ইসলাম, গনিমতের মাল এবং আমাদের মানবতা!

ভূমিকা

আমরা বাঙালিরা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধে আমাদের প্রায় দুইলক্ষ নারী ধর্ষিত হয়েছে পাক বাহিনীর হাতে। বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা আজকে জানি, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সহ বাঙলাদেশেরই কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী যেমন জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো রাজাকার আলবদর আলশামস নামক নানা বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন কায়দায় তাদের ধর্ষণ করেছে। এরকম অনেক প্রমাণও রয়েছে যে, একটি কক্ষের ভেতরে নগ্ন করে বাঙালি যুবতী মেয়েদের রাখা হতো, যেন তারা জামা দিয়ে গলার ফাঁস বানিয়ে আত্মহত্যা করতে না পারে। সেই প্রবল ধর্ষণ আর অত্যাচারে আমাদের মা এবং বোনেরা আত্মহত্যার চেষ্টা করতো, কিন্তু পাকবাহিনী তাদের মরে যেতেও দিতো না। কারণ মৃত মেয়েরা আর ধর্ষণের উপযোগী থাকে না। আবার সেই পাকবাহিনী বৃদ্ধা দেখলে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যেত না, ওখানেই গুলি করে মেরে ফেলতো। কারণ বৃদ্ধা রমণী ধর্ষণের উপযোগী নয়।

সেই সময়ে যেই পাকসেনাবাহিনীর সাথে হাজার হাজার রাজাকার, আলবদর, আলশামস এসে দলে দলে যোগ দিয়েছিল, তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সম্পত্তি লুটপাট, নারী ধর্ষণ এবং রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠা। এই যে পাক বাহিনী এবং তাদের এদেশীয়় চামচা রাজাকার, আলবদরদের সীমাহীন অত্যাচার- আপনারা যদি পাকবাহিনীর সেনাদের বা রাজাকার আলবদরদের কাছ থেকে ৭১ এর ইতিহাস শোনেন, কি জানবেন আমি বলে দিতে পারি। তাদেরও এই বিষয়ে নানা বইপত্র রয়েছে, তারা কে কোথায় কী বলেছে সেগুলো লিপিবদ্ধ আছে।

তারা অনেকেই দাবী করেছে, ৭১ সালে দেশপ্রেমিক পাকবাহিনী পাকিস্তান এবং ইসলাম রক্ষার মহান দায়িত্ব নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিল এবং এখানে আসার পরে দুষ্কৃতিকারী কিছু ভারত ও হিন্দুদের দালালদের তারা দমন করে। কিছু বাঙালি সুন্দরী রমণী পাকবাহিনীর শৌর্যবীর্যে মুগ্ধ হয়ে পাকবাহিনীর জেনারেল, মেজর এবং অন্যান্য সদস্যদের প্রেমে পড়ে যায় এবং স্বেচ্ছায় তাদের দেহদান করে। তারা যেসব করে তা মোটেও ধর্ষণ ছিলো না! বরঞ্চ অসহায় বাঙালি নারীর পিতা, ভাই, সন্তান, স্বজনদের হত্যা করার পরে মানবতার খাতিরে তারা সহবত করেছে। তারা আশ্রয় দিয়েছে। নইলে সেই সব অসহায় নারীরা কই যেতো? পরবর্তীতে দুষ্কৃতিকারী মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় দস্যুরা এসে সেই সকল নারীদের ধর্ষণ করে এবং হত্যা করে…ইত্যাদি।

যুদ্ধে নারী ধর্ষণ

রাজাকার বাহিনীও একই কথা বলেছে দীর্ঘসময়। তারা প্রথমত স্বীকারই করেনি ধর্ষণের কথা। এরপর প্রমাণ দেয়া হলে তারাও পাকবাহিনীর মতো একই কথা বলে নিজেদের অপরাধকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছে। আপনাদের কি কথাগুলো হজম হচ্ছে? আপনি মানুষ হলে অন্তত কথাগুলো হজম হওয়ার কথা নয়। কথাগুলা কোন বাঙালির পক্ষেও হজম করা সম্ভব না। কি নারকীয় ধর্ষণ আর হত্যাযজ্ঞই না চালিয়েছে পাকবাহিনী আমাদের উপর। কিছু বর্ণনা দিতেই হচ্ছে।

  • ধরা পরা কোন মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পরলে সেই মেয়েগুলো আর ধর্ষনের উপযোগী থাকবে না। তাই গর্ভবতী হয়ে গেলে তাদের এক রাতে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে পেট চিড়ে ফেলত। ইসলামের পরিভাষায় যাকে আজল বলা হয়।
  • আবার বয়ষ্ক মহিলারাও ধর্ষণের উপযোগী নয়। তাদেরকে রাখা হতো ক্যাম্পের কাজের মানুষ হিসেবে এবং দেখা হতো তাদের ধর্ষণ করা সম্ভব কিনা, অথবা মেরে ফেলা হতো।
  • এমনও দেখা গেছে, স্তন ছোট বা গায়ের রঙ কালো হলে সে সব মেয়েদের একবার ধর্ষণ করেই মেরে ফেলা হয়েছে।
গনিমতের মাল

আপনারা সকলেই হয়ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভালোভাবে পড়েছেন। ঘটনাগুলো আপনারা জানেন, তারপরেও প্রাসঙ্গিকভাবেই বললাম। যুদ্ধবন্দীদের সাথে ইতিহাসে নানা যুদ্ধে কী কী আচরণ করা হয়েছে তা আপনারা সকলেই কমবেশি জানেন। সেগুলো নতুন করে ব্যাখ্যা করবার কিছু নেই। কোন গোত্রে আক্রমণ করা হলে, সেই সব গোত্রের সকল পুরুষকে হত্যা করে সেখানেই ধর্ষণযজ্ঞে মেতে উঠতো বিজয়ী বাহিনী। কোন দেশ আক্রমণ করা হলে, সেই দেশের নারীদের ওপর নেমে আসতো সীমাহীন নির্যাতন। মাসের পর মাস বছরের পর বছর ধরে ধর্ষণ করা হতো তাদের। সেরকম অবস্থায় সেই ধর্ষণ সহ্য করা ছাড়া মেয়েদের আর কোন উপায়ও থাকতো না। পুরো পরিবারকে হত্যা করে যখন বিজয়ী বাহিনী অস্ত্র হাতে একটা মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে, সেই সময়ে একটা মেয়ের কী বা করার থাকতে পারে? এমনকি, ভারতে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যে, কোন অঞ্চলের সব মেয়ে শত্রুর আক্রমণের ভয়ে একসাথে আত্মহত্যা করে ফেলেছে। কারণ তারা জানতো, শত্রু বিজয়ী হলে তাদের সাথে কী করা হবে। আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে দেয়া হবে না।

এবারে আসা যাক মুল আলোচনায়।

নবী মুহাম্মদের প্রাথমিক অবস্থা

আরবের হেরেমে বন্দী নারীগণ

ছোটবেলা একটি বইতে পড়েছিলাম, শর্ষীনার পীরসাহেব নাকি বাঙালি নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে পাকবাহিনী এবং রাজাকার আলবদরদের ভোগ করার ফতোয়া দিয়েছেন। শুনে খুব অবাক লেগেছিল। মনে মনে ভেবেছিলাম, এই ধরণের পীর সাহেবরা ইসলামের মত শান্তির ধর্মকে বদনাম করছে। পবিত্র শান্তির ধর্ম ইসলামে কোথাও কখনও এরকম কথা বলা নেই, থাকতেই পারে না। একটু বড় হলাম যখন, কোরআনের বাঙলা অনুবাদ পড়লাম, সেই সাথে বুখারী হাদিস এবং সহি মুসলিম হাদিস। পড়ে অবাক বিস্ময়ে মাথা কাজ করছিল না। অনেকদিন অনেকবার ভেবেছি, এই কি সেই মুহাম্মদ, যাকে আমি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ভাবতাম? গনিমতের মাল ভোগ, যুদ্ধবন্দী নারীকে ধর্ষন কি আসলেই ইসলামের বিধান কিনা, সেটা একটা গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন অবশ্যই। উল্লেখ্য, কোরআন এবং হাদিস হচ্ছে সর্বকালের, সর্বসময়ের জন্য মুসলমানদের বিধান বা আইন। সেখানে যা বলা হচ্ছে, বা মুহাম্মদ ব্যক্তিগত জীবনে যা করেছেন, মুসলমানদের ঠিক সেভাবেই সেই সব করা সুন্নত বলে গণ্য।

মুহাম্মদকে সবসময়ই খুব ভাল এবং আদর্শ মানুষ বলে জেনে এসেছি। ছোটবেলায় শুনতাম মুহাম্মদ তার চরম শত্রুকেও ক্ষমা করে দিতেন। কিন্তু বাস্তবে কোরআন হাদিস পড়ার পরে সেরকম কোন ঘটনা কোথাও খুঁজেই পেলাম না। পরে জেনেছিলাম, গৌতম বুদ্ধ থেকে শুরু করে এরকম অন্য কয়েকজন মহামানবের গল্প আসলে আমরা মুহাম্মদের নামে শুনি। সেগুলো আদৌ মুহাম্মদের গল্প নয়। তাহলে আসল মুহাম্মদ কেমন ছিলেন? এই বিষয়ে কোরআন হাদিস কী বলে?

এই বিষয়গুলো ভালভাবে জানতে আমাদের নজর দিতে হবে মুহাম্মদের সবচাইতে অথেনটিক জীবনী গ্রন্থের ওপর, সেই সাথে হাদিস এবং কোরআনের আয়াতের ওপর। এবং কোরআনের আয়াতের তাফসীরগুলো, শানে নুযূল বা ব্যাখ্যার ওপর। মুহাম্মাদের জীবন নিয়ে অনেক গুরুত্বপুর্ণ লেখক জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন। তার জীবনীগ্রন্থকে সাধারণভাবে “সিরাত” গ্রন্থ বলে। সকল জীবনীগ্রন্থের মধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য হলো ইবনে ইসহাক রচিত মুহাম্মাদের সর্বাধিক প্রাচীনতম নির্ভরযোগ্য জীবনী সংকলন সিরাতে ইবনে ইসহাক এবং তা হতে সম্পাদিত সিরাতে ইবনে হিশাম, আল তাবারি রচিত “সিরাতে রাসুলাল্লাহ”, ইবনে কাসির রচিত “আল-সিরাত আল-নববিয়াত”, মার্টিন লিংসের “মুহাম্মাদ : হিজ লাইফ বেজড অন দ্য আর্লিয়েস্ট সোর্সেস”, ক্যারেন আর্মস্ট্রং রচিত “মুহাম্মাদ : এ বায়োগ্রাফি অব দ্য প্রফেট” এবং “মুহাম্মাদ : এ প্রফেট অব আওয়ার টাইম”, মার্মাডিউক পিকথাল রচিত “আল আমিন : এ বায়োগ্রাফি অব প্রফেট মুহাম্মাদ”, সাম্প্রতিককালে রচিত আর্-রাহিকুল মাখতুম, বাংলা ভাষায় গোলাম মোস্তফা রচিত বিশ্বনবী, এয়াকুব আলী চৌধুরীর নুরনবী, মওলানা আকরম খাঁ রচিত মুস্তাফা চরিত প্রভৃতি। এই লেখাটিতে তাই সতর্কতার সাথে সব রেফারেন্স যথাসম্ভব ক্রস চেক করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই বইগুলোর ডাউনলোড লিঙ্ক দেয়া হচ্ছে। নিজেরাই পৃষ্ঠা নম্বর দেখে যাচাই করে নিন। [সহায়ক গ্রন্থ লিস্ট দেখুন]

নিজের ওপর আল্লাহর কাছ থেকে ওহী নাজিল হয়েছে দাবী করার পরে নতুন ধর্ম প্রচারের পরে পরে মুহাম্মদের প্রয়োজন হয়েছিল দল ভারী করবার। সেই সময়ে নানান পৌত্তলিক ধর্ম প্রচলিত ছিল, এক এক গোত্র এক এক দেবদেবীর উপাসনা করতো। ইহুদী এবং খ্রিস্টানও ছিল প্রচুর। মুহাম্মদ ঠিকই বুঝেছিল, মানুষ সব সময়েই দুটি জিনিসের বাধ্য- লোভ আর ভয়। মুহাম্মদ দোযখের ভয় জনগণকে এমনভাবেই দেখিয়েছেন যে সেই ভয়েই অনেক দুর্বল হৃদয়ের মানুষ সাথে সাথে ইসলাম কবুল করে। একই সাথে ছিল ইসলামে যোগ দিলে অশ্লীল লাভের প্রতিশ্রুতি, বেহেশত নামক পতিতাপল্লী এবং সুরীখানায় প্রবেশাধিকার। এই দুই-লোভ এবং ভয় দেখিয়ে মানুষকে দলে টানার কাজ ভালভাবেই চলছিল সে সময়ে। সেই সময়ে সংখ্য ছোট ছোট আরব বেদুইন দস্যু দল নানা জায়গাতে ডাকাতি করে বেড়াতো। সেই সব ডাকাতদের ডাকাতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন অনেক আরব জাতীয়তাবাদী নেতাই। কিন্তু সফল হয়েছিলেন একজন। তিনি হযরত মুহাম্মদ।

জিহাদের প্রতি আগ্রহের কারণ

মুহাম্মদের বংশ
মুহাম্মদের জন্মও হাশেমী বংশে, কোরআইশদের মধ্যে হাশেমীরা ছিলেন বেশ সম্ভ্রান্ত বংশ।

আপনারা জানেন যে মুহাম্মদ ইসলাম ধর্মের ঘোষনা দেয়ার পরে তার দলে বেশ কিছু মানুষ যোগ দেয় এবং বিপুল পরিমাণে মানুষ তার প্রচারিত ধর্মের বিরোধীতা করে। বিরোধীতার প্রধান উদ্দেশ্য অবশ্য ছিল রাজনৈতিক। সে সময়ে আরবের মক্কায় দুটো গ্রুপ শক্তিশালী ছিল, একটা গ্রুপের সদস্য মুহাম্মদ নবী হবার দাবী করায় অন্য গ্রুপটি নিজেদের কর্তৃত্ব হারাবার ভয়ে মুহাম্মদের প্রবল বিরোধীতা করে। সে সময়ে মুহাম্মদের প্রবর্তিত ইসলাম এবং সে সময়ের আরবের প্যাগান, খৃষ্টান এবং ইহুদীদের ভেতরে বেশ কিছু যুদ্ধ হয়। কোনও কোনও সময়ে মুহাম্মদের দল জয়লাভ করে, কোনও কোনও সময়ে কুরাইশরা বা বিধর্মীরা।

নতুন প্রচারিত ধর্মে যোগদানের জন্য মুহাম্মদকে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে, আল্লাহর নামে তিনি তার গ্রন্থ কোরআনে বলেছেন যে ইসলামের পথে জিহাদ করলে স্বর্গে অসংখ্য (৭২+) হুর গেলমান পাওয়া যাবে, দুধের সমুদ্র থেকে শুরু করে মদের নদী এমন কিছু নাই যে মুহাম্মদ লোভ দেখান নি। এ সকলই নতুন প্রবর্তিত ধর্মে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য। পরকালে নানা ধরণের সুখ সুবিধার কথা বলে মুহাম্মদ ক্রমশ দল ভারী করতে শুরু করেছিল। মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে শুধুমাত্র গনিমতের মাল ভোগের বিধান না থাকলেই এতো দ্রুত মুহাম্মদের সেনাবাহিনী খুব বেশি বৃদ্ধি পেতো না। নানা জায়গা থেকে ছোট ছোট দস্যু এবং ডাকাত দল জানতে পেরেছিল যে, নবী মুহাম্মদ একটা সেনাবাহিনী গঠন করেছে। যেই সেনাবাহিনী ছোট ছোট বাণিজ্য কাফেলা লুট করছে, ইহুদী গোত্রগুলোকে আক্রমণ করছে, এবং তাদের মালপত্র, স্ত্রী কন্যাদের গনিমতের মাল হিসেবে ভাগ করে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, জিহাদ করে মারা গেলে মুহাম্মদ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ৭২টি হুর, সেই হুর নামক বেশ্যারা এত্ত সুন্দরী যে, খোদ কোরআনেই তাদের রূপযৌবন বর্ণনা করা হচ্ছিল। হাদিসেও অসংখ্যবার সেইসব হুরের স্তন আর চিরঅক্ষত যোনীর লোভ দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ যুদ্ধ করে বেঁচে থাকলে গনিমতের মাল, মারা গেলে ৭২ খানা বেশ্যা। আরব বর্বর দস্যুদের সবচাইতে কামনার বস্তু। সে কারণে মুহাম্মদ খুব দ্রুত তার দলে অসংখ্য লোক ভিড়াতে সক্ষম হন।

কুরাইশ বা বিধর্মীদের সাথে যুদ্ধে গনিমতের মাল বা যুদ্ধে শত্রু সম্পত্তি ভোগ এবং দখলকে কেন্দ্র করে জিহাদীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিল। কিছু মানুষ মুহাম্মদের কাছে জানতে চাইলো যুদ্ধে মৃত শত্রুর ফেলে যাওয়া সম্পদ, স্ত্রী, শিশু, বাচ্চাকাচ্চা, বৃদ্ধ মা বাবা, উট, অর্থ এগুলো ভোগ করা যাবে কিনা? আসুন দেখি আমাদের মানবতার মহান পূজারী মুহাম্মদ এ সম্পর্কে কি বলেছেন! বেশ কিছু সাহাবী মুহাম্মদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলো যুদ্ধে প্রাপ্ত গনিমতের মালের মধ্যে নারীদের ধর্ষণ করা জায়েজ কিনা। পরম করুনাময় আল্লাহ্‌ তায়ালা সাথে সাথে ওহী লাজিল করে বসলেন।

মা মালাকাত আইমানুকুম বা মালিকানাভূক্ত দাসী

ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে পরিষ্কারভাবে মালিকানাধীন দাসীর সাথে যৌন সম্পর্ক হালাল করা হয়েছে। প্রখ্যাত অনুবাদক মহিউদ্দিন খানের অনুবাদ থেকে পড়িঃ

তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।
সুরা মুমিনুন আয়াত ৬

যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে, কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না।
সুরা আল-মা’আরিজ আয়াত ২৯-৩০

হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন।
সুরা আল-আহযাব আয়াত ৫০

তোমাদের জন্যে অবৈধ করা হয়েছে নারীদের মধ্যে সধবাগণকে (অন্যের বিবাহিত স্ত্রীগণকেও); কিন্তু তোমাদের দক্ষিন হস্ত যাদের অধিকারী– আল্লাহ তোমাদের জন্যে তাদেরকে বৈধ করেছেন।
সুরা নিসা আয়াত ২৪

দক্ষিণ হস্ত বলতে কি বুঝায় নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নাই, ডান হাত বলতে বুঝায় শক্তি প্রয়োগে প্রাপ্ত। ডান হাত শক্তি বা তলোয়ারের প্রতীক এটা নিশ্চয়ই জানা থাকার কথা। কোরআনের বাঙলা অনুবাদে ইদানীং এই আয়াতগুলোকে একটু বদলে দেয়া হচ্ছে। ভালভাবে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন। অবশ্য তাফসীরগুলোতে বেশ খোলামেলা ভাবেই এই বিষয়ে সব বলা রয়েছে।

আরবে নারী কেনাবেচা

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় জালালাইনের তাফসীরকারকদ্বয় বলেন- “অর্থাৎ, যাদেরকে তারা যুদ্ধের ময়দানে আটক করেছে, তাদের সাথে সহবাস করা তাদের জন্যে বৈধ, যদি তাদের স্বামীগণ দারুল হরবে জীবিতও থাকে”। উল্লেখ্য,দারুল হরব অর্থ- অমুসলিম রাষ্ট্র বা দেশ।অর্থাৎ স্বামী জীবিত আছে, এমন যুদ্ধবন্দীও ধর্ষনের উপযোগী।
দক্ষিন হস্তের অধিকার বলতে বোঝায় ক্রীতদাস বা দাসী (স্লেভস কিংবা মেইডস), যা যুদ্ধবন্দী হিসেবে কিংবা বাজার হতে ক্রয়সূত্রে মুসলমানদের দখলে আসে। ক্রীতদাসী মুসলমানদের দখলে যেভাবেই হোক আসলে তাদের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ বা হালাল। বর্তমান যুগেও যদি কোন কাফেরদের দেশ মুসলমানদের অধিকারে আসে, এই নিয়ম পালন করা বৈধ বা সম্পূর্ণ হালাল। কারণ কোরআন রোজ কেয়ামত পর্যন্ত যেমন আছে তেমনই থাকবে, কোরআনের কোনও আয়াত পালটাবার, বা সময়ের প্রয়োজনে তা সংশোধন করার অনুমতি কাউকেই দেয়া হয় নি।
সুরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর পড়ে নিই তাফসীরে জালালাইন থেকে। [ তথ্যসূত্র ১ ]

সুরা নিসা আয়াত ২৪
যুদ্ধবন্দী গনিমতের মাল

কোরআনের এই আয়াতটির তাফসির আমরা পড়তে পারি ইবনে কাসীরের প্রখ্যাত তাসফির গ্রন্থ থেকে। [ তথ্যসূত্র ২ ]

তাফসির ইবনে কাত্থির খণ্ড ৪,৫,৬,৭ পৃষ্ঠা ৩৪৩

এর আরো ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে পরবর্তী হাদিস সমূহ থেকে।

দাসী সঙ্গম করতেন খোদ নবী মুহাম্মদ

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, মুহাম্মদ নিজে কী দাসীদের সাথে যৌন সঙ্গম করতেন? এই বিষয়ে জানার জন্য নিচের হাদিসটি পড়া প্রয়োজন। হাদিসটি পাবেন সূনান নাসাঈ (ইফাঃ) খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা ১০৬ তে। [ তথ্যসূত্র ৩ ]

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৭/ স্ত্রীর সাথে ব্যবহার (كتاب عشرة النساء)
হাদিস নাম্বার: 3961
৩৯৬১. ইবরাহীম ইবন ইউনুস ইবন মুহাম্মাদ হারামী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি বাদি ছিল যার সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহবাস করতেন। এতে আয়েশা (রাঃ) এবং হাফসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে লেগে থাকলেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বদিটিকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ পাক নাযিল করেনঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ) “হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা আপনি নিজের জন্য কেন হারাম করে নিয়েছেন (সূরা তাহরীমঃ ১) ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
তাহক্বীকঃ সহীহ।

মুহাম্মদের দাসী ভোগ

এই দাসীটি হচ্ছে মারিয়া কিবতিয়া, যার গর্ভে নবী মুহাম্মদের একটি সন্তানও জন্ম নিয়েছিল। সেও একজন যুদ্ধবন্দী ছিলেন বলে জানা যায়। এই সম্পর্কে আরো বিস্তারিত পাবেন এই লেখাটিতে। [ তথ্যসূত্র ৪ ]

জিহাদ এবং গনিমতের মাল

এবারে আসুন কোরআনের কিছু আয়াত লক্ষ্য করি। অনুবাদ পড়ি দারুস সালাম প্রকাশনী থেকে বের হওয়া বাংলা তাসফির কুর’আনুল কারিম – অনুবাদঃ প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ মুজীবুর রহমান থেকে। [সহায়ক গ্রন্থ ৮]

But (now) enjoy what ye took in war (booty), lawful and good; but fear God
সুরা আনফাল আয়াত ৬৯

গনিমত

“when you meet the unbelievers, strike off their heads; then when you have made wide Slaughter among them, carefully tie up the remaining captives”
অতঃপর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দার মার, অবশেষে যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না।
সুরা মুহাম্মদ আয়াত ৪

কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করো

উপরের ৪ এবং ৭ নম্বর আয়াত দুটো মন দিয়ে পড়ুন। আল্লাহ পাক বান্দাদের সাহায্য চাচ্ছেন, কাফেরদের হত্যা করার জন্য। কী হাস্যকর! মহাবিশ্বের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহ পাকের কী করুন অবস্থা! মহান করুণাময় আল্লাহ তালাহ মুমিন বান্দাদের উৎসাহ দিচ্ছেন অবিশ্বাসীদের কল্লা ফেলতে, এবং তাদের মধ্য থেকে বন্দীদের টাইট করে বাধতে, দাস বানাতে!

নিচের হাদিসটি পড়ুন। ইসলামে অতর্কিত আক্রমণ সম্পূর্ণ বৈধ। এইসব সহিহ হাদিসকে অস্বীকার করলে ইমানই থাকবে না। [ তথ্যসূত্র ৫ ]

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছেদঃ ১. যে সকল বিধর্মীর কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছে, পূর্ব ঘোষণা ব্যতীত তাদের বিরুদ্ধে আক্রমন পরিচালনা বৈধ
৪৩৭০। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) … ইবনু আউন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমি নাফি’ (রহঃ) কে এই কথা জানতে চেয়ে পত্র লিখলাম যে, যুদ্ধের পূর্বে বিধর্মীদের প্রতি দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া প্রয়োজন কি না? তিনি বলেন, তখন তিনি আমাকে লিখলেন যে, এ (নিয়ম) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ মুসতালিকের উপর আক্রমণ করলেন এমতাবস্থায় যে, তারা অপ্রস্তুত ছিল (তা জানতে পারেনি।) তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল। তখন তিনি তাদের যোদ্ধাদের (পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ) হত্যা করলেন এবং অবশিষ্টদের (নারী শিশুদের) বন্দী করলেন। আর সেই দিনেই তাঁর হস্তগত হয়েছিল। (ইয়াহইয়া বলেন যে, আমার ধারণা হল, তিনি বলেছেন) জুওয়ায়রিয়া অথবা তিনি নিশ্চিতরূপে ইবনাতুল হারিছ (হারিছ কন্যা) বলেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এই হাদীস আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি সেই সেনাদলে ছিলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু ‘আউন (রহঃ)

অতর্কিত আক্রমণ
নারী ধর্ষণ

যুদ্ধবন্দী হিসেবে যেই সকল নারীদের জিহাদিগণ হস্তগত করতো, দেখা যেতো, যুদ্ধের ময়দানেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তো মুহাম্মদের অনুসারীগণ। যুদ্ধ বা অতর্কিত আক্রমণে নারী এবং অলঙ্কার দেখলে উম্মত হয়ে উঠতো মুহাম্মদের জিহাদীগণ, তাদের আর আটকে রাখা যেতো না। এমনকি, নারীগণ দৌড়ে পালাতে চাইলে তাদের পেছনেই ধাওয়া করতো জিহাদীরা।

নিচের হাদিসটি পড়ুনঃ [ তথ্যসূত্র ৬ ]

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫১/ মাগাযী (যুদ্ধাভিযান)
পরিচ্ছেদঃ ২১৭৯. উহুদ যুদ্ধ। মহান আল্লাহর বাণীঃ [হে রাসুল!] স্মরণ করুন, যখন আপনি আপনার পরিজনবর্গের নিকট হতে প্রত্যুষে বের হয়ে যুদ্ধের জন্য মু’মিনদেরকে ঘাঁটিতে স্থাপন করেছিলেন। এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ (৩ঃ ১২১) আল্লাহ্‌র বাণীঃ তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না; তোমরাই বিজয়ী, যদি তোমরা মু’মিন হও। যদি তোমাদের আঘাত লেগে থাকে তবে অনুরূপ আঘাত তাদেরও তো (বদর যুদ্ধে) লেগেছে। মানুষের মধ্যে এ দিনগুলোর পর্যায়ক্রমে আমি আবর্তন ঘটাই, যাতে আল্লাহ্‌ মু’মিনদেরকে জানতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য হতে কতককে শহীদরূপে গ্রহন করতে পারেন এবং আল্লাহ্‌ জালিমদের পছন্দ করেন না। আর যাতে আল্লাহ্‌ মু’মিনদের পরিশোধন করতে পারেন এবং কাফিরদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেন। তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, যখন আল্লাহ্‌ তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করেছে এবং কে ধৈর্যশীল তা এখনো জানেন না? মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার পূর্বে তোমরা তা কামনা করতে, এখন তো তোমরা তা স্বচক্ষে দেখলে! (৩ঃ ১৩৯-১৪৩) মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ আল্লাহ্‌ তোমাদের সাথে তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন যখন তোমরা আল্লাহ্‌র অনুমতিক্রমে তাদেরকে বিনাশ করেছিলে, যে পর্যন্ত না তোমরা সাহস হারালে এবং [রাসুল (সাঃ) এর] নির্দেশ সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করলে এবং যা তোমরা ভালবাস তা তোমাদেরকে দেখাবার পর তোমরা অবাধ্য হলে। তোমাদের কতক ইহকাল চেয়েছিল এবং কতক পরকাল চেয়েছিল। এরপর তিনি পরিক্ষা করার জন্য তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন। অবশ্য তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল (৩ঃ ১৫২) মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ যারা আল্লাহ্‌র পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে তোমরা কখনো মৃত মনে করো না বরং তারা জীবিত এবং তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তারা জীবিকাপ্রাপ্ত (৩ঃ ১৬৯)
৩৭৪৮। উবায়দুল্লাহ্‌ ইবনু মূসা (রহঃ) … বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঐ দিন (উহুদ যুদ্ধের দিন) আমরা মুশরিকদের মুকাবিলায় অবতীর্ণ হলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ‌ (ইবনু জুবাইর) (রাঃ) কে তীরন্দাজ বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করে তাদেরকে (নির্ধারিত এক স্থানে) মোতায়েন করলেন এবং বললেন, যদি তোমরা আমাদেরকে দেখ যে, আমরা তাদের উপর বিজয় লাভ করেছি, তাহলেও তোমরা এখান থেকে সরবে না। অথবা যদি তোমরা তাদেরকে দেখ যে, তারা আমাদের উপর জয় লাভ করেছে, তাহলেও তোমরা এই স্থান পরিত্যাগ করে আমাদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসবে না। এরপর আমরা তাদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে তারা পালাতে আরম্ভ করল। এমনকি আমরা দেখতে পেলাম যে, মহিলাগণ দ্রুত দৌড়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিচ্ছে। তারা বস্ত্র পায়ের গোছা থেকে টেনে তুলছে, ফলে পায়ের অলংকারগুলো পর্যন্ত বেরিয়ে পড়ছে। এ সময় তারা (তীরন্দাজ বাহিনীর লোকরা) বলতে লাগলেন, এই গনীমত-গনীমত! তখন আবদুল্লাহ‌ [ইবনু জুবাইর (রাঃ)] বললেন, তোমরা যেন এ স্থান না ছাড় এ ব্যাপারে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তারা এ কথা অগ্রাহ্য করল।
যখন তারা এ কথা অগ্রাহ্য করল, তখন তাদের রোখ ফিরিয়ে দেয়া হল এবং শহীদ হলেন তাদের সত্তর জন সাহাবী। আবূ সুফিয়ান একটি উঁচু স্থানে উঠে বলল, কাওমের মধ্যে মুহাম্মদ জীবিত আছে কি? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার কোন উত্তর দিওনা। সে আবার বলল, কাওমের মধ্যে ইবনু আবূ কুহাফা (আবূ বকর) বেঁচে আছে কি? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার কোন জবাব দিও না। সে পুনরায় বলল, কওমের মধ্যে ইবনুল খাত্তাব কি জীবিত আছে? তারপর সে বলল, এরা সকলেই নিহত হয়েছে। বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই জবাব দিত। এ সময় উমর (রাঃ) নিজেকে সামলাতে না পেরে বললেন, হে আল্লাহর দুশমন, তুমি মিথ্যা কথা বলছ। যে জিনিসে তোমাকে লাঞ্ছিত করবে আল্লাহ তা বাকি রেখেছেন।
আবূ সুফিয়ান বলল, হুবালের জয়। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা তার উত্তর দাও। তারা বললেন, আমরা কি বলব? তিনি বললেন, তোমরা বল- اللَّهُ أَعْلَى وَأَجَلُّ ‘আল্লাহ সুমন্নত ও মহান’। আবূ সুফিয়ান বলল لَنَا الْعُزَّى وَلاَ عُزَّى لَكُمْ‏ আমাদের উয্‌যা আছে আছে, তোমাদের উয্‌যা নেই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার জবাব দাও। তারা বললেন, আমরা কি জবাব দেব? তিনি বললেন, বল- اللَّهُ مَوْلاَنَا وَلاَ مَوْلَى لَكُمْ ‘আল্লাহ আমাদের অভিভাবক, তোমাদের তো কোনো অভিভাবক নেই’। পরিশেষে আবূ সুফিয়ান বলল, আজকের দিন বদর যুদ্ধের বিনিময়ের দিন, যুদ্ধ কূপ থেকে পানি উঠানোর পাত্রের মত (অর্থাৎ একবার এক হাতে আরেকবার অন্য হাতে) (যুদ্ধের ময়দানে) তোমরা নাক-কান কাটা কিছু লাশ দেখতে পাবে। আমি এরূপ করতে আদেশ করিনি। অবশ্য আমি এতে অসন্তুষ্টও নই। আবদুল্লাহ‌ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন কিছু সংখ্যক সাহাবী সকাল বেলা শরাব পান করেছিলেন।* এরপর তাঁরা শাহাদাত বরণ করেন।
* তখন পর্যন্ত শরাব পান করা হারাম ঘোষিত হয়নি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ বারা’আ ইবনু আযিব (রাঃ)

যুদ্ধাভিযান

একটা ক্ষেত্রে মুহাম্মদের প্রশংসা করতেই হয় যে, তিনি এই ভয়াবহ বিকৃতরুচির জিহাদিদের উন্মত্ততা দেখে নির্দেশ দিয়েছিলেন, অন্ততপক্ষে গর্ভবতী নারীদের ওপর যেন জিহাদিগণ হামলে না পরেন। পড়ুন নিচের হাদিসগুলো– [ তথ্যসূত্র ৭ ]

গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৬/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯. বন্দী স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস করা।
১৫৪. আমর ইবন আওন …… আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কোন গর্ভবতী বন্দিনীর সাথে তার সন্তান প্রসবের আগে এবং কোন রমনীর সাথে তার হায়েয হতে পবিত্র হওয়ার পূর্বে সহবাস করবে না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৬/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯. বন্দী স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস করা।
২১৫৫. আন- নুফায়লী ….. রুওয়াইফি’ ইবন সাবিত আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি (রুওয়াইফি’) আমাদের মধ্যে খুতবা প্রদানের সময় দন্ডায়মান হয়ে বলেন, আমি তোমাদেরকে তা-ই বলব, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। তিনি হুনায়নের (যুদ্ধের) সময় বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে, সে যেন অন্যের খেতে পানি সেচ না করে অর্থাৎ অন্যের গর্ভবতী কোন নারীর সাথে সহবাস না করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে, তার জন্য কোন বন্দিনী গর্ভবতী নারীর সাথে সহবাস করা বৈধ নয়, যতক্ষণ সে সন্তান প্রসব করে পবিত্র না হয়। আরো বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলা ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্য গণীমতের মাল বণ্টনের আগে বিক্রয় করা হালাল নয়।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ রুয়ায়ফি ইবন সাবিত (রাঃ)

বন্দী স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস
যুদ্ধবন্দী নারীর সাথে সহবাস

এবারে সহিহ মুসলিম গ্রন্থ থেকে আরেকটি হাদিস পড়ি। [ তথ্যসূত্র ৮ ]

সহিহ মুসলিম যুদ্ধবন্দিনীর সাথে সহবাস

এইরকম নির্দেশ দেয়ার কারণ বোঝার জন্য আইনস্টাইন হওয়ার দরকার হয় না। মুহাম্মদের অনুসারীগণ এতটাই উম্মত্ত ছিল গনিমতের মাল হিসেবে নারী ধর্ষণে, যে মুহাম্মদের মত মানুষকেও রীতিমত নিয়মজাড়ি করে বলে দিতে হয়েছিল যে, গর্ভবতী নারীর বাচ্চা জন্ম হওয়ার আগে তাকে ধর্ষণ করা যাবে না। তবে তাদের স্বামী যদি জীবিত থাকে, ইদ্দতের এবং বিলিবণ্টনের পরে তাদেরকে ধর্ষণ করতে মুহাম্মদ কোন বাধা দেন নি।

যুদ্ধে যেসব নারীদের বন্দী হতো, তাদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ স্বয়ং বেশ কয়েকজনকে নিজের স্ত্রী কিংবা উপপত্নী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটিকেই তিনি নিজের জন্যে রাখতেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হওয়া সহিহ বুখারী শরীফ থেকে নিচের হাদিসটি লক্ষ্য করুন। [ তথ্যসূত্র ৯ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৪৮/ জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ১৮১৪. যুদ্ধে যে ব্যক্তি খিদমতের জন্য কিশোর নিয়ে যায়
২৬৯৪। কুতাইবা (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালহাকে বলেন, তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে একটি ছেলে খুঁজে আন, যে আমার খেদমত করতে পারে। এমনকি তাকে আমি খায়বারেও নিয়ে যেতে পারি। তারপর আবূ তালহা (রাঃ) আমাকে তাঁর সওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিয়ে চললেন। আমি তখন প্রায় সাবালক। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমত করতে লাগলাম। তিনি যখন অবতরন করতেন, তখন প্রায়ই তাকে এই দুয়া করতে শুনতামঃ ‘ইয়া আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণভার ও লোকজনের প্রাধান্য থেকে আপনার কাছে পানাহ চাচ্ছি।’ পরে আমরা খায়বারে গিয়ে উপস্থিত হলাম। তারপর যখন আল্লাহ তা’আলা তাঁকে দুর্গের উপর বিজয়ী করলেন, তখন তাঁর কাছে সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই ইবনু আখতাবের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করা হল, তিনি ছিলেন সদ্য বিবাহিতা; তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করলেন। তারপর তাঁকে নিয়ে রওয়ানা হলেন।
আমরা যখন সাদ্দুস সাহবা নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন সাফিয়া (রাঃ) হায়েজ থেকে পবিত্র হন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে তাঁর সাথে বাসর যাপন করেন। এরপর তিনি চামড়ার ছোট দস্তরখানে ‘হায়সা’ (এক প্রকার খাদ্য) প্রস্তুত করে আমাকে আশেপাশের লোকজনকে ডাকার নির্দেশ দিলেন। এই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাফিয়্যার বিয়ের ওয়ালিমা। তারপর আমরা মদিনার দিকে রওয়ানা দিলাম। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পেছনের চাঁদর দিয়ে সাফিয়্যাকে পর্দা করছেন। উঠানামার প্রয়োজন হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটের কাছে হাঁটু বাড়িয়ে বসতেন, আর সাফিয়্যা (রাঃ) তাঁর উপর পা রেখে উটে আরোহণ করতেন। এভাবে আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের দিকে তাকিয়ে বললেন, এটি এমন একটি পাহাড় যা আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাঁকে ভালবাসি। তারপর মদিনার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ইয়া আল্লাহ, এই কঙ্করময় দুটি ময়দানের মধ্যবর্তী স্থানকে আমি ‘হারাম’(সম্মানিত স্থান) ঘোষণা করছি। ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের মুদ এবং সা’ তে বরকত দান করুন।’
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

সাফিয়া

একইসাথে উল্লেখ্য, নবী মুহাম্মদ ৯ মতান্তরে ১১ মতান্তরে ১৩ জন স্ত্রীর সাথে একই দিনে বা রাতে পর্যায়ক্রমে যৌনসঙ্গম করতেন । [ তথ্যসূত্র ১০ ]

দাসীদের সাথে আজলের হুকুম

আরেকটি হাদিস, আজলের নিয়ম সম্পর্কিত। [ তথ্যসূত্র ১১ ]

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ২২. আযল এর হুকুম
৩৪৪০-(১২৯/…) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার, ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহিমাহুমুল্লাহ) ….. শুবাহ (রহঃ) এর সূত্রে আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে অনুরূপ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের হাদীসে রয়েছে- নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযল সম্পর্কে বলেছেনঃ এ কাজ না করলে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কেননা এটা তাকদীরের অন্তর্গত।
রাবী বাহয এর বর্ণনায় রয়েছে যে, শুবাহ্ (রহঃ) বলেছেনঃ আমি তাকে (আনাস ইবনু সীরন) জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে এ হাদীসটি শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪১৩, ইসলামীক সেন্টার ৩৪১২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ শু’বা (রহঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ২২. আযল এর হুকুম
৩৪৩৮-(১২৭/…) আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা আয যুবাঈ (রহঃ) ….. আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দিনী লাভ করেছিলাম। (তাদের সাথে) আমরা ‘আযল করছিলাম। এরপর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাদের বললেন, অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। অবশ্যই তোমরা এ কাজ করবে। (বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন) বস্তুত কিয়ামাত পর্যন্ত যত প্রাণী সৃষ্টি হওয়ার তা সৃষ্টি হবেই।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪১১, ইসলামীক সেন্টার ৩৪১০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে আযল পদ্ধতিতে ধর্ষণ

আজল সম্পর্কিত শরীয়তের হুকুম সম্পর্কিত হাদিসঃ

"আযল" সম্পর্কে শরীয়তের হুকুম
[ তথ্যসূত্র ১২ ]
সহিহ মুসলিম যুদ্ধবন্দিনী স্ত্রীলোক
[ তথ্যসূত্র ১৩ ]
সহিহ মুসলিম ক্রীতদাসী
[ তথ্যসূত্র ১৪ ]
সহিহ মুসলিম ক্রীতদাসী সহবাস
[ তথ্যসূত্র ১৫ ]

এই হাদিসটির পরিচ্ছদ পড়ুনঃ

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [2093]
অধ্যায়ঃ ২৬/ ক্রয় – বিক্রয়
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ১৩৮৬. ইসতিবরা অর্থাৎ জরায়ু গর্ভমুক্ত কি-না তা জানার পূর্বে বাঁদীকে নিয়ে সফর করা। হাসান বসরী (রঃ) তাকে চুম্বন করা বা তার সাথে মিলামিশা করায় কোন দোষ মনে করেননা। ইবন উমর (রাঃ) বলেন, সহবাসকৃত দাসীকে দান বা বিক্রি বা আযাদ করলে এক হায়য পর্যন্ত তার জরায়ু মুক্ত কি-না দেখতে হবে। কুমারীর বেলায় ইসতিবরার প্রয়োজন নেই। আতা (রঃ) বলেন, (অপর কর্তৃক) গর্ভবতী নিজ দাসীকে যৌনাঙ্গ ব্যতীত ভোগ করতে পারবে। মহান আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভুক্ত বাঁদী ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবেনা.…..। (২৩:৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ইসলাম
[ তথ্যসূত্র ১৬ ]

যুদ্ধবন্দী নারীরা কী স্বেচ্ছায় সহবত করতো?

স্বভাবতই আমি যখন ছোট ছিলাম, ভাবতাম যে, মুহাম্মদের মত একজন অত্যন্ত সম্মানিত মহামানবের কাছ থেকে এসব আচরণ পাওয়া যাবে না। আশা করেছিলাম যে তিনি এই ধরণের কোন কাজের সাথে নিজেকে জড়িত করবেন না, বরঞ্চ তার দলের কেউ এই কাজে লিপ্ত হলে তার বিচার করবেন, মানবতাবিরোধী এই কাজগুলো নিষিদ্ধ করবেন। কিন্তু হতাশ হয়ে লক্ষ্য করলাম, তিনি তার কিছুই করেন নি, বরঞ্চ নিজেই সেই কাজগুলো করে তার উম্মতদের উৎসাহিত করেছেন!

নিজেকে অনেক প্রবোধ দিয়েছিলাম এই ভেবে যে, সেই সব যুদ্ধবন্দী নারীর ভালোর জন্যেই হয়তো এরকম বিধান রাখা হয়েছিল। হয়ত যুদ্ধবন্দী নারীদের সেই সময়ে যৌন চাহিদা ছিল, তা মেটাবার জন্যেই নবী এরকম বিধান রেখেছিলেন। কিন্তু নিজেকে এই বিষয়ে বোঝানো কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। আসলেই? সিরিয়াসলি? একজন যুদ্ধবন্দিনী, যার বাবা ভাই থেকে শুরু করে সব আত্মীয় স্বজন নিহত হলো মুহাম্মদের জিহাদীদের হাতে, সেই নারী নিশ্চয়ই খুব আনন্দের সাথে ধেই ধেই করে নাচতে নাচতে মুহাম্মদের অনুসারীদের কোলে উঠে গিয়েছিল, তাই না? জিহাদীদের কাছে কাকুতিমিনতি করতে শুরু করেছিল, যেন তাদের যৌন সুখ দেয়া হয়! তাই কী? নিজেকে এরকম অদ্ভুত বুঝ দেয়ার পরে নিজের কাছেই খটকা লাগতো, নিজের কাছেই নিজেকে ছোট মনে হতো।

নিজ জামাতেকেও নারী উপহার দিতেন মুহাম্মদ

এমনকি নিজের জামাইদেরকেও তিনি যুদ্ধবন্দিনীদের ভাগ দিতে কসুর করেননি। হযরত আলী এবং হযরত ওসমানকেও তিনি উদারভাবে মালে গনিমত বন্টন করেছেন। নিচের হাদিসটিতে দেখা যাবে, কীভাবে হযরত ফাতেমার স্বামী নবী জামাতা শেরে খোদা হযরত আলী বন্দিনীর সাথে সেক্স করছেন, যে বন্দিনীকে তিনি শ্বশুরের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন।
মহান আমাদের দয়াল নবী মুস্তফা। নিজের কন্যার স্বামীর সাথে সেক্স করার জন্য যুদ্ধবন্দিনী দিতে এখনকার আধুনিক পিতারও বুক কেঁপে উঠবে, কিন্তু সেই সময়েই দয়াল নবী তা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। [ তথ্যসূত্র ১৭ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [4350] অধ্যায়ঃ ৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ] (كتاب المغازى)
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬৪/৬২. বিদায় হাজ্জের পূর্বে ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব এবং খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ।
৪৩৫০. বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আলী (রাঃ)-কে খুমুস (গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ) নিয়ে আসার জন্য খালিদ (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। (রাবী বুরাইদাহ বলেন,) আমি ‘আলী (রাঃ)-এর প্রতি অসন্তুষ্ট, আর তিনি গোসলও করেছেন। (রাবী বলেন) তাই আমি খালিদ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি কি তার দিকে দেখছেন না? এরপর আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলে আমি তাঁর কাছে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন, হে বুরাইদাহ! তুমি কি ‘আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার উপর অসন্তুষ্ট থেক না। কারণ খুমুসে তার প্রাপ্য এর চেয়েও অধিক আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০১২)
Narrated Buraida: The Prophet (ﷺ) sent `Ali to Khalid to bring the Khumus (of the booty) and I hated `Ali, and `Ali had taken a bath (after a sexual act with a slave-girl from the Khumus). I said to Khalid, “Don’t you see this (i.e. `Ali)?” When we reached the Prophet (ﷺ) I mentioned that to him. He said, “O Buraida! Do you hate `Ali?” I said, “Yes.” He said, “Do you hate him, for he deserves more than that from the Khumlus.”
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পাঠক লক্ষ্য করুন, যুদ্ধবন্দী নারীর সাথে যৌন কর্মের পরে গোছলের কথাটিকে বাঙলায় অনুবাদ করা হয়েছে শুধু গোছল হিসেবে। যুদ্ধবন্দী নারীর সাথে নবী জামাতা আলী সেক্স করতেন তা গোপন করার জন্য। খুব কৌশলে আলীর চরিত্র রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে একই হাদিসের ইংরেজি অনুবাদে সেটি পাওয়া যায়।

সহি বুখারিঃ ভলিউম-৫, বুক নং-৫৯, হাদিস নং-৬৩৭:
বুরাইদা কর্তৃক বর্ণিতঃ
নবী আলীকে ‘খুমুস’ আনতে খালিদের নিকট পাঠালেন (যুদ্ধলব্ধ মালের নাম খুমুস)। আলীর উপর আমার খুব হিংসা হচ্ছিল, সে (খুমুসের ভাগ হিসেবে প্রাপ্ত একজন যুদ্ধবন্দিনীর সাথে যৌনসঙ্গমের পর) গোসল সেরে নিয়েছে। আমি খালিদকে বললাম- “তুমি এসব দেখ না”? নবীর কাছে পৌছলে বিষয়টি আমি তাকে জানালাম। তিনি বললেন- “বুরাইদা, আলীর উপর কি তোমার হিংসা হচ্ছে”? আমি বললাম-“হ্যা, হচ্ছে”। তিনি বললেন-“তুমি অহেতুক ইর্ষা করছ, কারণ খুমুসের যেটুকু ভাগ সে পেয়েছে তার চেয়ে আরও বেশী পাওয়ার যোগ্য সে”।

সহজ ইনআমুল বারী যা সহিহ বুখারীর একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ, তা থেকে এই হাদিসটির ব্যাখ্যা যা জানা যায়, তাতে পিলে চমকে ওঠে। আলী আসলে যুদ্ধবন্দিনী হিসেবে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক পিরিয়ড পর্যন্ত না হওয়া এক বালিকার সাথে সহবত করেছিল। [ তথ্যসূত্র ১৮ ]

ইসলাম
ইসলাম

মহম্মদের সবচেয়ে প্রামান্য এই জীবনচরিত ইবনে ইসহাকের লেখা সিরাত এ রাসুল্লাল্লাহ (যে রচনাকে মুসলিম বিশ্বে সর্বদা রেফারেন্স হিসেবে ব্যাবহার করা হয়) পাঠ করে আমরা জানতে পারি, হুনায়েনের যুদ্ধে এক বৃদ্ধাকে ছেড়ে দেওয়া হলো, কারণ তার মুখমন্ডল ছিল শীতল, বক্ষদেশ সমতল, সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা ছিল না তার এবং বুকে দুধের ধারা শুকিয়ে গেছে। সুতরাং ছয়টি উটের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হলো। [ তথ্যসূত্র ১৯ ]

ইসলাম
ইসলাম
সীরাতে রাসুলাল্লাহ শহীদ আখন্দ প্রথমা প্রকাশনী [ তথ্যসূত্র ২০ ]


বাঁদীর সাথে আজলে অনুমতির প্রয়োজন নেই

এখন আসুন সহিহ বুখারীর সপ্তম খণ্ড থেকে পড়ি আজলের নিয়ম কানুন। এখানে সহিহ বুখারী হাদিসের লিঙ্ক দেয়া হলো, যে কেউ ৩৮৩২ নম্বর হাদিসের নিচে কী লেখা তা ডাউনলোড করে পড়তে পারেন। [ তথ্যসূত্র ২১ ] লক্ষ্য করুন, হাদিসবিডিডট কমে আজলের টিকাটি ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত করা হয় নি।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৫১/ মাগাযী (যুদ্ধাভিযান)
পরিচ্ছেদঃ ২১৯৬. বনূ মুসতালিকের যুদ্ধ। বনূ মুসতালিক খুযা’আর একটি শাখা গোত্র। এ যুদ্ধ কে মুরায়সীর যুদ্ধ ও বলা হয়। ইব্‌ন ইসহাক (র) বলেছেন, এ যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে সংঘটিত হয়েছে। মুসা ইবন উকবা (র) বলেছেন, ৪র্থ হিজরী সনে। নুমান ইবন রাশিদ (র) যুহরী (র) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইফকের ঘটনা মুরায়সীর যুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল।
৩৮৩২। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … ইবনু মুহায়রীয (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদে প্রবেশ করে আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কে দেখতে পেয়ে তার কাছে গিয়ে বসলাম এবং তাকে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বানূ মুসতালিকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এ যুদ্ধে আরবের বহু বন্দী আমাদের হস্তগত হয়। মহিলাদের প্রতি আমাদের মনে খায়েস হল এবং বিবাহ-শাদী ব্যতীত এবং স্ত্রীহীন আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। তাই আমরা আয্‌ল করা পছন্দ করলাম এবং তা করার মনস্থ করলাম। তখন আমরা বলাবলি করতে লাগলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে বিদ্যমান। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস না করেই আমরা আযল করতে যাচ্ছি। আমরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এরুপ না করলে তোমাদের ক্ষতি কি? জেনে রাখ, কিয়ামত পর্যন্ত যতগুলো প্রাণের আগমন ঘটবার আছে, ততগুলোর আগমন ঘটবেই।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনে মুহায়রীয (রহঃ)

আজল
নবী দাসী সঙ্গম করতে উৎসাহ দিতেন

যুদ্ধবন্দীদের সাথে আজলের কারণ

জিহাদিদের উন্মত্ত ধর্ষণপ্রক্রিয়ার ফলে যদি বন্দিনীটির গর্ভসঞ্চার হয় তাহলে কী হবে? অনেক জিহাদিই চাইতো না যে তাদের সেক্স-মেশিনটি তাড়াতাড়ি গর্ভসঞ্চার করে বসুক, সুতরাং তারা আজল(আজল সম্পর্কে জানতে গুগল করুন) করতো। এই প্রথা সম্পর্কে মুহম্মদের মনোভাব ছিল ঘোলাটে, কখনও তাকে এই প্রথার বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়, কখনও বা তাকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। কিন্তু কোথাও সেই যুদ্ধবন্দিনীকে সাথে সাথে মুক্তি দিতে বলতে দেখা যায় না। সেই যুদ্ধবন্দিনীর সাথে আজল পদ্ধতিতে সেক্স করলো কি করলো না সেটা মহামানব মুহাম্মদের কাছে এত গুরুত্ত্বপূর্ণ, অথচ সেই যুদ্ধবন্দিনীটি মোটেও গুরুত্ত্বপূর্ণ নয়?একজন মহামানবের কাছ থেকে যদি আমি আশা করে থাকি, যে তিনি এই কথা শোনার সাথে সাথে ঐ জেহাদীর বিচারের ব্যাবস্থা করবেন, এবং সেই যুদ্ধবন্দিনীকে তৎক্ষণাত মুক্তি দেবেন, তাহলে কি খুব বেশি আশা করা হয়ে যায়?

ইসলাম
[ তথ্যসূত্র ২২ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [7409]
অধ্যায়ঃ ৯৭/ তাওহীদ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৯৭/১৮. আল্লাহর বাণীঃ তিনিই আল্লাহ্ সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদাতা। (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/২৪)
৭৪০৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বানী মুসতালিক যুদ্ধ বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, মুসলিমগণ যুদ্ধে কতকগুলো বন্দিনী লাভ করলেন। এরপর তাঁরা এদেরকে ভোগ করতে চাইলেন। আবার তারা যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সে ইচ্ছাও তারা করছিলেন। তাই তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আযল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতে তোমাদের কোন লাভ নেই। কারণ আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত পর্যন্ত যত জীবন সৃষ্টি করবেন, তা সবই লিখে রেখেছেন। মুজাহিদ (রহ.) কাযআ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যত জীবন সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তা সৃষ্টি করবেনই। [২২২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

হাদিসটির বই থেকে তোলা ছবিঃ [ তথ্যসূত্র ২৩ ]

ইসলাম
ইসলাম

উপরের হাদিসটির লিঙ্ক

সহি বুখারিঃ ভলিউম ৯, বুক নং-৯৩, হাদিস নং-৫০৬:
আবুসাইদ আল খুদরি থেকে বর্ণিতঃ
বানুমুস্তালিক গোত্রের সাথে যুদ্ধকালে কিছু বন্দিনী তাদের (মুসলমানদের) দখলে আসে। তারা বন্দিনীদের সাথে এমনভাবে যৌনসম্পর্ক করতে চাইল যেন মেয়েগুলি গর্ভবতী না হয়ে পড়ে। সুতরাং বাইরে বীর্যপাতের বিষয়ে নবীর নিকট জানতে চাইল তারা। নবী বলেন- “এটা না করাই বরং তোমাদের জন্যে উত্তম। কারণ আল্লাহ যাকে সৃষ্টি করবেন তা লেখা হয়ে আছে, পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত”। ক্কাজা বলেন- “আমি আবু সাইদকে বলতে শুনেছি যে নবী বলেছেন -‘আল্লাহর আদেশে আত্মার সৃষ্টি, আল্লাহর আদেশ ছাড়া কোন আত্মার সৃষ্টি হয় না”।

সহী বুখারী হাদীস #143, page-700 :Sulaiman Ibne Harb…Aannas Ibne Malek (ra) narrated, “in the war of Khaiber after the inhabitants of Banu Qurayza was surrendered, Allah’s apostle killed all the able/adult men, and he (prophet) took all women and children as captives (Ghani mateer maal).. Among the captives Safiyya Bint Huyy Akhtab was taken by Allah’s Apostle as booty whom He married after freeing her and her freedom was her Mahr.”

অর্থাৎ যুদ্ধে জেতার পরে আল্লাহ রাসুল সকল প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষকে হত্যা করলেন এবং তিনি তাদের সকল নারী এবং শিশুকে বন্দী হিসেবে নিলেন।

বিভিন্ন ইসলামিক বক্তার ভিডিও বক্তব্য

এবারে এই ভিডিওটির ব্যাখ্যা শুনুন।

ছোটবেলা ভাবতাম, এই ধরণের ইসলামী বক্তা আসলে ইসলাম সম্পর্কে কিছু জানে না। না জেনেই এসব কাঠমোল্লা আজেবাজে বলে। কিন্তু আসলে কে ইসলাম সম্পর্কে জানে, আর কে জানে না, সেটা কোরআন, বুখারী আর মুসলিম হাদিস বুঝে পড়লেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

এ এক সীমাহীন লজ্জা আর কেলেঙ্কারীর ইতিহাস। লজ্জা ঢাকার জন্য ইসলামপন্থীরা অনেকেই হয়ত বলবেন যে মুহাম্মদ বড়োই দয়ালু ছিলেন, ঐসব অসহায় তরুনীদের দুঃখ দেখে তার কোমল প্রাণ কেঁদে উঠল। তাই তিনি তাদের গ্রহন করে দাসী হিসেবে বিক্রি হওয়ার হাত থেকে তাদের রক্ষা করেছেন। বা মুসলিম জেহাদীদের হাতে হত্যা হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। কি বিভৎস চিন্তা, মেয়েগুলোকে কেনই বা ধরা হলো, কেনই বা এত মানবতা দেখিয়ে বিছানায় নেয়া হলো? একবার ভেবে দেখবেন, কাল ভারত কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইসরাইল বাঙলাদেশ আক্রমণ করলে, পুরুষদের হত্যা করে আমাদের নারীদের বিছানায় তুললে কী হবে? আমাদের নারীরা স্বেচ্ছায় সেই সব সৈন্যদের সাথে বিছানায় উঠে যাবে?

ইতিহাসের অন্যরা কী একই কাজ করেন নি?


হ্যাঁ, এই যুক্তি গ্রহণ করতে আমার আপত্তি নেই। মুহাম্মদ যা করেছেন, সে যুগে তাই ছিল রীতি। অনেকেই করেছেন, আলেক্সান্ডার থেকে শুরু করে হিটলার, এইদিকে ইয়াহিয়া খান- প্রায় সকলেই। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে তারা কি পরম পূজনীয় হবার যোগ্যতা রাখে কিনা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব হবার যোগ্যতা রাখেন কিনা! এই আধুনিক সময়ে আধুনিক সভ্য পৃথিবীতে কতগুলি খোড়া যুক্তি দিয়ে সেই বন্য রীতিকে জাষ্টিফাই করা অমানবিক। মানবতার প্রতি চরম অবমাননাকর।

গনিমতের মাল ভাগ বাটোয়ারা

কাফের রমনীদের শরীরের প্রতি মুহাম্মদের জিহাদি বাহিনীর অদম্য লোভ ছিল, লোভ ছিল বেহেশতের ৭২ টি হুরের শরীরের প্রতিও। বিষয়গুলো এতটাই বিকৃত আকার ধারণ করেছিল যে, মুহাম্মদকে মাঝে মাঝেই লাগাম টেনে ধরতে হতো। বলতে হতো, গর্ভবতী হলে যেন জিহাদিগণ তাদের ওপর চরে না বসেন। কিংবা মাসিক যাদের হয়েছে তাদের মাসিকের ব্যাথা শেষ হওয়া পর্যন্ত যেন অপেক্ষা করা হয়। ইত্যাদি নানা উদাহরণ রয়েছে। ঐসব ইসলামী সৈনিকদের যৌনতাড়না এতটাই বর্বর ও ঘৃন্য ছিল যে তারা এমনকি কোনপ্রকার গোপনীয়তা অবলম্বনেরও ধার ধারত না। এমনও হয়েছে যে স্বামীদের সামনেই বন্দিনীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে জিহাদিরা।স্ত্রীকে এক নরপশু খাবলে খাচ্ছে, বন্দী স্বামী চোখ মেলে তাই দেখছে। মহানবী এটাও বলে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবন্দী হিসেবে পাওয়া নারীর স্বামী দারুল হরবে জীবিত থাকলেও সেই সব নারী বৈধ! ভেবে দেখুন একবার! অনেক জিহাদি আবার পৌত্তলিক স্বামীটির সামনে বা স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীর উপর চড়ে বসতে দ্বিধান্বিত ছিল। ঠিক সেই সময় মহান আল্লাহ কাফের রমনীদের (বিবাহিতা হলেও) ভোগ করার অনুমতি প্রদান করে ধন্য করলেন জিহাদিদের। কিছু কিছু জিহাদি স্বামী বর্তমান থাকতেও বন্দিনীদের সাথে সেক্স করে এবং কেউ কেউ তা করতে দ্বিধাগ্রস্থ হয়।

অন্যান্য হাদিস

সুনান আবু দাউদঃ বুক নং-১১, হাদিস নং-২১৫০:
আবু সাইদ আল খুদরি বলেন- “হুনায়েন যুদ্ধের সময় আল্লাহর রাসুল (দঃ) আওতাসে এক অভিযান পাঠান। তাদের সাথে শত্রুদের মোকাবেলা হলো এবং যুদ্ধ হলো। তারা তাদের পরাজিত করল এবং বন্দী করল। রাসুলুল্লাহর (দঃ) কয়েকজন অনুচর বন্দিনীদের স্বামীদের সামনে তাদের সাথে যৌনসঙ্গম করতে অপছন্দ করলেন। তারা (স্বামীরা) ছিল অবিশ্বাসী কাফের। সুতরাং মহান আল্লাহ কোরআণের আয়াত নাজেল করলেন- “সমস্ত বিবাহিত স্ত্রীগণ (তোমাদের জন্যে অবৈধ); কিন্তু তোমাদের দক্ষিন হস্ত যাদের অধিকারী (যুদ্ধবন্দিনী)- আল্লাহ তোমাদের জন্যে তাদেরকে বৈধ করেছেন”। অর্থাৎ- পিরিয়ড শেষ হলে তারা তাদের জন্যে বৈধ (৪:২৪)।

যুদ্ধবন্দিনীর সাথে সহবাস বৈধ, তবে শর্ত থাকে যে তার মাসিক স্রাব শেষ গেছে কিংবা গর্ভবতী হলে তার গর্ভ খালাস হয়ে গেছে। তার যদি স্বামী থেকে থাকে, বন্দী হওয়ার পর সে বিবাহ বাতিল বলে গন্য হবে। ( কোরআন-৪:২৪, সহি মুসলিম-৮:৩৪৩২)।

সহি মুসলিমঃ বুক নং-৮, হাদিস নং-৩৪৩২:
আবু সাইদ আল খুদরি (রাঃ) বলেছেন যে হুনায়েনের যুদ্ধকালে আল্লাহর রাসুল (দঃ) আওতাস গোত্রের বিরুদ্ধে একদল সৈন্য পাঠান। তারা তাদের মুখোমুখি হলো এবং তাদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো। যুদ্ধে পরাজিত করার পর কিছু বন্দী তাদের হাতে আসল। রাসুলুল্লার কিছু সাহাবি ছিলেন যারা বন্দিনীদের সাথে সহবাস করতে বিরত থাকতে চাইলেন, কারণ তাদের স্বামীরা ছিল জীবিত, কিন্তু বহু ঈশ্বরবাদী। তখন মহান আল্লাহ এ সম্পর্কিত আয়াতটি নাজেল করলেন- “এবং বিবাহিত নারীগণ তোমাদের জন্যে অবৈধ, তবে যারা তোমাদের দক্ষিন হস্তের অধিকারে আছে তাদের ছাড়া”।

পরাজিত শত্রুটির সামনেই তার স্ত্রীকে ভোগ করা থেকে শুরু করে, এই সবই এক এক ধরণের যৌনবিকৃতি, যার কিছু নমুনা আমরা দেখেছি একাত্তরে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়। অথবা ২০০১ এ বিএনপির বিজয়ের সময়। পাঞ্জাবি এবং পাঠান সৈন্যরা একাত্তরে বাঙালি রমনীদের উপর যা করেছে, তার পুর্ণ সমর্থন মেলে এই হাদিসগুলি হতে। ইয়াহিয়ার জল্লাদ বাহিনী একাত্তরে যা কিছুই করে থাকুক, ইসলামী শাস্ত্রের বাইরে কিছু করেনি। ইসলামের প্রাথমিক অভিযানগুলোতে নবীর বাহিনী ঠিক এমনটিই করত।

উপসংহার

বিজয়ীরাই ইতিহাস লেখে। ইসলামের ইতিহাসে সেই সকল কাফের নারীর কান্না স্থান পায় নি। তাদের ধর্ষন, তাদের রক্তের ইতিহাস কোথাও নেই, কিন্তু রয়ে গেছে মুহাম্মদের জীবনী এবং হাদিস-কোরআনের আয়াতগুলো। বিজয়ীরা অনেক রাখঢাক করেই লেখে, নিজেদের অমানবিক কর্মকান্ড ঢেকে রাখার জন্য। কিন্তু তারপরেও যে সকল বিষয় লেখা রয়েছে, সেটুকুই ভয়াবহ। মুসলিমরা চাইলেও এগুলো পালটে ফেলতে পারবে না। সেই সকল হাদিস কোরআনের আয়াত সামনে আনলে আমরা কি দেখতে পাই? সেই নারীদের কান্নার দাগ সেখানে দেখা না গেলেও সহজেই বোঝা যায় সে সময় কি নারকীয় ধর্ষণ আর হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল।

কিন্তু আমাদের আধুনিক মুসলিম ভাইয়েরা বলতে শুরু করেন, সেই সকল নারীর সম্মতিতেই নাকি ছহবত হয়েছিল, ওটা মোটেও রেপ ছিল না। যেই নারীর স্বামী, সন্তান, পিতা যুদ্ধে মারা গেছে মুহাম্মদের সৈন্যদের হাতে, সেই নারীরা মুহাম্মদের অসীম বীরত্ত্বে মুগ্ধ হয়ে তাদের বিছানায় উঠে গেল, এবং ছহবত করলো, দৃশ্যটা কল্পনা করতেই কেমন যেন গা গুলিয়ে আসছে। মনে পরে যাচ্ছে পাকিদের অপপ্রচারের কথা, যে আমাদের দেশের বীরাঙ্গনারা স্বেচ্ছায় পাকিদের দেহ দান করেছিল।

ইসলামপন্থীদের সমস্যাটা বুঝি। নবী মুহাম্মদের চরিত্রকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে তাদের নানা ধরনের কথাই বলতে হয়। কারণ নবী মুহাম্মদ যুদ্ধবন্দী নারীদের নিজে বিছানায় তুলতেন, অন্যদেরও তুলতে বলতেন, বিষয়গুলো অত্যন্ত ঘিনঘিনে আর নোংরা। তারা চাইতেই পারেন নবী মুহাম্মদের চরিত্রকে ফুলের মত পবিত্র বলে প্রচার করতে। কিন্তু সত্য, তা তো স্বীকার করতেই হবে। আজকের যুগে আমরা যদি বস্তুনিষ্ঠভাবে ইতিহাসকে পর্যালোচনা না করি, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

এই আজকের দিনেও যখন ইসলামপন্থীরা গনিমতের নাম দিয়ে যুদ্ধবন্দিনী ধর্ষণ করে, সেই প্রেরণা তারা কোথা থেকে পায়, সেটাই আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। সৌদী আরবে আমাদের দেশের নারীদের পাঠানো হচ্ছে, একজন নারীও তার সম্ভ্রম নিয়ে ফিরবেন না বলেই আমি মনে করি, সেই দাসী/মহিলা শ্রমিকদের সম্ভ্রম লুটে নিতে সৌদী আরবের মুসলিমরা কোথা থেকে প্রেরণা পাচ্ছে সেটাই আপনাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা।

ইসলামপন্থীদের মুখে হয়তো আমরা শুনবো, ১৪০০ বছর আগের ব্যাবস্থা আর বর্তমান অবস্থা এক নয়। কিন্তু আমরা তো জানি ইসলামে কোরআন এবং হাদিসে যে সকল নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যে সকল পরামর্শ দেয়া হয়েছে তা সকল সময়ের জন্য প্রযোজ্য। ইসলামে নতুন করে কেউ যেমন নারী নেতৃত্ব বৈধ করতে পারবে না, তেমনি এই যুদ্ধবন্দিনী/দাসী ছহবতও কেউ অবৈধ ঘোষনা করতে পারবে না। হযরত মুহাম্মদ নিজেই তার সাহাবীদের নিয়ে যা করে গেছেন, তা অবৈধ কীভাবে হয়, আমার জানা নেই।

সেই সকল কোরআন হাদিস মেনে যদি এখন শর্ষিনার পীরের মত লোকেরা আমাদের দেশের নারীদের ধর্ষণ করে, তাহলে সেই দোষ কি ইসলামের উপরেও খানিকটা বর্তায় না? যেহেতু মুহাম্মদের সমস্ত কাজই প্রত্যেক মুসলিমকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে?

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনে তাঁর প্রশংসা করে বলেন; নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রের অধিকারী।
সূরা আল কলম: ৪

হে নবী! লোকদের বলে দাও। তোমরা যদি প্রকৃতই আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুণাহসমূহ মাফ করে দেবেন। তিনি বড় ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
সূরা আল-ইমরান: ৩১

মহান আল্লাপাক আমাদের নবীর জীবন অনুসরন করতে পরামর্শ দিয়েছেন। নবীর জীবনই হচ্ছে একজন মুমিনের জন্য উত্তম আদর্শ। আমরা কী এই আদর্শ অনুসরণ করবো? নাকি আমাদের বিবেক?

তথ্যসূত্র

[১] তাফসীরে জালালাইন। ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা নম্বর ৭৯৫, ৭৯৭
[২] তাফসীর ইবনে কাসীর। হাফেজ আল্লামা ইমাম্মুদিন ইবনু কাসীর (রহঃ)। অনুবাদঃ ড। মুহাম্মদ মুজীবুর রহমান। তাফসীর পাবলিকেশন্স কমিটি। খণ্ড ৪,৫,৬,৭। পৃষ্ঠা নম্বর ৩৪৩।
[৩] সূনান নাসাঈ শরীফ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ১০৬ ।
[৪] মারিয়া কিবতিয়া | বাঁদী পত্নী সমাচার! সংশয় ডট কম।
[৫] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। ষষ্ঠ খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৮১। হাদিস নম্বর ৪৩৭০
[৬] সহীহ বুখারী শরীফ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সপ্তম খণ্ড। হাদিস নম্বর ৩৭৪৮
[৭] সুনানু আবু দাউদ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তৃতীয় খণ্ড। হাদিস নম্বর ২১৫৫।
[৮] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড। হাদিস নম্বর ৩৪৭২
[৯] সহিহ বুখারী । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পঞ্চম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৬৬। হাদিস নম্বর ২৬৯৪
[১০] সহিহ বুখারী। তাওহীদ পাবলিকেশন্স। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৪০, ১৪১। হাদিস নম্বর ২৬৮, ২৭০
[১১] সহীহ মুসলিম। হাদিস একাডেমী। হাদিস নম্বর ৩৪৪০
[১২] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৭৭। হাদিস নম্বর ৩৪০৮
[১৩] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৭৮। হাদিস নম্বর ৩৪১০
[১৪] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৮০। হাদিস নম্বর ৩৪১৪
[১৫] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৮২। হাদিস নম্বর ৩৪২০
[১৬] বুখারী শরীফ । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ৯১। পরিচ্ছদ ১৩৮৬
[১৭] সহীহুল বুখারী। তাওহীদ প্রকাশনী। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা নম্বর ২১০। হাদিস নম্বর ৪৩৫০
[১৮] সহজ ইনআমুল বারী। শরহে বুখারী মাগাযী ও তাফসীর অংশ। অনুবাদ ও সম্পাদনাঃ মাওলানা মুহাম্মদ আলমগীর হুসাইন। মাকতাবায়ে এমদাদিয়া প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ২২৭, ২২৮।
[১৯] Ibn Ishaq’s Sirat Rasul Allah – The Life of Muhammad Translated by A. Guillaume
[২০] সীরাতে রাসুলাল্লাহ। অনুবাদঃ শহীদ আখন্দ। প্রথমা প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ৬৩৬
[২১] সহিহ বুখারী । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সপ্তম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৬৯। হাদিস নম্বর ৩৮৩২
[২২] বুখারী শরীফ । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ৮৯। হাদিস নম্বর ২০৮৮
[২৩] বুখারী শরীফ । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দশম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৫৪৯। হাদিস নম্বর ৬৯০৫

সহায়ক গ্রন্থসমূহ

১। বাংলা তাসফির কুর’আনুল কারিম – অনুবাদঃ প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ মুজীবুর রহমান
২। সহিহ বুখারী শরীফ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ( ১০ খণ্ড)
৩। সহিহ বুখারী তাওহীদ পাবলিকেশন্স খণ্ড
৪। সহিহ মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন খণ্ড
৫। সহিহ মুসলিম শরীফ ( খণ্ড)
৬। সুনানে আবু দাউদ শরীফ
৭। সূনানু নাসাঈ শরীফ খণ্ড
৮। তাফসীরে ইবনে কাসীর- হাফেজ আল্লামা ইমাম্মুদিন ইবনু কাসীর (রহঃ)- তাফসীর পাবলিকেশন্স ১,২,৩ ৪,৫,৬,৭ ৮,৯,১০,১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮
৯। তাফসীরে ইবনে কাসীর|ইসলামিক ফাউন্ডেশন
১০। তাফসীরে জালালাইন খণ্ড (প্রতি খণ্ডের সাইজ ৪০ মেগাবাইটের কাছাকাছি)
১১। সীরাতে রাসুলুল্লাহ (স.) – ইবনে ইসহাক। অনুবাদঃ শহীদ আখন্দ প্রকাশক ইসলামিক ফাউন্ডেশন
১২। Ibn Ishaq’s Sirat Rasul Allah – The Life of Muhammad Translated by A. Guillaume
১৩। সহজ ইন আমুলবারী (শরহে বুখারী মাগাযী ও তাফসীর)

প্রাসঙ্গিক লেখা

পরিপ্রেক্ষিত, প্রেক্ষাপট এবং অন্যান্য
হযরতের অনুকরণীয় সুমহান চরিত্র
স্ত্রী কি স্বামীর দাসী সেক্স বিষয়ে আপত্তি করতে পারে?
অসহায় নিরপরাধ যুদ্ধবন্দী নারী ও দাসী ধর্ষণের বৈধতা – কুরআন হাদিসের দলিল
বনূ কুরায়যা অভিযান | ইবনে হিশাম
দাস প্রথা – কুরআন হাদিসের দলিল
দাসীর উম্মে ওয়ালাদ হওয়া | আল হিদায়া
হযরতের দাসীদের বিবরণ
মারিয়া কিবতিয়া | বাঁদী পত্নী সমাচার!
সুরা তাহরীম এর তাফসির – ইবনে কাসীর
সুরা তাহরীম | তাফসীরে জালালাইন
মুহাম্মদের গুপ্তহত্যা । অবমাননার শাস্তি

লেখকের বক্তব্য

লেখাটি সম্ভবত ২০০৭/২০০৮ সাল প্রথম লেখা। সেই সময়ে রেফারেন্সগুলো সংযোজন করতে নানা ভুলত্রুটি হয়েছিল, এবং প্রচুর বানান ভুলও ছিল। পুরনো লেখা থেকে খুঁজে বের করে লেখাটি ধীরে ধীরে নতুনভাবে লেখা হয়েছে।

31 thoughts on “ইসলাম, গনিমতের মাল এবং আমাদের মানবতা!

  • June 11, 2018 at 11:11 AM
    Permalink

    Today i m clear everything about Islam. Many many thanks writer.

    Reply
    • January 11, 2020 at 2:21 AM
      Permalink

      Beware:
      This guy is a liar,
      He modifies translation of Quran Ayats (cause its Arabic),
      He refers to Fake Hadith that does not exist or unverified

      Reply
  • September 24, 2018 at 2:15 AM
    Permalink

    Very informative
    Thank you writer.

    Reply
  • September 25, 2018 at 5:56 AM
    Permalink

    এই সকল লোকদের জবাব দেওয়ার মত কেউ আছে কি ?

    Reply
  • October 15, 2018 at 2:53 PM
    Permalink

    আসিফ মহিউদ্দীন, আপনি তো জার্মানের ভিক্ষার পরিমান বাড়ানোর জন্য এগুলা করতেছেন। আমরা হালাল পথে খেটে খাওয়া মানুষ। আর শুনুন অন্ধকার যুগ থেকে একমাত্র ইসলামই সম্মান দিয়েছে আমাদের মা বোনদের। অবশ্য আপনার মত অল্প শিক্ষিত মানুষ কি আর জানবে। আপনি নিজের সাথে নিজেই জুলুম করতেছেন। অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের তুলনায় একমাত্র আল-কোরআনই নির্ভুল সেটা আর নতুন করে বলার কিছু নাই কারণ সকল ধর্মের বড় বড় জ্ঞানী পন্ডিতগন তা মানতে বাধ্য হয়েছেন আর আপনার মত স্বল্প শিক্ষিত যে কিনা টাকার/ভিক্ষার জন্য মূর্খতা করে।

    Reply
    • October 15, 2018 at 4:02 PM
      Permalink

      জার্মান ভিক্ষা কিংবা ইসরাইলি ভিক্ষা যাই হোক না কেন, এসবের ওপর এই লেখাটির যুক্তি এবং প্রমাণগুলো নির্ভরশীল নয়। এই লেখাটিতে শুধুমাত্র কোরআন এবং হাদিসের রেফারেন্সগুলো নেয়া হয়েছে, সাথে তাফসির। আমি গুলিস্তানের ভিক্ষা নিই, নাকি ফার্মগেইটের, তাতে এই লেখাটির কোন যুক্তি প্রমাণ রেফারেন্সই ইনভ্যালিড হয়ে যায় না। আপনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করে যুক্তিকে পরাস্ত করতে চাচ্ছেন, যেটা হাস্যকর। কোনদিন যুক্তি প্রমাণ উপস্থাপন করতে শিখলে আসবেন। আপনার সাথে আলোচনা করবো।

      Reply
  • October 16, 2018 at 3:57 PM
    Permalink

    মি. মহিউদ্দীন, আমরা জানি আপনিও জানেন ভাই যে কোনটা সত্য হতে পারে আর কোনটা মিথ্যা কারন আমরা শ্রেষ্ঠ জীব।যদি ইসলাম তৎকালীন সময়ে নারীদের ভোগ্য পন্য হিসেবে বলত আর যদি বলতো ইসলামে মদ,জুয়াখেলা এগুলা বৈধ তাহলে তাহলে এত যুদ্ধ আর কষ্ট করতে হত না মুসলমানদের। আর এখানেই ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের অন্যতম পার্থক্য। আর মজার বিষয় হল ইসলাম ব্যাতিত অন্য সকল ধর্মের একটা আন্ত-সম্পর্ক আছে আশা করি বুঝেছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি। তাই দেখা যায় পৃথিবীতে অমুসলিমরা একক চাপ সৃষ্টি করতে চায় সর্বদা মুসলিমদের ওপর। যোহোক মি.আসিফ ভাই আমি আপনার জীবনের কাহিনী শুনেছি । আপনি ভালো থাকবেন । আর আপনার মূল্যবান জ্ঞানী মস্তিস্ককে নিরপেক্ষভাবে কাজে লাগাবেন আশা করি।ভাই আপনারো স্ত্রী সন্তান আছে ,আপনারো বয়স বাড়ছে ।ইতিহাসি স্বাক্ষী আছে হযরত ওমর একসময় ইসলামের বড় শত্রু ছিল। বাকিটা না বলি কারন এক সময় মুসলিম ছিলেন আপনার পিতা-মাতার প্রতি ও আপনার ছোট পরিবারে প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক।

    Reply
    • October 16, 2018 at 4:00 PM
      Permalink

      এখানে কোন রেফারেন্সটি মিথ্যা, বা নাস্তিকদের বানানো, বা ইহুদী নাসারাদের চক্রান্ত, সেই বিষয়ে কিছু বললে ভাল হতো।

      Reply
      • December 31, 2019 at 8:01 PM
        Permalink

        ধন্যবাদ, অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলাম।

        Reply
      • January 11, 2020 at 2:18 AM
        Permalink

        এবং যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে কারো যদি স্বামী যুদ্ধে মারা যায় তবে তাকেও উপযুক্ত মহারানা দান করে তার সম্মতিক্রমে বিবাহ করতে পারবে, যাদের স্বামী জীবিত আছে তাদেরকে কোন ভাবেই বিয়ে করতে পারবে না এবং বন্দী থাকা অবস্থায় তাকে নিরাপত্তা এবং সম্মান প্রদান করতে হবে।

        ইসলামে দাসী এবং যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে ব্যভিচার করা হারাম শাস্তিযোগ্য অপরাধ, ইসলামে যুদ্ধবন্দীদের কে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সম্মান দেয়া হয়, উপযুক্ত মোহরানা আদায় করে বিবাহ করা ছাড়া কোন ধরনের নারী সম্ভোগ ইসলামে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

        মিথ্যাচার তোমাদের রক্ত কণিকার অংশ, কারণ তোমাদের জন্মই হচ্ছে পাপাচারের ফসল, অতএব তোমরা আজন্ম মিথ্যুক ভন্ড প্রতারক, কারণ তোমরা কোরআনের অনুবাদ কে পরিবর্তন করে পেশ করে থাক, তোমাদের উপর লানত ও কঠিন আজার নাযিল হোক৷
        এত মেহনত করে কুরানের আয়াতের অর্থ পরিবর্তন, জাল হাদিস প্রচার করে কি কোন লাভ হয়েছে? তোমার দলে কাওকে নিতে পেরেছ? না কখন পারবেনা। মিথ্যুকরা সর্বদা ধিক্কৃতঃ তুমি তোমার এই জঘন্য মিথ্যাচারের উপযুক্ত শাস্তি খুব শিগগিরই পাবে ইনশাআল্লাহ।

        Reply
  • October 17, 2018 at 11:41 AM
    Permalink

    রেফারেন্স আমি দেখেছি আর আমি খুব ভালো করে পড়েছি আমি ইসলামের ইতিহাস খুব ভালো জানি। আপনি আপনার পোষ্ট এ বলেছিলেন কয়েক বছর থেকে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি পাচ্ছেন না। এটা আশ্চার্যজনক নয় কি? আপনি তো মোটামুটি জ্ঞান রাখেন ইসলাম বিষয়ে যেহেতু ইসলামের একজন সমালোচক আপনি তাই না? তাহলে 10-12 বছরেও এটি আপনি কভার করতে বা বুঝতে পারেন নি! হ্যা রেফারেন্স ঠিকই কিন্তু যেহেতু আপনি তাৎপর্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর আপনিই জানেন। আর কেন ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সেটা আমি আপনি সবাই জানি ভাই।এবার এক কথায় উত্তর শুনেন -তথাকথিত গণিমাতের মাল হিসেবে নির্দিষ্ট সময় পর নারীদের ভোগ করা বা দ্বাসী হিসেবে হালাল করার মানে এই নয় তাদের ইচ্ছামত ধর্ষন করা,অত্যাচার করা, এর কারন হল যদি যুদ্ধের পর শত্রুদের স্ত্রী সন্তানদের সমাজে ছেড়ে দেওয়া হত তালে তারা সমাজ নষ্ট করত তাই নিজেরাই স্বাধ্যমত তাদের আয়ত্বে রেখেছে আশ্রয় দিয়েছে ফলে তারা শান্তির পথে অসার সুযোগ পেয়েছে।
    আমরা জানি তৎকালীন সময়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রে অনেক লোভী মানুষও ছিল যারা লোভের মোহে হযরতের(স) আদেশ অমান্য করেছিল। আর তাদের কর্মের সাথে ইসলামের যে তুলনা করে সে অনেক বড় অজ্ঞ। সে ইসলামের কিছুই জানে না ।
    পৃথিবীতে যত ধর্ম আছে এসকল ধর্মের মধ্যে একমাত্র ইসলামই নারী ভেগের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম ও নারীদের সম্মান দিয়েছে।

    আর যদি তাই হত তাহলে আপনারাই তো বলেন ইসলাম নিষ্ঠুর ধর্ম যেখানে ধর্ষনের বা বেবিচারের শাস্তি অনেক ভয়ানক!চুড়িড় শাস্তি হাত কেটে দেওয়া মেয়েদের পর্দা করে চলতে হয়। পর পুরুয়ের সাথে খোলামেলা ভাবে চলতে নিষেধ,বেবিচারের শাস্তি এহকাল এবং মৃত্যুর পরেও ভয়ানক ইত্যাদি ইত্যাদি । তাহলে ভাই এক মুখে কেন দুইরকম কথা বলেন?ইসলামে একমাত্র বিবাহিত নারী ছাড়া অন্য নারী ভোগ করা অনেক বড় অপরাধ এবং শাস্তিও অনেক ভয়ানক।

    Reply
  • October 25, 2018 at 9:18 PM
    Permalink

    মুমিন ভদ্রলোকের উত্তর শুনে হাসি থামাতে পারলাম না আসিফ ভাই। সোবহানাল্লাহ! ????????

    Reply
    • May 16, 2019 at 10:03 AM
      Permalink

      যে অন্ধ তাকে কে আলো দেয় .. আপনারা তো চোখ থাকতে ও অন্ধ আপনাদের কে পথ দেখাবে এমন সাধ্য কার?

      Reply
  • November 22, 2018 at 8:45 AM
    Permalink

    মাদারচোদ তোর পিক দেখা সাহস থাকলে। তোর ঘরে যেয়ে তোকে জবাই কইরা আসবো।

    Reply
  • November 22, 2018 at 8:48 AM
    Permalink

    আর শুন আসিফ, এতো বুঝলি এটা বুঝলি না যে, তোকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, তুই পথভ্রোষ্ট।

    Reply
  • July 1, 2019 at 10:24 AM
    Permalink

    যারা ধর্ম জানেনা তারাই অন্ধ বিশ্বাসী হয়।

    Reply
  • December 18, 2019 at 2:26 AM
    Permalink

    অনেক অজানা তথ্য জানা গেল।

    Reply
  • December 18, 2019 at 9:33 AM
    Permalink

    Ei achoda te. Tui samne aisa proman de chodanir pola tor bap jemon bejomna tui o tar bejonma

    Reply
  • December 31, 2019 at 9:21 PM
    Permalink

    ধন্যবাদ লেখা গুলো পড়লাম। পৃথিবীর প্রতিটা ধর্মই এরকম গাঁজাখুরি সব গল্প আর হিংসা বিদ্বেষ অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ মারামারি হানাহানি তাই প্রতিটা মানুষেরই ধর্মগ্রন্থগুলোকে ভালোভাবে পড়া উচিত।

    Reply
  • January 13, 2020 at 2:21 PM
    Permalink

    Thank You brother.helpful comment for me.i was shocked after reading this referenc. But now I’m little bit clear to read your commen. Thanks

    Reply
  • April 16, 2020 at 9:56 AM
    Permalink

    আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই

    Reply
  • April 30, 2020 at 3:46 PM
    Permalink

    (প্রথম অংশ)

    ইসলামের প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আছে। আমরা আমাদের জ্ঞানের সল্পতা বা সঠিক ইতিহাস না জানার কারনে ইসলামকে বরাবরই বুঝতে ভুল করি।

    যাইহোক মুল আলোচোনায় আসি, ছোট বেলায় আপনি একটি বইয়ে পড়েছিলেন শর্ষীনার পীর সাহেব বাঙালি মেয়েদের গনিমতের মাল বলেছেন। হাদিসে এসেছে,

    হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ”আমি অচিরেই লোকদের উপর এমন একটি সময় আসার আশংকা করছি, যখন কেবলমাত্র নাম ছাড়া ইসলামের আর কিছুই বাকি থাকবে না এবং কুরানের লিখিত রূপটি ছাড়া তার বাস্তবায়ন থাকবে না।

    মসজিদগুলো চাকচিক্যে ভরপুর হলেও মানুষ হেদায়াত থেকে বঞ্চিত হবে। ঐ সময়কার আলেমরা হবে আসমানের নিচে বিচরণকারী সর্বনিকৃষ্ট জীব। তাদের থেকেই বিভিন্ন ফিতনা ছড়াবে এবং তারা নিজেরাও সেই ফিতনায় আবর্তিত হবে।” -(সুনানে বায়হাকী, হাদীসটি সহীহ)

    এই হাদিসে রাসুল (সঃ) এমন একটি সময়ের ভবিষ্যৎ বানি করেছেন যখন আলেম সম্প্রদায় হবে সব থেকে খারাপ লোক। আমরা যদি বর্তমান সমাজের দিকে তাকায় তাহলে দেখতে পায় রাসুল ( সঃ) এর ভবিষ্যৎ বানীর প্রতিফলন সমাজের সর্বস্তরে বিদ্যামান।

    আলেমরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত। একদল আরেকদলকে কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত। এমনকি খুন ধর্ষনের মত নিকৃষ্ট কাজেও বর্তমানে আলেমরা জড়িত।
    এর মধ্যেও কিছু ভালো আলেম আছেন যারা ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিয়জিত করেছেন। মানুষকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান দান করছেন। ইমাম মাহাদির আগমনের মধ্য দিয়ে আলেম সমাজ আবার একত্রিত হবে ইনশায়াল্লাহ।

    সুতরাং আলেম সমাজ যে সব থেকে নিকৃষ্ট বা খারাপ হবে এবং তাদের দ্বারা ইসলামের সব থেকে বেশি ক্ষতি হবে তা রাসুল ( সঃ) ১৪০০ বছর আগেই বলে গেছেন। তাই কোন আলেম কি বলল তা না দেখে কুরান হাদীস পড়ুন প্রকৃত ব্যাখ্যা জানুন আপনাদের প্রশ্নের সব উত্তর পেয়ে যাবেন।

    তোমরা তাদেরকে যেখানে পাও সেখানেই হত্যা করো”, “যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই করে যাও” — কুর’আনে এরকম কিছু আয়াত রয়েছে, যা দেখলে কিছু অমুসলিমদের খুশিতে দাঁত বের হয়ে যায়। তারা এই আয়াতগুলো পড়ে ভাবে, “এই তো পেয়েছি! এইবার মুসলিমরা যাবে কই?”

    এই ধরনের আয়াতগুলোর আগে-পিছে কিছু না পড়েই, আয়াতগুলোকে কাটছাঁট করে ব্যাপক প্রচার করে, যেন তারা মানুষকে দেখাতে পারে যে, ইসলাম একটি অসহনীয়, আগ্রাসী, অশান্তির ধর্ম।

    আসুন দেখি, তারা কী প্রচার করে, আর কুরানে সুরা বাকারার সেই আয়াত গুলাতে আসলে কী বলা আছে—

    ১৯০ যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পথে লড়াই করো, কিন্তু সীমা অতিক্রম করবে না। যারা সীমা অতিক্রম করে, তাদেরকে আল্লাহ কখনোই ভালোবাসেন না।

    ১৯১ তাদেরকে যেখানে পাও সেখানেই হত্যা করো। আর সেখান থেকে বের করে দাও, যেখান থেকে ওরা তোমাদেরকে একদিন বের করে দিয়েছিল। অন্যায় বাঁধা, নির্যাতন (ফিতনা) হত্যার চেয়েও খারাপ। তবে মসজিদুল হারাম-এর কাছে ওদের সাথে লড়াই করবে না, যদি না তারা সেখানে তোমাদের সাথে লড়াই শুরু না করে। আর যদি তারা সেখানে লড়াই করেই, তাহলে তাদেরকে হত্যা করো — অবিশ্বাসীদের এটাই উচিত প্রাপ্য।

    ১৯২ কিন্তু ওরা যদি বন্ধ করে, তবে অবশ্যই, আল্লাহ অনেক ক্ষমা করেন, তিনি নিরন্তর দয়ালু।

    ১৯৩ যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যায় বাঁধা, নির্যাতনের (ফিতনা) অবসান না হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই করে যাও। কিন্তু ওরা যদি বন্ধ করে, তাহলে কোনো বিরোধ থাকা যাবে না, শুধু মাত্র অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ছাড়া। [আল-বাক্বারাহ]

    এছাড়া সুরা মুহাম্মদ এ এ জাতীয় কিছু আয়াত আছে।

    (দ্বিতীয় অংশ)

    কুর’আনে যত জায়গায় আল্লাহ কিতাল (যুদ্ধ, লড়াই) এর আদেশ দিয়েছেন, তার প্রত্যেকটির পেছনে কোনো না কোনো প্রেক্ষাপট রয়েছে। এমন কোনো আয়াত পাওয়া যাবে না, যেখানে আল্লাহ মুসলিমদেরকে কোনো কারণ ছাড়াই নিজে থেকেই গিয়ে মারামারি করতে বলেছেন, অথবা মানুষকে জোর করে মুসলিম বানানোর জন্য বা নিজেদের আধিপত্য প্রসার করার জন্যও বলেননি।

    বরং যখন তারা মুসলিমদের উপর অত্যাচার করবে তখনই তাদেরকে আল্লাহ শাস্তি দিতে বলেছেন। অনথ্যায় তাদের উপর আক্রমন করা যাবে না। অর্থাৎ কাফিররা মুসলিমদের উপর আক্রমন করলে মুসলিমদেরও আক্রমন করতে বলা হয়েছে।

    যেমন, আল-বাক্বারাহ’র এই আয়াতগুলোতে মুসলিমদের লড়াই করার নির্দেশ তখনি দেওয়া হয়েছে, যখন মানুষ তাদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। যুদ্ধ, লড়াই এর ব্যাপারে কুর’আনে সবসময় শর্ত হচ্ছে: আত্মরক্ষা বা ইসলাম মেনে চলতে বাঁধা দেওয়া।[২][৪][১১]

    আজকাল কিছু অমুসলিম কু’রআনে এই ধরনের আয়াতগুলো নিয়ে লেখালেখি করে দেখাতে চায় যে, ইসলাম একটি অসহনীয় ধর্ম। এই ধর্ম কিছু হলেই মারামারি করতে বলে। অথচ অন্য ধর্মগুলো কত শান্তির।

    সেই সব ধর্ম মানুষকে সবসময় মিলে-মিশে থাকতে বলে, যত সম্ভব অহিংসার পথ অবলম্বন করতে বলে। কিন্তু ইসলাম একরোখা ধর্ম, এটি মানুষকে অন্যায়ের প্রতি সহনশীল হতে বলে না, নিজেদের প্রতিপত্তি বাড়ানোর জন্য যুদ্ধ করতে বলে ইত্যাদি।

    চুপচাপ অন্যায় মেনে নেয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।
    একটা বিষয় এখানে লক্ষ্য করুন আল্লাহ এই আয়াতগুলি যুদ্ধের ময়দানের জন্য অবতীর্ন করেছেন।অর্থাৎ যুদ্ধের ময়াদানের বিভিন্ন রুলস রেগুলেশন নিয়ে এই আয়াতগুলো নাজিল হয়েছিল।

    একটা সহজ বিষয় নাস্তিকদের মাথায় ঢোকেনা যুদ্ধের সময় কি মানুষ একে অপর কে পরাজিত করতে যায় নাকি যুদ্ধের ময়দানে যোদ্ধারা শত্রুদের সাথে কোলাকুলি করতে যায়? যুদ্ধের ময়দানে তো যুদ্ধয় করবে তাইনা। আর আল্লাহ এখানে যুদ্ধের ময়দানে তার পথের সৈনিকদের মনবল বৃদ্ধি করেছেন উক্ত আয়াত দিয়ে।

    তাদের বক্তব্য পড়লে মনে হয় কু’রআনে উচিত ছিল আয়াতগুলো এমন হওয়া “যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো না। চুপচাপ মার খেয়ে যাও। যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না, তাদেরকে আল্লাহ বড়ই ভালবাসেন। আর তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দিও না, যেখান থেকে ওরা তোমাদেরকে একদিন বের করে দিয়েছিল। অন্যায় বাঁধা, নির্যাতন (ফিতনা) ধৈর্য ধরে সহ্য করে যাও, যুদ্ধ করার থেকে অন্যায় মুখ বুখে সহ্য করা উত্তম।

    কল্পনা করুন বাংলাদেশ পাকিস্থান যখন যুদ্ধ হয়ছিল আমরা কি পাকিস্থানিদের ছেড়ে দিয়েছি? নাকি যেখানে পেয়েছি হত্যা করার চেষ্টা করেছি? এভাবে যদি ভাবতে পারেন তাহলে বুঝতে পারবেন উক্ত আয়াতগুলা কতটা প্রাসংগিক আর যুক্তি সংগত।

    Reply
  • April 30, 2020 at 3:48 PM
    Permalink

    (তৃতীয় অংশ)

    জিহাদকে কেন বৈধতা দেয়া হল?

    যুদ্ধ আসলে ভালো কাজ নয়; যুদ্ধ-বিগ্রহ দাংগা-হাংগামা মানুষের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। তবে, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে এটার দারস্থ হতে হয়।

    যখন যুদ্ধ ছাড়া সমাজকে শান্তিপূর্ণ রাখার আর কোন পথ অবশিষ্ট্য থাকেনা তখনই বাধ্য হয়ে জিহাদের চুড়ান্ত স্তর যুদ্ধের মত কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। ঠিক তেমনি আল্লাহ তায়ালা জিহাদকে পবিত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে বৈধ করেছেন।

    আল্লাহ তায়ালা বলেন: আর এ কাফেরদের সাথে এমন যুদ্ধ করো যেন গোমরাহী ও বিশৃংখলা নির্মূল হয়ে যায় এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহ তায়ালার জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তারপর যদি তারা ফিতনা থেকে বিরত হয় তাহলে আল্লাহই তাদের কার্যকলাপ দেখবেন। (সুরা আনফাল: ৩৯)

    অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন: তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয়ে যায় এবং দীন একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয় তাহলে জেনে রাখ যালেম তথা অত্যাচারী ছাড়া আর করোর ওপর হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। (সুরা বাকারা: ১৯৩)

    সুতরাং এ আয়াত থেকে বোঝা যায় আল্লাহ কাফেরদের যুদ্ধের ময়দানে হত্যা করার কথা বলেছেন। কিন্তু যদি তারা মুসলিমদের অত্যাচার করা থেকে বিরত হয় তাহলে তাদের হত্যা করা থেকে বিরত থাকতে বলছেন।

    দাস প্রথা নিয়ে ইসলাম কি বলে

    ইসলাম বিরোধীরা যেসব বিষয় নিয়ে ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় তার অন্যতম অস্ত্র হচ্ছে কৃতদাসীর সাথে সহবাসের অনুমতি।

    সমালোচনা করাই যাদের লক্ষ্য তারা সমালোচনা করবেই, কিন্তু চিন্তা ও উপলদ্ধির দ্বার যারা এখনো বন্ধ করেন নাই আশা করি লেখাটি পড়ে স্পর্শকাতর এই বিষয়টি সম্পর্কে তাদের অনেক ভুল ধারণারই অবসান ঘটবে ইনশাআল্লাহ।

    মূল আলোচনায় যাবার আগে কয়েকটি বিষয় আমাদের ভালোভাবে মনে রাখতে হবেঃ

    দাসপ্রথা ইসলামের উদ্ভাবন নয় , বরং দাসপ্রথা অতিপ্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি নিষ্ঠুর সামাজিক প্রথা। ইসলাম প্রথম ধর্ম যা সমাজে প্রচলিত অমানবিক দাসপ্রথাকে মানবিক করতে সচেষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে নানাবিধভাবে দাসমুক্তকরণের পথ উন্মুক্ত করেছে।

    ১)প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তাই হালাল যা আল্লাহ্‌ হালাল করেছেন।আর সেই সব বিষই হারাম যা আল্লাহ্‌ হারাম করেছেন।

    ২) ক্রীতদাসির সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের অধিকার দাসপ্রথার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছিল ইসলাম এই বিষয়টি কিছু নীতিমালা দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করে দাসীদের অধিকার নিশ্চিত করেছে মাত্র যা অতীতে কখনোই ছিলনা।

    (চতুর্থ অংশ)
    কৃতদাসি কারা?
    ***************
    মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কমিউনিটির প্রত্যেক লোককে বলা হয় মুহারিব। এদের নারীদের দাসী বানানো মুসলিমদের জন্য ততক্ষন পর্যন্ত বৈধ যতক্ষণ না তারা নিজেদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে অথবা ইসলাম গ্রহণ করে।

    কোন যুদ্ধবন্দী কাফির নারী যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তাকে আর দাসী বানানো যাবে না।

    কেন?
    যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঘোষণা করেছে, তারা মূলত মুসলিমদের জন্য চরম ক্ষতিকর আর ইসলাম এজন্যেই এদের বিরুদ্ধে যৌক্তিক ব্যবস্থাই নেয়। ইসলাম এদের নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ বন্দিদের হত্যা করতে নিষেধ করে।

    এসব বন্দির ক্ষেত্রে ইসলামি নির্দেশ হচ্ছেঃ-
    ১. কুফফারের কাছে আটক মুসলিমদের বিপরীতে বন্দী বিনিময়।
    ২. অর্থের বিনিময়ে যুদ্ধবন্দীদের ছেড়ে দেয়া।
    ৩. ক্ষমা করে ছেড়ে দেয়া।
    ৪. তাদের পুরুষদের হত্যা করা আর তাদের দাস-দাসী বানানো।

    এই চারটার বিপরীতে মুসলিমরা সেই বন্দীদের চিরজীবন আটক করে রাখতে পারে। কিন্তু এটা কোন যৌক্তিক সমাধান না। মুসলিমরা তাদের ভরণ-পোষণের দায়ভার নিয়ে, নিজেদের দায়িত্বকে কোন অবস্থাতেই বাড়াতে পারে না। কারণ, ইসলাম বন্দীদের সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশ দেয়।

    যেহেতু বন্দী নারীদের কোনভাবেই হত্যা করা যাবে না, সেহেতু তাদের ব্যাপারে অবশ্যই ইসলাম যৌক্তিক সমাধান দেয়। কাফিররা যদি তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কোন ব্যবস্থা না করে, তবে হয় তাদের ক্ষমা করে ছড়ে দিতে হবে, নয়ত দাসী বনাতে হবে। তারা যদি আহলুল কিতাব হয় তবে তাদেরকে মুসলিমরা বিবাহ করতে পারবে কিন্তু মুশরিক হলে কখনেই তাদের বিয়ে করতে পারবে না।

    Reply
  • April 30, 2020 at 3:49 PM
    Permalink

    (পঞ্চম অংশ)
    দাসপ্রথাকে উচ্ছেদ না করে ইসলাম কেন ক্ষেত্রবিশেষে ও সীমিত আকারে অনুমোদন দিয়েছে? দাসীর সাথে পুরুষ মালিকের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমোদন থাকার কী কারণ? ইসলামে কি যুদ্ধের অজুহাতে ধর্ষণ জায়েয?

    এসব বিষয়ে অনেকের মধ্যেই স্বচ্ছ ধারণার অভাব লক্ষ করেছি। তাই এই লেখা। লেখাটা একটু বড় হলেও নিশ্চয়তা দিচ্ছি, অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে পড়লে এতে আপনি নতুন কিছু তথ্য পাবেন। চিন্তার কিছু খোরাক পাবেন। এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভংগীর পরিবর্তন ঘটবে। হোপফুলি।

    ইসলাম দাসপ্রথাকে নিষিদ্ধ করেনি। সংস্কার করেছে। এইসব সংস্কার এতই মৌলিক ছিলো, যার পরিণতিতে দাসপ্রথা ক্রমে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

    দীর্ঘমেয়াদে দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘটাবে এমন মৌলিক সংশোধন ও সংস্কারের দিকে ইসলাম কেন গেলো, অমানবিক এই ব্যবস্থাকে আইনত নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে? মদপান ও সুদ নিষিদ্ধকরণের মতো করে এই অপপ্রথা কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হলো না? এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর পাবেন এই লেখায়।

    প্রকৃত সত্য হলো, ধাপে ধাপে মদ নিষিদ্ধের মতো ইসলাম ধাপে ধাপে দাসপ্রথারও বিলুপ্তি সাধন করেছে। মদ পান নিষিদ্ধ করা হয়েছে নৈতিক ও প্রত্যক্ষ আইনি প্রক্রিয়ায়। দাসপ্রথার ব্যাপারে ইসলাম প্রত্যক্ষ আইনী প্রক্রিয়াতে অগ্রসর না হয়ে পরোক্ষ আইনি প্রক্রিয়া, সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিকভাবে সমস্যাটিকে মোকাবিলা করেছে।

    বলা যায়, গাছটিকে একসাথে সমূলে উৎপাটন না করে এর গোড়ায় পানি সিঞ্চন বন্ধ করে এর প্রত্যেকটি শেকড় একে একে কেটে দিয়েছে। ফলস্বরূপ, এক পর্যায়ে এর অবসান হয়েছে। যদিও এখনো বিশ্বব্যাপী নানা মাত্রায় রয়ে গেছে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মানুষের ওপর মানুষের দাসত্ব।

    দাসব্যবস্থা ইসলামের কোনো মৌলিক বিধান না হওয়া সত্ত্বেও, বিশেষ করে দাসীদের সাথে মালিকের ‘বিবাহ-বহির্ভূত’(?) যৌন সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে ইসলামবিরোধী মহল, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ইসলামপন্থীগণও এই ইস্যুতে নানা মাত্রায় সন্দেহ-সংশয়ে ভুগছেন।

    তারচেয়েও বড় কথা হলো, যেসব যুক্তি দিয়ে এ ব্যাপারে ইসলামের অবস্থানকে ডিফেন্ড করা হচ্ছে সেগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। বরং কিছুটা নিম্নমানের। ক্ষেত্রবিশেষে পুরুষতান্ত্রিক মন-মানসিকতাপ্রসূত অধিকতর আপত্তিজনক।

    (৬ষ্ঠ অংশ)

    দাস-দাসীদের ব্যাপারে ইসলামের মূল উৎস কোরআন ও হাদীসে কী কী বলা আছে ইত্যাদি নিয়ে সিস্টেমেটিক্যালি আলোচনা করার চেয়ে আমি বরং দাসীদের সাথে মালিকের ‘বিবাহবহির্ভূত’(?) যৌন সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে টু-দ্যা-পয়েন্টে কিছু আলোচনা করবো। আলোচনায় রেফারেন্সের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে কনটেন্ট ও কনটেক্সটের ওপর গুরুত্বারোপ করবো।

    স্বাধীন মানুষকে জোর করে দাস বানানো ও স্বেচ্ছায় দাসত্ববরণ করাকে ইসলাম হারাম করেছে। যুদ্ধবন্দীদেরকে কী করা হবে তা নিয়ে আমাদের কাণ্ডজ্ঞান যা সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত করণীয় হিসাবে বলে, ইসলামী শরীয়তও ঠিক সেইসব ব্যবস্থা গ্রহণের কথাই বলে।

    একটা বিকল্প হতে পারে, তাদেরকে পটেনশিয়াল থ্রেট মনে করে হত্যা করা। আরেকটা বিকল্প হতে পারে, বন্দি-বিনিময় চুক্তির আওতায় বা মুক্তিপণের বিনিময়ে বা শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে মুক্তি দেয়া।

    এর কোনোটাই যদি সম্ভব না হয়, তাহলে যুদ্ধবন্দীদের জন্য শ্রমশিবির ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিকল্প হিসেবে তাদেরকে উপযুক্ত নাগরিকদের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগত-বন্দি তথা দাস হিসাবে ডিস্ট্রিবিউট করে দেয়ার মাধ্যমে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা সহকারে সামাজিক জীবনে আত্মীকরণ করা হতে পারে একটি ব্যবস্থা।

    এ প্রসঙ্গে এ কথাটি বলে নেয়া ভালো, ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক নিরীহ নারী, শিশু ও বৃদ্ধদেরকে কিন্তু কোনো অবস্থাতেই হত্যা করা যাবে না।

    তখনকার সমাজে দাস কেনা-বেচার যে সিস্টেম ছিলো সেটাকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেনি। কারণ, সমাজের কাঠামোর আমূল পরিবর্তন না করে হঠাৎ করে এর অন্যতম ক্রিয়াশীল একটা ভিত্তিকে ধ্বসিয়ে দেয়াটা যুক্তিসংগত ছিলো না।

    এর পাশাপাশি, দাসদের মানবিক আত্মমর্যাদাবোধ ও সমাজে তাদের ন্যায্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত না করে তাদেরকে গণহারে স্বাধীন করে দেয়াটা বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান হতো না।

    সমাজ পরিবর্তনে ইসলামের মূল পদ্ধতি যে বটম-আপ এপ্রোচ বলতে আমরা যা বুঝি ঠিক তা-ই, সেটা আমরা এই ইস্যু থেকে ভালোভাবে বুঝতে পারি। তখনকার ব্যবসায় লাভ ও সুদ, দুটোই ছিলো। ইসলাম সুদকে নিষিদ্ধ করে শুধু লাভ-ক্ষতিভিত্তিক ব্যবসা পদ্ধতির প্রবর্তন করে।

    যৌনতার বিষয়ে তখনকার সমাজে নানা ধরনের ব্যবস্থা অনুমোদিত ও প্রচলিত ছিলো। ইসলাম বৈবাহিক ব্যবস্থার একক ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় সেগুলোকে রেগুলেইট করে। ধাপে ধাপে মদ নিষিদ্ধকরণ ছিলো বিনোদন সংস্কৃতি সংস্কারের অন্যতম অনুষঙ্গ।

    তখনকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দাসদের ভূমিকা ছিলো ব্যাপক। এই প্রেক্ষাপটে ইসলাম একতরফাভাবে দাসব্যবস্থাকে নিষিদ্ধ না করে দাসদের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করেছে।

    আফসোস! ইসলামপন্থীগণ দাসব্যবস্থা বিলোপের ব্যাপারে ইসলামের এই ক্রমধারা অবলম্বনকে ফোকাস করলেও অন্যান্য সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে ‘সুন্নাতে তাদাররুজ’ বা ক্রমধারা অবলম্বনের এই নীতিকে মানতে চান না।

    যুদ্ধবন্দীদেরকে হত্যা করা বা মুক্তি দেয়ার বিকল্প হতে পারে, তাদেরকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে রাখা। অথবা, যে কোনো মাত্রায় যে কোনো কাজে বাধ্য করা যাবে, এমন মানবিক মর্যাদাশূন্য দাস হিসাবে তাদেরকে সৈনিক ও নাগরিকদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া।

    নিশ্চিত করা হয়েছে যেন তারা জীবনযাপনের দিক থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সমমর্যাদায় বসবাস করতে পারে। বণ্টনের পূর্বে ধৃত কোনো যুদ্ধবন্দী ছিল নিছকই একজন যুদ্ধবন্দী। লুটের মাল নয়। এ ব্যাপারে ইসলামের আইন অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

    Reply
  • April 30, 2020 at 3:50 PM
    Permalink

    (সপ্তম অংশ)
    দাসদাসীদের যৌনজীবন কেমন ছিলো, তা নিয়ে আসেন এবার সংক্ষেপে কিছু কথা বলি।

    যৌনজীবনের ইসলাম-অনুমোদিত একমাত্র ফরমেট হলো বিয়ে। ইসলামের দৃষ্টিতে তাই বৈবাহিক সম্পর্ক-বহির্ভূত সম্পর্ক মাত্রই হলো ব্যভিচার। অতএব, শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    সমকামিতার প্রভাব তখন কমবেশি ছিলো এবং এ ধরনের আচরণকে যৌন বিকৃতি হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ব্যভিচার বেআইনী হলেও স্বাভাবিক যৌন আচরণ। বিকৃতি বা পারভার্শন নয়। কেন জানি কথাটা এভাবে বলা হয় না। অথচ এটাই হলো সত্য।

    দাসীদের সাথে মালিকের যৌন সম্পর্ক স্থাপন ছিলো এক ধরনের বিয়ে। ইসলামে বিয়ে সম্পর্কে যা কিছু বলা আছে দাসীদের সাথে যৌন মিলনের ক্ষেত্রেও সে ধরনের নীতিমালা আছে।

    সুতরাং দাসীদের সাথে মালিকের যৌনসম্পর্ক ছিল আইন অনুমোদিত এক ধরনের বৈবাহিক সম্পর্ক।

    স্বাধীন মহিলার সাথে বিয়ের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত মানতে হয়, দাসীর সাথে মালিকের যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সেগুলো কার্যকর থাকে। এমনকি দাসীদের সাথে কেউ যিনা করলে তারও শাস্তির বিধান ছিল। এ নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করছি।

    পুরুষ মালিকের অধীনে বণ্টনকৃত দাসীর সাথে যৌন সম্পর্ক করা যাবে না, যদি সে মহিলা গর্ভবতী হয়, তার এক হায়েজ যদি অতিক্রম না হয়। শুধুমাত্র মালিক পুরুষটিই যৌন সম্পর্ক করতে পারবে।

    অন্য কেউ যদি তার সাথে যৌন সম্পর্ক করে তাহলে সে দণ্ডবিধি মোতাবেক যিনার শাস্তি পাবে। এমনকি নিজ স্ত্রীর মালিকানাধীন দাসীও যদি হয়।

    অন্য কারো সাথে উক্ত দাসীর বিয়ে দিলে মোহরানার টাকা বা সম্পদ দাসী পাবে, নাকি তার মালিক পাবে– তা নিয়ে এখতেলাফ আছে। মোহরানা যে-ই পাক, দাসীকে বিয়ে দেয়ার পরে তার পুরুষ মালিক তার সাথে কোনো প্রকার যৌন সম্পর্ক করতে পারবে না। করলে দণ্ডবিধি অনুসারে তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

    সাধারণ বিয়ের শর্তগুলো মালিক-দাসীর যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য তা খেয়াল করলে আমরা দেখবো:

    (১) দাসী মানে জনগণের বা পরিবারের যৌথ যৌন-সম্পত্তি নয়।

    (২) বিয়েতে অভিভাবকের সম্মতি লাগে। দাসীর ক্ষেত্রে বণ্টনকারী কর্তৃপক্ষ তথা রাষ্ট্র এই দায়িত্ব পালন করে।

    (৩) বিয়েতে জানাজানি হতে হয়। দাসীর সাথে মালিকের যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অথরিটি কর্তৃক প্রকাশ্য বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই শর্তটি পূর্ণ হয়।

    (৪) বিয়েতে পাত্রীর সম্মতি লাগে। স্বাধীনতা না থাকায় মালিকের সম্মতিই দাসীর সম্মতি হিসাবে বিবেচিত হয়। যেভাবেই হোক না কেন, সমাজে দাসপ্রথা বিদ্যমান থাকা সাপেক্ষে এটাই যুক্তিসঙ্গত।

    (৫) বিয়েতে মোহরানা লাগে। দাসীর টাকা-পয়সার মালিকানা তার মালিকের হওয়ার কারণে নিজ দাসীকে মোহরানা দেয়ার মানে হলো নিজেই নিজেকে মোহরানা দেয়া। দাসীকে মোহরানা দেয়ার প্রয়োজন না থাকার এটি হলো কারণ। সহজ কাণ্ডজ্ঞান থেকে যা আমরা বুঝতে পারি।

    (৬) সাধারণ বৈবাহিক সম্পর্কের মতো দাসীর গর্ভজাত সন্তান মালিকের স্বাধীন স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তানের সমতূল্য সর্ববিধ মর্যাদা লাভ করে। তদুপরি, মালিকের সন্তানের মা হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট দাসীকে বিক্রয় করা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। মালিকের মৃত্যুর পরে ‘সন্তানের মা’ হিসেবে সেই দাসী অটোমেটিক্যালি স্বাধীন হয়ে যায়। এমনকি, মালিকের ঔরসের সন্তান যদি অপূর্ণ বা মৃতও হয়।

    (৭) সাধারণ বিয়েতে তালাকের ব্যবস্থা থাকে। ব্যক্তি হিসাবে স্বাধীন না হওয়ার কারণে দাসী তালাকের অধিকার পায় না। তবে মালিক ব্যতীত অন্য কারো সাথে তার বিয়ে হলে প্রয়োজনে সে বিবাহবিচ্ছেদ চাইতে পারে।

    মোটকথা হলো, জ্ঞাত ও দায়দায়িত্বসম্পন্ন যৌন সম্পর্ককে যদি আমরা বিয়ে বলি, তাহলে বলতে হয় দাসীর সাথে মালিকের যৌন সম্পর্কও এক ধরনের বিয়ে।

    (অষ্টম অংশ)
    মা বা খালাকে যেমন বিয়ে করা যায় না, তেমন করে বাবার সাথে যৌন সম্পর্ক ছিলো এমন দাসীকে বা তার কোনো বোনকে, উক্ত মালিকের ছেলে বিয়ে করতে পারবে না, যদিও সে ক্রয়, দান কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে উক্ত ক্যাটাগরির কোনো দাসীর মালিকানা অর্জন করে।

    দুই বোনকে যেমন একসাথে বৈবাহিক সম্পর্কে রাখা যায় না, তেমন করে দুই সহোদরা দাসীর সাথে একইসাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার বিধান নাই। মালিক এ ক্ষেত্রে দুই বোনকে আলাদা আলাদাভাবে বিয়ে দিবেন।

    অথবা, একজনকে অন্যত্র বিয়ে দিবেন এবং অপরজনকে স্ত্রীসুলভ সম্পর্কে গ্রহণ করবেন। এমতাবস্থায় যাকে অন্য কারো কাছে বিয়ে দেয়া হয়েছে সে তার জন্য হারাম হয়ে যাবে।

    স্বাধীন নারীদের বৈবাহিক সম্পর্কের মতো দাসীদের ক্ষেত্রেও ফুফু কিংবা খালা ও ভাইঝি কিংবা বোনঝিকে একসাথে করা যাবে না। মা ও মেয়েকে নয় যেমন করে। এক কথায়, বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ হওয়া বা না হওয়ার যে সম্পর্ক-সূত্রগত শরয়ী বিধান, তাতে স্বাধীন নারী ও দাসীর মধ্যে পার্থক্য নাই। সো, নো কনফিউশন।

    দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্ক অবাধ যৌনতা চর্চার কোনো ব্যাপার নয়। বরং স্বাধীন নারীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের মতোই বিধিবদ্ধ ও দায়-দায়িত্বসম্পন্ন মানবিক সম্পর্ক।
    সামরিক কারণে সংশ্লিষ্ট নারীর ব্যক্তি-স্বাধীনতা সীমিত হওয়া বা ক্ষেত্রবিশেষে না থাকার কারণে দাসীর দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবন যদিও তুলনামূলকভাবে খানিকটা নিম্নস্তরের।

    পুরুষতন্ত্র নিবর্তনমূলক। তাই তা অনৈসলামিক। এর পাশাপাশি এ কথা আমাদের ভালোভাবে স্মরণে রাখতে হবে, ইসলাম সমর্থিত পরিবারব্যবস্থা হলো পিতৃতান্ত্রিক। অর্থাৎ পিতা হবেন পরিবার নামক এই সামাজিক-একক বা আণবিক-প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তি। তাই, সঙ্গত কারণেই নারী মালিককে স্বীয় অধীনস্থ পুরুষ দাসের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়নি।

    বিদ্যমান সামরিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থা বিশেষ করে যুদ্ধের অনির্ণেয় পরিস্থিতিজনিত অনিশ্চয়তার কারণে চারের অনধিক স্ত্রীর মতো যৌন সম্পর্কে গৃহীত দাসীর সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়া হয় নাই।

    তাই বলে কেউ অন্দরমহলে ‘হারেম’ কায়েম করবে, তা কোনোক্রমেই ইসলামসম্মত হতে পারে না। পরবর্তী যত ‘খলিফা’ই তা করুক না কেন, খেলাফতের নামে প্রবর্তিত রাজতন্ত্রের মতোই তা ইসলামবহির্ভূত। অতএব, বাতিল।

    প্রতিদিন বিয়ে করে খেয়ালখুশি মতো তালাক দিয়ে কেউ চাইলে বৈবাহিক ব্যবস্থার কাঠামো ঠিক রেখে এর অন্তর্গত উদ্দেশ্যকে উল্টিয়ে দিতে পারে। ‘উলিল আমর’ তথা কার্যবিধায়ক কর্তৃপক্ষ এ ধরনের বিশেষ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখবেন।

    সমস্যা হলো, যে ইসলাম কবরের উপর কোনো কাঠামো নির্মাণকেই বৈধতা দেয় না, সেই ইসলামের অনুসারীরাই আবার তাজমহল নিয়ে মুসলিম ঐতিহ্যের গর্ব করে!

    স্বাধীন নারীর পক্ষে স্বামী কর্তৃক যৌন সম্পর্কের আহ্বানকে অস্বীকার করার সুযোগ নাই শরীয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া। তবে স্বামীর আইনানুগ যৌন আচরণকে অপছন্দ করলে তিনি এই ক্ষেত্রে তালাক নিতে পারেন। দাসী তা পারেন না।

    তবে, হোক তিনি দাসী বা স্বাধীন নারী, সর্বাবস্থাতেই একজন নারী ‘যৌন নির্যাতনের’ প্রতিকার চাইতে পারেন। স্বাধীন নারী-দাসী নির্বিশেষে সমমর্যাদায় প্রচলিত নিয়মে এ ধরনের যে কাউকে যথাযথ আইনি প্রটেকশন দিতে হবে।

    আজীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদেরকে কয়েদখানায় একসাথে সমাজবিচ্ছিন্ন অবস্থায় না রেখে উপযুক্ত নাগরিকদের অধীনে স্থায়ী হেফাজতে রাখার ব্যবস্থা করাই হলো ইসলাম অনুমোদিত দাসব্যবস্থার মূল কথা।

    Reply
  • April 30, 2020 at 3:51 PM
    Permalink

    (নবম অংশ)

    একজন দাস বা দাসী পূর্ণ নাগরিক অধিকার, বিশেষ করে রাজনৈতিক অধিকার পাবে না, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সে পাবে পূর্ণ নৈতিক, ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার।
    অধীনস্ত পরিবারের সদস্যদের বিয়ের ব্যবস্থা করা যেমন পরিবার প্রধানের কর্তব্য।

    তেমনিভাবে পুরুষ দাসের বিয়ের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও তার মালিকের। দাসত্বের মধ্যে থাকা নারীকে স্ত্রী-তুল্য যৌনসঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। অথবা, তার বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তাকে ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।

    ইসলাম এমন এক সমাজব্যবস্থা চায়, যাতে কেউ যৌনতা থেকে দীর্ঘমেয়াদে বা স্থায়ীভাবে বঞ্চিত না থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যাদের জুড়ি নাই, তাদের জন্য সঙ্গীর ব্যবস্থা করো। ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়েই হচ্ছে যৌনতার প্রয়োজন পূরণের একমাত্র বৈধ ব্যবস্থা।

    মুহসিনা বা স্বাধীন কোনো নারীর ওপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ যেমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তেমনি করে কোনো দাসীর চরিত্রহননও শাস্তিমূলক অপরাধ। সেটা যে-ই করুক না কেন। স্বাধীন নারী যেমন ব্যভিচারে লিপ্ত হলে শাস্তির সম্মুখীন হয়, তেমনিভাবে যিনায় লিপ্ত হলে শাস্তি পাবে দাস বা দাসী।

    অবশ্য, দাস বা দাসী হিসেবে নিম্নমর্যাদাসম্পন্ন ও কিছুটা হালকা সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে থাকার কারণে এ ধরনের অপরাধীদের জন্য শাস্তির মাত্রা হবে লঘুতর। একশত বেত্রাঘাত। স্বাধীন বিবাহিত পুরুষ বা নারীর জন্য এটি হলো মৃত্যুদণ্ড।

    ইসলামী শরীয়াহ অনুসারে, মুসলিম বাহিনীর হাতে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আটক হওয়ার কারণে বিবাহিত যুদ্ধবন্দিনীদের পূর্বেকার বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এমনকি স্বামীসহ বন্দী হলেও। এটি হলো সিভিলিয়ান হয়েও যুদ্ধে আসার শাস্তি।

    কোনো দাস বা দাসী যখন তার মালিকের সাথে মুক্তির চুক্তি করতে চাইবে, তাতে তার মালিককে অবশ্যই সম্মত হতে হবে। সে ক্ষেত্রে উক্ত দাস বা দাসীকে স্বাধীনভাবে উপার্জন করে মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করার সুযোগ করে দিতে হবে। কোনো দাসী অবশ্য এ জন্য পতিতাবৃত্তির অনুমতি পাবে না। এমনকি মালিকের সম্মতি থাকলেও না।

    (দশম অংশ)

    ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনী সংক্রান্ত সূরা নিসা ও সূরা মুমিনুন এর কিছু কুরআনের আয়াতঃ
    ******************************************************
    ১)
    তবে তাদের স্ত্রী ও ডান হাতের মালিকানাভুক্তদের (দাসীদের) ক্ষেত্রে [যৌনাঙ্গকে] সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। [প্রাসঙ্গিক অংশ২৩:৬]

    ২)
    আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। [প্রাসঙ্গিক অংশ, ৪:২৫]

    ৩)
    তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। [প্রাসঙ্গিক অংশ, ২৪:৩২]

    ৪)
    তোমাদের দাসীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য কারো না। [প্রাসঙ্গিক অংশ, ২৪:৩৩]

    সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিসঃ
    ****************************
    ১)
    ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো যদি একটি বাঁদী থাকে আর সে তাকে প্রতিপালন করে, তার সাথে ভাল আচরণ করে এবং তাকে মুক্তি দিয়ে বিয়ে করে, তাহলে সে দ্বিগুন সাওয়াব লাভ করবে।(সহি বুখারী-২৩৭৬)
    ২)
    আবু সাঈদ আল খুদরি (রা.) আওতাসে ধৃত যুদ্ধবন্দিদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিম্নোক্ত এরশাদ বর্ণনা করেন: গর্ভবতী নারীর সাথে সঙ্গম করো না যতক্ষণ না সে সন্তান প্রসব করে এবং যে নারী গর্ভবতী নয় তার সাথে (সঙ্গম) করো না যতক্ষণ না তার একটি ঋতুচক্র সম্পন্ন হয়। [ সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২১৫৭ ]
    ৩)
    রুওয়াইফি ইবনে সাবিত আল আনসারি হতে বর্ণিত: আমি কি তোমাদেরকে বলবো না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হুনাইনের দিনে যা বলতে শুনেছি: “আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাসী ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় অন্যের ফসলে পানি দেওয়া (অর্থাৎ কোন গর্ভবতী নারীর সাথে সঙ্গম করা)। এবং আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাসী ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় কোন যুদ্ধবন্দিনী নারীর সাথে সঙ্গম করা যতক্ষণ না এটা প্রতিষ্ঠিত হয় যে সে গর্ভবতী নয়। এবং আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাসী ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় বণ্টন হবার আগে গণিমতের কোন মাল বিক্রয় করা।” [ সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২১৫৮ ]
    ৪)
    আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যখন কোন ব্যক্তির ক্রীতদাসি তার সন্তান ধারণ করে, সে তার(মুনিবের) মৃত্যুর পর স্বাধীন হয়ে যায়।” [সূত্র: তিরমিযি, হাদিস নং- ৩৩৯৪]
    ৫)
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা তোমাদের সন্তান গর্ভধারিণী ক্রীতদাসিকে বিক্রয় করো না।” [তাবারানি’র মু’যাম আল কাবির, হাদিস নং-৪১৪৭]
    ৬)
    হারুন ইবনুল আসিম বর্ণনা করেন:
    উমর ইবনুল খাত্তাব(রা.) খালিদ বিন ওয়ালিদ(রা.)-কে সৈন্যবাহিনীসহ প্রেরণ করেন এবং খালিদ (রা.) সৈন্যদলসহ জিরার ইবনুল আযওয়ারকে প্রেরণ করেন।
    , আর তারা আসাদ গোত্রের একটি এলাকা দখল করেন। তিনি সেখানে এক বন্দি নারীর সাথে সহবাস করলেন।এতে উমর(রাঃ) তাকে রজমের (পাথর ছুড়ে হত্যা) নির্দেশ দেন।(সংক্ষেপিত)
    [সূত্র: বায়হাকি’র সুনান আল কুবরা, হাদিস নং ১৮৬৮৫]

    (এগারতম অংশ)
    বৈধতার যৌক্তিকতার বিশ্লেষণঃ
    ******************************
    উপরোক্ত কোরআনের আয়াত ও হাদিসের আলোকে আমরা বুঝতে পারি ইসলাম দাসিকে বিয়ে করতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে শর্ত সাপেক্ষে কৃতদাসির সাথে সহবাসের অনুমতি দিয়েছে।ইসলামে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যৌন চাহিদার স্বীকৃতি এবং তা পূরণের বৈধ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একইভাবে ক্রীতদাসদাসিদের যৌন চাহিদা পূরণের বৈধ ব্যবস্থাও ইসলামে থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

    এই নির্দেশনা কৃতদাসীদের জন্য খুলে দিয়েছিল মুক্তির যে অবারিত দোয়ার-
    ***********************************************************************
    প্রথমত,
    দাসপ্রথা অনুসারে একজন মুনিবের ক্রীসদাসির সন্তান (যে উক্ত মুনিবের ঔরসজাত নয়, ক্রীতদাসির স্বামীর সন্তান) উক্ত মুনিবের ক্রীতদাস হিসেবে গণ্য হয়।

    কিন্তু ক্রীতদাসির সন্তান যদি মুনিবের ঔরসজাত হয়, তবে সে উক্ত মুনিবের সন্তান হিসেবে গণ্য হয়। ফলে সে সন্তান স্বাধীন ও পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
    দাসীর গর্ভের সন্তান আর বউয়ের গর্ভের সন্তানের মর্যাদা এক, তারা সমানভাবে পিতার সম্পত্তির অংশীদার।

    দ্বিতীয়ত,
    দাসীকে বিয়ে করা সুন্নাহ।
    রাসূলুল্লাহর (স) দুইজন দাসী ছিল, যারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ (স) তাদের বিয়ে করে উম্মুল মু’মিনীনের সন্মান দান করেন।এতে অন্যান্য সাহাবা ও পরবর্তি সময়ের দাসির মনিবেরা তাদের দাসীদের বিয়ে করে স্ত্রী হিসেব গ্রহণ করেন।এতে তাদের মুক্তির পথ উম্মুক্ত হয়।

    তৃতীয়ত,
    ক্রীতাদাসি মুনিবের সন্তান গর্ভে ধারণ করার সাথে
    অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারনা যে যুদ্ধের ময়দানেই দাসিদের সাথে যৌন সংগম করা হত কিন্তু তা সত্যি নই বরং রাষ্ট্র কর্তিক একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দাসিদের বন্ঠন করা হত। বন্ঠনের আগে যদি কেউ দাসিদের সাথে যৌন মিলন করে তাহলে তাকে জিনা করার সাস্তি দেয়া হত।

    হারুন ইবনুল আসিম বর্ণনা করেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) খালিদ বিন ওয়ালিদকে (রা.) সৈন্যবাহিনীসহ প্রেরণ করেন এবং খালিদ (রা.) সৈন্যদলসহ জিরার ইবনুল আযওয়ারকে প্রেরণ করেন, আর তারা আসাদ গোত্রের একটি এলাকা দখল করেন। তারা একটি সুন্দরী নারীকে বন্দি করেন এবং জিরার তার প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি তার সঙ্গীদের থেকে তাকে (নারীটিকে) চাইলেন, তারা দিয়ে দিল এবং তিনি তার সাথে সঙ্গম করলেন।

    উদ্দেশ্য পূর্ণ হবার পর কৃতকর্মের জন্য তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং খালিদের (রা.) নিকট গিয়ে এ সম্পর্কে বললেন। খালিদ (রা.) বললেন, অবশ্যই আমি তোমার জন্য এর অনুমোদন ও বৈধতা প্রদান করছি। জিরার বললেন, “না, উমরকে চিঠি না পাঠানো পর্যন্ত নয়।” উমর (রা.) উত্তরে লিখলেন, তাকে রজম (প্রস্তারাঘাতে হত্যা) করতে হবে। কিন্তু চিঠি পৌঁছবার আগেই জিরার ইন্তেকাল করলেন। খালিদ (রা.) বললেন, “আল্লাহ জিরারকে অপমানিত করতে চাননি।” [সূত্র: বায়হাকির সুনান আল কুবরা, হাদীস নং ১৮৬৮৫]

    অতএব, উপরের আলোচনা থেকে কুরান হাদীসের আলোকে বোঝা যায় যে, ইসলাম দাসীদের কখনই ভোগ্য পন্য হিসেবে গন্য করেনি। বরং দাসীদেরকে দিয়েছে বৈবাহিক সম্মানের মতই সম্মান। দাস প্রথার ক্ষেত্রে ইসলামের নীতিমালা ছিল অনেক যুগোপযোগী
    যার ফলে পরবর্তিতে দাস প্রথার বিলুপ্তি ঘটে।

    Reply
  • May 4, 2020 at 10:23 PM
    Permalink

    অনেকের রিপ্লে শুনে মনে হচ্ছে তাদের নিয়ম ছাড়া অন্য কোন মানবিক নিয়ম থাকতেই পারে না । কালকে আমেরিকা যদি বাংলাদেশ হামলা করে তোমাদের ক্ষেত্রেও এসব ব্যবস্থা করে তবে কেমন লাগবে?
    পরাজিত হবার পর যখন তোমাদের মা -বোনদের ওরা সম্মতি ছাড়াই বিছানায় নিয়ে আজীবন দাসী বানিয়ে রাখবে তখন ও কি শান্তির ধর্ম পিসলামের নিয়মগুলো যথার্থ মনে হবে?
    নাকি :- আমেরিকানদের উচিত বিনা শর্তে তাদের মুক্তি দিয়ে অবজারবেশনে রেখে তাদের অনুমতি এবং বৈধ বিবাহ ছাড়া বিছানায় না আনা।
    —যাই হোক, ইসলামে কি দাসীকে বিছানায় নেয়ার জন্য তাদের অনুমতির প্রয়োজন হয়েছিল?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *