বহুবিবাহ এবং ইসলামিক ডিফেন্স

ভূমিকা

বহুবিবাহ নিয়ে ২০১৮ সালে এসেও যে আমাদের কথা বলতে হবে সেটাই একটা লজ্জার বিষয়। এযুগে এসেও অসংখ্য মানুষ ধর্মান্ধতার কারণে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বহুবিবাহের মতো একটি অসভ্য অমানবিক এবং নারী অবমাননাকর প্রথাকে সমর্থন করে। কেবল ধর্মের কারণেই সাধারণ মানুষ এধরণের প্রথাকে এখনো পুরোপুরি বিদায় বলে দিতে পারছেন না। সেইসাথে ধর্ম প্রচারকারীরা ধর্মগ্রন্থের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে, বিভিন্ন ভুলভাল তথ্য তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে ধর্মান্ধ করে রাখতে চাইছেন। যাইহোক, ইসলামিক বহুবিবাহ প্রথার ব্যাপারে ইসলামপন্থীরা যা যা দাবি করেন বাস্তবতাও তাই বলে কিনা সেটাই এই লেখায় তুলে ধরবো।

প্রথমেই কোরআনের আয়াত ৪:৩ তুলে ধরবো যা পুরুষের বহুবিবাহের অনুমোদন দেয়।

4:3
وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِى الْيَتٰمٰى فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَآءِ مَثْنٰى وَثُلٰثَ وَرُبٰعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوٰحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمٰنُكُمْ ۚ ذٰلِكَ أَدْنٰىٓ أَلَّا تَعُولُوا
আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে, দুই, তিন বা চার ; আর যদি আশংকা কর যে সুবিচার করতে পারবে না তবে একজনকেই বা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকেই গ্রহণ কর। এতে পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা বেশী।

(কোরআন ৪:৩) নিয়ে ইসলামপন্থীদের দাবি

এ আয়াত সম্পর্কে ইসলামপন্থীরা ব্যাখ্যা করেন, একজন মুসলিম পুরুষ চারটি পর্যন্ত বিয়ে করতে পারবে তবে কেউ যদি স্ত্রীদের সাথে সুবিচার করতে না পারে তাহলে তার জন্য একাধিক বিয়ে করে একসাথে একাধিক বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা নিষিদ্ধ, সেক্ষেত্রে সে কেবল একটি বিয়ে করতে পারবে। ইসলামপন্থীদের দাবি এখানে “সুবিচার” শব্দটি ব্যবহার করে পুরুষের প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে সমান আচরণ করার সামর্থ্য নির্দেশ করা হয়েছে এবং সেটা কেবল খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, সময় কিংবা প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়ে সুবিচার করা নয়, বরং প্রত্যেক স্ত্রীকে সমান ভাবে ভালবাসতে হবে, প্রত্যেক স্ত্রী জন্য সমান স্নেহ মায়া অনুভব করতে পারতে হবে। একজন মুসলিম পুরুষ যদি সেটা করতে অপারগ হয় তাহলে সে একাধিক বিয়ে করতে পারবে না।

আবার অনেক ইসলামপন্থী ইসলামকে বৈষম্যহীন মানবিক ধর্ম প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে আয়াত ৪:১২৯ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, আয়াত ৪:৩ এ আল্লাহ্‌ বলেছেন, তোমরা তখনই এক থেকে চারটি পর্যন্ত বিয়ে করতে পারবে যদি তোমরা স্ত্রীদের সাথে সুবিচার করতে পারো এবং ৪:১২৯ এ আল্লাহ্‌ বলেছেন, তোমরা যতোই কামনা করো না কেন তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সমান আচরণ করতে কখনো পারবে না। তারমানে ইসলামে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে সাধারণত বৈধ নয়। আল্লাহ্‌ কিছু পরিস্থিতির অধীনে পুরুষের একাধিক বিয়ে বৈধ করেছেন। কোনো এলাকা বা দেশে যুদ্ধ, লিঙ্গ অসামঞ্জস্যতা এসব পরিস্থিতিতে পড়ে।

4:129
وَلَن تَسْتَطِيعُوٓا أَن تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَآءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ ۖ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ ۚ وَإِن تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
আর তোমরা যতই কামনা কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সমান আচরণ করতে কখনো পারবে না। সুতরাং তোমরা (একজনের প্রতি) সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে তোমরা (অপরকে) ঝুলন্তের মত করে রাখবে। আর যদি তোমরা মীমাংসা করে নাও এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

কোনো ভুখন্ডে যুদ্ধ হলে সেই ভূখন্ডের অনেক পুরুষ মারা যান। যার ফলে, যুদ্ধের পরে সেই ভুখন্ডে পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি নারী জীবিত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে পুরুষের জন্য বহুবিবাহ প্রথা প্রয়োগ না করলে অসংখ্য বিবাহযোগ্য যুবতী থেকে যাবে যাদের বিবাহ করার মতো পুরুষ পাওয়া যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে সমাজে অসংখ্য বিবাহযোগ্য যুবতী থেকে যাবে যাদেরকে জীবন সাথী ছাড়াই জীবন কাটাতে হবে। যার ফলে, সমাজে পরকীয়া এবং ব্যভিচার মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়তে থাকবে। তাই এধরনের পরিস্থিতিতে প্রত্যেক নারীর জন্য একজন জীবন সাথী নিশ্চিত করতে এবং সমাজ থেকে পরকীয়া ও ব্যভিচারের মতো অসামাজিক কাজ দূর করতে আল্লাহ্‌ পুরুষের বহুবিবাহ বৈধ করেছেন। তবে এরকম সম্পূর্ণরূপে প্রয়োজন ব্যতীত সাধারণ অবস্থায় বহুবিবাহ নারীর মতো পুরুষের জন্যও নিষিদ্ধ।

ইসলামপন্থীদের দাবির সমস্যা

ইসলামপন্থীরা আয়াত ৪:৩ কে ব্যাখ্যা করতে আয়াত ৪:১২৯ এর কেবল সামান্য কিছু অংশই তুলে ধরেন। তাদের ব্যাখ্যা সেই আয়াতের অধিকাংশ অংশই এড়িয়ে যায়।

আয়াত ৪:৩ এ সকল স্ত্রীদের সাথে সুবিচার করতে বলা হয়েছে যা না করতে পারলে একাধিক বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখানে “সুবিচার” বলতে মোটেও ভরণপোষণের পাশাপাশি সমানভাবে ভালোবাসার কথা বলা হয় নি। এখানে স্ত্রীদের মধ্যে “সুবিচার” বলতে দেন মোহরের ব্যাপারে স্ত্রীদের মধ্যে সুবিচার করতে বলা হয়েছে। দেন মোহরের ব্যাপারে স্ত্রীদের সাথে সুবিচার করার সামর্থ্য না থাকলে এবং না করতে পারলে একাধিক বিয়ে নিষিদ্ধ।

অপরদিকে, আয়াত ৪:১২৯ এ, একজন পুরুষ কখনওই তার স্ত্রীদের সাথে সমান আচরণ করতে পারবেনা বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এখানে বুঝানো হয়েছে, একজন পুরুষ কখনওই সকল স্ত্রীকে সমানভাবে ভালবাসতে পারবে না। কথাটি বহুবিবাহের ওপর কোনো আদেশ বা নিয়ম বেধে দেবার উদ্দেশ্যে বলা হয় নি। ইসলামপন্থীরা সেই আয়াতের কেবল “তোমরা যতই কামনা কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সমান আচরণ করতে কখনো পারবে না” অংশ তুলে ধরে বোঝাতে চান বহুবিবাহ সাধারণ পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ এবং কিছু পরিস্থিতিতেই বৈধ। তাদের এই দাবি সঠিক কিনা সেটা আমরা আয়াতের পরের অংশ একটু ভালো করে খেয়াল করলেই বুঝতে পারবো। আয়াতের পরের অংশ আবার বলছে, “তোমরা (একজনের প্রতি) সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে তোমরা (অপরকে) ঝুলন্তের মত করে রাখবে”। অর্থাৎ আয়াতের মূলকথা হলো, পুরুষ সকল স্ত্রীকে সমান ভাবে ভালবাসতে পারবে না তবে সেজন্য কারো প্রতি বেশি ঝুঁকে গিয়ে অন্যকে অবহেলায় ফেলে রাখা যাবে না। এ আয়াতের উপরের অংশ এবং আয়াত ৪:৩ যদি একই অর্থ প্রকাশ করতো বা সাধারণ পরিস্থিতিতে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ বুঝাতো তাহলে আয়াতের নিচের অংশে কারো প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে অন্যকে যেন অবহেলা না করা হয় সেকথা বলা হতো না। বরং এ আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি, সকল স্ত্রীকে সমানভাবে ভালবাসতে না পারলেও বহুবিবাহ বৈধ।

আয়াত ৪:৩ এ “সুবিচার” বলতে যদি আসলেই সকল স্ত্রীর ওপর সমান ভালবাসার কথা বোঝানো হতো তাহলে আয়াত ৪:১২৯ সকল স্ত্রীর ওপর সমান ভালবাসা না থাকলেও বহুবিবাহের বৈধতা প্রকাশ করতো না। “সুবিচার” এর অর্থ সেরকম বুঝানো হলে সেই সুবিচার না করতে পারলে ৪:৩ অনুযায়ী বহুবিবাহ অবৈধ হবে আবার, ৪:১২৯ অনুযায়ী বৈধ হবে। যা খুব পরিষ্কার ভাবেই দুটো আয়াতের মধ্যে বৈপরীত্য প্রকাশ করবে। যেহেতু, আয়াত ৪:১২৯ অনুযায়ী সকল স্ত্রীকে সমানভাবে ভালবাসতে না পারলেও বহুবিবাহ বৈধ সেহেতু, ৪:৩ এ “সুবিচার” বলতে অন্যকিছু বোঝানো হয়েছে আর সেটা হলো দেন মোহরের ব্যাপারে সকল স্ত্রীর প্রতি সুবিচার করা।

যারা দাবি করেন ৪:৩ এবং ৪:১২৯ দুটো আয়াত বহুবিবাহের বিরুদ্ধে একটি নির্দেশ প্রদান করে তাদের সকল সহি হাদিস খারিজ করতে হবে যা তাদের ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে যায়। তাদেরকে স্বীকার করে নিতে হবে যে আয়াত ৪:৩ অস্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে যা তার সংকল্পিত অর্থ প্রকাশ করতে ব্যর্থ।

হাদিসের প্রমাণ

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৪৭/ অংশীদারিত্ব (كتاب الشركة)
হাদিস নম্বরঃ ২৪৯৪
৪৭/৭. ইয়াতিম ও উত্তরাধিকারীদের অংশীদারিত্ব।
২৪৯৪. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার ‘আয়িশাহ (রাযি.)-কে আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তাহলে অন্য মহিলাদের মধ্য হতে তোমাদের পছন্দ মতো দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজনকে বিয়ে করতে পার’’- (আন-নিসাঃ ৩)। এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে ‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেন, আমার ভাগিনা! এ হচ্ছে সেই ইয়াতীম মেয়ের কথা, যে অভিভাবকের আশ্রয়ে থাকে এবং তার সম্পদে অংশীদার হয়। এদিকে মেয়ের ধন-রূপে মুগ্ধ হয়ে তার অভিভাবক মোহরানার ব্যাপারে সুবিচার না করে অর্থাৎ, অন্য কেউ যে পরিমাণ মোহরানা দিতে রাজী হত, তা না দিয়েই তাকে বিয়ে করতে চাইত। তাই প্রাপ্য মোহরানা আদায়ের মাধ্যমে সুবিচার না করা পর্যন্ত তাদেরকে আশ্রিতা ইয়াতীম বালিকাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং পছন্দমত অন্য মহিলাদেরকে বিয়ে করতে বলা হয়েছে। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেছেন, পরে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট (মহিলাদের সম্পর্কে) ফাতওয়া জিজ্ঞেস করলেন তখন আল্লাহ তা‘আলা আয়াত নাযিল করেন- ‘‘তারা আপনার নিকট মহিলাদের সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞেস করে, আপনি বলুন, আল্লাহই তাদের সম্পর্কে তোমাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আর ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে কিতাব হতে তোমাদেরকে পাঠ করে শোনানো হয়, তাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ রয়েছে, তা তোমরা তাদের দাও না অথচ তাদের তোমরা বিয়ে করতে চাও’’- (আন-নিসা : ১২৭)। يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ বলে আল্লাহ তা‘আলা পূর্বোক্ত আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; যেখানে বলা হয়েছে-
(وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنْ النِّسَاءِ)
‘‘আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে অন্য নারীদের মধ্যে হতে তোমাদের পছন্দ মতো দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজন বিয়ে করতে পারবে’’। ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, আর অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার ইরশাদ এর মর্ম হল, ‘‘ধন ও রূপের স্বল্পতা হেতু তোমাদের আশ্রিতা ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তোমাদের অনাগ্রহ’’। তাই ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি অনাগ্রহ সত্ত্বেও শুধু ধন-রূপের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্য ন্যায়সঙ্গত মোহরানা আদায় করে বিয়ে করতে পারে। (২৭৬৩, ৪৫৭৩, ৪৫৭৪, ৪৬০০, ৫০৬৪, ৫০৯২, ৫০৯৮, ৫১২৮, ৫১৩১, ৫১৪০, ৬৯২০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৩২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৫৫/ ওয়াসিয়াত (كتاب الوصايا)
হাদিস নম্বরঃ ২৭৬৩
৫৫/২১. আল্লাহর তা‘আলার বাণীঃ ‘‘ইয়াতীমদেরকে তাদের ধন-সম্পদ দিয়ে দিবে এবং ভালোর সঙ্গে মন্দ বদল করবে না। তোমাদের সঙ্গে তাদের সম্পদ মিলিয়ে গ্রাস করবে না, তা মহাপাপ। তোমার যদি আশংকা হয় যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে, যাকে তোমাদের ভাল লাগে।’’ (আন নিসা ২-৩)
২৭৬৩. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لَّا تُقْسِطُوْا فِي الْيَتٰمٰى فَانْكِحُوْا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنْ النِّسَآءِ
‘‘যদি আশংকা কর যে, তাদের মধ্যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের স্বত্বাধীন ক্রীতদাসীকে’’- (আন-নিসা ৩)। আয়াতটির অর্থ কী? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, এখানে সেই ইয়াতীম মেয়েদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যে তার অভিভাবকের লালন-পালনে থাকে। অতঃপর সে অভিভাবক তার রূপ-লাবণ্য ও ধন-সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে, তার সম মানের মেয়েদের প্রচলিত মাহর থেকে কম দিয়ে তাকে বিয়ে করতে চায়। অতএব যদি মাহর পূর্ণ করার ব্যাপারে এদের প্রতি ইনসাফ করতে না পারে তবে ঐ অভিভাবকদেরকে নিষেধ করা হয়েছে এদের বিবাহ করতে এবং নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের ব্যতীত অন্য মেয়েদের তোমরা বিবাহ করবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর লোকেরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আল্লাহ্ তা‘আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ
وَيَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ قُلِ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِيْهِنَّ
‘‘আর লোকেরা আপনার কাছে নারীদের সম্বন্ধে বিধান জানতে চায়। বলুনঃ আল্লাহ্ তাদের সম্বন্ধে তোমাদের ব্যবস্থা দিচ্ছেন’’- (আন-নিসা ১২৭)। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াতে বর্ণনা করেন যে, ইয়াতীম মেয়েরা সুন্দরী ও সম্পদশালীনী হলে অভিভাবকরা তাদের বিয়ে করতে আগ্রহী হয়, কিন্তু পূর্ণ মাহর প্রদান করে না। আবার ইয়াতীম মেয়েরা গরীব হলে এবং সুশ্রী না হলে তাদের বিয়ে করতে চায় না বরং অন্য মেয়ে তালাশ করে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন যে, আকর্ষণীয়া না হলে তারা যেমন ইয়াতীম মেয়েদের পরিত্যাগ করে, তেমনি আকর্ষণীয়া মেয়েদেরও তারা বিয়ে করতে পারবে না, যদি তাদের ইনসাফের ভিত্তিতে পূর্ণ মাহর প্রদান এবং তাদের হক ন্যায়সঙ্গতভাবে আদায় না করে। (২৪৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৭২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৭৩
৬৫/৪/১. ‘‘আর যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের ব্যাপারে সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করে নাও অন্য নারীদের মধ্য থেকে যাকে তোমাদের মনঃপুত হয়।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৩)
(4) سُوْرَةُ النِّسَاءِ
সূরাহ (৪) : আন-নিসা
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : (يَسْتَنْكِفُ) يَسْتَكْبِرُ. (قِوَامًا) : قِوَامُكُمْ مِنْ مَعَايِشِكُمْ. (لَهُنَّ سَبِيْلًا) يَعْنِي الرَّجْمَ لِلثَّيِّبِ، وَالْجَلْدَ لِلْبِكْرِ. وَقَالَ غَيْرُهُ : (مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاع) يَعْنِي اثْنَتَيْنِ وَثَلَاثًا وَأَرْبَعًا وَلَا تُجَاوِزُ الْعَرَبُ رُبَاعَ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, يَسْتَنْكِفُ অহঙ্কার করে, قِوَامًا -তোমাদের জীবিকার্জনের মাধ্যম। لَهُنَّ سَبِيْلًا -সাইয়েবা বা বিবাহিতার জন্য প্রস্তর নিক্ষেপ (রজম) আর কুমারীর জন্য বেত্রাঘাত। তিনি ব্যতীত অন্যান্য তাফসীরকারক বলেন, مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاع অর্থাৎ দুই, তিন এবং চার; আরবগণ رُبَاعَ শব্দকে غير منصرف বা অপরিবর্তনশীল শব্দ মনে করে।
৪৫৭৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে একজন ইয়াতীম বালিকা ছিল। অতঃপর সে তাকে বিয়ে করল। সে বালিকার একটি বাগান ছিল। তার অন্তরে ঐ বালিকার প্রতি কোন আকর্ষণ না থাকা সত্ত্বেও বাগানের কারণে সে ঐ বালিকাটিকে বিবাহ করে রেখে দিতে চায়। এ সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হয়- আর যদি আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না। আমার ধারণা যে, ‘উরওয়াহ বলেন, ইয়াতীম বালিকাটি সে বাগান ও মালের অংশীদার ছিল। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২১৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর (كتاب التفسير)
হাদিস নম্বরঃ ৪৫৭৪
৬৫/৪/১. ‘‘আর যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের ব্যাপারে সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করে নাও অন্য নারীদের মধ্য থেকে যাকে তোমাদের মনঃপুত হয়।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৩)
৪৫৭৪. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন মহান আল্লাহর বাণী وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لَّا تُقْسِطُوْا فِي الْيَتَامٰى সম্পর্কে। তিনি উত্তরে বললেন, হে ভাগ্নে! সে হচ্ছে পিতৃহীনা বালিকা, অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং তার সম্পত্তিতে অংশীদার হয় এবং তার রূপ ও সম্পদ তাকে (অভিভাবককে) আকৃষ্ট করে। এরপর সেই অভিভাবক উপযুক্ত মাহর না দিয়ে তাকে বিবাহ করতে চায়। তদুপরি অন্য ব্যক্তি যে পরিমাণ মাহর দেয় তা না দিয়ে এবং তার প্রতি ন্যায়বিচার না করে তাকে বিয়ে করতে চায়। এরপর তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মাহর এবং ন্যায় ও সমুচিত মাহর প্রদান ব্যতীত তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তদ্ব্যতীত যে সকল মহিলা পছন্দ হয় তাদেরকে বিয়ে করতে অনুমতি দেয়া হয়েছে।
‘উরওয়া (রহ.) বলেন যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে মহিলাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন- وَيَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ ‘‘এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে জানতে চান……’’। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী অন্য এক আয়াতে-তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ কর। ইয়াতীম বালিকার ধন-সম্পদ কম হলে এবং সুন্দরী না হলে তাকে বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করো না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তাই ইয়াতীম বালিকাদের মাল ও সৌন্দর্যের আকর্ষণে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ন্যায়বিচার করলে ভিন্ন কথা। কেননা তারা সম্পদের অধিকারী না হলে এবং সুন্দরী না হলে তাদেরকেও বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২১৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ৫০৯২
৬৭/১৭. বিয়ের ব্যাপারে ধন-সম্পদের সামঞ্জস্য প্রসঙ্গে এবং ধনী মহিলার সঙ্গে গরীব পুরুষের বিয়ে।
৫০৯২. ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেছেন যে, তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে ‘‘যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না’’ (সূরা আন-নিসাঃ ৩) এ আয়াতের মর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, হে ভাগ্নে! এ আয়াত ঐসব ইয়াতীম বালিকাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা কোন অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে আছে। আর অভিভাবক তার ধন-সম্পদ ও সৌন্দর্যের প্রতি আসক্ত; কিন্তু বিয়ের পর মাহর দিতে অনিচ্ছুক। এ রকম অভিভাবককে ঐ ইয়াতীম বালিকাদের বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করতে নিষেধ করা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা ইনসাফের সঙ্গে পূর্ণ মাহর তাদেরকে দিয়ে দেয় এবং এদেরকে ছাড়া অন্যদের বিয়ে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তীকালে লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ্ তা‘আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন ‘‘আর লোকে তোমার নিকট নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানতে চায়, বল, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সম্বন্ধে ব্যবস্থা জানাচ্ছেন এবং ইয়াতীম নারী সম্পর্কে যাদের তোমরা (মাহর) প্রদানকর না, অথচ তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে চাও এবং অসহায় শিশুদের সম্বন্ধে ও ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায় বিচার সম্পর্কে যা কিতাবে তোমাদেরকে শোনানো হয়, তাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। সেই হুকুমগুলো যা এ ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে যাদের হক তোমরা সঠিক মত আদায় কর না। যাদেরকে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করার কোন আগ্রহ তোমাদের নেই।’’ (সূরা আন-নিসা ১২৭)
ইয়াতীম বালিকারা যখন সুন্দরী এবং ধনবতী হয়, তখন অভিভাবকগণ তার বংশমর্যাদা রক্ষা এবং বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করতঃ তারা এদের পূর্ণ মাহর আদায় না করা পর্যন্ত বিয়ে করতে পারে না। আর তারা যদি এদের ধন-সম্পদ এবং সৌন্দর্যের অভাবের কারণে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হতে আগ্রহী না হত, তাহলে তারা এদের ব্যতীত অন্য মহিলাদের বিয়ে করত। সুতরাং যখন তারা এদের মধ্যে স্বার্থ পেতো না তখন তাদের বাদ দিত। এ কারণে তাদেরকে স্বার্থের বেলায় পূর্ণ মাহর আদায় করা ব্যতীত বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়। [২৪৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ৫০৯৮
৬৭/২০. চারের অধিক বিয়ে না করা সম্পর্কে।
لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (مَثْنَى وَثُلاَثَ وَرُبَاعَ).
وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ يَعْنِي مَثْنَى أَوْ ثُلاَثَ أَوْ رُبَاعَ. وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ: (أُولِي أَجْنِحَةٍ مَثْنَى وَثُلاَثَ وَرُبَاعَ) يَعْنِي مَثْنَى أَوْ ثُلاَثَ أَوْ رُبَاعَ.
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘তোমরা বিয়ে কর দু’জন, তিনজন অথবা চারজন।’’ (সূরাহ আন্-নিসা ৪/২)
‘আলী ইবনু হুসায়ন (রহ.) বলেনঃ এর অর্থ হচ্ছে দু’জন অথবা তিনজন অথবা চারজন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘(ফেরেশতাদের) দু’ অথবা তিন অথবা চারখানা পাখা আছে’’- (সূরাহ ফাতির ৩৫/১)- এর অর্থ দু’ দু’খানা, তিন তিনখানা এবং চার চারখানা।
৫০৯৮. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘যদি তোমরা ভয় কর ইয়াতীমদের মধ্যে পূর্ণ ইনসাফ কায়িম করতে পারবে না’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৩)- এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আয়াত ঐ সমস্ত ইয়াতীম বালিকাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যাদের অভিভাবক তাদের সম্পদের লোভে বিয়ে করে। কিন্তু তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং তাদের সম্পত্তিকে ইনসাফের সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করে না। তার জন্য সঠিক পন্থা এই যে, ঐ বালিকাদের ছাড়া মহিলাদের মধ্য থেকে তার ইচ্ছে অনুযায়ী দু’জন অথবা তিনজন অথবা চারজনকে বিয়ে করতে পারবে। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭২৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ৫১৪০
৬৭/৪৪. ইয়াতীম বালিকার বিয়ে দেয়া।
لِقَوْلِهِ: (وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا)، إِذَا قَالَ لِلْوَلِيِّ زَوِّجْنِي فُلاَنَةَ. فَمَكِثَ سَاعَةً أَوْ قَالَ مَا مَعَكَ فَقَالَ مَعِي كَذَا وَكَذَا. أَوْ لَبِثَا ثُمَّ قَالَ زَوَّجْتُكَهَا. فَهْوَ جَائِزٌ. فِيهِ سَهْلٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘যদি তোমরাভয় কর যে ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি পূর্ণ ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে তোমরা পছন্দ মতো অন্য কাউকে বিয়ে কর’’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৩)। কেউ কোন অভিভাবককে যদি বলে, অমুক মহিলাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিন এবং সে যদি চুপ থাকে অথবা তাকে বলে তোমার কাছে কী আছে? সে উত্তরে বলে, আমার কাছে এই এই আছে অথবা নীরব থাকে। এরপর অভিভাবক বলেন, আমি তাকে তোমার কাছে বিয়ে দিলাম, তাহলে তা বৈধ। এ ব্যাপারে সাহল (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৫১৪০. ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে খালা! ‘‘যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি ন্যায় বিচার করতে পারবে না তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যার মালিক…..।’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/৩) এ আয়াত কোন্ প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হে আমার ভাগ্নে! এ আয়াত ঐ ইয়াতীম বালিকাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা তার অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সেই অভিভাবক তার রূপ ও সম্পদে আকৃষ্ট হয়ে তাকে বিয়ে করতে চায়; কিন্তু তার মাহর কম দিতে চায়। এ আয়াতের মাধ্যমে উক্ত বালিকাদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের ব্যতীত অন্য নারীদের বিয়ে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবশ্য যদি সে এদের পূর্ণ মাহর আদায় করে দেয় তবে সে বিয়ে করতে পারবে।
‘আয়িশাহ (রাঃ) আরো বলেন, পরবর্তী সময় লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘তারা তোমার কাছে মহিলাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে…..এবং তোমরা যাদের বিয়ে করতে চাও’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/১২৭) আল্লাহ্ তা‘আলা এদের জন্য এ আয়াত অবতীর্ণ করেন; যদি কোন ইয়াতীম বালিকার সৌন্দর্য এবং সম্পদ থাকে, তাহলে এরা তাদেরকে বিয়ে করতে চায় এবং এদের স্বীয় আভিজাত্যের ব্যাপারেও এ ইচ্ছে পোষণ করে এবং মাহর কম দিতে চায়। কিন্তু সে যদি তাদের পছন্দমতো পাত্রী না হয়, তার সম্পদ ও রূপ কম হবার কারণে এদেরকে ত্যাগ করে অন্য মেয়ে বিয়ে করে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যেমনিভাবে এদের প্রতি অনীহার সময় এদের পরিত্যাগ করতে চায় তেমনি যে সময় আকর্ষণ থাকবে, সে সময়েও যেন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করে পূর্ণ মাহর আদায় করে। [২৪৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৯০/ কূটচাল অবলম্বন (كتاب الحيل)
হাদিস নম্বরঃ ৬৯৬৫
৯০/৮. অভিভাবকের দ্বারা আকর্ষণীয়া ইয়াতীম বালিকার পূর্ণ মাহর না দেয়ার জন্য কটূ কৌশল গ্রহণ করা নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে।
৬৯৬৫. ‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন (وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنْ النِّسَاءِ) ‘‘যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, (নারী) ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিবাহ কর’’- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৩)।
তিনি বললেন, এ আয়াত ঐ ইয়াতীম মেয়ের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যে তার অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে আছে। আর অভিভাবক তার সম্পদ ও সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং তার স্বগোত্রীয় মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রচলিত মাহরের চেয়ে কম মাহর দিয়ে বিয়ে করে নেয়ার মনস্থ করে। তাই তাদেরকে এমন ইয়াতীম মেয়েদেরকে বিয়ে করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তবে যদি পূর্ণ মাহর দিয়ে তাদের সঙ্গে সুবিচার করে তবে অন্য কথা। এরপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আল্লাহ্ এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘লোকেরা তোমার কাছে নারীদের সম্বন্ধে বিধান জানতে চাচ্ছে……’’ (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১২৭)। তারপর হাদীসের (বাকি অংশ) বর্ণনা করেন। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৯৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৭/ বিয়ে (كتاب النكاح)
হাদিস নম্বরঃ ৫০৬৪
৬৭/১. বিয়ে করার অনুপ্রেরণা দান। শ্রবণ করিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘তোমরা নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দ মত বিয়ে কর।’ আন-নিসা ৪ঃ ২)
৫০৬৪. যুহরী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উরওয়াহ (রহ.) আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ ‘‘যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিয়ে কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে; এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি।’’ (সূরাহঃ আন-নিসাঃ ৩)
‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, হে ভাগ্নে! এক ইয়াতীম বালিকা এমন একজন অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে ছিল, যে তার সম্পদ ও রূপের প্রতি আকৃষ্ট ছিল। সে তাকে যথোচিতের চেয়ে কম মাহর দিয়ে বিয়েকরার ইচ্ছা করে। তখন লোকদেরকে নিষেধ করা হলো ঐসব ইয়াতীমদের বিয়ে করার ব্যাপারে। তবে যদি তারা সুবিচার করে ও পূর্ণ মাহর আদায় করে (তাহলে বিয়ে করতে পারবে)। (অন্যথায়) তাদের বাদ দিয়ে অন্য নারীদের বিয়ে করার আদেশ করা হলো। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

উপরের হাদিস সমূহ আয়াত ৪:৩ এ ব্যবহৃত “সুবিচার” শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করেছে। সেইসাথে তুলে ধরেছে, আয়াত ৪:৩ নিখুঁত সুবিচারের কথা বলেনা। সুতরাং বহুবিবাহের বিরুদ্ধে তথাকথিত নিষেধাজ্ঞা অচল। “সুবিচার” শব্দটি আয়াতে দুইবার আসলেও (একবার ইয়াতীমদের জন্য এবং আরেকবার অন্য নারীদের জন্য) উভয় সময়ে একই অর্থ প্রকাশ করেছে। এরকম দাবি গ্রহণযোগ্য নয় যে, ইয়াতীমদের বেলায় “সুবিচার” বলতে মোহরের ব্যাপারে সুবিচার বুঝানো হয়েছে এবং অন্য নারীদের বেলায় অন্যকিছু বুঝানো হয়েছে। তার আরও প্রমাণ হিসেবে আমরা আয়াত ৪:২৫ তুলে ধরতে পারি, যেখানে স্বাধীন নারী বিয়ে করার সামর্থ্য না থাকলে ঈমানদার দাসীদের বিয়ে করার বৈধতা প্রদান করা হয়েছে এবং তাদেরকে ন্যায়সঙ্গত ভাবে মোহর প্রদান করতে বলা হয়েছে।

4:25
وَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ مِنكُمْ طَوْلًا أَن يَنكِحَ الْمُحْصَنٰتِ الْمُؤْمِنٰتِ فَمِن مَّا مَلَكَتْ أَيْمٰنُكُم مِّن فَتَيٰتِكُمُ الْمُؤْمِنٰتِ ۚ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمٰنِكُم ۚ بَعْضُكُم مِّنۢ بَعْضٍ ۚ فَانكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَءَاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنٰتٍ غَيْرَ مُسٰفِحٰتٍ وَلَا مُتَّخِذٰتِ أَخْدَانٍ ۚ فَإِذَآ أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفٰحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنٰتِ مِنَ الْعَذَابِ ۚ ذٰلِكَ لِمَنْ خَشِىَ الْعَنَتَ مِنكُمْ ۚ وَأَن تَصْبِرُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন-মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে না, সে (বিবাহ করবে) তোমাদের মুমিন যুবতীদের মধ্য থেকে, তোমাদের হাত যাদের মালিক হয়েছে তাদের কাউকে। আর আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। তোমরা একে অন্যের থেকে (এসেছ)। সুতরাং তোমরা তাদেরকে তাদের মালিকদের অনুমতিক্রমে বিবাহ কর এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও এমতাবস্থায় যে, তারা হবে সতী-সাধ্বী, ব্যভিচারিণী কিংবা গোপন যৌনসঙ্গী গ্রহণকারিণী নয়। অতঃপর যখন তারা বিবাহিত হবে তখন যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের উপর স্বাধীন নারীর অর্ধেক আযাব হবে। এটা তাদের জন্য, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারের ভয় করে এবং ধৈর্যধারণ করা তোমাদের জন্য উত্তম। আর আললাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

অন্যান্য দাবি

প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হবে না

অনেক মুসলিম আছেন যারা ইসলামকে মানবিক ধর্ম প্রমাণ করতে এবং ইসলামের অসভ্য ব্যবস্থাকে আড়াল করতে দাবি করে বসেন যে, দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক। তাদের দাবি প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না থাকলে দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হবে না। তারা বিশ্বাস করেন প্রথম স্ত্রীর যদি স্বামীর অপর স্ত্রী নিয়ে সমস্যা না থাকে তাহলে পুরুষ একাধিক বিয়ে করতেই পারেন।

ইসলাম অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এমন কোনো অথেনটিক সোর্স পাওয়া যাবে না যেখানে এমন শর্তের কথা বলা হয়েছে যে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না।

It is not obligatory for the husband, when he wishes to marry another, to get his first wife’s acceptance, but it is a noble trait of character and good relations for him to appease her by whatever decreases the pain which woman naturally feel in such situations. This may be achieved by smiling,greeting her warmly and speaking kindly to her, and by whatever money you can afford,if her acceptance requires it [1]
FatwaIslam, Permanent Committee for Research and Verdicts: Fatawa Islamiyah Darussalam Vol: 5 No. 353

পৃথিবীতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি

অনেক মুসলিম দাবি করেন, যুদ্ধবিগ্রহের কারণে অসংখ্য পুরুষ মারা গেছেন, ফলে পৃথিবীতে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি, সেজন্যই আল্লাহ্‌ পুরুষের জন্য বহুবিবাহ বৈধ করেছেন যেন সকল নারীর একজন স্বামী নিশ্চিত হয়।

আমরা যদি বিশ্ব জনসংখ্যা পরিসংখ্যানের দিকে একটু তাকাই তাহলে যা ফলাফল পাই তা সরাসরি মুসলিমদের দাবির বিরুদ্ধে যায়।

World Population age group 15-24 years: 16.16% (male 611,311,930/female 572,229,547) [2]
World Population age group 25-54 years: 41.12% (male 1,522,999,578/female 1,488,011,505) [2]

তারমানে পৃথিবীতে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সের ৩৯০৮২৩৮৩ জন এবং ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সের ৩৪৯৮৮০৭৩ জন বাড়তি পুরুষ আছে।

এমনকি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধও (দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ) এতো সংখ্যক পুরুষের প্রাণ নেয়নি যা বহুবিবাহ জাস্টিফাইড করতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ২৪ মিলিয়ন সামরিক মৃত্যু বরণ করেন।

নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি হওয়া যদি পুরুষের বহুবিবাহকে জাস্টিফাইড করে তাহলে সেই লজিক অনুযায়ী পুরুষের সংখ্যা নারীর চেয়ে বেশি হওয়া নারীর জন্য বহুবিবাহ জাস্টিফাইড করে।

মেয়ে বাবুর জন্মহার ছেলে বাবুর তুলনায় বেশি

কোরআনের বহুবিবাহের বৈধতাকে একটি সঠিক সমাধান বলে প্রমাণ করতে অনেক মুসলিম দাবি করেন যে, পৃথিবীতে ছেলে বাবুর তুলনায় মেয়ে বাবুর জন্মহার বেশি। তাদের দাবি, পুরুষ একাধিক বিয়ে না করলে মেয়ে বাবুর অধিক জন্মহারের কারণে একসময় নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে দাঁড়াবে, সেইসময় অসংখ্য বিবাহযোগ্য নারী নিজের জন্য একজন বিবাহযোগ্য পুরুষ খুঁজে পাবেনা।

বাস্তবতা কি? বাস্তবতা বলে, প্রতি ১০০ মেয়ে বাবুর জন্য ১০৭ ছেলে বাবু জন্ম নেয় [3]। বাস্তবতায় মেয়ে বাবুর জন্মের হার ছেলে বাবুর জন্মের হারের চেয়ে কম। অর্থাৎ প্রতি বিবাহযোগ্য পুরুষ যদি দুই তিন বা চারটি করে বিয়ে করে তাহলে অধিকাংশ বিবাহযোগ্য পুরুষ বিবাহযোগ্য নারী খুঁজে পাবেনা।

বহুবিবাহ সম্পর্কে জাকির নায়েকের দাবি

জাকির নায়েক যার ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নাই, যার লেকচারের ওপর বর্তমান মুসলিমরা বিশেষ করে মোডারেট মুসলিম সমাজ কোরআন হাদিসের চেয়েও বেশি বিশ্বাস রাখে তিনি অন্যান্য ইসলামিক বিধানের মতো বহুবিবাহ নিয়েও কিছু ব্যাখ্যা এবং মন্তব্য রেখেছেন। ইউটিউবে সার্চ করলেই বহুবিবাহ সম্পর্কে তার মতামত সহজলভ্য।

জাকির নায়েক দাবি করেছেন, পুরুষ প্রাকৃতিক ভাবেই বহুগামী স্বভাবের তাই পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে বৈধ হলে স্ত্রীর সাথে প্রতারণা করার সম্ভাবনা কমে আসবে। জাকির নায়েক মনে করেন পৃথিবীতে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা অনেক বেশি এবং আরও মনে করেন যদি একজন পুরুষের সাথে কেবল একজন নারীর বিয়ে হয় তাহলে ত্রিশ মিলিয়ন মার্কিন নারী, চার মিলিয়ন ব্রিটিশ নারী, পাঁচ মিলিয়ন জার্মান নারী এবং নয় মিলিয়ন রাশিয়ান নারী নিজের জন্য কোনো বিবাহযোগ্য পুরুষ খুঁজে পাবেনা। তিনি বিশ্বাস করেন, সেসব নারী যারা নিজের জন্য একজন স্বামী খুঁজে পাবেনা তাদের সামনে দুটা পথ খোলা আছে, এক হলো বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করে নেওয়া এবং আরেক হলো পাবলিক প্রোপার্টি হয়ে যাওয়া!!!

জবাব

১. জাকির নায়েকের পৃথিবীতে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ার দাবি একটা মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই নয়। বাস্তবতা বরং পুরোপুরিভাবে উল্টো, বাস্তবে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতি বিবাহযোগ্য নারী একজন করে বিবাহযোগ্য পুরুষ গ্রহণ করলে মিলিয়ন মিলিয়ন পুরুষ বেশি থাকে, যার প্রমাণ ইতিমধ্যে উপরে প্রদর্শিত। জাকির নায়েকের এমন মিথ্যাচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছাড়া অন্যকিছু হতে পারেনা। নারীর সংখ্যা

২. তিনি মনে করেন একজন পুরুষ একজন করে নারী গ্রহণ করলে বিভিন্ন দেশে মিলিয়ন মিলিয়ন নারী বেশি থাকবে যারা নিজের জন্য বিবাহযোগ্য পুরুষ খুঁজে পাবেনা এবং বিবাহিত পুরুষ বিয়ে না করলে তাদেরকে পাবলিক প্রোপার্টি হয়ে থাকতে হবে!!!

আমেরিকার বয়স ভিত্তিক জনসংখ্যা পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে যা ফলাফল পাই তা তুলে ধরছি।

In absolute figures (estimate):
65,837,451 young people under 15 years old ( 33,613,891 males / 32,223,560 females)
219,023,145 persons between 15 and 64 years old ( 109,304,990 males / 109,718,155 females)
43,051,096 persons above 64 years old ( 18,576,012 males / 24,471,805 females) [4]

মানুষ সচরাচর ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সে বিয়ে করে এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি আমেরিকায় ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি হলেও তা একদম কাছাকাছি। আমেরিকায় নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে এতো বেশি নয় যে, প্রতি পুরুষ কেবল একজন করে নারী বিয়ে করলে অনেক নারী বিবাহযোগ্য পুরুষ পাবেনা। কেবল ৬৪ বছর বয়সের বেশি বয়সী মানুষদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এ বয়সের নারীরা সচরাচর বিবাহিত নয়তো বিধবা হয় এবং অবশ্যই কোনো জীবন সাথী খুঁজে না। আসলে বৃদ্ধ মহিলাদের জন্যই কিছু দেশে নারীর পরিমাণ বেশি দেখায়, অথচ বৃদ্ধ মহিলাদের নতুন করে স্বামী খুঁজতে হয় না।

এবার একটি ইসলামিক দেশ সৌদি আরবের বয়স ভিত্তিক জনসংখ্যা পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে যা ফলাফল পাওয়া যায় তা তুলে ধরছি।

In absolute figures (estimate):
9,842,369 young people under 15 years old ( 5,039,697 males / 4,802,672 females)
22,599,906 persons between 15 and 64 years old ( 12,767,900 males / 9,832,005 females)
988,549 persons above 64 years old ( 517,175 males / 471,375 females) [5]

আমরা দেখতে পাচ্ছি, সৌদি আরবে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি। অর্থাৎ যে বয়সে মানুষ সচরাচর বিয়ে করে সেই বয়সের মানুষের মধ্যে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি। যেহেতু সৌদি আরবে অনেক বাড়তি পুরুষ আছেন সেহেতু জাকির নায়েকের লজিক অনুযায়ী সৌদি নারীদের বহুভর্তৃকত্ব সমর্থনযোগ্য। কেবল তাই নয়, একজন নারীর সাথে কেবল একজন পুরুষের বিয়ে হলে জাকির নায়েকের লজিক অনুযায়ী অসংখ্য সৌদি পুরুষ পাবলিক প্রোপার্টিতে পরিণত হবে!!!

৩. নারী পুরুষের অনুপাত ৪:১ নয় যে একজন পুরুষকে চারটে পর্যন্ত বিয়ে করতে হবে। সারা পৃথিবীর জনসংখ্যার মধ্যে নারী ও পুরুষের অনুপাত ১:১.০১ [6] যা প্রমাণ করে একজন পুরুষের সাথে কেবল একজন নারীর বিয়ে হলে তা কোনো সমস্যার বিষয় হবে না। অর্থাৎ পুরুষের কোনো প্রয়োজনই নেই চারটি বিয়ে করার বরং, কোরআনের এই বিধান অনেক বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। যেহেতু পৃথিবীতে প্রতি ১০০ জন নারীর জন্য ১০১ জন পুরুষ আছেন সেহেতু, যদি কেবল ২ জন পুরুষ ১০০ জন নারীর মধ্য থেকে চারজন করে নারী বিয়ে করেন তাহলে ৯৯ জন অবিবাহিত পুরুষ এবং ৯২ জন অবিবাহিত নারী বাকি থাকবে যা আরও বেশি ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।

৪. জাকির নায়েক দাবি করেছেন, বহুবিবাহ পুরুষকে তার স্ত্রীর সাথে প্রতারণা করা থেকে দূরে রাখে। এধরনের অদ্ভুত এবং হাস্যকর কথা মানুষ তখনি বলে যখন সে কোনো অসভ্য কাজকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে জোর করে সমর্থনযোগ্য প্রমাণ করতে চায়। চুরি করা যদি বৈধ করা হয় তাহলে ডাকাতি লুটপাট কমে আসবে। তাই বলে কি আমরা চুরি করা বৈধ করতে পারি? আশাকরি, এখানে আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই।

৫. তিনি আরও দাবি করেন, পুরুষ প্রাকৃতিক ভাবেই বহুগামী। অথচ অনেক নারীও বহুগামী হন আবার অনেক পুরুষও একগামী হন। মানুষ প্রাকৃতিক ভাবেই লোভী, তারমানে এ নয় যে সে ঘুষ গ্রহণ করতে পারে। ঠিক তেমনি, মানুষ প্রাকৃতিক ভাবে বহুগামী মানে এ নয় যে সে এক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অন্য স্ত্রী গ্রহণ করতে পারে।

বিবেকের কাঠগড়ায় বহুবিবাহ

একজন মুসলিম কোরআনের বহুবিবাহের আইন গ্রহণযোগ্য বলে মেনে নেন কারণ তারা অন্ধভাবে বিশ্বাস করেন কোরআন ঈশ্বরের পাঠানো কিতাব এবং ঈশ্বরের পাঠানো কোনো বিধান অগ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। কোনোকিছু বিবেকের বাইরে গেলেও তারা বিবেককে ধর্মান্ধতার কাছে বন্দী করে রাখেন এবং মেনে নেন, কোরআনে যেহেতু অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেহেতু নিশ্চয় তা গ্রহণযোগ্য! অথচ একজন প্রকৃত জ্ঞানী মানুষ প্রকৃত বিবেকবান মানুষ কখনওই নিজের বিবেককে ধর্মান্ধতার কাছে বন্দী করে রাখতে পারেন না। একজন বিবেকবান মানুষ বরং তার বিবেক দিয়ে বিচার করে দেখবেন তথাকথিত ঈশ্বরের বিধান আসলেই কোনো ঈশ্বরের বিধান হতে পারে কিনা!

ধর্মান্ধ মুসলিমরা পুরুষের বহুগামিতা বহুবিবাহ সহজেই মেনে নেন, ব্যাপারটা তাদের বিবেকে একটুও অন্যায় বলে মনে হয় না, একটুও ঘেন্না লাগে না। তবে তারা কোনোভাবেই একজন নারীর বহুগামিতা বহুভর্তৃকত্ব মেনে নিতে পারেননা, ব্যাপারটা ভাবতেই পারেন না যে একজন নারী দুই তিন বা চারজন পুরুষের সাথে একইসাথে সংসার করবে। একজন মুসলিম পুরুষ কোনোভাবেই কল্পনা করতে পারেননা যে, তার স্ত্রীর আরও তিনজন স্বামী আছেন এবং সবাই একই ছাদের নিচে বাস করছেন। তবে তিনি ঠিকই একইসাথে চারজন নারীকে স্ত্রী করে একই ছাদের নিচে থাকাকে সমর্থনযোগ্য মনে করেন।

আপনার স্ত্রী একইসাথে আরও তিনজন পুরুষের স্ত্রী হলে, আরও তিনজন পুরুষের সাথে সেক্স করলে, আরও তিনজন পুরুষ আপনার স্ত্রীর সারা শরীরে হাত রাখলে, ঠোট দিয়ে কিস করলে জিহ্বা দিয়ে লিক করলে আপনি অবশ্যই তা সহ্য করতে পারবেন না এবং আপনার প্রতি সেটা অন্যায় ও অবিচার করা হবে। ঠিক তেমনি আপনি আপনার ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে একইসাথে একাধিক নারীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখলে সেটা নারীর প্রতি অন্যায় ও অবিচার করা হয়। এমন জঘন্য একটি অবিচার যা ইসলাম নারীর ওপর চাপিয়েছে তা যদি আপনার কাছে সমর্থনযোগ্য মনে হয় তাহলে আপনার বিবেক বলে কিছু আছে সেটা দাবি করা আপনার জন্য লজ্জাজনক। যে অবিচার একজন মুসলিম পুরুষের সহ্য করতে হবে না তা কেন একজন মুসলিম নারীর আল্লাহ্‌র সুবিচার বলে সহ্য করতে হবে?

কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ নিজের ভালবাসার ভাগ অন্য কাউকে দিতে পারেননা এবং সেটা নারী পুরুষ সবার জন্যই সত্য। আপনি জানেন একজন পুরুষ তার ভালবাসার স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে কখনওই ভাগ করে নিতে চান না, কখনওই সেটা সহ্য করতে পারবেননা তাহলে আপনি কিভাবে ধরে নেন একজন বুদ্ধিমতী সুস্থ স্বাভাবিক নারী তার ভালবাসার স্বামীকে অন্য নারীর সাথে মন থেকে ভাগ করে নিবেন? নিজের স্ত্রীকে অন্য পুরুষদের সাথে ভাগ করে নেওয়া আপনার যতোটা জঘন্য লাগে, একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকা ঠিক ততোটাই জঘন্য একটা ব্যাপার।

পুরুষের নিজের স্ত্রীর একাধিক স্বামী থাকা সমর্থন না করার আরও একটি কারণ হলো পুরুষের আত্মমর্যাদা বোধ। পুরুষ জানে, একজন নারীর দুই তিন বা চারজন স্বামী থাকলে সেইসব স্বামীর আত্মমর্যাদা বলে কিছুই থাকেনা। তাহলে যারা পুরুষের বহুবিবাহের মতো অসভ্য একটি প্রথাকে সমর্থনযোগ্য মনে করেন তারা কি মনে করেন, নারীর আত্মমর্যাদা বলে কিছু নেই? মূল সমস্যা হলো, নারীও যে পুরুষের মতো একজন পরিপূর্ণ মানুষ এবং নারীও যে একজন পরিপূর্ণ মানুষের মর্যাদার দাবিদার তা তাদের নিচু মানসিকতায় নেই। তারা বুঝেন না, যা পুরুষের আত্মমর্যাদা হরণ করতে পারে তা একজন নারীর আত্মমর্যাদাও হরণ করতে পারে।

ইসলামপন্থীদের যখন আমরা জিজ্ঞেস করি, “ইসলাম তাহলে কেন নারীর চার বিয়ে বৈধ করলো না”? তখন তারা জবাব দেন, “একজন নারীর চারজন স্বামী থাকলে ঐ নারী কিভাবে বুঝবে তার বাচ্চা কোন স্বামীর মাধ্যমে এসেছে বা বাচ্চার বায়োলজিক্যাল বাবা কে”?

একজন পুরুষের বহুবিবাহের মতো একজন নারীর বহুবিবাহও আমরা কখনওই সমর্থন করিনা। তবে নারীর বহুবিবাহের কথা বলি কেবল ইসলামপন্থীদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখার জন্য। তারপরও তারা যা জবাব দেয় সেটাও কোনো গ্রহণযোগ্য উত্তর নয়। কেননা এসময়কার একজন নারীর একাধিক স্বামী থাকলে তিনি সহজেই DNA টেস্টিং এর মাধ্যমে বাচ্চার বায়োলজিক্যাল বাবা কে তা জানতে পারেন। বাচ্চার আসল বাবা কে তা জানা যাবে না বলেই যদি ইসলাম নারীর বহুবিবাহ হারাম করে থাকে তাহলে এ সময়ের নারীদের জন্য বহুবিবাহ হালাল হয়ে যাওয়ার কথা। অথচ ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী কোরআনের বিধান সর্বসময়ের জন্য প্রযোজ্য এবং অপরিবর্তনশীল। অর্থাৎ ইসলামপন্থীদের দাবি মেনে নিলে আমরা বলতেই পারি, আল্লাহ্‌ DNA টেস্টিং এর ব্যাপারে কিছুই জানতেন না এবং কোরআন সর্বসময়ের জন্য প্রযোজ্য হতে পারেনা।

যাইহোক, যেহেতু ইসলামপন্থীদের দাবি পুরুষের বহুবিবাহ নারীর বহুবিবাহের চেয়ে সহজ সেহেতু আমরা তা ধরেও নিচ্ছি, তবে কথা হচ্ছে পুরুষের বহুবিবাহ সহজতম হলেই কি পুরুষের বহুবিবাহ সমর্থনযোগ্য হয়ে যায়? একজন পুরুষ খুব সহজেই তার স্ত্রীকে মারধোর করতে পারেন, তাই বলে কি আমরা নারীর ওপর পুরুষের নির্যাতন সমর্থনযোগ্য বলে গণ্য করতে পারি? ধর্মান্ধতায় বাধা মানুষ সাধারণ বোধ টুকু হারিয়ে ফেললেই মানুষ এধরনের দাবি করতে পারে।

আবার কিছু মুসলিম বলেন, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি থাকলে একজন মানুষ দ্বিতীয় বিয়ে করতেই পারে। আমি বলবো, আপনার স্ত্রী আপনাকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিলেই কি আপনার জন্য বহুবিবাহ সমর্থনযোগ্য হয়ে যাবে? একজন ধর্মান্ধ নারী তার স্বামীকে বহুবিবাহের অনুমতি দিলে সেটা নিজের স্বামীকে মারধোর করার অনুমতি দেওয়ার মতো ঘটনা হয়ে যায়। আপনার স্ত্রী যদি আপনাকে বলে, আমাকে যখন খুশি মারধোর করতে পারো, আপনি কি তাকে আসলেই মারধোর করতে পারবেন? আমি তো ভাই এমন বর্বর কাজ কোনোদিন করতে পারবো না। আমার বিবেক আমাকে বাধা দিবে এমন অমানবিক কাজ করতে।

বহুবিবাহ নিয়ে আমার আর কিছু বলার নেই। শেষকথা, নিজের বিবেককে ধর্মান্ধতার শিকলে বেধে না রেখে বিবেক দিয়ে ধর্মকে একটু বিচার করে দেখুন, চোখ খুলে যাবে।

1. The Acceptance of the first Wife is not a Condition for the one who wishes to marry another
2. World Population age group
3. ‎The ratio of births
4. ‎Gender population in USA according to age group
5. ‎Gender population in Saudi Arabia according to age group
6. ‎Human sex ratio

Marufur Rahman Khan

Marufur Rahman Khan is a Bangladeshi Atheist, Feminist, Secularist Blogger.

2 thoughts on “বহুবিবাহ এবং ইসলামিক ডিফেন্স

  • October 17, 2018 at 12:58 PM
    Permalink

    যুক্তিপূর্ণ কথা। আশা করি ধর্মের ভয় দেখিয়ে যে ধার্মিকগণ(?) কুপ্রথাগুলি সমর্থন করে চলেছেন তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

    Reply
  • January 13, 2020 at 9:19 PM
    Permalink

    অসাধারণ লিখেছেন ভাই
    আপনার অনুমতি পেলে কপি করে আপনার ফেসবুকে পোস্ট করতাম

    ধন্যবাদ

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *