয়ে তারা দাবি করেন, কুরআন ১৪০০ বছর আগেই জানিয়েছে যে, যেসব মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে ও মৌচাক তৈরি করে তারা স্ত্রীজাতীয় মৌমাছি, যা বিজ্ঞান সেদিন মাত্র জেনেছে।

দাবি

তারা যা দাবি করেন,

আল্লাহ্ কুরআনে বলেন,

16:68
وَأَوْحٰى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِى مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ
Bengali – Bayaan Foundation
আর তোমার রব মৌমাছিকে ইংগিতে জানিয়েছে যে, ‘তুমি পাহাড়ে ও গাছে এবং তারা যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে নিবাস বানাও।’

16:69
ثُمَّ كُلِى مِن كُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسْلُكِى سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ۚ يَخْرُجُ مِنۢ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوٰنُهُۥ فِيهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ۗ إِنَّ فِى ذٰلِكَ لَءَايَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
Bengali – Bayaan Foundation
অতঃপর তুমি প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর এবং তুমি তোমার রবের সহজ পথে চল। তার পেট থেকে এমন পানীয় বের হয়, যার রং ভিন্ন ভিন্ন, যাতে রয়েছে মানুষের জন্য রোগ নিরাময়। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।

উপরে উল্লেখিত আয়াতে ‘নির্মাণ’ শব্দটি আরবি শব্দ ‘আত্তাখিযী’ এর অনুবাদ, যা একটি স্ত্রীবাচক শব্দ (আরবী ব্যাকরণ ইংরেজি ব্যাকরণের মতো নয়, এটি নারী-পুরুষ আলাদা করে)। স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয় যখন শব্দটি স্ত্রীজাতীয় কোনোকিছু নির্দেশ করে। তাই কুরআন প্রকৃত অর্থে বলছে, ‘হে স্ত্রীজাতীয় মৌমাছি, নির্মাণ করো’। মৌমাছির ঝাক, যারা মধু সংগ্রহ করে এবং মৌচাক নির্মাণ করে, তারা শুধু স্ত্রীজাতীয় মৌমাছি হয়। তাই কুরআনের আয়াতের এই আদেশটি এই বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে মিলে যায় যে পুরুষ মৌমাছি মৌচাক তৈরিতে অংশ নেয় না।

মাইক্রোস্কোপ ১৬১০ সালের আগ অব্দি আবিষ্কৃত হয়নি। গ্যালিলিও নবী মুহাম্মদের হাজার বছর পর মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কার করেন। [1]

জবাব

পুরো দাবিটি এই বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে করা হয়েছে যে, কুরআনের লেখক একটি স্ত্রীবাচক বিশেষ্য এবং স্ত্রীবাচক ক্রিয়াপদ সমূহ ব্যাবহার করেছেন ইচ্ছাকৃতভাবে এবং আমাদের এটি জানানোর উদ্দেশ্যে যে যেসব মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে ও মৌচাক তৈরি করে তারা স্ত্রীজাতীয় মৌমাছি। যাইহোক, ‘মৌমাছি’ শব্দটি আরবীতে ‘النّحلة’ বা, ‘নাহলা’, যা মজ্জাগতভাবে একটি স্ত্রীবাচক শব্দ। [2] [3] কুরআনের লেখক এই শব্দটি আবিষ্কার করেননি, ঠিক যেমন আরবী ভাষা আবিষ্কার করেননি। আরবী ভাষার অস্তিত্ব যেমন ইসলামের সূচনার পূর্বেও ছিলো, তেমনি এই আরবী শব্দটির অস্তিত্বও ইসলামের সূচনার পূর্বে ছিলো। আরবীতে কিছু শব্দ স্ত্রীবাচক আবার কিছু শব্দ পুংলিঙ্গবাচক। যখন কুরআনের একটি আয়াতও প্রকাশিত হয়নি তখনও আরবের মানুষরা আরবীতে কথা বলতেন, আলোচ্য স্ত্রীবাচক শব্দটি ব্যাবহার করতেন। কুরআনের লেখকের একটি স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যাবহার করাটা এটি দাবি করার জন্য খুবই দূর্বল প্রমাণ যে তিনি আমাদের জানাতে চেয়েছেন বা ইংগিত দিতে চেয়েছেন যে যেসব মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে ও মৌচাক তৈরি করে তারা স্ত্রীজাতীয় মৌমাছি।

তথ্যসূত্র:

1. The Miracle of Honey. The Islamic Bulletin. n.d. Web. 18 December 2014
2. “bee” in Arabla– bab.la
3. Translation of “bee” – English-Arabic dictionary – Cambridge Dictionary

Marufur Rahman Khan

Marufur Rahman Khan is a Bangladeshi Atheist, Feminist, Secularist Blogger.

3 thoughts on “কুরআন এবং মৌমাছির “মিরাকল”

  • December 17, 2019 at 3:28 PM
    Permalink

    এই তথ্য টা তো এখানে অনেকেই জানে না ।

    Reply
  • January 12, 2020 at 5:42 AM
    Permalink

    আদিম মানুষের উদ্ভবের প্রায় পাঁচ কোটি ষাট লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে মৌমাছি নামের পতঙ্গটির আবির্ভাব। মিশরীয় প্রাচীন সংস্কৃতির যেসব পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে তাতে মধু-সন্ধানে আদিম মানুষ যে খুব তৎপর হয়েছিল সেই তথ্য পাওয়া যায়। ‘কুভ্যা দ্য লা আরানা’ নামের বিখ্যাত প্রস্তরচিত্রে মধুসংগ্রহকারীদের চিত্র খোদাই করা আছে।নবি মুহম্মদের জন্মভূমি আরব ভূখন্ডটি লোহিত সাগরের উপান্তে মিশরের ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত।মুহম্মদ ইসলাম প্রচারের পূর্বেই ব্যবসার জন্য আরবের লাগোয়া দেশ ভ্রমণ করার তথ্য সকলের জানা। সেই সময় মধু একটি লাভজনক পণ্য ছিল। পার্শবর্তী দেশ মিশরে মৌমাছি নিয়ে যেসব পৌরাণিক কাহন,উপকথা,রূপকথা, ও মৌমাছি নামের পতঙ্গটির জীবনচক্র ইত্যাদি বিষয়ে মুহম্মদের কোনো ধারণা ছিলনা একথা দিব্যি দিয়ে বেকুবরাই বলতে পারে।আমরা দেখতে পাই মুহম্মদের মিরাজের কাহনের ভেতর প্রাচীন ইরানের অগ্নীউপাসকদের ধর্মের ভেতরের রূপকথার আদলের নানা চরিত্রগুলো ভিন্ন নামে রূপায়িত হয়েছে।মুহম্মদ ছিলেন সন্ধানী মানুষ,ছিলেন বুদ্ধিমান ও কৌতুহলী। পাঁচ হাজার বছর আগে দক্ষিণ মিশরের প্রতীক ছিল মৌমাছি। মৌমাছি সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে তারা ঠিকই জানেন,সারা মিশর ও অপরাপর আরব ভূ-খন্ডের গ্রীণবেল্টগুলোতে মৌমাছি পালন ও মধুর ব্যবসার পসার ছিল সেই প্রাচীন কালেই। মৌমাছি বিষয়ে সকল তথ্য ও মৌমাছির জীবনচক্র বিষয়ে মৌচাষীদের জানা ছিল সেকালেও। কোরানের আল্লা ১৪শ বছর আগে যে তথ্যটা দিয়েছেন সেই তথ্য কমপক্ষে ৩হাজার বছর আগেই আরব ভূ-ভাগের তথ্য-সন্ধানী অনেক মানুষের জানা ছিল।বড় দুঃখ হয় মুমিন নামের প্রাণীদের জন্য,তারা এসব কথা বলে প্রকান্তরে কোরানকেই বেইজ্জত করছে।

    Reply
  • April 28, 2020 at 3:40 AM
    Permalink

    সুরার নাম নাহল।

    In Arabic, the bee is written as “Nahl” in the same way both for male and female. This word has no feminine form. However, the Qur’an uses the feminine form of the verb when it gives information about the inspiration which is given to the bee and what the bee does. As we have mentioned before, verbs in the Arabic language are conjugated in different ways according to the gender. This is also valid in many other languages of the world. When what the bee does is narrated in the Qur’an, the verb is conjugated in the feminine form. It is as follows:

    1- In the verse, in order to express the meaning “make habitation”, the word اِتَّخَذِي, (ittakhadhi) which is used for the feminine, is preferred instead of اِتَّخَذْ, (ittakhadh) which is used for the masculine.

    2- In order to express the meaning “eat of all fruits”, the word of كُلِي, (kulliy) which is used for the feminine, is preferred instead of كُلْ, (kul) which is used for the masculine.

    3- In order to express the meaning “follow the ways of your Lord”, the word of اُسْلُكِي, (uslukiy) which is used for the feminine, is preferred instead of اُسْلُكْ, (usluk) which is used for the masculine.

    4- The pronoun “their” in the sentence “There comes forth from their bellies” is expressed with the word هَا, (ha) which refers to the feminine instead of the word هُ, (hu) which refers to the masculine.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *