কোরআন সংকলন এবং পরিমার্জনের ইতিহাস

Table Of Contents
hide

ভূমিকা

মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি বিশ্বাস বা দাবী হচ্ছে, কোরআন হচ্ছে মানব ইতিহাসের একমাত্র অবিকৃত গ্রন্থ যা আল্লাহ পাক যেভাবে নাজিল করেছিলেন, ঠিক সেরকম অবস্থাতেই আমরা এখনও দেখতে পাই। এমনকি, এর একটি শব্দ বা একটি অক্ষরও এই পর্যন্ত কেউ পরিবর্তন করতে পারে নি। অর্থাৎ, এর কিছুমাত্র এখন পর্যন্ত বিকৃতিসাধন হয় নি। অন্যদিকে বাইবেল থেকে শুরু করে অন্যান্য সকল ধর্মগ্রন্থই মানুষের দ্বারা বিকৃত এবং দূষিত। যা আল্লাহ যেভাবে প্রেরণ করেছিলেন, সেভাবে আর নেই। যদিও বাইবেল সংকলনের খ্রিষ্টীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাইবেলের সংকলনকে খ্রিস্টানরা ঈশ্বর দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে মনে করেন। অর্থাৎ, বাইবেল যেভাবে সংকলিত হয়েছিল, খ্রিস্টীয় বিশ্বাস মতে তা ঈশ্বরের ইচ্ছাতে ঈশ্বরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হয়েছিল। খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুসারে পরিবর্তনগুলোও ঈশ্বরের ইচ্ছাতে হয়েছিল। তাই খ্রিস্টানগণ দাবী করেন, বাইবেলেও কোন ভুল নেই। কারণ পরিবর্তনগুলো স্বয়ং ঈশ্বরই ঘটিয়েছেন।

এই দিক দিয়ে মুসলিমদের দাবী একটু ভিন্ন রকম। মুসলিমগণ মনে করেন, কোরআনই একমাত্র শুদ্ধতম ঐশি গ্রন্থ, যার কিছুমাত্র কোন পরিবর্তন হয় নি। তারা শুধু মনেই করেন না, রীতিমত বিশ্বাস করেন যে, কোরআন একমাত্র ঐশি কেতাব যা মুহাম্মদের আমলেই আল্লাহর পাকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নাজিল হয়েছিল। অধিকাংশ মুসলিম মনে করেন, কোরআন আল্লাহ পাকের কাছ থেকে যেভাবে নাজিল হয়েছিল ঠিক সেভাবেই এখন আমরা পাই। এবং এটি কোন মানুষের দ্বারাই বিন্দুমাত্র পরিমাণ দূষিত হয় নি, নতুন সংযোজন বিয়োজন পরিমার্জন কিছুই হয় নি। এই দাবীগুলো শোনার পরে আমাদের বিষয়টি গবেষণা করে দেখার প্রয়োজন হয়ে যায়, আসলেই এই দাবীগুলোর সত্যতা কতটুকু। তা নিয়ে আলোচনাই এই লেখাটির মূল উদ্দেশ্য।

অনেক ধার্মিক মানুষ প্রমাণ দেখাতে চেষ্টা করবেন যে, কোরআন হাদিসেই বলা আছে যে, কোরআন অবিকৃত এবং সব ধরণের দূষণমুক্ত। কিন্তু এই ধরণের দাবী একটি খুব সাধারণমানের হেত্বাভাস বা লজিক্যাল ফ্যালাসি। যাকে বলা হয়, চক্রাকার কুযুক্তি বা Circular logic Fallacy। যেমন ধরুন,

প্রশ্ন-১ বাইবেল যে সত্য তার প্রমাণ কী?
উত্তর-১ বাইবেল সত্য কারণ ঈশ্বর বলেছেন বাইবেল সত্য।
প্রশ্ন-২ ঈশ্বর যে সত্য তার প্রমাণ কী?
উত্তর-২ ঈশ্বর সত্য কারণ বাইবেলে লেখা আছে ঈশ্বর সত্য।

উপরের দাবী দুটো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, একটি দাবী আরেকটি দাবীকে সত্য প্রমাণ করতে চাচ্ছে। এই দাবী দুটো একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। এর কোনটাই প্রমাণিত নয়, তবে একটি আরেকটি দাবীর প্রমাণ হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছে। যুক্তিবিদ্যায় একে বলে চক্রাকার যুক্তি বা সার্কুলার লজিক। তাই এই ধরণের যুক্তিকে যুক্তিবিদ্যায় গ্রহণ করা হয় না, এবং এগুলোকে কুযুক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাই এই ধরণের দাবী আসলে যৌক্তিক আলোচনায় গ্রহণযোগ্য হয় না। তাহলে প্রশ্ন আসে, আমরা কেন কোরআন হাদিসের রেফারেন্সগুলোকে উল্লেখ করছি?

কোরআন হাদিস এবং ইসলামিক ক্লাসিক্যাল যুগের রেফারেন্সগুলো আমরা উল্লেখ করছি কোরআন বা মুসলিমদের দাবীগুলোর স্ববিরোধী চরিত্র দেখাবার জন্য। আসলে আম মুসলিমদের অনেকেই জানেন না, ইসলামের রেফারেন্সগুলোই ইসলামকে ভুল প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। ইহুদী নাসারা নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র ছাড়াই, শুধুমাত্র ইসলামের রেফারেন্স দিয়েই ইসলামকে ভুল প্রমাণ করা যায়। সেটাই আমরা এই লেখাটিতে দেখবো।

কোরআনে বলা আছে, কোরআনের সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ পাক নিজেই নিয়েছেন। এই বিষয়ে কোরআনেই বলা হয়েছে,

আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।
কোরআন হিজরঃ৯

ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে, লাওহে মাহফুজে যেভাবে আল্লাহ সৃষ্টির আদিতে কোরআন লিখেছিলেন, আজকে আমাদের কাছে যেই কোরআন রয়েছে, দুটো কী একই রকম? এটি ইসলামের মূল ভিত্তি নিয়ে একটি বড় ধরণের প্রশ্ন। কারণ এই বিশ্বাসটি যদি ভুল প্রমাণ হয়, তাহলে ইসলামের মূল ভিত্তিই ধ্বংস হয়ে যায়। এমনকি, আল্লাহ পাকের অনুপ্রেরণাতেও যদি কোরআন যেভাবে নাজিল হয়েছিল, তাতে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন সাধন হয়ে থাকে, তাহলে তা খ্রিস্টানদের দাবীর মতই হয়ে যায়। কারণ খ্রিস্টানরাও একই দাবী করে থাকেন যে, গসপেল লেখকরা ঈশ্বরের অনুপ্রেরণাতেই গসপেল লিখেছেন। যাকে আবার মুসলিমগণ বিকৃত বলছেন। তাই এই যুক্তিটি খ্রিস্টানদের বেলাতে মুসলিমরা গ্রহণ না করলে, মুসলিমদের বেলাতেও আর খাটে না।

উল্লেখ্য, মুসলিমদের দাবী যেহেতু এরকম যে, তাদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন এই পর্যন্ত বিন্দু পরিমান বিকৃত বা মানুষের দ্বারা দূষিত হয় নি, ঠিক লাওহে মাহফুজে আল্লাহ পাক সৃষ্টির শুরুতে যেভাবে লিখেছিলেন, এখনো বর্তমান সময়ের কোরআনে তেমনটিই আমরা পাই, তাই যদি সামান্যতম বিকৃতও প্রমাণ করা যায়, তাহলে তাদের দাবীটি ভুল বলে গণ্য হবে। এই দাবীটি ভুল প্রমাণ করতে শতকরা ৫ ভাগ বা ১০ ভাগ কিংবা ১০০ ভাগ ভুল প্রমাণের প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র একটি ভুল বা বিকৃতিই যথেষ্ট। কারণ কোরআনেই বলা রয়েছে,

আমি কোরআনকে যতিচিহ্ন সহ পৃথক পৃথকভাবে পাঠের উপযোগী করেছি, যাতে আপনি একে লোকদের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি একে যথাযথ ভাবে অবতীর্ণ করেছি।
কোরআন আল ইসরাঃ ১০৬

তাই আল্লাহ পাকই যা পারফেক্ট বা যথাযথভাবে অবতীর্ণ করেছেন, সেটিকে আর পুনরায় যথাযথ করার কোন কারণ বা যুক্তি থাকতে পারে না। কারণ মানুষ এমনকি নবী মুহাম্মদ বা তার সাহাবা, তাবে তাবেইনও সেখানে সামান্যতম হাত লাগালেই তা দূষিত হবে। তারপরেও, আমরা আলোচ্য লেখাটিতে কোরআনে বিভিন্ন প্রকারের বিকৃতি বা মানুষের দ্বারা সংস্কার বা পরিমার্জন আলোচনা করবো। সেটি পড়ার পরে পাঠকগণই সিদ্ধান্ত নেবেন, কোরআন অবিকৃত গ্রন্থ নাকি তা বহুসংখ্যকবার পরিমার্জিত, সংশোধিত গ্রন্থ। যদিও আমরা ভালভাবেই জানি, সবকিছুরই একটি তৈরি উত্তর সদাসর্বদা মুমিন ভাইদের কাছে থাকে, আর সেটি হচ্ছে, সবই আল্লাহ পাকের ইচ্ছা! কিন্তু সেটি যুক্তি হলে বাইবেল বা অন্যান্য ধর্মগ্রন্থকে মুসলিমগণ কোন যুক্তিতে দূষিত বলেন, তা বোধগম্য নয়। আল্লাহর ইচ্ছা বা অনিচ্ছা যাই হোক, আমি যৌক্তিক আলোচনা এবং মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারার চেষ্টা হিসেবেই এই লেখাটি লিখছি। এই লেখাটিও সেই অর্থে আল্লাহরই ইচ্ছা। নইলে আমি লিখলাম কীভাবে?

■ সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ

এই লেখাটিতে যে সমস্ত রেফারেন্স নেয়া হয়েছে, সেগুলো সবই সবচাইতে নির্ভরযোগ্য এবং বিশুদ্ধ ইসলামিক গ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করা। যতটা সম্ভব চেষ্টা করা হয়েছে সঠিক তথ্যগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে। তারপরেও কোথাও কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে লেখকের দৃষ্টি আকর্ষণের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। বানান ভুল বা তথ্যগত ভুল কেউ পেলে বিনা দ্বিধায় সংশোধন করে দিন। আপনার সংশোধনী সঠিক হলে কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এই লেখাটি আপনার কোমল ধর্মীয় অনুভূতির জন্য মারাত্মক আঘাত বলে বিবেচিত হতে পারে। তাই আপনার ধর্মীয় অনুভূতি কোমল হলে লেখাটি এখনই পড়া বন্ধ করুন এবং নিজের ধর্মীয় অনুভূতিকে রক্ষা করুন। এই সতর্কতার পরেও যদি লেখাটি পড়তে চান, নিজ দায়িত্বে প্রাপ্তবয়ষ্ক শিক্ষিত সভ্য মানুষের মত পড়ুন। আপনার ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করার জন্য অন্য কাউকে দায়ী করবেন না।

এই লেখাটিতে যেসকল গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র নিয়ে কিছুটা আলোচনা করা হবে, তারা হচ্ছেন, হযরত মুহাম্মদ নিজে, আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, আয়েশা, আবু বকরের ছেলে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর, উমরের ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবূ খুযায়মা আনসারী, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, উবাই ইবনে কাব, আবদুল্লাহ ইবনে সাদ এবং আরো অনেকে। এরা প্রত্যেকেই নবী মুহাম্মদের অত্যন্ত ঘনিষ্ট এবং মুহাম্মদ অসংখ্যবার এদের প্রশংসা করেছেন। তাই উনাদের বক্তব্যগুলো গুরুত্ব পাবে, সেটিই স্বাভাবিক।

আমি খুব ভালভাবেই জানি, যারা ইসলামে বিশ্বাস করেন তারা নানাভাবে প্রতিটি তথ্যকে মিথ্যা, ভুল, ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র, কাফেরদের চক্রান্ত, নাস্তিকদের মিথ্যাচার, দুর্বল বর্ণনা, জাল জইফ, হ্যান ত্যান নানা কথা বলে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করে যাবেন। কারণ তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে অক্ষুণ্ণ রাখতে এছাড়া উনাদের আর কোন পথ নেই। যেভাবেই হোক, উনারা চেষ্টা করে যাবেন উনাদের বিশ্বাসকে সঠিক বলে ধরে নিতে। কিন্তু উনাদের বিশ্বাস বিষয়ে আমার কোন আলোচনা নেই। উনারা চাইলে যেকোন কিছুই বিশ্বাস করতে পারেন। আমি শুধুমাত্র তথ্যসূত্রগুলো একত্র করছি। লেখাটির তথ্যসূত্রে এবং ধারাবাহিকতায় কিছুটা সমস্যা রয়ে গেছে। দীর্ঘ লেখার কারণে অনেক কিছুই যুক্ত করা যায় নি। পরবর্তী সময়ে সেগুলো এই লেখাটিতেই যুক্ত করে দেয়া হবে।

■ কৃতজ্ঞতা স্বীকার

অসংখ্য বইপত্র, আর্টিকেল এবং ইন্টারনেটের কল্যানে অসংখ্য লেখা আমাকে এই লেখাটি সমৃদ্ধ করতে সহযোগীতা করেছে। তাদের সবার কাছেই আমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। উনাদের অসংখ্য লেখা না পড়লে আমি এই সংকলনটি তৈরি করতে পারতাম না।

কোরআন

■ কোরআন কী?

কোরআন (আরবি: القرآن‎‎ বা আল্-কুর্’আন) শব্দের অর্থ হচ্ছে পঠিত বা পাঠ করা বা আবৃত্তি করা। কোরআন শব্দের উৎপত্তি ক্বারউন নামক শব্দ থেকে যার অর্থ পঠিত, যা অধিক পাঠ করা হয়, মিলিত। এই বিষয়ে খানিকটা মতবিরোধ রয়েছে। দু’টি প্রধান মতামত হচ্ছে,

১) এই শব্দটি এসেছে al-Qar` মানে হচ্ছে `সংকলন করা` বা ‘সংগ্রহ করা’
২) এই শব্দটি এসেছে `Qara` থেকে যার মানে হচ্ছে ‘পাঠ করা’। এই মতামতটিই বেশিরভাগ ইসলামি স্কলার মেনে নেন। [ তথ্যসূত্র ১]

উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে আমরা যেই কোরআন দেখি, বা পড়ি, সেটি সংকলিত হয়েছিল খলিফা উসমানের আমলে। এই বিষয়টি স্মরণ রেখেই লেখাটি পড়তে হবে।

■ কোরআন কী আল্লাহর সৃষ্টি?

ইসলামের প্রথম যুগের বেশ পরে তৎকালীন আলেমদের মধ্যে একটি প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যে, কোরআন কি অনাদি অনন্ত, নাকি আল্লাহ পাকের সৃষ্ট? মু‘তাযিলী দার্শনিকগণ কোরআন মজীদকে আল্লাহর সৃষ্ট বলে দাবী করেন এবং অদৃষ্টবাদী (জাবারী) আলেমগণ কোরআনকে অনাদি বলে দাবী করেন। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে কাফের ও মুরতাদ এবং হত্যাযোগ্য বলে ফতোয়া দিতে শুরু করে। পরবর্তীতে আব্বাসীয় খিলাফতে শাসকরা বহু আলেমকে এই দ্বন্দ্বে হত্যা করে। বর্তমানে শিয়া-সুন্নী নির্বিশেষে মুসলমানদের মধ্যে মোটামুটিভাবে এ ধারণা বিরাজ করে যে, যেহেতু আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া আর কোনো কিছুই অনাদি নয়, সুতরাং কোরআন মজীদও অনাদি নয়, তথা আল্লাহ্ কর্তৃক সৃষ্ট। কিন্তু পরবর্তীকালে ইবনে তাইমীয়াহ্ ও ‘আবদুল ওয়াহ্হাব্ নজদীর মাধ্যমে ইসলামে যে গোঁড়া ইফরাত্বী ধারা গড়ে ওঠে তারা এ বিষয়টিকে নতুন করে গুরুত্ব প্রদান করে এবং যারা কোরআনকে অনাদি বলে স্বীকার করে না তাদেরকে কাফের বলে অভিহিত করে।

‘কোরআন আল্লাহর সৃষ্টি নয়’- এই বিষয়ে বেশ কিছু বিখ্যাত ইসলামিক আলেমের মতামত পাওয়া যায়, সেগুলো হচ্ছে,

ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রা. বলেন,
“কোরআন আল্লাহ কালাম (বাণী); মাখলুক বা সৃষ্ট নয়। যে ব্যক্তি মনে করে যে, কোরআন আল্লাহর মাখলুক (সৃষ্ট) সে জাহমী-কাফির। আর যে ব্যক্তি কোরআন আল্লাহর কালাম বলে চুপ থাকে- মাখলুক না কি মাখলুক নয় সে ব্যাপারে কোন মন্তব্য করে না-সে ১ম ব্যক্তির থেকেও নিকৃষ্ট।

ইমাম ইবনে আব্দুল ইয আল হানাফি (তাহাবীয়া গ্রন্থের ভাষ্যকার), বলেন:
“চার মাযহাব সহ পূর্বসূরি ও পরবর্তী মনিষীদের সকলেই একমত যে, আল্লাহর কালাম মাখলুক নয়।
ইমাম ইবনে তাইয়িমা রাহ .এর ব্যাপারে অত্যন্ত দৃঢ়তা সূলভ বক্তব্য আছে। তিনি ‘কোরআন আল্লাহর সৃষ্টি’ মতবাদে বিশ্বাসীদেরকে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে জবাব দিয়েছেন।

শায়খ হাফেয আল হাকামী রহ. বলেন:
“কোরআন প্রকৃত অর্থেই আল্লাহর কালাম বা বাণী। অক্ষর-সমূহ এবং তার অর্থ উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। এ নয় যে, আল্লাহর কালাম বলতে শুধু কুরআনের শব্দগুলোকে বুযায়। এমনিভাবে শব্দ ছাড়া শুধু অর্থগুলোর নাম আল্লাহর কালাম নয়। আল্লাহ তা’আলা কুরআনের মাধ্যমে কথা বলেছেন এবং তাঁর নবির উপর অহি আকারে তা নাযিল করেছেন। মুমিনগণ তা বিশ্বাস করেছে।
সুতরাং আঙ্গুলের মাধ্যমে কোরআন লিখা, জবানের মাধ্যমে তা তেলাওয়াত করা, অন্তরের মাধ্যমে তা মুখস্থ করা, কান দিয়ে শুনা এবং চোখ দিয়ে দেখলেই তা আল্লাহর কালাম থেকে বের হয়ে যায় না। আঙ্গুল, কালি, কলম এবং কাগজ এগুলোর সবই আল্লাহর সৃষ্টি । কিন্তু এ সব দিয়ে যা লেখা হয়েছে তা সৃষ্টি নয়। ঠিক তেমনি জবান এবং আওয়াজ আল্লাহর সৃষ্টি। কিন্তু জবান দিয়ে তা তেলাওয়াত করা হচ্ছে তা মাখলুক তথা সৃষ্টি নয়। বক্ষসুমহ আল্লাহর সৃষ্টি, কিন্তু তাতে যে কোরআন সংরক্ষিত আছে, তা মাখলুক নয়। কান-সমূহ আল্লাহর সৃষ্টি কিন্তু কান দিয়ে কোরআন আমরা শুনছি, তা মাখলুক নয়।

অধিকাংশ ইসলামিক আলেমের মত হচ্ছে, কোরআন হচ্ছে আল্লাহর কালাম। তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। আল্লাহর কাছে তা পুনরায় ফেরত যাবে। আল্লাহর কালাম তাঁর সিফাত বা গুণাগুন বা বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে বলবে আল্লাহর কোন সিফত বা গুণ হচ্ছে সৃষ্টি বা মাখলুক, সে কাফের ও মুরতাদ। তাকে পুনরায় ইসলামে ফেরত আসতে বলা হবে। ফিরে আসলে তো ভাল, অন্যথায় তাকে কাফের হিসেবে হত্যা করা হবে। এই বিষয়ে আরো জানার জন্য [ তথ্যসূত্র ২,৩ ] পড়ুন। উল্লেখ্য, এই অংশে উল্লেখিত তিনটি রেফারেন্স একটি ইসলামিক ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করা ছাড়া নেয়া হয়েছে।

■ কোরআন কী সরাসরি আল্লাহর বাণী?

বেশিরভাগ মুসলমানই এই কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, কোরআনের প্রতিটি বাক্য হচ্ছে সরাসরি আল্লাহর মুখ থেকে মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট বাণী বা নির্দেশনা কিংবা বলা যেতে পারে জীবন বিধান। কোরআনেই বলা আছে,

এবং এটা কোন কবির কালাম নয়; তোমরা কমই বিশ্বাস কর।
এবং এটা কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর কথা নয়; তোমরা কমই অনুধাবন কর।
এটা বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ
সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত,
তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম,
অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা।
তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।
কোরআন ৬৯ আয়াত ৪১ – ৪৭

ধরে নিচ্ছি কোরআন আল্লাহর সরাসরি বানী, এবং তা সৃষ্টির আদিকাল থেকে লাওহে মাহফুজে লিখিতভাবে সংরক্ষিত ছিল। এরপরে নবী মুহাম্মদ নবুয়ত লাভ করেন, জিব্রাইলের মাধ্যমে আল্লাহ সেই পবিত্র কেতাবে আল্লাহ পাক যা বলেছিলেন তা মুহাম্মদের কাছে প্রেরণ করেন। এসব ধরে নিলে বোঝা যাচ্ছে, কোরআনের মূল বক্তা আল্লাহ পাক, এবং নবী মুহাম্মদের ওপর তা নাজিল হয়েছে মাত্র। জিব্রাইল ছিলেন বাহক মাত্র, মুহাম্মদ ছিলেন মেসেজঞ্জার নবী/রাসুল। জিব্রাইল এবং মুহাম্মদের দায়িত্ব ছিল, আল্লাহ পাক যা সরাসরি বলেছেন, হুবুহু সেইসব আমাদের কাছে পৌঁছে দেয়া। নিজেরা সেই কথাগুলোর মধ্যে কোন বক্তব্য না ঢোকানো বা কোন কথার সামান্যতম কোন পরিবর্তন না করা। কিন্তু কোরআনে এই ধারাটি ঠিক রাখা হয় নি। কোথাও আল্লাহ বলছেন, কোথাও নবী বলছেন, আবার কোথাও মনে হচ্ছে এগুলো জিব্রাইলের বক্তব্য, আবার কোথাও আল্লাহর বান্দারা আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলছেন। এরকম অসংখ্য সূরা পাওয়া যায়, সেখানে এক এক সময় বক্তা এক এক রকম। সব যে আল্লাহর সরাসরি বক্তব্য না, তার অসংখ্য প্রমাণ আছে। যেমন ধরুন, নিচের সূরাটি। এই সূরাটি কী কোন অবস্থাতেই আল্লাহর বক্তব্য বলে মেনে নেয়া যায়? তাহলে আল্লাহ কোন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাচ্ছে? স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, বক্তব্যগুলো অন্য কারো, সরাসরি আল্লাহর বক্তব্য হতেই পারে না।

  • পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।
  • আল্লাহরই জন্য সমস্ত প্রশংসা, যিনি বিশ্বজগতের রাব্ব।
  • যিনি পরম দয়ালু, অতিশয় করুণাময়।
  • যিনি বিচার দিনের মালিক।
  • আমরা আপনারই ইবাদাত করছি এবং আপনারই নিকট সাহায্য চাচ্ছি।
  • আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।
  • তাদের পথ, যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন। তাদের পথে নয়, যাদের প্রতি আপনার গযব বর্ষিত হয়েছে, তাদের পথও নয় যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। ( সূরা ফাতিহা )

যেমন ধরুন, করিম বলছে তার ছেলেকে রহিমকেঃ

হে রহিম, বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খাও, যা তোমার শরীরের জন্য ভাল।

অথবাঃ

হে রহিম, বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খাও, যা আমি তোমার জন্য নিয়ে আসি। নিশ্চয়ই আমি উত্তম খাবার বাজার থেকে কিনে আনি।

কিন্তু এই কথা পিতা করিম তার ছেলে রহিমকে কখনই বলবে না, এরকম কেউ বললে কথাগুলো তার ছেলে রহিমের বক্তব্য বলেই বোঝা যাবেঃ

  • শুরু করছি বাজার থেকে উত্তম খাবার নিয়ে আসা পিতা করিমের নামে
  • সম্মানীত পিতা করিমই উত্তম খাবার বাজার করে আনেন
  • যিনি অত্যন্ত দয়ালু, খুবই উদার
  • বাজারের তাজা সবজি আর মাছ উনিই সবচেয়ে ভাল চেনেন
  • আমরা আপনার কাছ থেকেই স্কুল টিফিনের টাকা পাই
  • আমরা আপনার কাছ থেকেই স্কুলের বেতনের টাকা চাই
  • হে পিতা, আমাদেরকে বিকাল বেলা ফুটবল খেলতে দিন
  • আর যারা আপনার খাবার খেয়ে আপনার তোষামোদি করে না,
  • আপনার মাথা আর পিঠ টিপে দেয় না,
  • তাদের ওপর গযব নাজিল করুন

আবার যেমন নিচের সূরাটি লক্ষ্য করি।

  • হে মানবসমাজ, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেনযিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন। [ কোরআন ৪ঃ১ ]
  • যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের অবাধ্যতা করে ও তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন । [ কোরআন ৪ঃ১৪ ]
  • আর তোমরা আকাংক্ষা করো না এমন বিষয়ে যাতে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের একের ওপর অন্যের শ্রেষ্টত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ, নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। [ কোরআন ৪ঃ৩২ ]

উপরের সূরার আয়াতগুলো পড়ে স্পষ্টই মনে হচ্ছে, কথাগুলো সরাসরি আল্লাহ পাকের কথা নয়। মুহাম্মদের কথা, জিব্রাইল কিংবা অন্য কারো। কোরআনের প্রতিটি শব্দ যদি আল্লাহ পাকেরই বক্তব্য হয়ে থাকে, তাহলে এই সূরাগুলো হওয়ার কথা নিম্নরূপঃ

  • হে মানবসমাজ, তোমরা তোমাদের পালনকর্তা অর্থাৎ আমাকে ভয় কর, আমি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছিআমি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছি
  • যে কেউ আমার এবং আমার রাসুলের অবাধ্যতা করে ও তার সীমা অতিক্রম করে, আমি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবো
  • আর তোমরা আকাংক্ষা করো না এমন বিষয়ে যাতে আমি তোমাদের একের ওপর অন্যের শ্রেষ্টত্ব দান করেছি। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ, নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আমার কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করনিশ্চয়ই আমি সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।

তাহলে, এই সূরাগুলোর এইসব বক্তব্য কী আল্লাহ নিজ মুখে বলেছেন? নাকি আল্লাহ বলেছেন একভাবে, জিব্রাইল বলেছে আরেকভাবে, আর মুহাম্মদ লিখেছে আরেকভাবে? মানে, ব্যক্তি ভেদে বক্তব্যের কী পরিবর্তিত হয়েছে? সরাসরি আল্লাহর বানী হলে তো অন্যরকম হওয়া উচিত ছিল।

অনেক মুসলিমই বলবেন, এগুলো আল্লাহ পাক বলে আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, কীভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করতে হয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এই সূরাটিও কী আল্লাহর মুখের বাণী?

তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে।
কোরআন ৫৮ঃ২২

এরকম অসংখ্য সূরা আছে, যেখানে মূল বক্তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ বলেই বোঝা যায়। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, আল্লাহ মুহাম্মদের কাছে সূরাটি একভাবে পাঠিয়েছিলেন, আর মুহাম্মদ সূরাটি নিজের মত করে বলেছেন। আল্লাহ আসলে বলেছিলেন,

আমি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবো, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আমি(আল্লাহ) তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আমার (আল্লাহর) প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আমার (আল্লাহর) দল। জেনে রাখ, আমার (আল্লাহর) দলই সফলকাম হবে।

এই বক্তব্যটি জিব্রাইলকে বলা হয়েছিল, যেখানে জিব্রাইল কথাটি শুনে মুহাম্মদকে বলেছেন, মুহাম্মদ মুসলিমদের বলেছেন। যার কারণে বাচ্য পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

যেমন ধরুন, আল্লাহ বলছেঃ “আমি সর্বশক্তিমান। আমি সব করতে সক্ষম।” এই কথাটি জিব্রাইল শুনলো। এবং তিনি মুহাম্মদকে বললেন, “আল্লাহ বলেছেন যে, তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি সব করতে সক্ষম।” মুহাম্মদ কথাটি শুনলো। এবং তিনি মুসলিমদের বললেন যে, আল্লাহর কাছ থেকে ওহী আসলো যে, আল্লাহ জানিয়েছেন, “আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তিনি সব করতে সক্ষম। ”

লক্ষ্য করে দেখুন, একই বক্তব্য, তিনজনার কাছে এসে বক্তব্যগুলোর কিছু পরিবর্তন ঘটে গেল। তাহলে, কোরআনে মুহাম্মদ বা জিব্রাইল বা বান্দাদের যেসকল বক্তব্য পাওয়া যায়, সেগুলো তো আল্লাহর সরাসরি বক্তব্য হতে পারে না। আল্লাহ তো কথাগুলো সেভাবে বলবেন না।

আবার ধরুন, নিচের আয়াতটি লক্ষ্য করুনঃ

তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেুগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে।
কোরআন ৬ঃ৯৯

এবারে ভেবে বলুন তো, উপরের আয়াতে তিনিই কে এবং আমি কে? একই বাক্যের মধ্যে যদি তিনি এবং আমি ব্যবহৃত হয়, তা কী একই জনকে উদ্দেশ্য করে বলা হতে পারে?

আরো দেখুনঃ

তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন যাতে তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে আমি নির্দেশনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি।
কোরআন ৬ঃ৯৭

তিনিই তোমাদের কে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অনন্তর একটি হচ্ছে তোমাদের স্থায়ী ঠিকানা ও একটি হচ্ছে গচ্ছিত স্থল। নিশ্চয় আমি প্রমাণাদি বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি তাদের জন্যে, যারা চিন্তা করে।
কোরআন ৬ঃ৯৮

লক্ষ্য করুন, একই আয়াতে একবার বলা হচ্ছে তিনি, আবার বলা হচ্ছে আমি। এই আয়াতটির মূল বক্তা কে? আল্লাহ, নবী, জিব্রাইল না বান্দা?

আবার ধরুন, নিচের আয়াতটি যদি পর্যালোচনা করিঃ

আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।
কোরআন ২ঃ ২৮৬

উপরের সূরার আয়াতটি কার বক্তব্য? প্রথম লাইনটি আল্লাহ বা নবী বা জিব্রাইলের বক্তব্য হতে পারে। কিন্তু পরের লাইনগুলো তো পরিষ্কারভাবেই মানুষের বক্তব্য। কোন মানুষের প্রার্থণা, বা প্রত্যাশা। মানুষের কথাবার্তা কোরআনে আল্লাহর বানী হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে কীভাবে? তাছাড়া, আল্লাহ শুরুর লাইনে যেখানে বলেই দিচ্ছেন, আল্লাহ সাধ্যাতীত কাজের ভার কারো ওপর চাপান না, পরের লাইনে আবার বলা হচ্ছে, আমাদের ওপর এমন ভার চাপিও না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। পূর্ববর্তীদের ওপর যা চালিয়েছো! আয়াতটির মধ্যে প্রবল স্ববিরোধীতা লক্ষ্য করছেন?

এরকম ভাষাগত এবং ব্যাকরণগত আরো অসংখ্য সমস্যা পাওয়া যায়, যার তালিকা আমরা ভবিষ্যতে প্রস্তুত করবো বলে আশা রাখি। আপাতত অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করছি।

■ লাওহে মাহফুজ কী?

লাওহে মাহফুজ কাকে বলে, এই নিয়ে মুসলিমগণদের মধ্যেই নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। এই বিষয়ে জেনে নিই। [ তথ্যসূত্র ৪ ]

  • ইবনে মানযুর বলেন:
    লাওহেঃ “কাঠের প্রশস্ত যে কোন পৃষ্ঠকে লাওহ বলে।”
  • আযহারি বলেনঃ কাঠের পৃষ্ঠকে লাওহ বলা হয়। কাঁধের হাড়ের ওপর যদি কিছু লেখা হয় সেটাকেও লাওহ বলা হয়। যেটার উপর কিছু লেখা হয় সেটাই লাওহ।
    মানে সুরক্ষিত ফলক। আল্লাহ্‌ তাআলার ইচ্ছাসমূহের সংরক্ষণাগার।
  • ইবনে কাছির বলেন:
    লাওহে মাহফুযে তথা সুরক্ষিত ফলকে রয়েছেঃ অর্থাৎ এটি উচ্চ পরিষদ কর্তৃক সংযোজন, বিয়োজন, বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে সংরক্ষিত।[তাফসিরে ইবনে কাছির (৪/৪৯৭, ৪৯৮]
  • ইবনুল কাইয়্যেম বলেনঃ
    এর মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, শয়তানদের পক্ষে কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ কুরআন যে স্থানে রয়েছে সে স্থানটি শয়তান সেখানে পৌঁছা থেকে সংরক্ষিত। এবং কুরআন নিজেও সংরক্ষিত; কোন শয়তান এতে সংযোজন-বিয়োজন করার ক্ষমতা রাখে না।
    আল্লাহ্‌ তাআলা কুরআন যে আধারে রয়েছে সে আধার সংরক্ষণ করেছেন এবং কুরআনকেও যাবতীয় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিবর্তন থেকে হেফাযত করেছেন। কুরআনের শব্দাবলি যেভাবে হেফাযত করেছেন অনুরূপভাবে কুরআনের অর্থকেও বিকৃতি থেকে হেফাযত করেছেন। কুরআনের কল্যাণে এমন কিছু ব্যক্তিকে নিয়োজিত করেছেন যারা কোন প্রকার বাড়তি বা কমতি ছাড়া কুরআনের হরফগুলো মুখস্ত রাখে এবং এমন কিছু ব্যক্তি নিয়োজিত করেছেন যারা কুরআনের অর্থকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে হেফাযত করে।”[দেখুন: আত-তিবইয়ান ফি আকসামিল কুরআন, পৃষ্ঠা-৬২]
  • কিছু কিছু তাফসিরে এসেছে যে, ‘লাওহে মাহফুয’ হচ্ছে- ইস্রাফিলের কপালে; অথবা সবুজ রঙের মণি দিয়ে তৈরী এক প্রকার সৃষ্টি; কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য ব্যাখ্যা।

■ কোরআনের আদি ভাষা কী?

শুরুতেই যেই প্রশ্নটি আসে, তা হচ্ছে, লাওহে মাহফুজে আল্লাহ পাকের লিখিত কোরআনের ভাষা কী ছিল? সেটি অর্থাৎ আল্লাহ পাকের মাতৃভাষা কী আরবি? নাকি আল্লাহ পাক এবং ফেরেশতাদের অন্য কোন ভাষা ছিল? সেই ভাষাটি কী? এবং সেই ভাষা থেকে আরবি ভাষাতে অনুবাদ কে করলো? কোনকিছু অনুবাদ করা হলে ভাষাগত কারণে নানাবিধ গরমিল থাকে। তাই অনুবাদের আগে সেটি কোন ভাষাতে ছিল তা জানা জরুরি। আল্লাহ পাক যে শব্দ উচ্চারণ করেন, তা আমরা হাদিস থেকে জানি। তিনি শব্দ উচ্চারণ করে থাকলে সেই শব্দ এবং বাক্যগুলো কোন ভাষাতে ছিল, সেটি গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন।

প্রাচীনকালে আরব উপদ্বীপ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায়, প্রচলিত পুরাতন আরবি ভাষার দুটি শাখা ছিল। প্রথমটি ছিল সাফাইটিক (Safaitic), যা ১০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ৪০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। আরেকটি আরবি ভাষার প্রকরণ ছিল হিসমাইক (Hismaic) যা ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। এই পুরাতন আরবি উপভাষাসমূহ এরপরে একত্রিত হয়ে নানা সংযোজন বিয়োজনের পরে ক্লাসিক্যাল আরবি ভাষার উদ্ভব হয়। কোরআন এবং অন্যান্য সাহিত্য রচনা লেখার জন্য সেই ক্লাসিক্যাল আরবি ভাষাই ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত আরবি ভাষার মধ্যে উচ্চারণগত নানা বৈচিত্র্য ছিল। কোরআন কুরাইশদের উচ্চারণরীতি অনুসরণ করে রচিত হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে নানা গোত্রের ভিন্ন ভিন্ন ডায়লেক্ট একত্রিত করে কোরআন সংকলনের সময় কিছু সমস্যার উদ্রেক হয়েছিল। সবকিছু এই লেখাটিতে অন্তর্ভূক্ত করলে এই লেখাটি অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে বিধায় সে বিষয়ে আলাদা লেখা পড়তে পারেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত পড়ার জন্য এই লেখাটি পড়তে হবে। [ তথ্যসূত্র ৫ ]

■ কোরআন কখন প্রথম লিখিত?

ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন, মুসলমানরা বিশ্বাস করে এটি আল্লাহর দ্বারা প্রেরিত সর্বশেষ আসমানি কেতাব। প্রথম অবস্থায় সৃষ্টির শুরুতে আল্লাহ পাক লাওহে মাহফুজ নামক জায়গাতে কোরআন লেখেন, লিপিবদ্ধ করেন, এবং এরপরে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ, কোরআনে কোন কোন সূরা অন্তর্ভূক্ত থাকবে, সেগুলো কেমন হবে, সেগুলোর ভাষা এবং বাক্যের গঠন কেমন হবে, কোন কোন চরিত্র নিয়ে আলোচনা থাকবে, এই সবই আসলে মহাবিশ্ব সৃষ্টির একদম শুরুতে আল্লাহ পাক লিখে রাখেন। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে পৃথিবীতে নবী মুহাম্মদকে প্রেরণ এবং তার মাধ্যমে কোরআন নাজিলের বিষয়টি আল্লাহ সেই শুরুতেই নির্ধারণ করে ফেলেন। এরপরে কোরআন নাজিলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নবী মুহাম্মদকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। কোরআনের আয়াত সমূহ নাজিলের জন্য উপযুক্ত প্রেক্ষাপট এবং ঘটনাবলী আল্লাহ পাক নিজেই সৃষ্টি করেন, এবং সেই পরিকল্পনা অনুসারে কোরআন নাজিল করেন। কারণ উপযুক্ত প্রেক্ষাপট না ঘটলে আল্লাহ পাকের মহাপরিকল্পনা সম্পন্ন হতো না।

বরং এটা মহান কোরআন, লওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ।
কোরআন ৮৫ঃ২১-২২

নিচের হাদিসটি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিচের হাদিসটিতে পরিষ্কারভাবেই বলা হয়েছে যে,

গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৫/ তাকদীর
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই।
২১৫৮. ইয়াহইয়া ইবন মূসা (রহঃ) ….. আবদুল ওয়াহিদ ইবন সালিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার মক্কায় এলাম। সেখানে আতা ইবন আবু রাবাহ (রহঃ) এর সঙ্গে দেখা করলাম। তাঁকে বললামঃ হে আবূ মুহাম্মদ, বাসরাবাসরীরা তো তাকদীরের অস্বীকৃতিমূলক কথা বলে। তিনি বললেনঃ প্রিয় বৎস, তুমি কি কুরআন তিলাওয়াত কর? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ সূরা আয-যুখরুখ তিলাওয়াত কর তো। আমি তিলাওয়াত করলামঃ
হা-মীম, কসম সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি তা অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায় কুরআন রূপে, যাতে তোমরা বুঝতে পার। তা রয়েছে আমার কাছে উম্মূল কিতাবে, এ তো মহান, জ্ঞান গর্ভ (৪৩ঃ ১, ২, ৩, ৪)।
তিনি বললেনঃ উম্মূল কিতাব কি তা জান? আমি বললামঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এ হল একটি মহাগ্রন্থ, আকাশ সৃষ্টিরও পূর্বে এবং যমীন সৃষ্টিরও পূর্বে আল্লাহ তাআলা তা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। এতে আছে ফির‘আওন জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত, এতে আছে তাব্বাত ইয়াদা আবী লাহাবীও ওয়া তাব্বা ‏(‏تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ‏) আবূ লাহাবের দুটি হাত ধ্বংস হয়েছে আর ধ্বংস হয়েছে সে নিজেও
আতা (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যতম সাহাবী উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পুত্র ওয়ালীদ (রহঃ)-এর সঙ্গে আমি সাক্ষাত করেছিলাম। তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলামঃ মৃত্যুর সময় তোমার পিতা কি ওয়াসীয়ত করেছিলেন?
তিনি বললেনঃ তিনি আমাকে কাছে ডাকলেন। বললেনঃ হে প্রিয় বৎস, আল্লাহকে ভয় করবে। যেনে রাখবে যতক্ষণ না আল্লাহর উপর ঈমান আনবে এবং তাকদীরের সব কিছুর ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনবে ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি কখনো আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পারবে না। তা ছাড়া অন্য কোন অবস্থায় যদি তোমার মৃত্যু হয় তবে জাহান্নামে দাখেল হতে হবে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা সর্ব প্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন। এরপর একে নির্দেশ দিলেন, লিখ, সে বললঃ কি লিখব? তিনি বললেনঃ যা হয়েছে এবং অনন্ত কাল পর্যন্ত যা হবে সব তাকদীর লিখ। সহীহ, সহিহহ ১৩৩, তাখরিজুত তহাবিয়া ২৩২, মিশকাত ৯৪, আযযিলাল ১০২, ১০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি এ সূত্রে গারীব।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

তাকদীর বিষয়ক হাদিস তিরমীজী শরিফ
আবু লাহাবের তাকদীর পুর্ব নির্ধারিত
[ তথ্যসূত্র ৬৯ ]

ইসলামিক বিশ্বাস অনুসারে আল্লাহ ফেরেশতা জিব্রাইল এর মাধ্যমে ইসলামিক নবী মুহাম্মাদ এর কাছে মৌখিকভাবে কোরআনের আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন। তবে শুধুমাত্র যে জিব্রাইল মারফতই কোরআন নাজিল হয়েছে, সেটিও সত্য নয়। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারেই কোরআন নাজিল হয়েছে বেশ কয়েকটি উপায়ে।

■ আল্লাহ পাকের মহাপরিকল্পনা

অনেকেই বলে থাকেন, আদম নিজ ইচ্ছাতেই সজ্ঞানে নিজের ফ্রি উইল বা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ব্যবহার করে গন্দম খাওয়ার অপরাধ করেছিল। তাই এর সম্পূর্ণ দায় আদম এবং হাওয়ার। এখানে আল্লাহ পাকের কোন দায় ছিল না। আবার অনেকে বলেন, এটি ছিল আল্লাহ পাকের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। আল্লাহ পাকই ঠিক সেইরকম পরিস্থিতিই সৃষ্টি করেছিলেন, যেন আদম সেই ফল খায় এবং পৃথিবীতে নির্বাসিত হয়। কারণ পৃথিবীতে নির্বাসিত না হলে আল্লাহ পাকের মহাপরিকল্পনা সফল হতো না। যদি আল্লাহ পাকই সেরকম পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে আদমকে দিয়ে তিনি গন্দম খাইয়েছেন, এবং শয়তানকেও একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। সেই বিষয়টি আশাকরি এই রেফারেন্সগুলো যাচাই করবার পরে আপনাদের কাছে খোলাসা হয়ে যাবে।

শুরুতেই এই সম্পর্কিত সহিহ হাদিসগুলো পড়ে নিই। [ তথ্যসূত্র ৬ ]

সহিহ মুসলিম আদম ও মুসার বিতর্ক 
হাদিস নম্বর ৬৫০১
সহিহ মুসলিম আদম ও মুসার বিতর্ক 
হাদিস নম্বর ৬৫০১

অর্থাৎ, আদমকে সৃষ্টির বহু পূর্বেই আল্লাহ পাক সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনা করে রাখেন যে, তিনি পৃথিবীতে মানুষ পাঠাবেন, এবং মানুষের কাছে ওহী পাঠাবেন। তিনি যেহেতু সূরা লাহাবের মত নির্দিষ্ট মানুষকে উদ্দেশ্য করে কী সূরা নাজিল হবে, সেটিও সৃষ্টির শুরুতে সেই লাওহে মাহফুজে লিখে রাখেন, সেহেতু আবু লাহাবের জন্ম হবে, সে কাফের হবে, নবী মুহাম্মদের বিরোধীতা করবে, এই সবই আগে থেকে নির্দিষ্ট করা ছিল। আবু লাহাব যদি সেইদিনই ইসলাম গ্রহণ করে ফেলতো, তাহলে আল্লাহ পাকের আগে থেকে লিখে রাখা সূরা লাহাব পরিবর্তন করতে হতো। অর্থাৎ এখানে আবু লাহাবের স্বাধীন কোন ইচ্ছাশক্তি ছিল না। তার কাফের হওয়াটাই অবশ্যম্ভাবী ছিল।

আলোচনার খাতিরে, আবু বকর এবং আবু লাহাব এই দুইজনকে উদাহরণ হিসেবে ধরে নিই। আল্লাহ আবু লাহাবের বিরুদ্ধে সূরা লিখে বসে আছে সেই সৃষ্টির শুরুতে। এবং আবু বকর যে নবীর বন্ধু হবে, সেটাও পূর্ব নির্দিষ্ট। এখন, এমন হওয়া কী সম্ভব ছিল যে, আবু বকর স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি কাজে লাগিয়ে কাফের হলেন, আর আবু লাহাবা হয়ে গেলেন মুসলিম? না, এমনটি সম্ভব ছিল না। কারণ তাহলে আল্লাহ পাকের মহাপরিকল্পনা পুরোটাই নষ্ট হতো। তখন হয়তো ধ্বংস হোক আবু বকরের হস্তদ্বয় বলে আল্লাহ পাকের ঘৃণাত্মক সূরা নাজিল করতে হতো। কিন্তু এমনটি আদৌ সম্ভব ছিল না। কারণ আল্লাহ পাক আবু লাহাবের বিরুদ্ধে সূরা আগে থেকেই লিখে রেখেছেন।

এই বিষয়ে আরো কিছু সহিহ হাদিস দেখে নেয়া যাকঃ [ তথ্যসূত্র ৭ ]

তাকদীর আসমান ও যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে লিখিত

সূরা লাহাবটি আল্লাহ পাক সেই মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরুতে লিখিতভাবে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ করেন। এরপরে আবু লাহাবের সাথে ইসলামের নবি হযরত মুহাম্মদের দীর্ঘমেয়াদি শত্রুতা সৃষ্টি করেন, যেন এই সূরাটি প্রেরণ করার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এবং আবু লাহাবের অন্তরে মোহর মেরে দেন, যেন আবু লাহাব কোন অবস্থাতেই ইসলাম গ্রহণ না করে। কারণ আবু লাহাব ইসলাম গ্রহণ করে ফেললে আল্লাহ পাকের মহাপরিকল্পনা ধ্বংস হয়ে যেতো। আল্লাহ পাক যেই আবু লাহাব সূরাটি সৃষ্টির আদিতে লিখে রেখেছিলেন, তা আর নাজিলের প্রয়োজন হতো না। তখন আবু লাহাবের সূরাটিকে আবার আল্লাহ পাকের পালটে ফেলতে হতো। তাই আবু লাহাবের সাথে মুহাম্মদের শত্রুতা আল্লাহ পাক নিশ্চিতভাবেই সচেতনভাবে তৈরি করেছিলেন, সূরাটি নাজিলের পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। আল্লাহ পাক কোরআনে নিজেই বলেছেন,

আল্লাহ যাকে সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী পাবেন না।
কোরআন ১৮:১৭

যাকে আল্লাহ পথ দেখাবেন, সেই পথপ্রাপ্ত হবে। আর যাকে তিনি পথ ভ্রষ্ট করবেন, সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
কোরআন ৭:১৭৮

উপরের আয়াত দু’টো থেকে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, আবু লাহাবের মত কয়েকজনকে বা বহু সংখ্যক মানূষকে আল্লাহ পাক নিজেই পথভ্রষ্ট করেছিলেন, সূরা আবু লাহাব নাজিলের পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য। আবু লাহাবের মত মানুষগণ যদি সেই সময় ইসলাম কবুল করে নিতো, আল্লাহ যদি আবু লাহাবকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বা অন্য কোন উপায়ে তার মন নরম করে দিতেন, তাহলে আল্লাহ পাকের আগে থেকে লিখে রাখা ঐ সূরাটি অর্থহীন হয়ে যেতো। সেটা আর নাজিলের দরকার হতো না। তাই বোঝা যাচ্ছে, ইসলামী বিশ্বাস অনুসারেই, সকল কিছুই পরিকল্পিত এবং পূর্ব নির্ধারিত। এখানে আবু লাহাবের মত সামান্য মানুষের চাইতে জরুরি হচ্ছে, আল্লাহ পাকের মহাপরিকল্পনা।

তাই বুঝতে অসুবিধা হয় না, গন্দম ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে আদমের তেমন কোন অপরাধ ছিল না, যেহেতু সেটি আল্লাহর পরিকল্পনারই অংশ। শয়তান এবং আদম তার পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করেছে মাত্র। এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ইবলিশ বা শয়তান যে আল্লাহ পাকের নির্দেশ অমান্য করবেন, হযরত আদমকে সিজদা করতে রাজি হবেন না, এটি ছিল আল্লাহ পাকের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। কারণ সেদিন যদি ইবলিশ আদমকে সিজদা করতো, তাহলে আদমকে পৃথিবীতে পাঠাবার প্রয়োজনও হতো না, পৃথিবীতে মানুষ জাতি এবং মানব সভ্যতার বিকাশ হতো না, এবং নবী মুহাম্মদকে পাঠিয়ে মানুষকে হেদায়াতেরও দরকার হতো না। নবী মুহাম্মদকে পাঠিয়ে মানুষকে যেহেতু হেদায়াত করতেই হবে, কোরআন নাজিল করতেই হবে, সেহেতু ইবলিশকে সেই সময়ে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতেই হতো। নইলে আল্লাহ পাকের এক বিশাল পরিকল্পনা মাঠে মারা যেতো।

এতো গেল ইসলামী বিশ্বাসের আলোচনা। কিন্তু সত্যিকার ভাবে কোরআন কবে প্রথমবার লিখিত হয়েছিল?

■ শবে কদরের রাত

কোরআন থেকে আমরা জানতে পারি, আল্লাহ পাক লাওহে মাহফুজে প্রথম কোরআন লিপিবদ্ধ করেন, এবং শবে কদরের রাতে তিনি একসাথে পুরো কোরআন প্রথম আসমানে নাজিল করেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে মুহাম্মদের কাছে জিব্রাইল ওহী নিয়ে আসতো। কিন্তু সেটি সত্য হলে, লাওহে মাহফুজ থেকে একবার কোরআনের আয়াত চলে আসার পরে সেটি আবারো সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন সম্ভব নয়। আল্লাহর পাঠানো আয়াত যে সংশোধিত, পরিমার্জিত, পরিশোধিত হয়েছে, নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলো সংস্কার করতে হয়েছে, এই লেখার পরবর্তী অংশে সেগুলোর অসংখ্য প্রমাণ পাবেন। অথচ কোরআনেই বলা আছে,

নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কি জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে উষার আবির্ভাব পর্যন্ত।
(সূরা আল-কদর, আয়াত ১-৫)

আল্লাহ কোরআনের অন্যত্র ঘোষণা বলেন,

হা-মীম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) এক মুবারকময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।
(সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ১-৪)

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ কোরআন হুবুহু যেমন আছে তেমন একই রাত্রিতে নিকটবর্তী আসমানে নাজিল হয়ে থাকলে, আল্লাহর হুকুমে কোন আয়াতের সংশোধন করতে হলে, সেই সংশোধিত আয়াতগুলো কোথা থেকে আসতো? পরিবর্তনগুলো কী লাওহে মাহফুজে লিখিত কোরআনে সংশোধন করা হয়েছে? নাকি লাওহে মাহফুজে যা লেখা, আমাদের আজকের কোরআন ভিন্ন রকম?

আরো ভালভাবে বুঝি। প্রথমে লাওহে মাহফুজে লিখিত হলো। সেটি হুবুহু প্রথম আসমানে আসলো। এরপরে জিব্রাইল ওহী নিয়ে আসলো। মুহাম্মদ তা সবাইকে শোনালেন। এরপরে আরশে বসা আল্লাহ আবার তার পাঠানো আয়াতের সংশোধনী পাঠালেন। জিব্রাইল আবার আরশে গিয়ে লাওহে মাহফুজ থেকে সংশোধনী নিয়ে প্রথম আসমানে আসলেন। সেইখান থেকে আবার মুহাম্মদের কাছে সংশোধত ওহী আসলো। মুহাম্মদ আবারো তার অনুসারীদের নতুন এবং সংশোধিত আয়াত পড়ে শোনালেন। খুবই ভয়াবহ কাণ্ডকারখানা!

ওহী নাজিলের পদ্ধতি

ওহী হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক রাসূলদের প্রতি প্রেরিত বার্তা বা নির্দেশনা। ইসলামী বিশ্বাস মতে কোরআন নাজিল হয়েছিল বেশ কয়েকটি পদ্ধতিতে।

■ ঘণ্টা ধ্বনির পদ্ধতি

হারেস ইবনে হিশাম (রা.) রাসুল (সা.) কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে ওহি আসে ঘণ্টার আওয়াজের মতো। এটা আামার জন্য সবচেয়ে কষ্টকর।’ [ তথ্যসূত্র ৩৯ ] ।

ফেরেশতা মানুষের আকৃতিতে আসতো

ঠিক একইসাথে, মুহাম্মদ এটিও বলেছেন যে, ঘণ্টা হচ্ছে শয়তানের বাঁশি। [ তথ্যসূত্র ৪০ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [5366]
অধ্যায়ঃ ৩৮/ পোশাক ও সাজসজ্জা
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২২. সফরে কুকুর ও ঘণ্টা রাখা মাকরূহ
৫৩৬৬। ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনু হুজর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘন্টা শয়তানের বাঁশি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ঘণ্টা শয়তানের বাঁশি

তারমানে দেখা যাচ্ছে, নবীর কাছে যখন ওহী আসতো, তখন ঘণ্টাধ্বনির শব্দ হতো। আবার ঘণ্টা হচ্ছে শয়তানের বাঁশি, এটিও নবীরই বক্তব্য।

■ মানবাকৃতিতে ফেরেশতার আগমন

মুহাম্মদের কাছে হজরত জিবরাঈল মানবাকৃতিতে আসতেন। এ সম্পর্কে মুহাম্মদ বলেছেন, ‘কখনও কখনও ফেরেশতা মানবাকৃতি ধারণ করে আমার কাছে আসত। এ পদ্ধতিটি আমার জন্য সহজ ছিল।’ সাহাবিদের মধ্যে দাহয়িয়াতুল কালবি এর চেহারা নিয়ে জিবরাঈল আসতেন। এর কারণ হিসেবে মুহাদ্দিসরা বলেন, ‘এ সাহাবি অত্যধিক সুদর্শন ছিলেন। এতই সুন্দর ছিলেন যে, কখনও কখনও মুখ রুমাল দিয়ে ঢেকে চলতেন।’ (উমদাতুল কারি : ১/৪৭)। তাছাড়া একবার অপরিচিত লোকের বেশে জিবরাঈল নবীর কাছে এসেছিলেন বলে হজরত ওমর থেকে বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে।

■ অন্তরে ঢেলে দেয়া

মুহাম্মদের অন্তরে কিছু কথা আল্লাহপাক সরাসরি ঢেলে দিতেন। আবার জিবরাঈলের মাধ্যমেও ঢেলে দিতেন। এ ক্ষেত্রে জিবরাঈল এর সামনে আসার দরকার হতো না। আবার কোনো কথা বলারও প্রয়োজন হতো না।

■ সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা

আল্লাহ সরাসরি নবীর সঙ্গে কথা বলতেন এ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে হজরত মুসার ওপরও ওহি আসত।

■ ফেরেশতার মাধ্যমে প্রেরিত

ফেরেশতা জিবরাঈল এর মাধ্যমে প্রেরিত ওহিকে ওহিয়ে মালাকি বলে। কখনও ফেরেশতা পর্দার আড়ালে থেকে ওহি বলে চলে যান। আবার কখনও সামনে থেকে ওহি শুনিয়ে দেন। ফেরেশতা কখনও মানবাকৃতিতে আসেন। আবার কখনও নিজ সুরতে আসেন। মুহাম্মদ জিবরাঈলকে মোট তিনবার নিজ আকৃতিতে দেখেছিলেনঃ নবুয়তের প্রথম দিকে একবার, মিরাজের রাতে একবার, আরেকবার নবী নিজেই জিবরাঈল এর আকৃতি দেখতে চেয়েছিলেন।

■ স্বপ্ন দেখা

স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা নবীদের তার নির্দেশ জানিয়ে দিতেন। যেমন ইবরাহিম কে স্বপ্নে বলে দিয়েছেন ছেলে ইসমাঈলকে কোরবানি করতে হবে। আবার নবী মুহাম্মদ স্বপ্নের মাধ্যমে ওমরা করার নির্দেশ পেয়েছিলেন। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে হুদায়বিয়ার সন্ধির ঘটনা ঘটে। (শরহে ফায়জুল কাবির : ২৪)। আয়েশা বলেন, ‘ঘমুন্ত অবস্থায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে রাসুল (সা.) এর ওপর ওহির সূচনা হয়। ওই সময় স্বপ্নযোগে তিনি যা প্রত্যক্ষ করতেন, সকালে তা সত্য হয়ে ধরা দিত।’ [ তথ্যসূত্র ৪১ ]

স্বপ্নরূপে ওহী আসতো

■ অন্য ফেরেশতা দ্বারা

নবুয়তের শুরুর দিকে কয়েক বছর, বিভিন্ন বর্ণনা মতে তিন বছর জিবরাঈল ওহি নিয়ে আসেননি। তখন আরেক ফেরেশতা ইসরাফিল ওহি নিয়ে আসতেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু ঐসময়ে জিব্রাইল কেন আসতেন না, তা জানা যায় না। ফেরেশতা জিব্রাইল কী সেই সময়ে অসুস্থ ছিলেন, যে তার কাজ অন্য ফেরেশতার করতে হতো?

কোরআন সংরক্ষণ

■ মুহাম্মদের আমলে কোরআন সংরক্ষণ

হযরত মুহাম্মদের জীবিত অবস্থায় কোরআন একত্র অবস্থায় ছিল না বলেই প্রখ্যাত সাহাবী যায়েদ ইবনে সাবেত বর্ণনা করেছেন।

যায়েদ ইবনে সাবেত (রা) বর্ণনা করেছেনঃ “নবীজী (সা) ইন্তেকাল করলেন এবং তখনও কোরআন শরীফ এক জায়গায় একত্র করা হয় নি।”
(আহ্‌মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ ‘আস্কালানী, ইবনে হাজর, ফাত-আল-বারি (কাইরো (১৯৩৯), ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯ )

হযরত মুহাম্মদের আমলে কোরআন সংরক্ষণের জন্য মুহাম্মদ যেই পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন, তা হচ্ছে পুরো কোরআন মুখস্থ করা। কোরআনে হাফেজদের মধ্যে প্রধান ছিলেনঃ
হজরত আবু বকর, ওমর, ওসমান, আলী, তালহা, সাআদ, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, হুজায়ফা বিন ইয়ামান, হজরত সালেম, আবু হুরায়রা, ইবনে ওমর, ইবনে আব্বাস, আমর ইবনুল আস, আবদুল্লাহ বিন আমর, মুয়াবিয়া, ইবনে জুবাইর, আবদুল্লাহ বিন আস্ সায়েব, আয়েশা, হাফসা, উম্মে সালমা, উম্মে ওয়ারাকা, উবাই ইবনে কাআব, মাআজ ইবনে জাবাল, আবু হুলাইমা মাআজ, জায়েদ ইবনে সাবেত, আবুদ্ দারদা, মুজাম্মা বিন জারিয়া, মাসলামা বিন মুখাল্লিদ, আনাস ইবনে মালেক, উকবা বিন আমের, তামিম দারেমি, আবু মুসা আশআরি এবং হজরত আবু জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখ। [ তথ্যসূত্র ৮ ]

সেই সাথে, কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করার জন্য তিনি চল্লিশজন ওহি লেখক নিযুক্ত করেছেন। সে সময় কাগজ ছাড়াও পাথর, চামড়া, খেজুরের ডাল, বাঁশের টুকরা, গাছের পাতা এবং চতুষ্পদ জন্তুর হাড্ডির ওপর কোরআন লিখে রাখা হতো। এভাবেই রাসুল (সা.)-এর তত্ত্বাবধানে কোরআনের একটি কপি প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল, যদিও তা পুস্তিকারূপে ও গ্রন্থিত আকারে ছিল না। এ ছাড়া সাহাবায়ে কেরামের কারো কারো কাছে ব্যক্তিগতভাবে কোরআনের সম্পূর্ণ অথবা অসম্পূর্ণ কপি বিদ্যমান ছিল। যেমনটা বুখারি শরিফের এক বর্ণনায় এসেছে, কোরআন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে হজরত ইবনে উমর বলেন, ‘রাসুল (সা.) কোরআন নিয়ে (অর্থাৎ কোরআনের কপি নিয়ে) শত্রুদের ভূখণ্ডে সফর করতে নিষেধ করেছেন।’ [ তথ্যসূত্র ৯ ]

■ কোরআন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

কোরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন,

আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।
কোরআন হিজরঃ৯

আল্লাহ পাকের এই সরাসরি কোরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয়ার পরেও, কোরআন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল। হযরত মুহাম্মদের যুগে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন বস্তুর ওপর কোরআন সংরক্ষিত ছিল, তাই হজরত আবু বকরের খেলাফতের সময় বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্র করে সংরক্ষণের প্রতি মনোযোগী হয়েছেন। হযরত উমরের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধে বহুসংখ্যক কোরআনে হাফেজের মৃত্যু হওয়ায় কোরআনের বড় অংশই হারিয়ে যাবে। সেই আশঙ্কা থেকেই তিনি কোরআনের আয়াতগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে বারবার তাগাদা দিতে থাকেন। অর্থাৎ আল্লাহ পাক নিজেই যা সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন, তা আসলে সংরক্ষণের মূল ভূমিকা পালন করেছিল হযরত উমর। [ তথ্যসূত্র ১০ ]

গ্রন্থের নামঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
হাদিস নম্বরঃ [2220]
অধ্যায়ঃ পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ – কিরাআতের ভিন্নতা ও কুরআন সংকলন প্রসঙ্গে
২২২০-[১০] যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামামার যুদ্ধের পর পর খলীফাতুর রসূল আবূ বাকর (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি গেলাম। দেখলাম ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) তাঁর কাছে উপবিষ্ট। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, ‘উমার আমার কাছে এসে খবর দিলেন, ইয়ামামার যুদ্ধে অনেক কুরআনের হাফেয শহীদ হয়ে গেছেন। আমার আশংকা হয়, বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে এভাবে হাফেয শহীদ হতে থাকলে কুরআনের অনেক অংশ লোপ পেয়ে যাবে। তাই আমি সঙ্গত মনে করি যে, আপনি কুরআনকে মাসহাফ বা কিতাব আকারে একত্রিত করতে হুকুম দেবেন। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন, আমি ‘উমারকে বললাম, এমন কাজ কিভাবে আপনি করবেন, যে কাজ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি? ‘উমার (রাঃ) উত্তরে বললেন, আল্লাহর শপথ। এটা হবে একটা উত্তম কাজ। ‘উমার (রাঃ) এভাবে আমাকে বার বার বলতে লাগলেন। অতঃপর আল্লাহ এ কাজের গুরুত্ব বুঝার জন্য আমার হৃদয় খুলে দিলেন এবং আমিও এ কাজ করা সঙ্গত মনে করলাম।

(বুখারী)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৪৯৮৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২৩৭২, সহীহ ইবনু হিববান ৪৫০৬।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন বিলুপ্তির আশঙ্কা

■ আবু বকরের আমলে কোরআন

আবু বকর যেই কোরআন সংকলন করেন তাকে আদি কোরআন বলা হয়। এই কোরআন মুহাম্মদের বর্ণিত ধারাক্রম অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে। সূরাগুলো আলাদা রেখে দেওয়া হয়েছে; সূরার ক্রমধারা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এটি সাত হরফ বা সাত কেরাতে লেখা হয়েছে। এ কপিটি হীরার হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছে। এই কোরআনে শুধুমাত্র সেই সব আয়াত যুক্ত হয়েছিল, যেগুলো রহিত হয়নি। [ তথ্যসূত্র ১১ ]

এই আদি কোরআনটি আবু বকরের পরে হযরত ওমর এর কাছে সংরক্ষিত থাকে। এরপরে সেটি আসে হযরত হাফসা এর কাছে, যিনি হযরত মুহাম্মদের স্ত্রী এবং ওমরের কন্যা ছিলেন। এরপরে হযরত উসমান কোরআন সংকলনের কাজে হাত দেন, এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্রমধারা অনুসারে কোরআন সংকলন করেন। যা ছিল আবু বকরের কোরআন থেকে অনেকটাই ভিন্ন। উসমানের কোরআনের সাথে আবু বকরের আদি কোরআনের পার্থক্য লক্ষ্য করে সেই সময়ে সেই আদি কোরআনটি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। [ তথ্যসূত্র ১২ ]

■ উসমানের কোরআন এবং হত্যাকাণ্ড

বর্তমান সময়ে আমরা যেই কোরআন দেখি, সেটি সংকলন করেছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান। সংকলনের পরে হযরত উসমান ঘোষণা দিলেন যে, যার কাছে যত কোরআন আছে সেগুলো সব পুড়িয়ে ফেলতে হবে। যখন কুফাতে শোনা গেল যে, তাদের কাছে সংরক্ষিত সব কোরআনের আয়াত পুড়িয়ে দিয়ে শুধুমাত্র যায়েদ ইবন সাবেতের মুসহাফ এখন থেকে ব্যবহার করতে হবে, আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মাসউদ এর বিরোধিতা করলেন। এই হুকুম শুনে তিনি কুফা শহরে এইভাবে খুৎবা দিলেন—

কোরআনের পাঠে লোকেরা ছলনার দোষে পরেছে। আমি এর পাঠ বেশি পছন্দ করি [মুহাম্মদের], যার পাঠ আমি যায়েদ বিন সাবেতের পাঠ থেকে বেশি ভালবাসি। আল্লাহ্‌র কসম! যিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ)-এর মুখ থেকে সত্তরেরও বেশী সূরা শিখেছি যখন যায়েদ ইবন সাবেত যুবক ছিলেন, এর মাত্র দুইটি কেশপাশ চুল ছিল এবং যুবকদের সাথে তখন খেলা করতেন।”
[ ইবন সা’দ, কিতাবুল তাবাকাত আল-কবির, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪৪ ]

মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি লিখেছেন,

যুহরী (র) বলেনঃ ইবায়দুল্লাহ্‌ ইবনে আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে উতবা বলেছেন যে, হযরত আবদুল্লাহ্‌ ইবনে মাসঊদ (রা) যায়েদ ইবনে ছাবিতের এ তৈরী কপি পছন্দ করেন নি। তিনি বলেছেনঃ “হে মুসলিম সম্প্রদায়!” কুরআনের মুসহাফ লিপিবদ্ধ করার কাজে আমাকে দূরে রাখা হয়েছে আর এর দায়িত্ব বহন করেছে এমন এক ব্যক্তি যে আল্লাহ্‌র শপথ আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন সে ছিল এক কাফিরের ঔরসে। (এই কথা বলে তিনি যায়েদ ইবনে ছাবিতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন)। আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মাসঊদ (রা) বলেছেনঃ হে ইরাকবাসী! তোমাদের কাছে যে মুসহাফগুলো রয়েছে সেগুলো লুকিয়ে রাখ।
[ জামিউত তিরমিযী, সোলেমানিয়া বুক হাউস, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৮৫১ ]
[ Jami’ at-Tirmidhi Vol. 5, Book 44, Hadith 3104 ]

ইবনে আবু দাউদের কিতাবুল মাসাহিফ গ্রন্থে আছে যে ইবনে মাসউদ বলতেন,

আমি সরাসরি আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) থেকে সত্তর সূরা পেয়েছি যখন যায়েদ বিন সাবেত তখনও একজন বাচ্চা মানুষ ছিল—এখন আমি কি ত্যাগ করব যেটা আমি আল্লাহ্‌র রাসূল থেকে সরাসরি পেয়েছি?”
[ ইবন আবি দাউদ, কিতাবুল মাসাহিফ, পৃষ্ঠা ১৫ ]

উসমানের এই সংকলন কী অন্যদের কাছে বিতর্কের উর্ধ্বে ছিল? ইসলামের অনুসারী অন্যান্য সাহাবীগণ কী উনার এই সংকলনের পদ্ধতি সম্পর্কে একমত ছিলেন? সেটি ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে, আমাদের জানা দরকার, হযরত উসমানের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল। [ তথ্যসূত্র ১৩ ]

প্রশ্ন হচ্ছে, খলিফা উসমানকে কিতাবুল্লাহ বা কোরআনে পরিবর্তনের অভিযোগে অভিযুক্ত কারী এই মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর কে ছিলেন? হ্যাঁ, তিনি ছিলেন খোদ প্রথম খলিফা হযরত আবু বকরের সন্তান এবং অত্যান্ত ধার্মিক একজন মুসলিম হিসেবে যিনি ছিলেন বিখ্যাত।

উসমান হত্যাকাণ্ড
উসমান হত্যা

> নোকতা সংযোজন

প্রাচীন আরবী ভাষাতে নোকতা সংযোজন করার রীতি প্রচলিত ছিল না। মুহাম্মদ যখন তাঁর সাহাবীদেরকে দিয়ে কোরআন লিখিয়েছিলেন, তখন কোরআনের অক্ষরগুলোর মধ্যেও কোনো নোকতা বা হরকত ছিলো না।হযরত উসমানের আমলে সংকলিত কোরআনের কপি বিভিন্ন এলাকায় প্রেরণ করার সাথে সাথে তাই তেলাওয়াতকারীও পাঠিয়েছিলেন। সেই আমলে হরফে নোকতা সংযোজন করাকে দোষণীয় এবং হারাম কাজ মনে করা হত। কিন্তু ইসলামি সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করায় অনারব লোকদের উচ্চারণ জনিত সমস্যা লক্ষ্য করে নোকতা সংযোজিত করা হয়।

বিখ্যাত ব্যাকরণবিদ তাবে’ঈ হযরত আবুল আসাওয়াদ দোয়ালী (র) আনজাম অথবা হযরত আলী সর্বপ্রথম নোকতা প্রচলন করেন বলে জানা যায়। তবে সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় না, কে নোকতার প্রচলন করেছিলেন।

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, খোদ নবী মুহাম্মদ যেই কাজটি করেন নি, তা অন্যরা করে কোরআন দূষিত করতে পারে কিনা!

> হরকত সংযোজন

প্রাথমিক কোরআনে হরকত বা যবর-যের-পেশ ইত্যাদিও ছিল না। এই বিষয়ে নানা মতামত পাওয়া যায়। কেউ মনে করেন আবুল আসওয়াদ দোয়ালী হরকত প্রবর্তন করেন। অনেকের মত হচ্ছে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার ও নসর ইবন আসেম লাইসীর দ্বারা এ কাজ করিয়েছিলেন। মজার বিষয় হচ্ছে, আবুল আসওয়াদ দোয়ালীর প্রবর্তিত হরকতগুলো আবার আজকের সময়ে প্রচলিত হরকতের মত ছিল না। সেই হরকতগুলো আবারো পরিবর্তিত হয়।

■ আলীর কোরআন এবং শিয়া মুসলিমগণ

ইসলামের প্রধান দুইটি ধারা হচ্ছে সুন্নী ইসলাম এবং শিয়া ইসলাম। ইতিহাসে সুন্নীগণ শিয়াদের নানাভাবে কাফের ঘোষণা করেছে, আবার শিয়ারাও সুন্নীদের কাফের ঘোষণা করেন। দুই পক্ষই নিজেদের ইমান আকিদাকেই সহিহ ইসলাম বলে গণ্য করেন। কারা আসলেই সহিহ সেই বিতর্কে যাচ্ছি না, তবে শিয়াদের ইমান আকিদা অনুসারে কোরআন বিকৃত হয়েছে। শিয়া অনুসারিগণ মনে করে আলী ব্যক্তিগত ভাবে কোরআনের একটি অনুলিপি তৈরী করেছিলেন। যেটি সংকলিত হয়েছিল নবী মুহাম্মদের ইন্তেকালের ছয় মাসের মধ্যে। আর তাদের মতে এটিই পবিত্র আল কোরআনের প্রথম ও পরিপূর্ণ সংকলন।

শিয়া মুসলিমদের একটি দল দাবী করেন, আলী পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ অংশ লিপিবদ্ধ করেছেন। যেখানে আয়াত, সূরা, পারা ইত্যাদির নির্ভুল বর্ণনা ছিল। যার মধ্যে কোন কিছুই বাদ পড়ে নি। এমনকি একটি একক অক্ষর আলিফ বা লাম পর্যন্তও না। তবে কোরআনের সংকলকগন এটাকে গ্রহণ করে নাই।

তারা বিশ্বাস করেন আলী কর্তৃক লিপিবদ্ধ কোরআন ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত, তবে খলিফা উসমান সেটি গ্রহণ করেন নি। তারা এটাও বিশ্বাস করেন, কোরআনের সূরা পরিবর্তন করা হয়েছে, পাঠ পদ্ধতির কিছু অংশ পরিবর্তন এনেছে, তাবদিল, করে উম্মা থেকে ইমমা করা হয়েছে।

শিয়াদের মতে, হযরত আলী যেই কোরআন সংকলন করেছিলেন, সেটিই বিশুদ্ধ এবং দূষণমুক্ত। শিয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য “হাদিস” গ্রন্থ হচ্ছে, মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আল-কুলাইনীর ‘আল কাফী’ (الكافي)। এই গ্রন্থে “ইমামগণই আল-কোরআনকে পরিপূর্ণ সংকলন করেন এবং তারাই তার পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখে” শিরোনামের অধীনে বলা হয়েছেঃ

জাবের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবূ জাফর(আ) -কে বলতে শুনেছি, মানুষের মধ্যে মিথ্যাবাদী ছাড়া কেউ দাবি করতে পারে না যে, আল্লাহ যেভাবে কোরআন নাযিল করেছেন, সে তা পরিপূর্ণভাবে সেভাবে সংকলন করেছে; বরং আলী ইবন আবি তালিব ও তার পরবর্তী ইমামগণই আল্লাহ যেভাবে তা নাযিল করেছেন, ঠিক সেভাবে সংকলন ও সংরক্ষণ করেছেন।

তিনি আরো বলেন,

আবূ আবদিল্লাহ (জাফর সাদিক) বললেন: “… যতক্ষণ না কায়েম বা মাহদীর উত্থান ঘটবে, যখন সে কায়েম বা মাহদীর উত্থান হবে, তখন আল্লাহর কিতাবকে তার সীমারেখায় রেখে পাঠ করা হবে; আর তিনি কোরআনের ঐ কপিটি বের করবেন, যা আলী(আ) লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
[ উসুলুল কাফী (ভারতীয় সংস্করণ), মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আল-কুলাইনী, পৃষ্ঠা ৬৭ ]

তিনি আরো বর্ণনা করেন,

আবূ আবদিল্লাহ(আ) (জাফর সাদিক) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয় জিবরাঈল আ. যে কুরআন মুহাম্মাদ(ﷺ) এর নিকট নিয়ে এসেছে, তাতে আয়াত সংখ্যা সতের হাজার
[ উসুলুল কাফী(ভারতীয় সংস্করণ), মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আল-কুলাইনী, পৃষ্ঠা ৬৭১]

প্রখ্যাত শিয়া আলেম নুরী আত-তাবারসী ‘ফসলুল খিতাব’ গ্রন্থে বলেন,

আমীরুল মুমিনীনের হযরত আলী(রা) এর কাছে একটি বিশেষ কুরআন ছিল, যা তিনি রাসূলুল্লাহ(ﷺ) ইন্তিকালের পর নিজেই সংকলন করেন এবং তা জনসমক্ষে পেশ করেন; কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে। অতঃপর তিনি তা তাদের দৃষ্টি থেকে গোপন করে রাখেন; আর তা ছিল তার সন্তান তথা বংশধরের নিকট সংরক্ষিত, ইমামত তথা নেতৃত্বের সকল বৈশিষ্ট্য ও নবুয়তের ভাণ্ডারের মত যার উত্তরাধিকারী হয় এক ইমাম থেকে অপর ইমাম। আর তা প্রমাণ (মাহদী) এর নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। “আল্লাহ আল্লাহ দ্রুত তাকে মুক্ত করে দিন”- তিনি তখন তা জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন এবং তাদেরকে তা পাঠ করার নির্দেশ দিবেন; আর তা সংকলন, সূরা ও আয়াতসমূহের ধারাবাহিকতার দিক থেকে বিদ্যমান এই কুরআনের বিপরীত; এমনকি শব্দসমূহও কম-বেশি করার দৃষ্টিকোণ থেকে তার বিপরীত। আর যেখানে সত্য আলী’র সাথে; আর আলী সত্যের সাথে, সেখানে বিদ্যমান কুরআনের মধ্যে উভয়দিক থেকেই পরিবর্তন রয়েছে; আর এটাই উদ্দেশ্য।
[ফসলুল খিতাব, পৃষ্ঠা ৯৭]

আরেকজন প্রখ্যাত শিয়া মোল্লা হাসান বলেনঃ

আহলে বাইত তথা নবী পরিবারের সুত্রে বর্ণিত এসব কাহিনী ও অন্যান্য বর্ণনাসমূহ থেকে বুঝা যায় যে, আমাদের মধ্যে প্রচলিত কুরআন মুহাম্মাদ(ﷺ) এর উপর অবতীর্ণ কুরআনের মত পরিপূর্ণ নয়; বরং তার মাঝে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তার পরিপন্থী আয়াত যেমন রয়েছে; আবার তেমনি পরিবর্তিত ও বিকৃত আয়াতও রয়েছে। আর তার থেকে অনেক কিছু বিলুপ্ত করা হয়েছে; তন্মধ্যে অনেক জায়গায় আলী’র নাম বিলুপ্ত করা হয়েছে; আবার একাধিক বার “آل محمد” (মুহাম্মদের বংশধর) শব্দটি বিলুপ্ত করা হয়েছে; আরও বিলুপ্ত করা হয়েছে মুনাফিকদের নামসমূহ এবং ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এটা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পছন্দসই ক্রমধারা অনুযায়ী সাজানোও নয়।
[ তাফসীরুস সাফী, মোল্লা হাসান, পৃষ্ঠা ১৩ ]

উল্লেখ্য, শিয়াদের ইমান আকিদা সম্পর্কে বাঙলায় প্রকাশিত বইগুলো খুবই অল্প এবং সেগুলো মৌলবাদী ধর্মান্ধ সুন্নী মুসলিমদের কারণে পাওয়া মুশকিলের ব্যাপার। তবে বাঙলাদেশের সুন্নী মুসলিমদের লিখিত কয়েকটি গ্রন্থে শিয়াদের সমালোচনা থেকে শিয়াদের বিশ্বাস সম্পর্কে ভালভাবে জানা যায়। বইগুলো নিচে ডাউনলোড লিঙ্ক সহ দেয়া হচ্ছে। [ গ্রন্থ সহায়ক ১২, ১৩ ]

কোরআন নিয়ে বিতর্কিত বিষয়াদি

■ কোরআনের আয়াত অক্ষয়

আল্লাহ কোরআনে অসংখ্যবার ঘোষণা করেছেন, কোরআনের প্রতিটি অক্ষর, বাক্য, এমনকি যতিচিহ্ন পর্যন্ত শাশ্বত এবং অক্ষয়। কোরআনে বলা রয়েছে,

আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।
কোরআন হিজরঃ৯

হাদিসে কুদসী এবং সহিহ মুসলিমেও বর্ণিত রয়েছে, [ তথ্যসূত্র ৬৭ ]

‘আমি আপনার ওপর এমন কিতাব অবতীর্ণ করব, যাকে পানি ধুয়ে নিতে পারবে না।”

এখানে পানি দিয়ে ধুয়ে যাওয়া বলতে কোন অবস্থাতেই হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই নিচের প্রতিটি অংশ মন দিয়ে পড়তে হবে।

■ কোরআনে সর্বমোট আয়াতের সংখ্যা

সুদীর্ঘ ২২ বছর ২ মাস ২২ দিন ধরে সম্পূর্ণ কোরআন অবতীর্ণ হয়। কুরআনের প্রথম আয়াত অবতীর্ণ হয় ৬০৯ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর যখন মুহাম্মাদের বয়স প্রায় ৪০ বছর এবং অবতরণ শেষ হয় মুহাম্মাদের তিরোধানের বছর অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে। ইসলামী ইতিহাস অনুসারে দীর্ঘ প্রায় তেইশ বছর ধরে খণ্ড খণ্ড অংশে এটি ইসলামের নবী মুহাম্মাদের নিকট অবতীর্ণ হয়। অধিকাংশ ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসী মানুষ মনে করেন, কোরআনের আয়াতের মোট সংখ্যা সেই আদিতে যা ছিল এখনো তাই আছে। তার সামান্যতম কোন পরিবর্তন হয় নি। অধিকাংশ মুসলিম বিশ্বাস করেন, কোরআন অপরিবর্তনীয় এবং এ সম্পর্কে কোরআনেও বলা রয়েছেঃ

আমি স্বয়ং এ উপদেশগ্রন্থ অবতরণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।
কোরআন ১৫ঃ৯

কিন্তু সত্য হচ্ছে, কোরআনের আয়াতের সংখ্যা আসলে কত, তা নিয়ে ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন জনের মতামত অনুযায়ী এই সংখ্যাটি ৬০০০/ ৬২০৪/ ৬২১৪/ ৬২১৯/ ৬২২৫/ ৬২২৬/ ৬২৩৬/ ৬২১৬/ ৬২৫০/ ৬২১২/ ৬২১৮/ ৬৬৬৬/ ৬২২১/ ৬৩৪৮, অর্থাৎ আয়াত ঠিক কয়টি, তা সেই সম্পর্কে সঠিকভাবে কিছু বলা যায় না। আয়াতের পাশাপাশি অক্ষর ও শব্দের সংখ্যা নিয়েও প্রচুর মতানৈক্য রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই নিয়ে ঘটে গেছে বহু রক্তারক্তি কাণ্ড। [ তথ্যসূত্র ১৪ ]

কোরআনের সর্বমোট আয়াত সংখ্যা

এবারে দেখি, কোরআনের আয়াত সংখ্যা, শব্দের সংখ্যা, অক্ষর সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধের নমুনা।

তাফসীরে জালালাইনে বলা হচ্ছে, [ তথ্যসূত্র ১৫ ]

কোরআনের সুরা, রুকূ, মক্কী, মাদানী আয়াত

আবার, এ কে এম এনামুল হক লিখিত কোরআন হাদিস সংকলনের ইতিহাস গ্রন্থে বলা হচ্ছে, [ তথ্যসূত্র ১৬ ]

কোরআনের আয়াত শব্দ অক্ষর সংখ্যা

■ কোরআনের প্রথম সূরা কোনটি?

শুরুতেই যেই প্রশ্নটি আমাদের মনে জাগে, তা হচ্ছে, কোরআনের প্রথম সূরা কোনটি? আমরা সকলেই জানি, ৪০ বছর বয়সে হেরা পর্বতের গুহায় ইসলামের নবী মুহাম্মদের কাছে প্রথম ফেরেশতা জিব্রাইল আসে, এবং তখন নিচের সূরাটি নাজিল হয়। এই গল্পগুলো আমরা সাধারণত আমাদের বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে পড়ে থাকি। এই বিষয়ে হাদিসটি দেখে নিইঃ [ তথ্যসূত্র ১৭ ]

এমনিভাবে হেরা’ গুহায় অবস্থানকালে একদিন তাঁর কাছে ওহী এলো। তাঁর কাছে ফিরিশতা এসে বললেন, পড়ুন’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “আমি বললাম, আমি পড়িনা’। তিনি বলেনঃ তারপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন’। আমি বললামঃ আমিতো পড়ি না। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হল। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ পড়ুন’। আমি জবাব দিলাম, আমিতো পড়িনা’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর তৃতীয়বার তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। এরপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক থেকে। পড়ুন আর আপনার রব্ মহামহিমান্বিত। ” (৯৬: ১-৩)
তাখরীজ: ( বুখারীঃ তা.পা ৩, ৩৩৯২, ৪৯৫৩, ৪৯৫৫, ৪৯৫৬, ৪৯৫৭, ৬৯৮২; মুসলিম ১/৭৩ হাঃ ১৬০, আহমদ ২৬০১৮ ( আ.প্রঃ ৩, ইঃফাঃ ৩)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

তাহলে আমরা বুঝতে পারছি, জিব্রাইল প্রথমবার যখন নবী মুহাম্মদের কাছে আসে, তিনি নিয়ে আসেন সূরা আলাকের ১ থেকে ৩ নম্বর আয়াত। অর্থাৎ, আল্লাহ পাক যেভাবে কোরআন নাজিল করেন, সেই অনুসারে, সূরা আলাকের থাকার কথা সর্বপ্রথমে। কিন্তু আমাদের সময়ে যেই কোরআন পাওয়া যায়, সেখানে সূরা আলাকের স্থান হচ্ছে ৯৬ নম্বরে। কিন্তু সূরা আলাক ৯৬ নম্বরে কিভাবে গেল? কে ঠিক করলো, সূরা আলাক ৯৬ নম্বরে স্থান পাবে? আল্লাহ কি এই বিষয়ে কোন দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন? দিয়ে থাকলে, সেই দিক নির্দেশনা কোথায়? আর না দিয়ে থাকলে, আল্লাহ যেই ক্রমানুসারে নাজিল করেছেন, সেই ক্রম ভঙ্গ করে সূরা ফাতিহাকে প্রথমে দেয়ার দুঃসাহস কে করলো?

কিন্তু এখানেই আলোচনা শেষ নয়। কোরআনের প্রথম নাজিল হওয়া আয়াত কোনটি তা নিয়ে রয়েছে আরো কিছু মতামত।

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) -এর বর্ণনা অনুযায়ী সূরা আল মুদ্দাছ্ছির সর্বপ্রথম নাযিল হওয়া সূরা। বুখারী ও মুসলিমে এসেছে-

عن أبي سلمة بن عبد الرحمن ابن عوف قال: سألت جابر بن عبد الله، أي القرآن أنزل قبل؟ قال : يا أيها المدثر ‘আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. কে জিজ্ঞাসা করলাম, কুরআনের কোন অংশ পূর্বে নাযিল হয়েছে? তিনি বললেন, يا أيها المدثر

এছাড়া আবু মায়সারা (রা.) বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী আল কুরআনের সর্বপ্রথম নাযিল হওয়া সূরা হলো সূরা আল ফাতিহা। [ তথ্যসূত্র ১৮ ]

কিন্তু কোরআন সংকলনের সময় আয়েশার হাদিসকে গুরুত্ব না দিয়ে অন্য মতামতটিকে গুরুত্ব দিয়ে সূরা ফাতিহাকেই সর্বপ্রথম সূরা হিসেবে সংকলনে স্থান দেয়া হয়।

সেটি যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে নাজিলের ক্রম অনুসারে কোরআন সঠিকভাবে সংকলিত হয় নি কেন? এই বিষয়ে কী আল্লাহর কোন নির্দেশনা ছিল?

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়তে হবে। [ তথ্যসূত্র ১৯ ]

■ কোরআনের শেষ সূরা কোনটি?

প্রথম সূরার মত শেষ সূরা নিয়েও রয়েছে প্রচুর বিতর্ক। অনেকেই বলে থাকেন, সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতই হচ্ছে কোরআনের শেষ আয়াত, কারণ এখানে বলা হচ্ছে,

আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যাক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে; কিন্তু কোন গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।
[ কোরআন ৫ঃ৩ ]

সমস্যা হচ্ছে, দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দেয়ার পরে আল্লাহ পাকের আবারো সূরা নাজিলের কেন প্রয়োজন হলো? দ্বীন যদি ওই আয়াতের মাধ্যমে পুর্নাঙ্গই হয়ে গিয়ে থাকে, এর পরে আবার আয়াত নাজিল হওয়ার তো কথা নয়। এই নিয়েও রয়েছে প্রচুর বিতর্ক। বিভিন্ন জনার বিভিন্ন অভিমত এখানে উল্লেখ করা হলো।

প্রথম অভিমতঃ রিবা বা সুদ বিষয়ক আয়াত সর্বশেষ নাযিল হওয়া আয়াত।

ইবনে আব্বাস রাযি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: সর্বশেষে নাযিল-হওয়া আয়াত হলো আয়াতুর রিবা (সুদ বিষয়ক আয়াত) [ তথ্যসূত্র ২০ ] অর্থাৎ

‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা মুমিন হও’
[ সূরা আল বাকারা:২৭৮ ]

হজরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ

আল কুরআনের সর্বশেষ যা নাযিল হয়েছে, তা হলো ‘রিবা’র আয়াত। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা ব্যাখ্যা করার পূর্বেই পরলোকগত হন। অতএব তোমরা সুদ ও সন্দেহ পরিত্যাগ করো।’
[ তাফসীরে তাবারী, খ-:৬, পৃ:৩৮ ]

আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উমর (রা.) আমাদের উদ্দেশ্য করে খুতবা দিলেন, অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয় সর্বশেষ নাযিল হওয়া কুরআন হলো ‘রিবা’র আয়াত।’
[সূয়ুতী, আল ইতকান, খণ্ড:৬, পৃ:৩৫]
এছাড়া শায়খ মাহমুদ শাকের বলেছেন যে হাদীসটি বিশুদ্ধ সনদের (দ্র: তাফসীরে তাবারী, খ-:৬, পৃ:৩৯)

দ্বিতীয় অভিমতঃ কিছু কিছু তাফসিরবিদদের মতে আল কুরআনের সর্বশেষ নাযিল হওয়া আয়াত হলোঃ

আর তোমরা সে দিনের ভয় কর, যে দিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে সে যা উপার্জন করেছে, তা পুরোপুরি দেয়া হবে। আর তাদের যুলম করা হবে না
[ সূরা আলা বাকারা:২৮১ ]

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আল কুরানের সর্বশেষ যা নাযিল হয়েছে, তা হলো وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ [নাসাঈ; বায়হাকী, ]

ইবনে মারদুবেহ ও ইবনে জারীর তাবারীও ইবনে আব্বাস (রা.). থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [ তথ্যসূত্র ২১ ]

তৃতীয় অভিমতঃ কারো কারো মতে আলা কুরআনের সর্বশেষ নাযিল হওয়া আয়াত হলো সূরা নিসার কালালাহ সম্পর্কিত আয়াতটি। কালালাহ হলো পিতামাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি। ইরশাদ হয়েছে-

তারা তোমার কাছে সমাধান চায়। বল,‘আল্লাহ তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন কালালা (‘পিতা মাতাহীন নিঃসন্তানকে ‘কালালা’ বলা হয়) সম্পর্কে। কোনো ব্যক্তি যদি মারা যায় এমন অবস্থায় যে, তার কোনো সন্তান নেই এবং তার এক বোন রয়েছে, তবে সে যা রেখে গিয়েছে বোনের জন্য তার অর্ধেক, আর সে (মহিলা) যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। কিন্তু যদি তারা (বোনেরা) দু’জন হয়, তবে সে যা রেখে গিয়েছে তাদের জন্য তার দুই তৃতীয়াংশ। আর যদি তারা কয়েক ভাই বোন পুরুষ ও নারী হয়, তবে পুরুষের জন্য দুই নারীর অংশের সমান হবে’। আল্লাহ তোমাদেরকে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও এবং আল্লাহ প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ’-(সূরা আন নিসা: ১৭৬)। [বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম]

উক্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে তা মূলত মিরাছ তথা মৃতব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদের ভাগবণ্টন বিষয়ক হুকুম-আহকাম বর্ণনার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ আয়াত।

চতুর্থ অভিমতঃ কারো কারো মতে সূরা তাওবার ১২৮ নং আয়াত হলো সর্বশেষ নাযিল হওয়া আয়াত। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার বাণী;

‘নিশ্চয়ই তোমাদের নিজদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন, তা তার জন্য কষ্টদায়ক যা তোমাদেরকে পীড়া দেয়। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আত-তাওবা:১২৮)। [বর্ণনায় হাকেম]

এ আয়াতের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তা মূলত সূরায়ে বারাআত তথা সূরা তাওবার শেষ আয়াত। অর্থাৎ সূরা তাওবার আয়াতসমূহের মধ্যে এটি হলো সর্বশেষে নাযিল হওয়া আয়াত।

পঞ্চম অভিমতঃ কারো কারো মতে সূরা আল মায়েদা হলো সর্বশেষ নাযিল হওয়া সূরা। তিরমিযী ও হাকেম আয়াশা (রা.) থেকে এ বিষয়ক একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। এ মতের খণ্ডনে বলা হয়েছে যে সূরা মায়েদা মূলত হালাল হারাম বর্ণনার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সূরা যার কোনো হুকুমই মানসুখ হয়নি।

■ সূরা তওবা কী স্বতন্ত্র সূরা?

তাফসীরে ইবনে কাসীর [ তথ্যসূত্র ৪৫ ] থেকে জানা যায়, সূরা তওবা যে স্বতন্ত্র সূরা, এটি ছিল উসমানের ধারণা। মুহাম্মদ এই বিষয়ে কিছু বলে যান নি। সূরা তওবার শুরুতে তাই বিসমিল্লাহও পড়া হয় না। এখন লাওহে মাহফুজের কোরআনে সূরা তওবা আলাদা সূরা নাকি তা সূরা আনফালের অংশ, তা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, উসমানের ধারণার ওপর যা প্রতিষ্ঠিত, তা কি আমরা শতভাগ শুদ্ধ হিসেবে গণ্য করতে পারি?

সুরা তওবা স্বতন্ত্র সুরা নয়
সুরা তওবা কি স্বতন্ত্র সুরা

আরো বিবরণ পাওয়া যায় সুনানু আবু দাউদ শরীফের হাদিস থেকে। [ তথ্যসূত্র ৪৬ ]

সুরা তওবা সুরা আনফালের অংশ
সুরা তওবায় বিসমিল্লাহ নেই

■ বিসমিল্লাহ কী প্রতিটি সূরার অংশ

উপরে যেই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, সেখানে বলা হচ্ছে, “বিসমিল্লাহ” সূরা নামল এর আয়াত, অন্য কোন সূরার আয়াত নয়। এই আয়াতটি নাজিল হওয়ার পরে মুহাম্মদ প্রতিটি সূরার শুরুতে এটি পড়তেন। তার মানে, এই আয়াতটি নাজিল হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি সূরা নাজিল হয়েছিল বিসমিল্লাহ ছাড়া। তাহলে, আল্লাহ যেহেতু আগের সূরাগুলোতে বিসমিল্লাহ যুক্ত করে দেন নি, বর্তমান কোরআনে প্রতিটি সূরার শুরুতে (সূরা তওবা বাদে) বিসমিল্লাহ কেন কোরআনে অন্তর্ভূক্ত হলো? আল্লাহ তো আগের ঐ সূরাগুলো বিসমিল্লাহ ছাড়াই নাজিল করেছিলেন।

■ সূরার নামকরণ কে বা কারা করেছিল?

আমাদের অনেকের মনেই এই স্বাভাবিক প্রশ্নটি জাগে, সূরা ফাতিহা বা অন্যান্য সূরাগুলোর নামটি কে দিয়েছেল? স্বয়ং আল্লাহ পাক, নাকি অন্য কেউ? তাহলে একই সূরার বিভিন্ন নাম হয় কীভাবে? কোন নামটি আল্লাহ পাক কর্তৃক নির্ধারিত? নাকি আল্লাহ সূরার নামগুলো নিজে দেন নি, মুহাম্মদ বা তার সাহাবীগণ খেয়াল খুশিমতো নাম দিয়েছেন? যেমন সূরা ফাতিহার নাম যে সূরা ফাতিহা, এটি আল্লাহ পাক কোথায় বলেন দিয়েছেন? না বলে থাকলে, এই নামকরণ কার করা? আল্লাহ যদি নাম নির্ধারণ নাই করে থাকেন, কার এতবড় দুঃসাহস যে ঐ সূরাগুলোর নাম কোরআনে অন্তর্ভূক্ত করলো? অসংখ্য ইসলামিক রেফারেন্স থেকে সূরা ফাতিহার যেসকল নাম জানা যায়, সেগুলো হচ্ছে,

  • ফাতিহাতুলঃ ফাতিহা অর্থ ভূমিকা বা শুরু। যেহেতু ইহার মাধ্যমে নামাজ শুরু করা হয় এবং যেহেতু কোরআন মযীদেরও শুরুতে ইহা লিখিত হয়েছে, তাই মুহাম্মদ এটিকে ফাতিহাতুল কিতাব হিসেবে নামকরণ করেছেন।
  • আস্ সাবউল মাছানীঃ যেহেতু নামাজের প্রতিটি রাকআতে এই সূরাটি বারবার পাঠ করা হয়, তাই এটিকে সাবউল মাছানী বলা হয়।
  • উম্মুল কুরআনঃ উম্ম অর্থ মূল। সূরা ফাতিহার মধ্যে যেহেতু সমগ্র কোরআনের সারাংশ বিদ্যমান তাই এটিকে মুহাম্মদ উম্মুল কোরআন হিসেবে নামকরণ করেছেন
  • উম্মুল কিতাবঃ মুহাম্মদ এটিকে উম্মুল কিতাব হিসেবে নামকরণ করেছেন
  • আল-কুরআনুল আযীমঃ মুহাম্মদ বলেন, এটি হচ্ছে বারবার পঠিতব্য সাতটি আয়াত এবং আল-কুরআনুল আযীম।
  • ফাতিহাতুল কুরআনঃ ফাতিহাতুল কিতাব আর ফাতিহাতুল কোরআন একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
  • আল ওয়াফিয়াঃ সমস্ত কুরআনের অর্থ যেহেতু ইহাতে পূর্ণরূপে বিদ্যমান তাই এটাকে ওয়াফিয়া বলা হয়েছে। সুফইয়ান বিন উয়াইনা এই নামে নামকরণ করেছেন।
  • আল-কাফিয়াঃ নামাযে যেহেতু শুধু সূরা ফাতিহা পড়লে যথেষ্ট হয় আর এটা ছাড়া অন্য সূরা দিয়ে যেহেতু নামাজ পূর্ণ হয় না তাই এটাকে কাফিয়া বলা হয়।
  • আল-আসাসঃ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীছে এই নামটি বর্ণিত হয়েছে। আল কাসাস মানে মূল।
  • আশ্ শাফিয়া বা আশ্ শিফাঃ কেননা মুহাম্মদ বলেছেন, সূরা ফাতিহাতে রয়েছে প্রতিটি বিষাক্ত সাঁপ-বিচ্ছুর কামড়ের শিফা বা আরোগ্য।
  • সূরাতুল হামদ্ঃ যেহেতু এই সূরার প্রথমেই আলহামদ শব্দটি এসেছে, তাই একে সূরাতুল হামদ বলা হয়।
  • আস্ সালাহঃ হাদীছে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি নামাজকে বান্দা এবং আমার মাঝে দুইভাগে বিভক্ত করেছি। এখানে নামাজ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে সূরা ফাতিহা।
  • আর্ রুকইয়াহঃ যেহেতু এই সূরা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়, তাই মুহাম্মদ একে এই নামে নামকরণ করেছেন

এছাড়াও এই সূরাটির আরো অনেকগুলো নাম রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আসল নাম কোনটি? একই সূরার এতগুলো নাম থাকার যৌক্তিকতা কী? আল্লাহ পাক আসলে কোন নামে সূরাটি লিখেছিলেন? নাকি আল্লাহ পাক শুধু সূরাটি লিখেছিলেন, সূরাটির নামকরণ মুহাম্মদের পরে তার অনুসারীগণ কোন সুনির্দিষ্ট ওহী ছাড়াই যার যেমন মনে হয় করে ফেলেছিলেন?

■ কোরআন কয়টি ভাষায় নাজিল হয়েছে

কোরআনকে মোট সাতটি উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় নাযিল করা হয়েছিল। হযরত উসমান কোরআন বিকৃত হয়ে যাবে এই অযুহাত দেখিয়ে শুধুমাত্র কুরাইশদের উচ্চারণে কোরআন সংকলনের সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে স্বয়ং মুহাম্মদের নির্দেশ ছিল যে, তোমাদের জন্য যেই পদ্ধতি সহজতর, তোমরা সেই পদ্ধতিতেই পড়। [ তথ্যসূত্র ৪২ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [4626]
অধ্যায়ঃ ৫৩/ ফাজায়ীলুল কুরআন
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২৩৯৯. কুরআন সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় নাযিল হয়েছে।
৪৬২৬। সাঈদ উব্‌ন উফায়র (রহঃ) … উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
এবারও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবেও কুরআন নাযিল করা হয়েছে। এ কুরআন সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং তোমাদের জন্য যা সহজতর, সে পদ্ধতিতেই তোমরা পাঠ কর।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন সাত উপভাষায় নাজিল

এই বিষয়ে বিস্তারিতঃ কোরআন বিকৃতি ও সাত আহরুফের সাতকাহন

■ কোরআনের আয়াত ভুলে যেতেন মুহাম্মদ

মুহাম্মদের প্রতি যেই ওহী নাজিল হতো, সেই সব সূরা বা আয়াত মাঝে মাঝে নিজেই ভুলে যেতেন মুহাম্মদ। অন্য কেউ বললে তার মাঝে মাঝে মনে পড়ে যেতো আয়াতগুলো। স্বাভাবিকভাবেই, বোঝা যায় যে, তার স্মৃতিশক্তি এতটা প্রখর ছিল না। [ তথ্যসূত্র ৪৭ ]

মুহাম্মদ কোরআন ভুলে যেতেন

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ইবনে কাসীরের তাফসীরে [ তথ্যসূত্র ৪৮ ] বর্ণিত আছে,

মুহাম্মদ ভুলে যেতেন আল্লাহর আয়াত

নবী মুহাম্মদ আয়াত ভুলে যাওয়ার বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে আল্লাহর কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছেন।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [1727]
অধ্যায়ঃ ৭। কুরআনের মর্যাদাসমূহ ও এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ১. কুরআন সংরক্ষণে যত্নবান হওয়ার নির্দেশ, অমুক আয়াত ভুল গিয়েছি বলার অপছন্দনীয়তা ও আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে বলার বৈধতা প্রসঙ্গে
১৭২৭-(২২৯/…) ইবনু নুমায়র এবং ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) [শব্দাবলী তার] …. শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেছেনঃ এই পবিত্র গ্রন্থের আবার কখনো বলেছেন এ কুরআনের রক্ষণাবেক্ষণ কর। কেননা মানুষের মন থেকে তা এক পা বাঁধা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও (অধিক বেগে) পলায়নপর। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) আরো বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা কেউ যেন এ কথা না বলে যে, আমি (কুরআন মাজীদের) অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি। বরং তার থেকে আয়াতগুলো বিস্মৃত হয়ে গিয়েছে (এরূপ বলা উত্তম)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১২, ইসলামীক সেন্টার ১৭১৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [1728]
অধ্যায়ঃ ৭। কুরআনের মর্যাদাসমূহ ও এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ১. কুরআন সংরক্ষণে যত্নবান হওয়ার নির্দেশ, অমুক আয়াত ভুল গিয়েছি বলার অপছন্দনীয়তা ও আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে বলার বৈধতা প্রসঙ্গে
১৭২৮-(২৩০/…) মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ….. শাকীক ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে বলতে শুনেছি। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ কোন ব্যক্তির পক্ষে এরূপ কথা বলা খুবই খারাপ যে, সে অমুক অমুক সূরাহ বা অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছে। বরং বলবে যে ঐগুলো (সূরাহ বা আয়াত) তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭১৩, ইসলামীক সেন্টার ১৭২০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

■ কোরআনের ছাগলে খাওয়া আয়াত

কোরআনে সামান্যতম কোন পরিবর্তন বা পরিমার্জনা হয় নি, যেমন ছিল তেমনই রয়েছে, এই ধারণার ভিত্তিতে সবচাইতে বড় আঘাত হচ্ছে, কোরআনের হারিয়ে যাওয়া আয়াতের কথা, যা আয়েশার হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি। আল্লাহ পাক দ্বারা প্রেরিত আয়াত কীভাবে ছাগলে খেয়ে যায়, যার কারণে আয়াতটি আর খুঁজে পাওয়া যায় না, যেই আয়াতগুলো বর্তমান কোরআনে অনুপস্থিত, তা বিশ্বাসী মুসলিমদের কাছে এখনো একটি বড় প্রশ্ন। [ তথ্যসূত্র ২২ ]

পরিচ্ছদঃ ৯/৩৬. বয়স্ক লোকে দুধ পান করলে।
২/১৯৪৪। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রজম সম্পর্কিত আয়াত এবং বয়স্ক লোকেরও দশ ঢোক দুধপান সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা একটি সহীফায় (লিখিত) আমার খাটের নিচে সংরক্ষিত ছিল। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন এবং আমরা তাঁর ইন্তিকালে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে।
মাজাহ ১৯৪৪ সহীহুল বুখারী ১৪৫২, নাসায়ী ৩৩০৭, ২০৬২, মুয়াত্তা মালেক ১২৯৩, দারেমী ২২৫৩, তা’লীক ইবনু মাজাহ। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫০৫৭, ২৪/৪০৫ নং পৃষ্ঠা)
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

বয়ষ্ক লোকের দুধপান

■ কোরআনে দুধপান বিষয়ক আয়াত

শুধু তাই নয়, সহিহ হাদিস থেকেও জানা যায়, কোরআনে দুধপান সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয়েছিল, যা বর্তমান কোরআনে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। [ তথ্যসূত্র ২৩ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [3490] অধ্যায়ঃ ১৮। দুধপান
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ৬. (কোন মহিলার দুধ) পাঁচ চুমুক খাওয়াতে হারাম সাব্যস্ত হওয়া প্রসঙ্গে
৩৪৯০-(২৫/…) আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ আল কা’নাবী (রহঃ) ….. আমরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, যখন তিনি দুধপানের ঐ পরিমাণ সম্পর্কে আলোচনা করলেন যার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়। আমরাহ বললেন যে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছিলেন, আল-কোরআনে নাযিল হয় عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ “নির্ধারিত দশবার দুধপানে”। অতঃপর নাযিল হয় خَمْسٌ مَعْلُومَاتٌ “নির্ধারিত পাঁচবার দুধপানে।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৬৩, ইসলামীক সেন্টার. ৩৪৬২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [3466] অধ্যায়ঃ ১৮/ দুধপান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৩৪৬৬। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোরআনে এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিলঃ عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ ‘দশবার দুধপানে হারাম সাবিত হয়।’ তারপর তা রহিত হয়ে যায় خَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ এর দ্বারা। (পাঁচবার পান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয়) তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন অথচ ঐ আয়াতটি কুরআনের আয়াত হিসাবে তিলাওয়াত করা হত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

স্তন চোষা
বয়ষ্ক লোকের স্তন চোষা

■ রজম ও উমরের আশঙ্কা

এরকম আরো অনেকগুলো হাদিস রয়েছে, যেগুলো পড়ে বোঝা যাচ্ছে, কোরআনে আরো বেশ কিছু আয়াত ছিল, সেগুলো কেউ না কেউ মুছে ফেলেছে বা অন্তর্ভূক্ত করার সময় বাদ দিয়েছে। নিচের হাদিসটি দেখুন, এখানে বলা হচ্ছে এই আয়াতটি মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [4310]
অধ্যায়ঃ ৩০। অপরাধের (নির্ধারিত) শাস্তি
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ৪. ব্যভিচারের জন্য বিবাহিতকে রজম করা
৪৩১০-(১৫/১৬৯১) আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়াহ্ (রহঃ) ….. ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “উমর ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বারের উপর বসা অবস্থায় বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন এবং তার উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়ের মধ্যে آيَةُ الرَّجْمِ (ব্যভিচারের জন্য পাথর নিক্ষেপের আয়াত) রয়েছে। তা আমরা পাঠ করেছি, স্মরণ রেখেছি এবং হৃদয়ঙ্গম করেছি। সুতরাং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যভিচারের জন্য রজম করার হুকুম বাস্তবায়ন করেছেন। তার পরবর্তী সময়ে আমরাও (ব্যভিচারের জন্য) রজমের হুকুম বাস্তবায়িত করেছি। আমি ভয় করছি যে, দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর কেউ এ কথা হয়তো বলবে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে (ব্যভিচারের শাস্তি) রজমের নির্দেশ পাই না। তখন আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত এ ফরয কাজটি পরিত্যাগ করে তারা মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে বিবাহিত নর-নারীর ব্যভিচারের শাস্তি رجم (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা) এর হুকুম সাব্যস্ত। যখন সাক্ষ্য দ্বারা তা প্রমাণিত হয়, কিংবা গর্ভবতী হয়, অথবা সে নিজে স্বীকার করে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৭১, ইসলামিক সেন্টার ৪২৭১)
* এ আয়াতটি তিলাওয়াত মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে কিন্তু আয়াতটির হুকুম এখনো বহাল রয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, হুকুম বহাল রেখে তিলাওয়াত মানসুখ বা রহিত কেন করা হলো?

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [4271]
অধ্যায়ঃ ৩০/ অপরাধের শাস্তি
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‏পরিচ্ছদঃ ৪. ব্যভিচারের জন্য বিবাহিতকে রজম করা
৪২৭১। আবূ তাহির ও হারামালা ইবনু ইয়াহইয়াহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিম্বারের উপর বসা অবস্থায় বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সত্য ধর্ম সহকারে প্রেরণ করেছেন এবং তার উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়ের মধ্যে آيَةُ الرَّجْمِ (ব্যাভিচারের জন্য পাথর নিক্ষেপের আয়াত) রয়েছে। তা আমরা পাঠ করেছি, স্মরণ রেখেছি এবং হৃদয়ঙ্গম করেছি। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ব্যাভিচারের জন্য) রজম (এর হুকুম বাস্তবায়িত) করেছি। আমি ভয় করছি যে, দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ একথা হয়তো বলবে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে (ব্যভিচারের শাস্তি) রজমের নির্দেশ পাচ্ছিনা। তখন আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত এই ফরয কাজটি পরিত্যাগ করে তারা মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে। নিশ্চই আল্লাহর কিতাবে বিবাহিত নর-নারীর ব্যাভিচারের শাস্তি رجم (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা) এর হুকুম বাস্তব বিষয়। যখন সাক্ষ্য দ্বারা তা প্রমাণিত হয়, কিংবা গর্ভ প্রকাশ পায়, অথবা (সে নিজে) স্বীকার করে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
হাদিস নম্বরঃ [4418]
অধ্যায়ঃ ৩৩/ অপরাধ ও তার শাস্তি
পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী
পরিচ্ছদঃ ২৩. রজম সম্পর্কে
৪৪১৮। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তার ভাষণে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁর উপর কিতাব নাযিল করেছেন। আর তিনি তাঁর উপর যা নাযিল করেছেন, রজম সংক্রান্ত আয়াত তার অন্তর্ভুক্ত। আমরা তা পাঠ করেছি এবং সংরক্ষণ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন আর আমরাও তাঁর পরে রজম করেছি। তবে আমার আশঙ্কা হচ্ছে, কাল প্রবাহের দীর্ঘতায় কেউ হয় তো বলবে, আমরা তো আল্লাহর নাযিলকৃত তিাবে রজমের আয়াত পাইনি।
ফলে তারা আল্লাহর নাযিলকৃত একটা ফরজ পরিত্যাগ করে পথভ্রষ্ট হবে।
জেনে রাখো বিবাহিত নারী-পুরুষ ব্যভিচারের অপরাধে দায়ী প্রমাণিত হলে অথবা অন্তঃসত্তা হলে অথবা স্বীকারোক্তি করলে তাদেরকে রজম করা অবধারিত। আল্লাহর কসম! লোকেরা যদি একথা না বলতো যে, উমার আল্লাহর কিতাবে কিছু বর্ধিত করেছেন। তাহলে আমি অবশ্যই এ আয়াত লিখে দিতাম।[1]
সহীহ
[1]. বুখারী, মুসলিম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মুহাম্মদ নিজেই ইহুদীদের ভৎসনা করতেন এই বলে যে, তারা আল্লাহর বাণীকে পরিবর্তন করে রজমের নির্দেশনা আর পালন করছে না। আল্লাহর কঠিন নির্দেশনা জেনাকারীর রজমকে তারা বাদ দিয়ে ফেলেছে। মুহাম্মদ আল্লাহর সেই নীতিকে আবার পুনর্জীবন দান করেছেন। এই বলে ইহুদীদের ভৎসনা করা মুহাম্মদের কোরআনেই এখন আর রজমের আয়াতটি নেই।

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ অপরাধ ও তার শাস্তি
হাদিস নম্বরঃ [4448]
পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী
পরিচ্ছদঃ ২৬. দু’ ইয়াহুদীকে রজম করার ঘটনা
৪৪৪৮। আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেত্রাঘাতকৃত জনৈক ইয়াহুদীর মুখমন্ডল কালিমালিপ্ত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি তাদের ডেকে প্রশ্ন করলেনঃ তোমরা কি যেনাকারীর এরূপ শাস্তির হুকুম পেয়েছ? তারা বললো, হ্যাঁ। অতএব তিনি তাদের একজন আলিমকে ডেকে বললেনঃ তোমাকে সেই আল্লাহর কসম করে বলছি যিনি মূসা (আঃ)-এর উপর তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন! তোমাদের কিতাবে যেনাকারীদের এরূপ শাস্তির কথা উল্লেখ পেয়েছে কি? সে বললো, হে আল্লাহ! না। আপনি যদি এ বিষয়ে আমাকে আল্লাহর কসম না দিতেন, তাহলে আমি অবশ্যই আপনাকে বলতাম না।
আমরা আমাদের কিতাবে যেনাকারীর শাস্তি রজমের উল্লেখ পেয়েছি। কিন্তু আমাদের অভিজাত সমাজে যেনার বিস্তার ঘটলে আমরা কোনো মর্যাদাসম্পন্ন লোককে এ অপরাধে ধরতে পারলেও ছেড়ে দিতাম; তবে দুর্বলদের কাউকে পেলে তার উপর শাস্তি বাস্তবায়িত করতাম। অতঃপর আমরা সকলকে আহবান করে বললাম, চলুন, আমরা যেনার শাস্তির ব্যাপারে সকলে ঐকমত্যে পৌঁছে এমন একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হই, যাতে সকল শ্রেণীর লোকদের উপর তা বাস্তবায়িত করা যায়। অতঃপর আমরা এর শাস্তিস্বরূপ মুখমন্ডল কালিমালিপ্ত করে অপমান করা এবং বেত্রাঘাত করাতে একমত হই এবং ‘রজম’ পরিত্যাগ করি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তোমার নির্দেশকে পুনর্জীবন দান করেছি, তারা একে প্রাণহীন করার পর। অতঃপর তাঁর নির্দেশে অপরাধীকে রজম করা হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ ইয়াহুদীদের সম্পর্কে এ আয়াতগুলো নাযিল করেনঃ ‘‘হে রাসূল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয় … তারা বলে, তোমাদেরকে এরূপ বিধান দেয়া হলে তোমরা তা গ্রহণ করো অন্যথায় তোমরা বর্জন করো … আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির (ইয়াহুদীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে) … আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না তারাই যালিম (ইয়াহুদীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে) … আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না তারা পাপাচারী’’ (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৪১-৪৭)। তিনি বলেন, এ আয়াতগুলো কাফির অবাধ্যদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।[1]
সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এবারে আসুন আরেকটি হাদিসের ব্যাখ্যা থেকে পড়িঃ [ তথ্যসূত্র ৭১ ]

কোরআন

■ হযরত উমরের আরো বক্তব্য

নানা উচ্চারণের কোরআনের আয়াত উচ্চারণ শুনে খোদ উমর ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। তিনি এই নিয়ে রাগও প্রকাশ করেছিলেন। পরে নবী তাকে বোঝান, এইসব উচ্চারণেই কোরআন নাজিল হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে খলিফা উসমান শুধুমাত্র কুরাইশদের উচ্চারণ রেখে বাদবাকী সব উচ্চারণের কোরআন পুড়িয়ে দেন। [ তথ্যসূত্র ৫১ ]

কোরআন

■ হযরত উসমানের স্বীকারোক্তি

আধুনিক কোরআনের সংকলনকারী হযরত উসমান নিজেও স্বীকার করেছেন যে, কোরআনে কিছু ভুল উচ্চারণের শব্দ লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে, যা পড়ার সময় সঠিক করে নেয়ার দরকার হয়। এই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এভাবেই সেগুলো থাকতে দাও। কারণ এগুলো দ্বারা বড় কোন পরিবর্তন ঘটছে না। যেমন হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল করা হচ্ছে না। [ তথ্যসূত্র ৫০ ]

কোরআন
কোরআনে ভুল নিয়ে উসমানের স্বীকৃতি

■ ইদ্দতের আয়াত

ইদ্দতের সময়সীমা কতদিন হবে, আল্লাহ পাক এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রেরণ করলেন যে, তারা পূর্ণ একবছর স্বামীগৃহে অবস্থান করে ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দতের সময়ে তাদের জন্য বিবাহ করা নিষিদ্ধ। এই একবছর ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ঠ পরিমাণ সম্পদ যেন স্বামী তাদেরকে অসিয়ত করে যায়।

আর যখন তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে তখন স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের খরচের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যাবে। অতঃপর যদি সে স্ত্রীরা নিজে থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সে নারী যদি নিজের ব্যাপারে কোন উত্তম ব্যবস্থা করে, তবে তাতে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী বিজ্ঞতা সম্পন্ন।
আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খরচ দেয়া পরহেযগারদের উপর কর্তব্য।
কোরআন বাকারাঃ২৪০-২৪১

কিন্তু নবী মুহাম্মদের সাহাবীগণ বহুবিবাহে যেভাবে আসক্ত ছিল, বিধবা নারীদের পুরো একবছর বিবাহ নিষিদ্ধ থাকা তাদের ঠিক মনমতো হয় নি। পরবর্তীতে এই আয়াত বাদ দিয়ে নতুন আয়াত পাঠানো হলো। সেখানে বলা হলো, এক বছর ইদ্দত পালনের দরকার নেই, চার মাস দশ দিন করলেই হবে। মানে, পারফেক্ট প্ল্যানার আল্লাহ পাক শুরুতে যেই নির্দেশনাটি দিয়েছিলেন, আগের নির্দেশটি রহিত বা মানসুখ করে তা তুলে নিয়ে নতুন বিধান দিলেন। আগে শুধু স্বামীগৃহে থেকে ইদ্দত পুরো করতে হতো। নতুন বিধান অনুসারে, যেখানে খুশি থাকতে পারবে, স্বামীগৃহে কিংবা স্বামীগৃহের বাইরে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মানসুখ বা রহিত হয়ে যাওয়া আয়াত কোরআনে এখনো রয়ে গেল কীভাবে? অন্যান্য অনেক রহিত আয়াত তো বাদ দেয়া হলো, এটি কেন থাকলো?

এই বিষয়ে তাফসীরে ইবনে কাসীর [ তথ্যসূত্র ৪৯ ] থেকে এর তাফসীর পড়ে নিইঃ

কোরআন
কোরআন

■ সূরা নুরে ভুল শব্দ

তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে জানা যায়, ইবনে আব্বাসের মতে সূরা নূরের একটি শব্দ ভুল লেখা হয়েছে। ইবনে আব্বাস মুহাম্মদের বিখ্যাত সাহাবী, যার জ্ঞানের প্রশংসায় খোদ মুহাম্মদ বহুবার পঞ্চমুখ হয়েছেন।

কোরআন

■ সূরা ইউনুসের একটি শব্দ

সূরা ইউনুসের ২২ নম্বর আয়াতে একটি শব্দ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন একজন আরবী ভাষার শিক্ষক। তিনি হযরত উসমানের কোরআনের কিছু শব্দ পরিবর্তন করেন বলে জানা যায়। যার প্রমাণ পাওয়া যায় তাফসীরে জালালাইনের গ্রন্থ থেকে। লক্ষ্য করে দেখুন, জালালাইনের তাফসীরে দুইটি শব্দের পাঠের কথা বর্ণিত রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, লাওহে মাহফুজের কোরআনে কোন শব্দটি আছে? [ তথ্যসূত্র ৬৬ ]

কোরআন

■ সুরা আনফালে ইয়ামালুন ও তা’মালুন

সূরা আনফালের ৩৯ নম্বর আয়াতের উচ্চারণ হচ্ছে,

অক্বা-তিলূ হুম্ হাত্তা-লা-তাকূনা ফিত্নাতুঁও অইয়াকূনাদ্ দীনু কুল্লুহূ লিল্লা-হি ফাইনিন্তাহাও ফাইন্নাল্লা-হা বিমা-ইয়া’মালূনা বার্ছী

ইয়ামালুন শব্দের অর্থ তারা করে। অথচ, ক্বারী ইয়াকুব এই শব্দটিকে উচ্চারণ করতেন তা’মালুন, যার অর্থ তোমরা করো। এই শব্দটির পরিবর্তনে পুরো আয়াতটির অর্থের অনেকখানি পরিবর্তন হয়ে যায়। বিষয়টি তাফসীরে মাযহারী থেকে জানা যায়। [ তথ্যসূত্র ৭০ ]

কোরআন

■ আবদুল্লাহ ইবনে উমর এর বক্তব্য

প্রখ্যাত সাহাবী এবং হাদিস ও ফিকহের অন্যতম বড় পন্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে উমর ছিলেন হযরত উমরের পুত্র। তিনি ১৬৩০টি নির্ভরযোগ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন। নবী মুহাম্মদ তাকে ‘সৎ লোক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসটি নিচে দেখুন [ তথ্যসূত্র ৫২]।

কোরআন
কোরআন

তিনি বলেছেন, [ তথ্যসূত্র ৫৩ ]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূরা আহযাবের প্রায় দু’শটি আয়াত তেলাওয়াত করা হতো। কিন্তু কুরআন সংকলন করার সময় উসমান কেবলমাত্র যা বর্তমান কোরআনে বিদ্যমান তা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

Abu Ubaid said: “IsnuTil b. Ibrahlm reported to us, from Ayyub, from Nafi from Ibn
“Umar, who said: ‘None of you should say that he has full knowledge of the Qur’an; how could
he know what full knowledge is! So much of the Qur’an has passed him by! Let him say instead:
‘I have taken of the Qur’an that which was present.”

12
He also said: “Ibn Abu Maryam reported to us from Ibn Lahfa, from Abu ‘1-Aswad, from
“Urwa b. ‘1-Zubair, that A’isha said: “During the time of the Prophet (s) two hundred verses of the chapter ‘1-Ahzab were recited but when compiling the Qur’an Uthman was only able to collect what now exists.”

কোরআন
কোরআন

■ আবূ খুযায়মা আনসারী

নিচের হাদিসটির শেষের অংশ মন দিয়ে পড়ুন। কিছু আয়াতের একমাত্র বর্ণনাকারী ছিলেন আবূ খুযায়মা আনসারী। যেটি যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

কোরআন

এমনকি আমি সূরা তওবার শেষাংশ আবূ খুযায়মা আনসারী (রাঃ) থেকে সংগ্রহ করলাম। এ অংশটুকু তিনি ব্যতীত আর কারো কাছে আমি পাইনি। আয়াতগুলো হচ্ছে এইঃ তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছে এক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছে। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মু’মিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। এরপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলো, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি করি এবং তিনি মহান আরশের অধিপতি (১২৮-১২৯)।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫৩/ ফাজায়ীলুল কুরআন
হাদিস নম্বরঃ [4623]
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২৩৯৮. নবী (সাঃ) এর কাতিব
৪৬২৩। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওহী লিখতে। সুতরাং তুমি কুরআনের আয়াতগুলো অনুসন্ধান কর। এরপর আমি অনুসন্ধান করলাম। শেষ পর্যায়ে সূরা তওবার শেষ দু’টো আয়াত আমি আবূ খুযায়মা আনসারী (রাঃ) এর কাছে পেলাম। তিনি ব্যতীত আর কারো কাছে আমি এর সন্ধান পায়নি। আয়াত দু’টো হচ্ছে এইঃ “তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছে এক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছে। তোমাদের যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মু’মিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। তারপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলবে, আমার জন্য আল্লাহ্‌ই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং তিনি মহাআরশের অধিপতি”। (৯: ১২৮-১২৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সেই সাথে বোঝা যাচ্ছে, ঐ সময় কোরআনে হাফেজের সংখ্যা এতটাই কমে গিয়েছিল যে, একটি আয়াত শুধুমাত্র একজন মানুষ জানতেন। আর কেউ সেই আয়াতটি জানতেন না। তাহলে এরকম হওয়া খুব অস্বাভাবিক নয় যে, যেসকল হাফেজ মারা গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এমন অনেকেই ছিলেন, যারা কোরআনের কোন না কোন আয়াতের একমাত্র সাক্ষী বা মুখস্তকারী। যেই আয়াতগুলো আর কখনই খুঁজে পাওয়া যাবে না। আবার অনেক সময় শুধুমাত্র একজন বর্ণনাকারী হওয়ায় কোরআনের কিছু আয়াত নেয়া হয় নি। যা পরে আলোচনা করা হবে।

■ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ

নিচের হাদিসটি পড়ুন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ হযরত উসমানের আমলেও জীবিত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ সম্পর্কে খোদ নবীই বলেছেন তার থেকেই কোরআনের শিক্ষা গ্রহণ করতে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
হাদিস নম্বরঃ [3487]
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২১০৬. আবু হুযায়ফা (রাঃ) এর মাওলা (আযাদকৃত গোলাম) সালিম (রাঃ) এর মর্যাদা
৩৪৮৭। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) … মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) এর মজলিসে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর আলোচনা হলে তিনি বললেন, আমি এই ব্যাক্তিকে ঐদিন থেকে অত্যন্ত ভালবাসি যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তোমরা চার ব্যাক্তি থেকে কুরআন শিক্ষা কর, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ সর্বপ্রথম তাঁর নাম উল্লেখ করলেন, আবূ হুযায়ফা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম সালিম, উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে। শেষোক্ত দু’জনের মধ্যে কার নাম আগে উল্লেখ করছিলেন শুধু এ কথাটুকু আমার স্মরণ নেই।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যার কোরআন তিলাওয়াত শুনে খোদ নবী মুহাম্মদ পর্যন্ত কান্নায় ভেঙ্গে পরতেন।

গ্রন্থের নামঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
হাদিস নম্বরঃ [2195]
অধ্যায়ঃ পর্ব-৮ঃ কুরআনের মর্যাদা
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ – (কুরআন অধ্যয়ন ও তিলাওয়াতের আদব)
২১৯৫-[৯] ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে বসে আমাকে বললেন, তুমি আমার সামনে কুরআন পড়ো (আমি তোমার কুরআন পড়া শুনব)। (তাঁর কথা শুনে) আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সামনে আমি কুরআন পড়ব? অথচ এ কুরআন আপনার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ কুরআন আমি অন্যের মুখে শুনতে পছন্দ করি। অতঃপর আমি সূরা আন্ নিসা পড়তে শুরু করলাম। আমি ‘‘তখন কেমন হবে আমি যখন প্রত্যেক উম্মাতের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব এদের বিরুদ্ধে’’ এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এখন বন্ধ করো। এ সময় আমি তাঁর দিকে তাকালাম। দেখলাম তাঁর দু’ চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৫০৫০, মুসলিম ৮০০, আবূ দাঊদ ৩৬৬৮, তিরমিযী ৩০২৫, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩০৩০৩, আহমাদ ৩৬০৬, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৮৪৬০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২১০৫৭, শু‘আবূল ঈমান ৯৮৯২।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সেই সাথে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ গর্ব করে বলেছেন, তিনি কোরআনের প্রতিটি সূরা এবং প্রতিটি আয়াত, তার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, একটি সূরার কয়েকটি আয়াতের শুধুমাত্র একজন বর্ণনাকারী পাওয়া গেল কীভাবে?

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [5002]
অধ্যায়ঃ ৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬৬/৮. নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে সব সহাবী ক্বারী ছিলেন।
৫০০২. মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! যিনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, আল্লাহর কিতাবের অবতীর্ণ প্রতিটি সূরাহ সম্পর্কেই আমি জানি যে, তা কোথায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রতিটি আয়াত সম্পর্কেই আমি জানি যে, তা কোন্ ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি যদি জানতাম যে, কোন ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত এবং সেখানে উট পৌঁছতে পারে, তাহলে সওয়ার হয়ে সেখানে পৌঁছে যেতাম। [মুসলিম ৪৪/২২, হাঃ ২৪৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন

সহিহ হাদিস দুটোই একসাথে মেনে নেয়া একটু কষ্টকর। এখানে দুইটি ঘটনা সত্য হতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ সমস্ত আয়াত জানতেন, সেটি সত্য হলে আবূ খুযায়মা আনসারী নিজেই আয়াত বানিয়ে কোরআনে ঢুকিয়েছে, নতুবা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ অনেক আয়াত জানতেন না। দুটোই একই সাথে সত্য হওয়া সম্ভব নয়।

উসমানের কোরআন যখন সংকলিত হয়, সেই সংকলন দেখার পরে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর একটি মন্তব্য এখানে গুরুত্বপূর্ণঃ

“The people have been guilty of deceit in the reading of the Qur’an. I like it better to read according to the recitation of him (Prophet) whom I love more than that of Zayd Ibn Thabit,”
(Ibn Sa’d, Kitab al-Tabaqat al-Kabir, Vol. 2, p.444).

সেই আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ একাধিকবার বিভিন্ন জায়গাতেই বলেছেন, সূরা নাস এবং সূরা ফালাক আদৌ কোরআনে অন্তর্ভূক্ত সূরা নয়। এই দুই সূরাকে উনি নিজেই নিজের লিখিত কোরআনে অন্তর্ভূক্ত করেন নি। [ তথ্যসূত্র ৫৪ ]

কোরআন
কোরআন

এইসব তথ্যসূত্র থেকে বোঝা যাচ্ছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর মত গুরুত্বপুর্ণ সাহাবী পর্যন্ত উসমানের কোরআন সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেছেন। শুধু দ্বিমতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, হযরত উসমানের কোরআন সংকলের পরে হযরত উসমান ঘোষণা দিলেন যে, যার কাছে যত ধরণের কোরআন বা কোরআনের আয়াত রয়ে গেছে সেগুলো সব পুড়িয়ে ফেলতে হবে। যখন কুফাতে শোনা গেল যে তাদের কাছে সংরক্ষিত সব কোরআনের আয়াত পুড়িয়ে দিয়ে শুধুমাত্র যায়েদ ইবন সাবেতের মুসহাফ এখন থেকে ব্যবহার করতে হয়, আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মাসউদ এর বিরোধিতা করলেন। এই হুকুম শুনে তিনি কুফা শহরে এইভাবে খুৎবা দিলঃ [ উপরে একবার এই তথ্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে ]

কোরআনের পাঠে লোকেরা ছলনার দোষে পরেছে। আমি এর পাঠ বেশি পছন্দ করি [মুহাম্মদের], যার পাঠ আমি যায়েদ বিন সাবেতের পাঠ থেকে বেশি ভালবাসি। আল্লাহ্‌র কসম! যিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ)-এর মুখ থেকে সত্তরেরও বেশী সূরা শিখেছি যখন যায়েদ ইবন সাবেত যুবক ছিলেন, এর মাত্র দুইটি কেশপাশ চুল ছিল এবং যুবকদের সাথে তখন খেলা করতেন।”
[ ইবন সা’দ, কিতাবুল তাবাকাত আল-কবির, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪৪ ]

মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি লিখেছেন,

যুহরী (র) বলেনঃ ইবায়দুল্লাহ্‌ ইবনে আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে উতবা বলেছেন যে, হযরত আবদুল্লাহ্‌ ইবনে মাসঊদ (রা) যায়েদ ইবনে ছাবিতের এ তৈরী কপি পছন্দ করেন নি। তিনি বলেছেনঃ “হে মুসলিম সম্প্রদায়!” কুরআনের মুসহাফ লিপিবদ্ধ করার কাজে আমাকে দূরে রাখা হয়েছে আর এর দায়িত্ব বহন করেছে এমন এক ব্যক্তি যে আল্লাহ্‌র শপথ আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন সে ছিল এক কাফিরের ঔরসে। (এই কথা বলে তিনি যায়েদ ইবনে ছাবিতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন)। আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মাসঊদ (রা) বলেছেনঃ হে ইরাকবাসী! তোমাদের কাছে যে মুসহাফগুলো রয়েছে সেগুলো লুকিয়ে রাখ।
[ জামিউত তিরমিযী, সোলেমানিয়া বুক হাউস, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৮৫১ ]
[ Jami’ at-Tirmidhi Vol. 5, Book 44, Hadith 3104 ]

ইবনে আবু দাউদের কিতাবুল মাসাহিফ গ্রন্থে আছে যে ইবনে মাসউদ বলতেন,

আমি সরাসরি আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) থেকে সত্তর সূরা পেয়েছি যখন যায়েদ বিন সাবেত তখনও একজন বাচ্চা মানুষ ছিল—এখন আমি কি ত্যাগ করব যেটা আমি আল্লাহ্‌র রাসূল থেকে সরাসরি পেয়েছি?”
[ ইবন আবি দাউদ, কিতাবুল মাসাহিফ, পৃষ্ঠা ১৫ ]

■ হুজাইফা ইবনে ইয়ামান

হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (মৃত্যু-৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দ/৩৬ হিজরী) মুহাম্মদের একজন বিশিষ্ট সাহাবা ছিলেন। যিনি ছিলেন একজন খ্যাতনামা সেনাপতি ও দেশ বিজেতা এবং প্রখর জ্ঞানের অধিকারী। উনার বক্তব্য হচ্ছে, বর্তমান কোরআনে যে সূরা বারা’আত(সূরা তাওবা) আছে, তা প্রকৃত সূরার এক চতুর্থাংশ মাত্র। [ তথ্যসূত্র ৬৮ ]

কোরআন

■ উবাই ইবনে কাব

নিচের হাদিসটি পড়ুন। উবাই ইবনে কাব ছিলেন সেই ক’জনের একজন যারা নবী এর মৃত্যুর পূর্বেই কুরআন হাফেজ ছিলেন। যার সম্পর্কে উমর বলেছেন, উনিই সর্বোত্তম ক্বারী। তার সম্পর্কে সহিহ হাদিস রয়েছে যে, আল্লাহ পাকও তার নাম উচ্চারণ করেছেন। [ তথ্যসূত্র ২৪, ২৫ ] তার থেকে প্রাপ্ত অনেক আয়াত বাদ দেয়া হয়।

কোরআন
কোরআন

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [5005]
অধ্যায়ঃ ৬৬/ আল-কুরআনের ফাযীলাতসমূহ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬৬/৮. নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে সব সহাবী ক্বারী ছিলেন।
৫০০৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, ‘আলী (রাঃ) আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম বিচারক এবং উবাই (রাঃ) আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম কারীএতদ্সত্ত্বেও তিনি যা তিলাওয়াত করেছেন, আমরা তার কিছু অংশ বাদ দিই, অথচ তিনি বলছেন, আমি তা আল্লাহর রাসূলের যবান থেকে শুনেছি, কোন কিছুর বিনিময়ে আমি তা ত্যাগ করব না। আল্লাহ্ বলেছেন, ‘‘আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা ভুলিয়ে দিলে তা হতে উত্তম কিংবা তার মত কোন আয়াত এনে দিই।’’ ৪৪৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৩৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সেই প্রখ্যাত সাহাবী, যার নাম আল্লাহ নিজেই উচ্চারণ করেছেন, সেই উবাই ইবনে কাব কোরআনের সংকলন বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের সাথেই একমত ছিলেন। বর্তমান কোরআনের অনেক কিছুর সাথেই উনার দ্বিমতের কথা জানা যায়। [ তথ্যসূত্র ৫৬ ]

কোরআন

■ দু ‘টি অতিরিক্ত সূরা

কিছু বিবরণে পাওয়া যায়, কোরআনে আরো দুইটি অতিরিক্ত সূরা ছিল, যা বর্তমান কোরআনে অনুপস্থিত। জালালুদ্দিন সুয়ুতির আল ইত্বকান গ্রন্থে পাওয়া যায়ঃ

এবং উবাই(রা) এর মুসহাফে ছিল ১১৬টি(সূরা/অধ্যায়) এবং শেষ থেকে তিনি লিপিবদ্ধ করেন সূরা হাফদ এবং খাল’।
[আল ইতকান, জালালুদ্দিন সুয়ুতি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২৬]

উবাই ইবনে কা’ব তাঁর মুসহাফে যে কোরআনের যেই অংশটুকু লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তাও জালালুদ্দিন সুয়ুতি তার আল ইতকান গ্রন্থে বর্ণণা করেছেনঃ

হে আল্লাহ, আমরা শুধু আপনার কাছেই সাহায্য চাই, শুধু আপনার কাছেই ক্ষমা চাই, আপনার গুণগান করি, আপনার অকৃতজ্ঞ হই না, আর যারা আপনার অবাধ্য তাদের থেকে আলাদা ও বিচ্ছিন্ন হই। হে আল্লাহ, আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি, শুধু আপনার নিকট প্রার্থনা করি, শুধু আপনার প্রতি নত হই(সিজদাহ করি), আপনার দিকে ধাবিত হই।আর আমরা আপনার কঠিন শাস্তিকে ভয় করি, আপনার দয়ার আশা রাখি।নিশ্চয়ই আপনার শাস্তি তো অবিশ্বাসীদের জন্য নির্ধারিত।
[আল ইতকান, জালালুদ্দিন সুয়ুতি ১/২২৭]

এই বিষয়ে ইসলামিস্টগণ বলে থাকেন, এটি কোন স্বতন্ত্র সূরা নয়, বরঞ্চ আল্লাহ পাক নবীকে একটি দোয়া শিখিয়েছেন, যা উবাই ইবনে কা’ব সূরা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে ফেলেছেন। এটি হচ্ছে দোয়া কুনুত। অথচ, সূরা ফাতিহা পড়লেও বোঝা যায়, সেটি আসলে একটি দোয়া। তাহলে, ফাতিহা অন্তর্ভূক্ত হয়ে থাকলে, এই সূরাটি কেন অন্তর্ভূক্ত করা হলো না?

কিন্তু, ইসলামিস্টদের এই দাবী ধোপে টিকে না, কারণ সহিহ হাদিসেও বিষয়টি বর্ণিত রয়েছে। সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, ঐটি শুধুমাত্র দোয়াই ছিল না, আয়াতও ছিল। [ তথ্যসূত্র ২৬ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [3790]
অধ্যায়ঃ ৫১/ মাগাযী (যুদ্ধাভিযান)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২১৯২. রাজী, রিল, যাক্‌ওয়ান, বিরে মাউনার যুদ্ধ এবং আযাল, কারাহ, আসিম ইব্‌ন সাবিত, খুবায়ব (রা) ও তার সংগীদের ঘটনা। ইব্‌ন ইসহাক (র) বলেন, আসিম ইব্‌ন উমর (রা) বর্ণনা করেছেন যে, রাজীর যুদ্ধ উহুদের যুদ্ধের পর সংঘটিত হয়েছিল
৩৭৯০। … এ সংবাদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছালে তিনি এক মাস পর্যন্ত ফজরের সালাতে আরবের কতিপয় গোত্র তথা রিল, যাক্‌ওয়ান, উসায়্যা এবং বনূ লিহইয়ানের প্রতি বদদোয়া করে কুনূত পাঠ করেন। আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাদের সম্পর্কিত কিছু আয়াত আমরা পাঠ করতাম। অবশ্য পরে এর তিলাওয়াত রহিত হয়ে যায়।
একটি আয়াত ছিল- بَلِّغُوا عَنَّا قَوْمَنَا، أَنَّا لَقِينَا رَبَّنَا، فَرَضِيَ عَنَّا وَأَرْضَانَا‏ “আমাদের কওমের লোকদের জানিয়ে দাও। আমরা আমাদের প্রভুর সান্নিধ্যে পৌঁছে গিয়েছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরকেও সন্তুষ্ট করেছেন।
কাতাদা (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে বলেছেন, আল্লাহর নাবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস পর্যন্ত ফজরের সালাতে আরবের কতিপয় গোত্র- তথা রি’ল, যাকওয়ান, উসায়্যা এবং বনূ লিহইয়ানের প্রতি বদদোয়া করে কুনূত পাঠ করেছেন।
[ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর উস্তাদ] খলীফা (রহঃ) এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু যুরায় (রহঃ) সাঈদ ও কাতাদা (রহঃ) এর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা ৭০ জন সকলেই ছিলেন আনসার। তাঁদেরকে বি’রে মাউনা নামক স্থানে শহীদ করা হয়েছিল। [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেন, এখানে قُرْآن শব্দটি কিতাব বা অনুরুপ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন

■ আরো একটি হারানো সূরা

আবু মুসা আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস আশ আশয়ারী’ যিনি ‘আবু মুসা আল-আশয়ারি’ নামেই বেশি পরিচিত, তিনি ছিলেন মুহাম্মদের সহচর ছিলেন এবং ইসলামের প্রথম দিকে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় বসরা ও কুফার গভর্নর ছিলেন এবং পারস্যের প্রথম দিকে মুসলিম বিজয়ের সাথে জড়িত ছিলেন। উনার কাছ থেকে জানা যায়, কোরআনের একটি হারিয়ে যাওয়া সূরার কথা। [ তথ্যসূত্র ৪৪ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [2290]
অধ্যায়ঃ ১৩/ যাকাত
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৩১. পার্থিব সম্পদের প্রতি লোভ করা অপছন্দনীয়
২২৯০। সুওয়ায়দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবুল আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) কে বসরাবাসী ক্বারীগনের নিকট প্রেরণ করা হল। তিনি তথায় গিয়ে এমন তিনশ লোকের সাক্ষাৎ পেলেন, যারা কুরআনের ক্বারী ছিলেন। তিনি তাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনারা বসরা শহরের সম্রান্ত লোক এবং আল কুরআনের ক্বারী, আপনারা আল-কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকুন। বহুকাল অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে আপনাদের মন যেন কঠিন না হয়ে যায়, যেমন পূর্বেকার লোকদের মন কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমি একটি সূরা পাঠ করতাম যা দৈর্ঘ ও কাঠিন্যের দিক থেকে সূরা (বারা-আত) তাওবার অনুরূপ। আমাদেরকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার থেকে এ কথাটি আমার স্মরণ আছে “যদি আদম সন্তানের জন্য দুই মাঠ পরিপূর্ণ ধন-দৌলত হয়, তবে সে তৃতীয় মাঠ অবশ্যই খুজে বেড়াবে। মাটি ব্যতীত অন্য কিছু আদম সন্তানের পেট পুরা করতে পারবে না”।
আমি অন্য একটি সূরাও পাঠ করতাম যা কোন একটি মুশাববিহতের সম পরিমাণ (দৈর্ঘ্য)। আমাদেরকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তা থেকে আমার এতটুকু মুখস্থ আছেঃ “হে মুমিনগণ! তোমরা যা কর না তা তোমরা কেন বল”? বললে তা সাক্ষ্য তা সাক্ষ্য স্বরুপ তোমাদের গর্দানে লিখে দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কিয়ামতের দিন তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [2309]
অধ্যায়ঃ ১৩। যাকাত
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ৩৯. আদাম সন্তানের যদিও সম্পদের দুটি উপত্যকা থাকে তবু সে তৃতীয়টি অনুসন্ধান করবে
২৩০৯-(১১৯/১০৫০) সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ….. আবূল আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাযীঃ) একবার বাসরার কারীদেরকে (আলিমদের) ডেকে পাঠালেন। অতঃপর সেখানকার তিনশ’ কারী তার কাছে আসলেন এবং কুরআন পাঠ করলেন। তিনি (তাদের উদ্দেশে) বললেন, আপনারা বাসরার মধ্যে উত্তম লোক এবং সেখানকার কারী। সুতরাং আপনারা অনবরত কুরআন পাঠ করতে থাকুন। অলসতায় দীর্ঘ সময় যেন কেটে না যায়। তাহলে আপনাদের অন্তর কঠিন হয়ে যেতে পারে যেমন আপনাদের পূর্ববর্তী একদল লোকের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমরা একটি সূরা পাঠ করতাম যা দীর্ঘ এবং কঠোর ভীতি প্রদর্শনের দিক থেকে সূরা বারাআতের সমতুল্য। পরে তা আমি ভুলে গেছি। তবে তার এতটুকু মনে রেখেছি- “যদি কোন আদাম সন্তান দুই উপত্যকা সম্পদের মালিক হয়ে যায় তাহলে সে তৃতীয় আর একটি উপত্যকা ভর্তি সম্পদ পেতে চাইবে। মাটি ছাড়া আর কোন কিছুতেই আদাম সন্তানের পেট ভরে না।” আমি আরো একটি সূরা পাঠ করতাম যা মুসাব্বিহাত (গুণগানপূর্ণ) সূরাগুলো সমতুল্য। তাও আমি ভুলে গেছি, শুধু তা থেকে এ আয়াতটি মনে আছে– “হে ঈমানদারগণ! তোমরা কেন এমন কথা বল যা কর না”- (সুরাহু সফ ৬১ঃ ২)। আর যে কথা তোমরা শুধু মুখে আওড়াও অথচ করো না তা তোমাদের ঘাড়ে সাক্ষী হিসেবে লিখে রাখা হয়। কিয়ামাতের দিন তোমাদেরকে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২২৮৭, ইসলামীক সেন্টার ২২৮৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

■ অন্ধের অনুরোধে আয়াত পরিবর্তন

একবার মুহাম্মদের কাছে একটি আয়াত নাজিল হলো। মুহাম্মদের পাশে ছিল একজন অন্ধ সাহাবী, যার নাম আমর ইবন উম্মে মাকতুম। ঐ আয়াতে অন্ধদের বিষয়টি নিয়ে কিছু বলা হয় নি। এই কারণে তিনি মুহাম্মদের কাছে জানতে চাইলেন, অন্ধদের বেলায় কী হবে? মুহাম্মদ তাৎক্ষণিক আগের আয়াতটি বদলে অর্থাৎ একটু আগে বলা আয়াতটি পরিবর্তন করে নতুন আয়াত নাজিল করলেন। সর্বজ্ঞানী আল্লাহ পাক যেই আয়াত শুরুতে নাজিল করেছিলেন, তাতে সংশোধনী আনতে হলো। অর্থাৎ, ঐ অন্ধ ব্যক্তি পাশে না থাকলে আগের আয়াতটিই এখনো মুসলিমগণ পড়তো। অন্যান্য যে সকল আয়াত নাজিল হয়েছে, আয়াত নাজিলের সময় পাশে অন্ধ, প্রতিবন্ধী বা অন্যান্য মানুষজন যদি বসে থাকতেন, সেই আয়াতগুলোও হয়তো বদলে যেতো।

ঘটনাটি বর্ণিত আছে সহিহ বুখারী শরীফে। [ তথ্যসূত্র ৪৩ ]

কোরআন
কোরআন

■ শয়তানের আয়াত

নবী মুহাম্মদের মুখে নাকি একবার শয়তান আয়াত ঢুকিয়ে দিয়েছিল। এই সূরার এই আয়াতগুলোকেই শয়তানের আয়াত বলা হয়। পরবর্তীতে মুহাম্মদ আয়াতগুলো সংশোধন করে সবাইকে বলেছিলেন, ঐ আয়াতগুলো শয়তানের ধোঁকায় তার মুখ থেকে বেড়িয়েছিল। সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, সূরা আন-নাজমের আয়াত মুহাম্মদের মুখে শুনে একই সাথে মুশরিক অর্থাৎ সেই সময়ের মূর্তি পুজারীগণ এবং মুসলিমরা একই সাথে সবাই মিলে মিশে সিজদা করেছিল। নিচের হাদিসগুলো পড়ুনঃ

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [4862]
অধ্যায়ঃ ৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬৫/৫৩/৭. আল্লাহর বাণীঃ অতএব আল্লাহ্কে সাজদাহ্ কর এবং তাঁরই ‘ইবাদাত কর। (সূরাহ আন্-নাজম ৫৩/৬২)
৪৮৬২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ নাজমের মধ্যে সাজদাহ্ করলেন এবং তাঁর সঙ্গে মুসলিম, মুশরিক, জিন ও মানব সবাই সাজদাহ্ করল। আইয়ুব (রহ.)-এর সূত্রে ইব্রাহীম ইবনু তাহ্মান (রহ.) উপরোক্ত বর্ণনার অনুসরণ করেছেন; তবে ইবনু উলাইয়াহ (রহ.) আইয়ূব (রহ.)-এর সূত্রে ইবনু ‘আববাস (রাঃ)-এর কথা উল্লেখ করেননি। [১০৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৯৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

[ তথ্যসূত্র ৫৭ ]
কোরআন

গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]
অধ্যায়ঃ ৪/ কিতাবুল জুমু’আ (জুমু’আর নামায)
হাদিস নম্বরঃ [575]
পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী
পরিচ্ছদঃ ৫১. সূরা আন-নাজমের সাজদাহ
৫৭৫। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা নাজম-এ সাজদাহ করেছেন। মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও মানুষ সবাই তার সাথে সাজদাহ করেছেন। -সহীহ। বুখারী, কিসসাতুল গারানীক— (১৮, ২৫, ৩১ পৃঃ), বুখারী।
আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসউদ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। একদল বিদ্বানের মতে সূরা নাজম-এ সাজদাহ রয়েছে। একদল সাহাবা ও তাবিঈনের মতে মুফাসসাল সূরাসমূহে কোন সাজদাহ নেই। মালিক ইবনু আনাস এই মতের সমর্থক। কিন্তু প্রথম দলের মতই বেশি সহীহ। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ ও আহমাদ প্রথম মতের সমর্থক। (অর্থাৎ মুফাসসাল সূরায় সাজদাহ আছে)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন

উপরের হাদিসটি থেকে জানা যায়, সূরা নাজমের আয়াত আবৃত্তি করার পরে শুধু মুসলিমগণই নয়, মুশরিকরাও নবী মুহাম্মদের সাথে তার অনুসরণ করে সকলে সিজদা করলো। কিন্তু সেই সময়ে তো মুহাম্মদের সাথে মুশরিকদের চরম দ্বন্দ্ব এবং শত্রুতা চলছে। কী এমন হলো, যার ফলে নবী মুহাম্মদ এবং তার অনুসারীরা, সেই সাথে মুশরিকরাও তারই সাথে একত্রে কোরআনের একটি সূরার সাথে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করলো? এমন কী ঘটে গেল? এরকম তো হওয়ার কথা নয়। ভেবে দেখুন, এত বড় আশ্চর্য ঘটনা কীভাবে ঘটে? এর জন্য আমাদের যেতে হবে তাফসীরে জালালাইনের কাছে।

তাফসীরে জালালাইন থেকে সূরা হাজ্জ এর ৫২ এবং ৫৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর পড়ে নিইঃ [ তথ্যসূত্র ৩০ ]

কোরআন
কোরআন

অর্থাৎ, মুহাম্মদ একবার মুশরিক ও মুসলিমদের সমাবেশে একটি সূরা পড়েছিল, যেই সূরাতে লাত এবং উজ্জা দেবীর প্রশংসামূলক বাক্য ছিল। পরবর্তীতে তিনি বলেন, ঐ সময়ে শয়তান তার মুখে লাত ও উজ্জা দেবীর প্রশংসামূলক বাক্য ঢুকিয়ে দিয়েছে, সেগুলো আসলে আল্লাহর কাছ থেকে আসে নি। এই বিষয়ে তাফসীরে ইবনে কাসীর এর সূরা হাজ্জ এর ৫২, ৫৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর যা বলা আছেঃ

কোরআন
কোরআন
কোরআন

এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বলা আছে এই লেখাটিতে। [ তথ্যসূত্র ৩১ ]

অনুরোধের আয়াত

বাঙলাদেশের রেডিও টিভি যারা শোনেন বা দেখেন, তারা অনেকেই অনুরোধের আসর টাইপের কিছু অনুষ্ঠান দেখে থাকবেন। সেখানে দর্শক শ্রোতাগণ কোন গান বাজাতে অনুরোধ করে, এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সেই অনুরোধের ভিত্তিতে গান শোনান। কিন্তু কোরআনেও কিন্তু অনুরোধের আয়াত নাজিল হয়েছে।

উমরের কাকুতিমিনতি ও বারবার অনুরোধেও কোরআনের আয়াত নাজিল হয়েছিল বলে জানা যায় সহিহ হাদিস থেকেই। উমর এই নিয়ে রীতিমত গর্বও করতেন যে, অন্তত তিনটি বিষয়ে উনার পরামর্শে আল্লাহ পাক আয়াত নাজিল করেন। [ তথ্যসূত্র ২৭, ২৮, ২৯ ]

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫২/ তাফসীর (كتاب تفسير)
হাদিস নম্বরঃ [4427]
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
৪৪২৭। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছে ভাল ও মন্দ লোক আসে। আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের ব্যাপারে পর্দার আদেশ দিতেন (তবে ভাল হত) তারপর আল্লাহ্ তা’আলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [5484]
অধ্যায়ঃ ৪০/ সালাম (كتاب السلام)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৭. মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য স্ত্রীলোকের বাইরে যাওয়ার বৈধতা
৫৪৮৪। আবদুল মালিক ইবনু শুআয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার সময় রাতের বেলা ‘মানাসি’ এর দিকে বেরিয়ে যেতেন। الْمَنَاصِع (মানাসি) হল প্রশস্ত ময়দান। ওদিকে উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতেন, আপনার স্ত্রীগণের প্রতি পর্দা বিধান করুন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেননি। কোন এক রাতে ইশার সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনা সাওদা বিনত যাম’আ (রাঃ) বের হলেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘাঙ্গী মহিলা। উমার (রাঃ) তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন, হে সাওদা! আমরা তোমাকে চিনে ফেলেছি। পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষায় (তিনি এরূপ করলেন)। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন আল্লাহর তাআলা পর্দা-বিধি নাযিল করলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৮/ সালাত (كتاب الصلاة)
হাদিস নম্বরঃ [393]
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‏পরিচ্ছদঃ ২৭৩। কিবলা সম্পর্কে বর্ণনা।
৩৯৩। আমার ইবনু ‘আওন (রহঃ) …. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উমর (রাঃ) বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আল্লাহর অহির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা যদি মাকামে ইবরাহীম কে সালাতের স্থান বানাতে পারতাম! তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى‏) “তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান বানাও” (২ : ১২৫)
(দ্বিতীয়) পর্দার আয়াত, আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি যদি আপনার সহধর্মিনীগনকে পর্দার আদেশ করতেন! কেননা, সৎ ও অসৎ সবাই তাদের সাথে কথা বলে। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হয়।
আর একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ অভিমান সহকারে তাঁর নিকট উপস্থিত হন। তখন আমি তাদেরকে বললামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদের তালাক দেয়, তাহলে তাঁর রব তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী দান করবেন। (৬৬ : ৫) তখন এ আয়াত নাযিল হয়।
[অপর সনদে ইবন আবু মারয়াম (রহঃ) …. আনাস (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।]
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন

খেয়াল করে দেখুন, উমরের পরামর্শ আর সেই মহাবিশ্বের শুরুতে লাওহে মাহফুজে লিখে রাখা আল্লাহ পাকের আয়াতের মধ্যে কত মিল!

Alī ibn Ahmad al-Wāhidī এর Asbāb al-Nuzūl গ্রন্থ থেকে জানা যায়, কোরআনের একটি আয়াতও উমরের অনুরুপ হয়েছিল। [ তথ্যসূত্র ৬২ ] [ গ্রন্থ সহায়ক ১৪ ]

কোরআন

■ আয়াত নামার আতঙ্ক

হযরত মুহাম্মদের সাহাবীরা রীতিমত আয়াত নামার আতঙ্কে থাকতেন, যা সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়। তারা ভয় পেতেন যে, এই বুঝি আল্লাহ আরেক আয়াত নাজিল করে বসে। এই আতঙ্কে তারা নবীর স্ত্রীদের সাথে অবাধে হাসাহাসি ঠাট্টামশকরা করতে পারতেন না। তবে নবীজির মৃত্যুর পরে তারা অবাধে হাসিঠাট্টা করতে পারতেন। কারণ তখন আর ক্ষেপে গিয়ে হুটহাট আয়াত নামার কোন সম্ভাবনা ছিল না। [ তথ্যসূত্র ৫৮ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [4808]
অধ্যায়ঃ ৫৪/ বিয়ে-শাদী
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২৫০৫. নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওসীয়ত
৪৮০৮। নুআয়ম (রহঃ) … ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় আমাদের স্ত্রীদের সাথে কথা-বার্তা ও হাসি-ঠাট্টা থেকে দূরে থাকতাম এই ভয়ে যে, এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক করে কোন ওহী নাযিল হয়ে যায়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর আমরা তাদের সাথে অবাধে কথা-বার্তা ও হাসি-ঠাট্টা করতাম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন

প্রশ্ন হচ্ছে, নবীর সাহাবীগণও কী মুহাম্মদের হুটহাট আয়াত নামাবার অভ্যাস সম্পর্কে জানতেন? কারণ, আল্লাহ পাক যদি আয়াত লাওহে মাহফুজে লিখেই রাখেন, সেটা তো নামবেই। সাহাবীগণ হাসাহাসি করুক কিংবা না করুক। উনারা কেন এই আতঙ্কে থাকবেন? তার মানে কী, উনাদের মনেও নবী সম্পর্কে সন্দেহ ছিল? নবীর যত্রতত্র আয়াত নামাবার অভ্যাসের কারণে সাহাবীরা বিরক্ত ছিল?

■ আয়েশার সন্দেহ

আয়েশার সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, আয়েশা একসময় খানিকটা বিরক্ত হয়েই নবী মুহাম্মদকে বলেছিলেন, আল্লাহ আপনার ইচ্ছা অনুসারে সাথে সাথে আয়াত নাজিল করেন। হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আয়েশার মন আমাদের ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করে। [ তথ্যসূত্র ৫৯ ]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [4740]
অধ্যায়ঃ ৫৪/ বিয়ে-শাদী
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২৪৫৫. কোন মহিলা কোন পুরুষের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে পারে কিনা ?
৪৭৪০। মুহাম্মাদ ইবনু সালাম (রহঃ) … হিশামের পিতা উরওয়া থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, যে সব মহিলা নিজেদেরকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সমর্পণ করেছিলেন, খাওলা বিনতে হাকীম তাদেরই একজন ছিলেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, মহিলাদের কি লজ্জা হয় না যে, নিজেদের পুরপুরুষের কাছে সমর্পণ করছে? কিন্তু যখন কুরআন ের এ আয়াত অবর্তীর্ণ হল- “হে মুহাম্মাদ! তোমাকে অধিকার দেয়া হল যে নিজ স্ত্রীগণের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা আলাদা রাখতে পার।” আয়িশা (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মনে হয়, আপনার রব আপনার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করার ত্বড়িৎ ব্যবস্থা নিচ্ছেন। উক্ত হাদীসটি আবূ সাঈদ মুয়াদ্দিব, মুহাম্মাদ ইবনু বিশর এবং আবদাহ্ হিশাম থেকে আর হিশাম তার পিতা হতে একে অপরের চেয়ে কিছু বেশী-কমসহ আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

কোরআন

■ আবদুল্লাহ ইবনে সাদ এর ঘটনা

প্রথমেই বলে নেয়া দরকার, মক্কা বিজয়ের সময় হযরত মুহাম্মদ উসমানের দুধভাই প্রখ্যাত ওহী লেখক আবু ইয়াহইয়া আবদুল্লাহ ইবন সাদ ইবন সারাহ আল আমিরি আল কুরাইশীকে হত্যার নির্দেশ দেন। তিনি আগে মুসলিম ছিলেন, পরে ইসলাম ত্যাগ করে মক্কায় পালিয়ে আসেন। তাকে নিয়ে মুহাম্মদের খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরতে হয়েছিল। কারণ সেই সময় উসমান সুপারিশ করেন যে, তাকে যেন ক্ষমা করা হয়। মুহাম্মদ না পারছিলেন তাকে হত্যা করতে, না পারছিলেন জীবিত রাখতে। এক অস্বস্তিকর উভয় সঙ্কট উপস্থিত হয়েছিল। মনে মনে চাচ্ছিলেন, কেউ তাকে হত্যা করুক, কিন্তু চক্ষুলজ্জার খাতিরে তা করতেও পারছিলেন না। এর পরিষ্কার বিবরণ পাওয়া যায় আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে [ তথ্যসূত্র ৬০ ]

কোরআন

কিন্তু কী এমন ঘটেছিল, কে ছিল এই লোক? যাকে মুহাম্মদ এত তীব্রভাবে ঘৃণা করতো যে, তাকে হত্যার হুকুম দিয়েছিল এবং উসমানের সুপারিশের পরেও মনে মনে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল? এর বিবরণ পাওয়া যায় তাফসীরে মাজহারীতে। [ তথ্যসূত্র ৬১ ]

কোরআন
কোরআন

■ মৃত্যুশয্যায় মুহাম্মদের শেষ বক্তব্য

সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, মৃত্যুশয্যায় রোগে কাতরাতে কাতরাতে মুহাম্মদ তার উম্মতদের উদ্দেশ্যে কিছু লিখে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উমরের নির্দেশে তাকে লিখতে দেয়া হয় নি। এই নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষও ছিল। রীতিমত ঝগড়া এবং মারামারির উপক্রমও হয়ে যাচ্ছিল। মৃত্যুশয্যায় শুয়ে শেষবেলায় কী বলতে চেয়েছিল মুহাম্মদ? তা আর জানা যায় নি। [ তথ্যসূত্র ৩২ ]

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩/ ইলম বা জ্ঞান
পরিচ্ছেদঃ ৮১। ইলম লিপিবদ্ধ করা
১১৫। ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ যখন বেড়ে গেল তখন তিনি বললেনঃ আমার কাছে কাগজ কলম নিয়ে এস, আমি তোমাদের এমন কিছু লিখে দিব যাতে পরবর্তীতে তোমরা ভ্রান্ত না হও। ‘উমর (রাঃ) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ যন্ত্রণা প্রবল হয়ে গেছে (এমতাবস্থায় কিছু বলতে বা লিখতে তাঁর কষ্ট হবে)। আর আমাদের কাছে তো আল্লাহর কিতাব রয়েছে, যা আমাদের জন্য যথেষ্ট। এতে সাহাবীগণের মধ্য মতবিরোধ দেখা দিল এবং শোরগোল বেড়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। আমার কাছে ঝগড়া-বিবাদ করা উচিত নয়। এ পর্যন্ত বর্ণনা করে ইবনু আব্বাস (রাঃ) (যেখানে বসে হাদীস বর্ণনা করছিলেন সেখান থেকে) এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে গেলেন যে, ‘হায় বিপদ, সাংঘাতিক বিপদ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর লেখনীর মধ্যে যা বাধ সেধেছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

কোরআন
কোরআন

আল্লাহর বাণী কী অপরিবর্তনীয়?

কোরআনে আল্লাহ পাক নিজেই গর্ব করে ঘোষণা করেছেন যে, আল্লাহ পাকের নাজিল কৃত আয়াত অপরিবর্তনীয়, সামান্যতম হেরফের যার হতে পারে না, এবং সেই সব আয়াত শাশ্বত বাণী।

■ অপরিবর্তনীয়

কোরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন,

তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা।
কোরআন ১০ঃ৬৪

আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
কোরআন ৬ঃ১১৫

তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকেঃ [ তথ্যসূত্র ৩৩ ]

কোরআন

আপনার পূর্ববর্তী অনেক পয়গম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাঁরা এতে ছবর করেছেন। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর বানী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে।
কোরআন ৬ঃ৩৪

তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকেঃ [ তথ্যসূত্র ৩৪ ]

কোরআন

■ পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংস্কারযোগ্য

আবার একইসাথে, আল্লাহ পাকের অনেক আয়াতের পরিবর্তন পরিমার্জন এবং সংস্কার এসেছে। যার যুক্তি হিসেবে ইসলামিক আলেমগণ বলেন, আল্লাহ আয়াত নাজিল করতে পারলে তার পরিবর্তনও আল্লাহ করতে পারেন। এই নিয়ে মুহাম্মদের আমলেই অসংখ্য ইহুদী প্রশ্ন করেছিল যে, নবী মুহাম্মদকে আল্লাহ পাক একবার একটি নির্দেশ দিয়ে পরে আবার তা বদলে দেয় কীভাবে? আল্লাহ পাকের নিজের কথাই এভাবে ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন করেন কেন?

এমনকি, এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, নবী মুহাম্মদের ওপর আয়াত নাজিল হওয়ার পরে নবী মুহাম্মদ তা ভুলে গিয়েছিলেন। তখন তিনি যুক্তি হিসেবে বলেছেন, আল্লাহ পাকই ঐ আয়াত তাকে ভুলিয়ে নতুন আয়াত দিয়েছেন। এই যুক্তি কতটা যুক্তি আর কতটা গোঁজামিল, তা পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।

এই নিয়ে ইহুদীরা যখন হাসাহাসি করতো, আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, আল্লাহ কারো কাছে জবাবদিহি করেন না। চিন্তা করে দেখুন, বিষয়টি কতটা যুক্তিযুক্ত।

উল্লেখ্য, বেশ কিছু বিষয়ে আল্লাহ পাক তার নিজের দেয়া আইনই পরিবর্তন করেছেন। সেগুলো হচ্ছে, [ তথ্যসূত্র ৩৫ ]।

  • প্রথম অবস্থায় আয়াত নাজিল হয়েছিল যে, নারীর ইদ্দত হবে একবছর। কিন্তু পরবর্তীতে সেই আয়াত বদলে চারমাস দশদিনের বিধান দেয়া হয়।
  • প্রথম অবস্থায় মুজাহির নারীকে পরীক্ষা করার হুকুম জাড়ি হয়। পরবর্তীতে এই বিধান তুলে নেয়া হয়।
কোরআন

এরকম আরো বেশ কিছু বিষয়ে আল্লাহ পাক পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন, যার যুক্তি হিসেবে তাফসীর লেখকগণ বলেছেন, একজন ডাক্তার যেমন রোগীর অবস্থা বুঝে ঔষধ পরিবর্তন করতে পারে, তেমনি আল্লাহ পাকও মাঝে মাঝে আদেশ নিষেধ পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু ডাক্তারের ঔষধ পরিবর্তন আর আল্লাহর আদেশ পরিবর্তন কী এক হতে পারে? [ তথ্যসূত্র ৩৬ ]

কোরআন

একজন ডাক্তারের কাছে সকল তথ্য থাকা সম্ভব নয়। সেই কারণে তিনি এক ঔষধ দিয়ে পরীক্ষা করতে পারে। কারণ আসল রোগটি কী, তিনি হয়তো নিশ্চিতভাবে বোঝেন নি। নানা ধরণের পরীক্ষার পরেও একদম শতভাগ নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় ডাক্তারের পক্ষে কখনই সম্ভব নয়। কারণ মানুষের শরীর অত্যন্ত জটিল। আর ডাক্তারের জ্ঞানও সীমাবদ্ধ। কিন্তু আল্লাহর তো সেই সীমাবদ্ধতা নেই। যিনি সব জ্ঞানের অধিকারী, পরে কী হবে সেটাও তো তিনি ভালভাবেই অবগত থাকার কথা। তাহলে তিনি কেন আদেশ নিষেধ পরিবর্তন করবেন?

ধরে নিচ্ছি, আল্লাহ পাক প্রথমে আয়াত নাজিল করলেন, নারীর ইদ্দত হবে একবছর। তিনি তো সব দেখে শুনে বুঝেই এই নির্দেশ জাড়ি করবেন, নাকি? কোথায় কী কী সমস্যা হতে পারে, কোন নারীর কী কী বিষয় ঘটতে পারে, সবই তো তার জানা। তাহলে প্রথমে একবছরের ইদ্দত, পরে আবার তা পরিবর্তন করে চারমাস দশদিনের ইদ্দত পালনের নির্দেশের মানে কী? তার মানে কী, প্রথম নির্দেশটি সঠিক ছিল না? সেই সময়ে আল্লাহর জ্ঞানের অভাব ছিল? সে ঠিকভাবে না বুঝেই, চিন্তাভাবনা না করেই একবছরের ইদ্দতের নির্দেশ দিয়ে ফেলেছিল? পরে যদি সংশোধনেরই দরকার হয়, তাহলে এটি মহান সর্বশক্তিমান সর্বজ্ঞানী আল্লাহর সরাসরি বক্তব্য কীভাবে হয়?

এবারে আসুন এই সম্পর্কিত আয়াতগুলো দেখিঃ

আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?
কোরআন ২ঃ১০৬

এবারে তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে পড়িঃ [ তথ্যসূত্র ৩৭ ]

কোরআন
কোরআন
কোরআন
কোরআন
কোরআন

এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না।
কোরআন ১৬ঃ১০১

■ নসেখ মানসুখ কাকে বলে?

ناسخ (নাসিখুন) ইস্মে ফায়িল এর একবচন। نسخ (নাস্খুন) মূলধাতু থেকে নির্গত। যার লুগাতী বা আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, বদল করা, দূরীভূত করা, স্থলাভিষিক্ত করা, বাতিল করা, পরিবর্তণ করা, চুড়ান্ত ব্যাখ্যা করা ইত্যাদি। তবে ناسخ (নাসিখুন) শব্দের অর্থ হচ্ছে ব্যাখাকারী।

منسوخ (মানসূখুন) শব্দটি অনুরূপ نسخ (নাস্খুন) মূলধাতু থেকে উদগত। যার লুগাতী বা আভিধানিক অর্থ হলো, বদল করা, দূরীভূত করা, স্থলাভিষিক্ত করা, বাতিল করা, পরিবর্তণ করা, চুড়ান্ত ব্যাখ্যা করা ইত্যাদি।

এই বিষয় দুইটি নিয়ে সাধারণত আম মৌলানারা কখনো মুখ খোলেন না। তবে ইসলাম নিয়ে পড়ালেখা করলে বিভিন্ন সময় ইসলামিক আলেমদের বইপত্রগুলোতে নাসেখ মানসুখ শব্দগুলো পাওয়া যায়। এই শব্দগুলো খুব ভালভাবে জানা এবং বোঝা ইসলামকে সামগ্রিকভাবে বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাসেখের অর্থ হলো, যা রহিত করে। ‘নসখ’ এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে ‘মানসুখ’ শব্দটি। মানসুখ অর্থ হচ্ছে, যা রহিত করা হয়েছে। কোরআনের কিছু আয়াতকে ‘মানসুখ’ বা রহিত আয়াত এবং আরো কিছু আয়াতকে ‘নসখ’ বা পরিমার্জিত আয়াত বলা হয়। নসখ আয়াতের বিধান দ্বারা মানসুখ আয়াতের বিধান রহিত ও প্রতিস্থাপিত হয়। অর্থাৎ, আল্লাহ পাক মাঝে মাঝেই বিভিন্ন আয়াত নাজিল করে, সেই আয়াত আবার রহিত করেছেন, নতুন আয়াত নাজিল করেছেন। বিষয়টি কোরআনের অবিকৃত হওয়ার বিরুদ্ধে এক বিশাল ধাক্কা। যদিও মুসলিমগণ এখানেও মুখ উচিয়ে বলবেন, এই সংস্কার, পরিমার্জনাও আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়েছে।

কোরআনে বলা আছে,

এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন;
[ সূরা নাহলঃ ১০১ ]

আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?
[ সূরা বাকারাঃ ১০৬ ]

সেই সাথে, সহিহ হাদিসেও এই বিষয়ে পরিষ্কার বলা আছে যে, আল্লাহ পাকের নাজিলকৃত কোন কোন আয়াত বাতিল হতে পারে

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫২/ তাফসীর
হাদিস নাম্বার: ৪১৭৪
৪১৭৪। উমাইয়া (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে বললাম যে, এ আয়াত তো অন্য আয়াত দ্বারা মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে। অতএব উক্ত আয়াত আপনি মুসহাফে লিখেছেন (অথবা রাবী বলেন) কেন বর্জন করছেন না, তখন তিনি [উসমান (রাঃ)] বললেন, হে ভাতিজা আমি মুসহাফের স্থান থেকে কোন জিনিস পরিবর্তন করব না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এ থেকে পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায়, আল্লাহ পাক তার নাজিলকৃত আয়াতসমূহে মাঝে মাঝে পরিবর্তন আনেন। প্রয়োজনমাফিক তিনি সংশোধন করেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়তে হবে। [ তথ্যসূত্র ৩৮ ]

মুহাম্মদের সাহাবীগণ, তাবে তাবেইন এবং প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলারগণের মত হচ্ছে, অন্তত পাঁচশ আয়াত রহিত হয়ে গেছে। এসব আয়াতের বিধান এখন আর কার্যকর নয়, যদিও এর প্রায় সবই এখনো কোরআনে রয়েছে। নাসেখ মানসুখের ওপর ভিত্তি করে কোরআনের সূরাগুলোকে চারভাগে ভাগ করা হয়েছেঃ
১. ৩০টি সূরায় নাসেখ মানসুখ উভয় ধরণের আয়াত রয়েছে। অর্থাৎ, এসব সূরায় বিধান রহিতকারী আয়াতও রয়েছে, পাশাপাশি পুরাতন বিধান সমৃদ্ধ আয়াতও রয়েছে।
২. ৩৬টি সূরায় শুধু মানসুখ আয়াতসমূহ রয়েছে। এদেরকে যে আয়াতগুলো রহিত করেছে, সেগুলো অন্য সূরায় স্থান পেয়েছে কিংবা এদের পরিবর্তে অন্য কোন আয়াত পাঠানো হয়নি।
৩. ৬টি সূরায় শুধু নসখ আয়াতসমূহ রয়েছে। এই আয়াতগুলো যাদেরকে রহিত করেছে, সেগুলো অন্য সূরায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. ৪২টি সূরায় নসখ বা মানসুখ জাতীয় কোন আয়াত নেই। এগুলো ঝামেলামুক্ত।

আসুন শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রঃ)এর খ্যাতনাম গ্রন্থ “আল ফাউযুল কবীর ফি উসুলিত তাফসীর” থেকে সরাসরি পড়ি।

কোরআন
কোরআন
কোরআন
কোরআন
কোরআন
কোরআন
কোরআন
কোরআন
কোরআন
কোরআন
কোরআন

মুহাম্মদের করুণ মৃত্যু

মুসলিমদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কোরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন,

এটা (কোরআন) বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ।
সে (মুহাম্মদ) যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত,
তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম,
অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা/প্রধান ধমনী।
তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।
[ কোরআন হাক্কাহঃ ৪৩-৪৭ ]

এবারে আসুন দেখি, মহাবিশ্বের স্রষ্টা সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাকের সর্বাপেক্ষা প্রিয় মানুষ, সর্বাপেক্ষা প্রিয় রাসুল নবী মুহাম্মদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল। [ তথ্যসূত্র ৬৩, ৬৪, ৬৫ ]

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫১/ মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) (كتاب المغازى)
হাদিস নম্বরঃ [4094]
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২২৪৭. নাবী (সাঃ) এর রোগ ও তাঁর ওফাত। মহান আল্লাহর বাণীঃ আপনিতো মরণশীল এবং তারাও মরণশীল। এরপর কিয়ামত দিবসে তোমরা পরস্পর তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাক-বিতন্ডা করবে (৩৯ঃ ৩০,৩১) ইউনুস (রহঃ) যুহরী ও উরওয়া (রহঃ) সুত্রে বলেন, আয়শা (রাঃ) বলেছেন, নবী (সাঃ) যে রোগে ইন্তিকাল করেন সে সময় তিনি বলতেন, হে আয়শা! আমি খায়বারে (বিষযুক্ত) যে খাদ্য ভক্ষণ করেছিলাম, আমি সর্বদা তার যন্ত্রণা অনুভব করছি। আর এখন সেই সময় আগত, যখন সে বিষক্রিয়ার আমার প্রাণবায়ু বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে

মুহাম্মদের বিষে মৃত্যু
বিষক্রিয়ায় মুহাম্মদের মৃত্যু

গ্রন্থের নামঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নম্বরঃ [1629]
অধ্যায়ঃ ৬/ জানাযা
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬/৬৫. নাবী ﷺ -এর ইনতিকাল ও তাঁর কাফন-দাফন।
৩/১৬২৯। আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যু যন্ত্রণা তীব্রভাবে অনুভব করেন, তখন ফাতেমাহ (রাঃ) বলেন, হায় আমার আব্বার কত কষ্ট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আজকের দিনের পরে তোমার আব্বার আর কোন কষ্ট থাকবে না। তোমার আব্বার নিকট এমন জিনিস উপস্থিত হয়েছে, যা কিয়ামাত পর্যন্ত কাউকে ছাড়বে না।
সহীহুল বুখারী ৪৪৬২, আহমাদ ১৬০২৬, সহীহাহ ১৬৩৮, মুখতাসার শামাযিল ৩৩৪, বুখারী শেষ বাক্য বাদ দিয়ে। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ফাতিমা ও মৃত্যুশয্যায় মুহাম্মদ
ফাতিমা ও মৃত্যুশয্যায় মুহাম্মদ

গ্রন্থের নামঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [981]
অধ্যায়ঃ ১০/ কাফন-দাফন
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ মৃত্যুর সময় কষ্ট হওয়া।
৯৮১. হাসান ইবনুুস সাববাহ আল-বাগদাদী (রহঃ) …… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, মৃত্যুর সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে কষ্ট হতে দেখেছি এরপর কারো মৃত্যুর সময় আসান হতে দেখতে আমার আর কোন ঈর্ষা হয় না। – মুখতাসার শামাইল মুহাম্মাদিয়া ৩২৫, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
রাবী বলেন, আমি এই হাদিস সম্পর্কে আবূ যুরআ (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বলেছিলাম, রাবী আব্দুর রাহমান ইবনুল আলা কে? তিনি বললেন, ইনি হলেন আলা ইবনুল লাজলাজ। তাঁকে এইরূপেই আমরা জানি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

মুহাম্মদের মৃত্যু যন্ত্রণা

বলা বাহুল্য, হযরত মুহাম্মদের মৃত্যু যেকোন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর চাইতে বহুগুণ যন্ত্রণাদায়ক হয়েছিল, তা এই হাদিসগুলো থেকেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। এ থেকে আসলে কোন সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না। তারপরেও মুহাম্মদের মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর হওয়া, করুণ মৃত্যু হওয়া, প্রচণ্ড কষ্ট ভোগ করার কারণ কী হতে পারে, তার উত্তরে ইসলামিস্টগণ হয়তো আমাদের নানাভাবে বুঝ দেবেন।

উপসংহার

পুরো আলোচনা থেকে আমরা যেই বিষয়গুলো প্রমাণ পেলাম, কোরআন আল্লাহর সৃষ্টি নাকি আল্লাহর গুণ, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিতর্ক রয়েছে লাওহে মাহফুজ নিয়ে, কোরআনের ভাষা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক, প্রথমবার কোরআন লেখা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক, মুহাম্মদের আমলে কোরআন সংকলন, কোরআনের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নিয়েও খোদ খলিফাদের মধ্যে ভয় ছিল, আবু বকর ওমর এবং আলীর কোরআন নিয়ে হয়েছে ইসলামের প্রধান দুটি ভাগ, উসমানের কোরআন নিয়ে রীতিমত রক্তারক্তি ও হত্যা, সর্বমোট আয়াতের সংখ্যা এবং সূরার সংখ্যা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক, কোরআনের আয়াত ছাগলে খেয়ে যাওয়ায় সেই আয়াতটি আর পাওয়া যায় নি, সূরা তওবা আরেকটি সূরার অংশ নাকি স্বতন্ত্র সূরা তা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক, প্রথম এবং শেষ সূরা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক, নাজিলের ক্রমানুসারে কোরআনে সূরাগুলোর সিরিয়াল নিয়ে রয়েছে বিতর্ক, কোরআনের অনেক অংশ নবী মুহাম্মদ খোদ ভুলে গিয়েছিলেন, আবার আল্লাহ নিজেই কোরআনের অনেক আয়াতের সংশোধনী প্রেরণ করেছিলেন, শয়তানের আয়াত নিয়ে রয়েছে বিতর্ক, এবং মুহাম্মদের মৃত্যুশয্যায় তিনি কী লিখে যেতে চেয়েছিলেন, তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ।

এতকিছুর পরে আরো বহু বহু বিতর্ক রয়েছে গেছে, যার সহজ উত্তম ইসলামিস্টগণ দেন যে, সবই আল্লাহর ইচ্ছা। কিন্তু, সেটি কতটুকু যুক্তি, আর কতটুকু বিশ্বাস, তা পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।

এত অসংখ্য সমস্যা, জটিলতা, কোন আয়াত মানসুখ, কোন আয়াত আছে নাকি নেই, এই সব বিতর্ক এবং তা নিয়ে রীতিমত রক্তারক্তি ঘটনা ঘটার পরেও কেউ যখন বলেন, আল্লাহ পাক ঠিক যেভাবে কোরআন নাজিল করেছেন, তার বিন্দুমাত্র কোন পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংস্কার কিছুই হয় নি, যেভাবে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত এখন সেভাবেই আছে, তখন বিষয়টি হাস্যরসাত্মক একটি ব্যাপারে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র

১ ] WHAT IS THE MEANING OF THE WORD ‘QURAN’?
২ ] The Qur’an is the word of Allah, may He be exalted, and is not created
৩ ] Doubts about the creation of the Qur’aan
৪ ] ‘লাওহে মাহফুয’ বলতে কি বুঝায়? এর অর্থ কি?
৫ ] কোরআন বিকৃতি ও সাত আহরুফের সাতকাহন
৬ ] সহিহ মুসলিম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ষষ্ঠ খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৬৬, ১৬৭
৭ ] সহিহ মুসলিম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ষষ্ঠ খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৬৯
৮ ] আল-ইত্বকান, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৩-৭৪
৯ ] বুখারি শরিফ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৯
১০ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৩৬
১১ ] তারিখুল কোরআনিল কারিম। তাহের আল কুরদি। প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮
১২ ] উলুমুল কোরআন। তকি্ব উসমানি। পৃষ্ঠা ১৮৬-১৮৭
১৩ ] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সপ্তম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৩২-৩৩৩
১৪ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৭৯
১৫ ] তাফসীতে জালালাইন। প্রথম খণ্ড। ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ৩৯
১৬ ] কোরআন হাদিস সংকলনের ইতিহাস। এ কে এম এনামুল হক। পৃষ্ঠা ৬৯
১৭ ] সহীহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রথম খণ্ড। হাদিস নম্বর ৩
১৮ ] দালাইলুল নুবুওয়াহ। দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৭-১৫৮
১৯ ] নাজিলের সময়ানুক্রমে কুরআনের সূরাসমূহের সিরিয়াল
২০ ] সহীহ বুখারী। পঞ্চম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৬৪-১৬৫
২১ ] আদ্দুররুল মানসুর। প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭০,তাবারী, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১
২২ ] সুনানু ইবনে মাজাহ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ১৯৬
২৩ ] সহিহ মুসলিম। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। পঞ্চম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১০০-১০১
২৪ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ষষ্ঠ খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৫৭। হাদিস নম্বর ৩৫৩৬, ৩৫৩৭।
২৫ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড। হাদিস নম্বর ৪৬৩৯
২৬ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সপ্তম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৪৬। হাদিস নম্বর ৩৭৯০
২৭ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৪৭
২৮ ] সহিহ মুসলিম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পঞ্চম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৮৭
২৯ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা ২২৬
৩০ ] তাফসীরে জালালাইন। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৯২-৩৯৩
৩১ ] শয়তানের আয়াত বা স্যাটানিক ভার্সেস
৩২ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৮০, ৮১
৩৩ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ২৭
৩৪ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তৃতীয় খণ্ড পৃষ্ঠা ৭৪৯
৩৫ ] তাফসীতে জালালাইন। প্রথম খণ্ড। ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ২৭৭
৩৬ ] তাফসীরে জালালাইন। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা ২৭৯
৩৭ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রথম খণ্ড পৃষ্ঠা ৬২৩-৬২৭
৩৮ ] কুরআনের নাসখ (রহিত বা বাতিল) আয়াতের তালিকা
৩৯ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রথম খণ্ড। হাদিস নম্বর ২
৪০ ] সহিহ মুসলিম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। হাদিস নম্বর ৫৩৬৪, ৫৩৬৫, ৫৩৬৬
৪১ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রথম খণ্ড। হাদিস নম্বর ৩
৪২ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৪১। হাদিস নম্বর ৪৬২৬
৪৩ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৩৯, ৩৪০। হাদিস নম্বরঃ ৪৬২৪
৪৪ ] সহিহ মুসলিম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৬৫, হাদিস নম্বর ২২৯০
৪৫ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ৫১২, ৫১৩
৪৬ ] সুনানু আবু দাউদ শরীফে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৪২৭, ৪২৮। হাদিস নম্বর ৭৮৬, ৭৮৭
৪৭ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৬৬। হাদিস নম্বর ৪৬৬৭, ৪৬৬৮, ৪৬৬৯
৪৮ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রথম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৬২৬।
৪৯ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দ্বিতীয় খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩১০, ৩১১
৫০ ] তাফসীরে মাযহারী। আল্লামা কাজী মুহাম্মদ ছানাউল্লাহ পানিপথী। হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া প্রকাশনী। তৃতীয় খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৪৮, ৩৪৯
৫১ ] সহীহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৪১
৫২ ] সহিহ মুসলিম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ষষ্ঠ খণ্ড। পৃষ্ঠা ২৮,২৯। হাদিস নম্বর ৬১৪৫
৫৩ ] আল ইতকান। পৃষ্ঠা ১২, ১৩
৫৪ ] তাফহীমুল কোরআন। সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী। খণ্ড ১৯। পৃষ্ঠা ৩২০।
৫৫ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৮৪
৫৬ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। নবম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৯
৫৭ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। হাদিস নম্বর ৪৪৯৮, ৪৪৯৯
৫৮ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড পৃষ্ঠা ৪৫৯। হাদিস নম্বর ৪৮০৮
৫৯ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অষ্টম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৪১৪। হাদিস নম্বর ৪৭৪০
৬০ ] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চতুর্থ খণ্ড। নম্বর পৃষ্ঠা ৫১১
৬১ ] তাফসীরে মাজহারী। হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া প্রকাশনী। চতুর্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ২৬০, ২৬১
৬২ ] Asbāb al-Nuzūl । Alī ibn Ahmad al-Wāhidī । পৃষ্ঠা ১১৪।
৬৩ ] সহিহ বুখারী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সপ্তম খণ্ড। পৃষ্ঠা ২৩৩, ২৩৪। অনুচ্ছেদ ২২৪৭
৬৪ ] সুনানু ইবনে মাজাহ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। দ্বিতীয় খণ্ড। পৃষ্ঠা ৭৪, ৭৫। হাদিস নম্বর ১৬২৯
৬৫ ] সহিহ আত-তিরমিযী । হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী। তাহক্বীক আল্লামা মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী।। দ্বিতীয় খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩০৪। হাদিস নম্বর ৯৭৯
৬৬ ] তাফসীরে জালালাইন। জালালুদ্দিন মহল্লী এবং জালালুদ্দিন সুয়ুতী। ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী। তৃতীয় খণ্ড। পৃষ্ঠা ৬৮
৬৭ ] সহীহ মুসলিম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। হাদিস নম্বর ৬৯৪৩
৬৮ ] আল ইত্বকান। পৃষ্ঠা ১৫
৬৯] সুনান আত-তিরমিযী ( চতুর্থ খণ্ড ) হুসাইন আল-মাদানী প্রকাশনী পৃষ্ঠা ২৫০,২৫২
৭০ ] তাফসীরে মাজহারী। হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া প্রকাশনী। পঞ্চম খণ্ড। পৃষ্ঠা ১১৯
৭১ ] সহীহুল বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২০১

সহায়ক গ্রন্থসমূহ

১ ] কোরআনের বাংলা অনুবাদগুলো Quran.com এর মুহিউদ্দিন খান এর অনুবাদ থেকে নেয়া হয়েছে।
২ ] বাংলা তাফসির কুর’আনুল কারিম – অনুবাদঃ প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ মুজীবুর রহমান
৩ ] আল কুরআনুল কারীম সরল অর্থানুবাদ – আল বায়ান ফাউন্ডেশন
৪ ] তাহফীমুল কোরআন। সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী। সব খণ্ড একসাথে
৫ ] সহিহ বুখারী শরীফ। মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহীম বিন মুগীরাহ বিন বারদিযবাহ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ( ১০ খণ্ড)
৬ ] সহিহ বুখারী। মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহীম বিন মুগীরাহ বিন বারদিযবাহ। তাওহীদ পাবলিকেশন্স খণ্ড
৭ ] সহিহ মুসলিম। ইমাম মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল কুশাইরী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। খণ্ড
৮ ] সহিহ মুসলিম শরীফ। ইমাম মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল কুশাইরী। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। ( খণ্ড)
৯ ] সুনানে আবু দাউদ শরীফ। আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশ’আস আস-সিজিস্তানী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। খণ্ড
১০ ] সূনানু নাসাঈ শরীফ। ইমাম আবু আবদির রহমান আহমদ ইবন শু’আয়ব আন্-নাসাঈ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। খণ্ড
১১ ] সুনানু ইবনে মাজাহ। আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আল-রাবি আল-কুয়াজুইনী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। খণ্ড
১২ ] সহিহ আত-তিরমিযী । হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী। তাহক্বীক আল্লামা মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী। খণ্ড , , , , ,
১৩ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর- হাফেজ আল্লামা ইমাম্মুদিন ইবনু কাসীর (রহঃ)। তাফসীর পাবলিকেশন্স কমিটি। ১,২,৩ ৪,৫,৬,৭ ৮,৯,১০,১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮
১৪ ] তাফসীরে ইবনে কাসীর|ইসলামিক ফাউন্ডেশন
১৫ ] তাফসীরে জালালাইন। জালালুদ্দিন মহল্লী এবং জালালুদ্দিন সুয়ুতী। ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী। খণ্ড
১৬ ] তাফসীরে মাযহারী। আল্লামা কাজী মুহাম্মদ ছানাউল্লাহ পানিপথী। হাকিমাবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া প্রকাশনী। সব খণ্ড একত্রে
১৭ ] আল ফাউযুল কবীর ফি উসুলিত তাফসীর
১৮ ] শিয়া আকিদার অসারতা । শাইখ মুহাম্মদ আবদুস সাত্তার আত-তুনসাবী ।
১৯ ] কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা। ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ।
২০ ] Asbāb al-Nuzūl By: Alī ibn Ahmad al-Wāhidī
২১ ] আল ইত্বকান ইংরেজি

15 thoughts on “কোরআন সংকলন এবং পরিমার্জনের ইতিহাস

  • January 16, 2020 at 11:15 AM
    Permalink

    Wonderful post, Islam and another religion`s content is verify by this post
    Many many thanks

    Reply
  • January 19, 2020 at 3:58 AM
    Permalink

    পশ্চিমা ইতিহাসবিদ থিওফেন এর প্রবন্ধের একটি পাতা, যার সাথে ধর্মের সম্পর্ক থাকতে পারে

    বাইজেন্টাইন ইতিহাসবিদ থিওফেন হচ্ছেন সবচেয়ে প্রাচীন গ্রীক ইতিহাসবিদ, একমাত্র যিনি অত্যন্ত যত্ন করে প্রাচীন গ্রীক, বাইজেন্টাইন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রাচীন ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেn। তার সেই বিরাট ইতিহাস বইতে একটি ছোট কাহিনী পাওয়া যায়, যার সাথে সাথে ইসলামের নবী ও ধর্মের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে দীর্ঘকাল থেকেই বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন। বলা প্রয়োজন, এটি হচ্ছে ইসলাম সম্বন্ধে প্রাচীন পশ্চিমের ইতিহাসবিদের লেখা একমাত্র তথ্য। মুসলমান ধর্ম প্রচারকেরা দের ধর্ম সম্বন্ধে যা প্রচার করে এটিতে তার প্রতিফলন না থাকায় দীর্ঘকাল তারা এটি সত্য হতে পারে বলে স্বীকার করে নি, এবং এখনও স্বীকার করে না। তবে, সাম্প্রতিক কালে ইসলামের যে ইতিহাস জানা যাচ্ছে তা সত্য বলে ধরে নিলে এটিকেও সত্য বলে ধরে নেয়া সম্ভব হবে। এই লেখাটির ইংরেজী অনেক অনুবাদ পাওয়া যায়। নীচে বাংলায় যা লেখা হয়েছে তা ‘সিরিল ম্যাঙ্গো’ র করা ইংরেজী অনুবাদের বাংলা ভার্সন।। নীচে ম্যাঙ্গো’র ইংরেজী মূল অনুবাদটিও দেয়া হয়েছে।

    ইতিহাসবিদ থিওফেন কনফেসর (মৃত্যু। ৮২২)ঃ থিওফেন কনফেসর একজন উন্নত রুচির মানুষ ছিলেন, যার চেহারা ছিল সুন্দর এবং যিনি খেলাধুলা পছন্দ করতেন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি কন্সটান্টিনোপল-বিথিনিয়া এলাকায় বাস করেছেন । তার শিক্ষা বেশী না থাকলেও নিজের প্রতিটি লেখা চূড়ান্ত সততার সঙ্গে সম্পাদন করতেন। তিনি তার গ্রন্থে ইউরোপের প্রাচীন ইতিহাস ধারাবাহিক ভাবে অত্যন্ত সংক্ষেপে বর্ননা করেছে। এই ইতিহাসের বইতে সম্ভবতঃ ইসলাম সম্বন্ধে বর্ননাটি একেবারে ছোট, এক পৃষ্ঠারও কম।

    সিরিল ম্যাঙ্গো ঃ সিরিল ম্যাঙ্গ’র সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার সুনাম রয়েছে। তিনি থিওফেন কনফেসরের ইতিহাস বইটি অনুবাদ কজরেন দীর্ঘ পনেরো বতসর ধরে। নীচের লেখাটি এই গ্রন্থের ৪৬৪ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে।

    (থিওফেনের ইতিহাস বইয়ের ক্রমঃ ৩৩৩) এই বৎসর সারাসিনদের ভন্ড নবী মৌয়ামেড (Mouamed) মারা যায়। মৃত্যুর পূর্বে সে তার আত্মীয় আবৌবাচারস (Aboubacharos)কে তার স্থলাভিষিক্ত করে যায়। একই সময় তার প্রতিপত্তি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সকলে ভীত হয়ে পড়ে। শুরুতে ভুল পথে চালিত ইহুদীরা তাকে তাদের নবী মোসেস যিনি ঈস্বরের সাথে কথা বলেছিলেন, তার অবতার বলে মনে করেছিল। (অন্য অনুবাদ থেকে সংগৃহীতঃ পরে তাদের উটের মাংস খাওয়া দেখে তাদের ভুল ভাঙ্গে। তাদের আর ফিরে যাবার পথ ছিল না বলে ) তারা তাকে তাদের নবী হিসেবে গ্রহন করে । তাদের সংখ্যা ছিল দশ এবং তারা তার সাথেই থেকে যায়।

    মৌয়ামেড এর উৎস সম্বন্ধে জানা যায়, সে আব্রাহামের পুত্র ইসমাইলের বংশে জন্মেছিল। আব্রাহামের দুই ছেলে ছিল- মৌডারোস (Moudaros) এবং রাবিয়াস (Rabias.) মৌডারোস এর পুত্র ছিল কৌরাসস, থেমাইমস, আসাডোস (Kourasos, Kaisos, Themimes, Asados, ) এবং অন্যান্য। এরা সবাই মিডিনাইট (Midianite) মরুভূমিতে গবাদি পশু চড়াতো এবং তাবুতে বাস করতো । এ ছাড়া লেকটান নামে অন্য এক গোত্রের লোকেরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতো।

    মৌয়ামেড এতিম ও দুস্থ ছিল । সে চাডিগা (Chadiga ) নামে তার এক আত্মীয়ের কাছে চাকরী নিয়েছিল। এই কাজে সে উটের সাহায্যে মিসর এবং প্যালেস্টাইনে ব্যবসা করতো। ধীরে ধীরে সে এই মহিলাকে অধিকার করে ফেলে । পরে সে তাকে বিয়ে করে এবং তার উট সহ যাবতীয় সম্পত্তি দখল করে। প্যালেস্টাইন গিয়ে সে সেখানকার ইহুদী ও খৃষ্টানদের ধর্মীয় নানা বিষয় জানতে চায়।

    মৌয়ামেড এর মৃগী রোগ ছিল। এই খবর জানার পর সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়ে চাডিগা এমন একজন গরীব এবং মৃগী রোগ আক্রান্ত লোককে বিয়ে করার জন্য অনুতপ্ত হয়ে পড়ে। মৌয়ামেড তার স্ত্রীকে বলে, “আমি জিব্রাইল নামের এক স্বর্গীয় দূতকে দেখি এবং তাকে দেখলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ি।“ চাডিগা তার বন্ধুর পরিচিত একজন তান্ত্রিকের সাথে যোগাযোগ করে। এই তান্ত্রিক মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার জন্য ইতিপূর্বে বিতাড়িত হয়েছিল। চাডিগা তাকে দূতের নাম সহ সব কাহিনী জানায় । চাডিগাকে খুশী করার জন্য তান্ত্রিক বলে, “মৌয়ামেড ঠিকই বলেছে। এই দূতকেই আগের সব নবীদের কাছে পাঠানো হয়েছিল”।

    চাডিকা ছিল প্রথম মহিলা যে এই কথা বিশ্বাস করে । সে তার গোত্রের অন্য মহিলাদের জানায় যে মৌয়ামেড একজন নবী। প্রথমে শুধুমাত্র মেয়েদের মধ্যে একথা প্রচার হতে থাকে । এর পর প্রথম যে পুরুষ একথা জানে সে হলো আবুবাচোরাস, মৌয়ামেড উত্তরাধিকারী নির্বাচিত করে ছিল। এত্রিবোস (Ethribos) এলাকায় এ কাহিনী প্রচার হতে থাকে। শেষ পর্য্যন্ত তা পরিনত হয় যুদ্ধে। প্রথমে গোপনে প্রচার হতে থাকে দশ বছর ব্যাপী, পরে আরো দশ বছর এবং তার পরে প্রকাশ্যে নয় বৎসর।

    মৌয়ামেড তার লোকদের শিখিয়েছিল, ‘যে তার শত্রুকে হত্যা করবে বা শত্রুর হাতে নিহত হবে সে স্বর্গে যাবে’। মৌয়ামেড আরো বলেছিল, ‘স্বর্গে পাওয়া যাবে প্রচুর মাংস , সঙ্গম করার জন্য মেয়ে, সেখানে আছে মদ, মধু আর দুধের নদী। আর ঐ মেয়েরা হবে একেবারে ভিন্ন রকমের । সেখানে সঙ্গম হবে দীর্ঘস্থায়ী, সুখ থাকবে অফুরন্ত, সেখানে থাকবে ভোগ বিলাসের জন্য আরো অনেক কিছু’। সে আরো বলেছিল, মানুষের অপরের জন্য সহানুভূতি থাকা উচিত, এবং যারা ভূল করে তাদের সংশোধন করা উচিত।

    সিরিল ম্যাঙ্গো’ র করা ইংরেজী অনুবাদ। ঃ
    Translated by Cyril Mango:
    [333] In this year died Mouamed, the leader and false prophet of the Saracens, after appointing his kinsman Aboubacharos (to his chieftainship).[1] At the same time his repute spread abroad) and everyone was frightened. At the beginning of his advent the misguided Jews thought he was the Messiah who is awaited by them, so that some of their leaders joined him and accepted his religion while forsaking that of Moses, who saw God. Those who did so were ten in number, and they remained with him until his murder.[2] But when they saw him eating camel meat, they realized that he was not the one they thought him to be, and were at a loss what to do; being afraid to abjure his religion, those wretched men taught him illicit things directed against us, Christians, and remained with him.
    I consider it necessary to give an account of this man’s origin. He was descended from a very widespread tribe, that of Ishmael, son of Abraham; for Nizaros, descendant of Ishmael, is recognized as the father of them all. He begot two sons, Moudaros and Rabias. Moudaros begot Kourasos, Kaisos, Themimes, Asados, and others unknown.[3] All of them dwelt in the Midianite desert and kept cattle, themselves living in tents. There are also those farther away who are not of their tribe, but of that of lektan, the so-called Amanites, that is Homerites. And some of them traded on their camels. Being destitute and an orphan, the aforesaid Mouamed decided to enter the service of a rich woman who was a relative of his, called Chadiga, as a hired worker [334] with a view to trading by camel in Egypt and Palestine. Little by little he became bolder and ingratiated himself with that woman, who was a widow, took her as a wife, and gained possession of her camels and her substance. Whenever he came to Palestine he consorted with Jews and Christians and sought from them certain scriptural matters. He was also afflicted with epilepsy. When his wife became aware of this, she was greatly distressed, inasmuch as she, a noblewoman, had married a man such as he, who was not only poor, but also an epileptic. He tried deceitfully to placate her by saying, ‘I keep seeing a vision of a certain angel called Gabriel, and being unable to bear his sight, I faint and fall down.’ Now, she had a certain monk [4] living there, a friend of hers (who had been exiled for his depraved doctrine), and she related everything to him, including the angel’s name. Wishing to satisfy her, he said to her, ‘He has spoken the truth, for this is the angel who is sent to all the prophets.’ When she had heard the words of the false monk, she was the first to believe in Mouamed and proclaimed to other women of her tribe that he was a prophet. Thus, the report spread from women to men, and first to Aboubacharos, whom he left as his successor. This heresy prevailed in the region of Ethribos, in the last resort by war: at first secretly, for ten years, and by war another ten, and openly nine.[5] He taught his subjects that he who kills an enemy or is killed by an enemy goes to Paradise; and he said that this paradise was one of carnal eating and drinking and intercourse with women, and had a river of wine, honey, and milk, and that the women were not like the ones down here, but different ones, and that the intercourse was long-lasting and the pleasure continuous; and other things full of profligacy and stupidity; also that men should feel sympathy for one another and help those who are wronged. (Check in google.com)

    Reply
  • January 19, 2020 at 3:58 AM
    Permalink

    জিহাদী ধর্মের পর্দা উন্মোচন
    (প্রায় ১৪০০ বছর আগে মোহাম্মাদ নামে একজন লোক ধর্মযুদ্ধ বা জিহাদের মাধ্যমে সারা পৃথিবী দখলের একটি রাজনৈতিক প্রকল্প চালু করে । দীর্ঘকাল একটি ধর্ম নামে পরিচিত ছিল। সাম্প্রতিক কালে উন্নততর অনুবাদ ব্যবস্থা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জিহাদী রাষ্ট্রগুলির নিয়ন্ত্রন-ব্যর্থতার ফলে ঐ প্রকল্পের অবিকৃত তথ্য আধুনিক বিশ্বের গোচরীভূত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময় তারা এই নোংরা এবং সভ্য মানুষের কাছে অগ্রহনযোগ্য তথ্যগুলি কি করে বিকৃত ভাবে প্রচারে সক্ষম হয়েছিল, সেটাই এখন এক বিরাট বিস্ময় ।)
    কি ভাবে এলো- দুটি অমানবিক, অনৈতিক ও নোংরা আইন?
    চারিদিকে খোলা মরুভূমি, গাছ বলতে কিছু কাঁটা ঝোপ ঝাড় । বিশাল বালুকাময় জমির মধ্যে এখানে ওখানে খেজুর পাতায় ঘেরা বড় বড় বাড়ীর মধ্যে ছোট ছোট কুটীর । এক এক জন পুরুষের অনেকগুলি বউ। তারা আলাদা কুটীরে বাস করতো। রাতের বেলা স্বামীদেরকে একবার এই বউএর র ঘরে তার পর ঐ বউএর ঘরে যাতায়াত করতো হতো । সব বাড়ীর বৌ ঝি দের আবার রাতের বেলা পেট খালি করতে একটু দূরের খোলা মাঠে যেতে হতো। কেবলমাত্র রাতেই তারা এ কাজ করতে পারতো। এই সুযোগে কে যে কার ঘরে ঢুকতো তার হিসাব রাখা যেতো না । ফলাফল? জারজ সন্তান । যেহেতু বন্ধ করার উপায় ছিল না তাই এ নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা ছিল না । তবে যদি দেখা যেতো, বাপের মৃত্যুর ৩ বা ৪ বছর পর সন্তান হয়েছে, তাহলে তা লোকেরা ভাল ভাবে নিতো না । শিশুর জন্মের পর প্রথম কাজ ছিল দাই ঠিক করা। মক্কার কোন বাড়িতে সন্তান হয়েছে খবর পেলেই মরুচারী গরীব বেদুইন রমনীরা এসে শিশুকে নিয়ে যেতো । স্তনপান কাল শেষ হলে শিশুকে বাড়িতে ফিরিয়ে যেতো। বিনিময়ে পেতো উট, বকরী বা নগদ মুদ্রা। এই শিশুটির ক্ষেত্রে অজ্ঞাত করনে ঘটলো ব্যতিক্রম । তার জন্য এমন দাই চাওয়া হলো, যে পাচ বছর পর্য্যন্ত শিশুকে নিজের কাছে রাখতে পারবে। এই সময়কাল পরে সে বাড়িতে ফিরে এসেছিল । অন্য আত্মীয়রা তাকে দেখে খূশী না হলেও তার দাদা খুব খুশী হয়েছিল। এর কিছুদিন পর প্রথমে তার মা এবং পরে তার দাদা মারা যায় । তাকে প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য বাড়ির লোকেরা তাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। কাছেই ছিল পৌত্তলকদের মন্দির, কাবা। বিভিন্ন পৌত্তলিক গোষ্ঠীর লোক এখানে পূজো দিতে আসতো। এটি ছিল মক্কার অন্যতম অর্থনীতির উৎস। এখন ছেলেটির থাকার জায়গা কখনো এবাড়ি, কখনো ওবাড়ী, কখনো বা মন্দিরের চাতাল। সারা দিনের কাজ মাঠে ভেড়া চড়ানো, মন্দিরের পূজা দেখা আর বসে বসে চিন্তা করা। এই সময়ই ধর্ম প্রচারক হবার চিন্তা তার মাথায় আসে।
    সেই দেশে কোন কৃষি কাজ ছিল না । প্রধান আয়করী কাজ ছিল দুটি, বাণিজ্য সামগ্রী নিয়ে দেশে বিদেশে যাওয়া, আর নয় তো ডাকাত দল গঠন করে বনিক বা ভ্রমনকারীর সম্পদ লুট করা। একটু বড় হয়ে সে মাঝে মাঝে বনিকদের সাথে বিদেশে যেত। সেখানে ছোট ছেলেরা ভালোই টাকা পেতো, যতটা না কাজের জন্য তার চেয়ে বেশী লুতু সার্ভিসের জন্য । সে দেশের পুরুষেরা এসব ছাড়া থাকতেই পারতো না । বিদেশে গিয়ে সে নিজের আগ্রহে ইহুদী আর খৃষ্টান ধর্ম সম্বন্ধে অনেক কিছু শিখে নেয়। এগুলি তার পরবর্তী জীবনে ধর্ম প্রচারে সহায়তা করে।
    অল্প বয়সে কষ্টকর কাজ করতে করতে তার মনে হতো, সব কিছু থাকতেও এই বয়সে সে পিতৃসম্পদ হারা। কেন? কারন তার দাদা ও পিতা মারা যাওয়ায় চাচারা তার সুযোগ নিয়েছে । কিন্তু এই জন্য কি সে দায়ী? সে ভাবলো, ‘শুধু আমি একা কেন এই পৃথিবীতে পিতার মৃত্যুর কারনে সম্পদ-হারা হবো? আমি এমন ধর্ম প্রচার করবে যেখানে কোন পিতৃহারা শিশু দাদার সম্পত্তি পাবে না।‘ সেই বয়সে সে বুঝতে পেরেছিল, তার দাদা ও মাএর সুবিধা হবে বলেই তাকে শিশুকালে মায়ের কাছ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। সে ভাবলো, এত কিছু না করে তার দাদা তার মাকে বিয়ে করে নিলেই পারতো । তবে সে জানতো, সে দেশে পুত্রবধূ বিয়ের প্রচলন নেই। তাই সে প্রতিজ্ঞা করলো, সে নিজে এই কাজ করে তার ধর্মে পুত্রবধূ বিবাহের বিধান চালু করবে।
    তবে পরবর্তীকালে তার কোন পুত্রসন্তান না থাকায় সে পালকপুত্র গ্রহন করেছিল । তাকে তার নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করিয়েছিল । সে আশা করেছিল, তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরন করে পুত্রটি মারা যাবে। কিন্তু পালক পুত্রটি মারা না যাওয়ায় সে পালক পুত্রকে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করে এবং পরে সেই স্ত্রীকে বিয়ে করে এই নিয়ম প্রবর্তন করে। তার সুবিধা ছিল, সে এমন এক ঈশ্বর তৈরী করেছিল, যে তার সুবিধা ও ইচ্ছেমত নিয়ম তৈরী করে পাঠাত।
    উপরের লেখাটি জিহাদী মতবাদ উদ্ভব কালের পুস্তক ও দলিলপত্রের ভিত্তিতে লিখিত । এটি পড়ে যে কোন সাধারণ বুদ্ধির লোকও বুঝবে, “কি ভাবে জিহাদী ধর্মে উপরের দুইটি অমানবিক, অনৈতিক ও নোংরা আইন এসেছিল”।

    Reply
  • January 19, 2020 at 4:00 AM
    Permalink

    ধর্মের মধ্যে জেহাদ এল কি ভাবে?
    পিতৃহীন ছেলেটা দাদার মৃত্যুর পর আর একবার পিতৃহীন হলো। বাড়ীতে ঠাই হলো না, থাকতে হলো এবাড়ি ওবাড়ি বা পৌত্তলিকদের মন্দিরের চাতালে । কাজের মধ্যে উট ভেড়া চড়ানো আর মাঝে মাঝে বনিকদের সাথে যাওয়া । পৌত্তলিক মন্দিরে মূর্তিপূজকরা তাদের মূর্তিকে পূজা করতো । তাদের দেশে বিভিন্ন দল বা সম্প্রদায়ের মাঝে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো । তাই তারা নিয়ম করেছিল যে, এই মন্দিরের সীমার মধ্যে ঝগড়া বিবাদ করা ‘হারাম’ বা নিষিদ্ধ। সেই থেকেই এটার নাম হয়েছিল ‘হারাম শরীফ’। বিদেশে যাবার সুবাদে সে ইহূদী আর খৃষ্টান ধর্ম সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনেছিল। একটু বড় হলে সে এক ধনী বর্ষীয়ান খৃষ্টান মহিলার ব্যবসা দেখা শোনার কাজ পেলো। আর কিছুদিন পর এই মহিলার সাথে তার বিয়ে হয়ে গেল। এখন আর তার টাকার অভাব নেই। স্ত্রীর কাছ থেকে সে খৃষ্টান ধর্ম সম্বন্ধে অনে কিছু শিখেছিল। তার স্ত্রী ও শ্যালকের সাথে পরামর্শ করে সে ঠিক করলো, তারা নিজেরাই একটি ধর্ম প্রচার করবে।
    তারা জানতো, তার নিজের যা শিক্ষা তাতে সে ধর্মের কথা বললে কেউ তা বিশ্বাস করবে না। তার শ্যালক জানিয়েছিল, আগের প্রধান দুইটি ধর্মের নবীরা চলে গেছে, তবে দুই ধর্মেই বলা হয়েছে আরও নবী আসার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা করা হলো, তারা বলবে আগের ধর্মের ধারাবাহিকতায় সে নবী হয়ে এসেছে। প্রথমে সে ঐ দুটি ধর্মের কথা বলে তাদের অনুসারীদের নিজের দলে নিয়ে আসবে, তারপর নিজের ধর্ম ঢোকাবে। তার প্রভূর নাম হবে আল্লাহ। জিব্রাইল নামের এক দূত তার কাছে তার বানী নিয়ে আসবে । আগের দুটি ধর্ম আর তার ধর্ম, এই তিনটি ধর্ম মিলিয়ে হবে ‘প্রভূর কাছে আত্মসমর্পন কারী ধর্ম বা ইসলাম’। তারা আরো ঠিক করলো, এই ব্যবসায়ের কফিনে সে শেষ পেরেক পুতে দেবে এই বলে যে, সেই হলো সর্বশেষ নবী, এর পর আর কেউ আসবে না। স্থির করা হলো, সে একটা নির্জন স্থানে গিয়ে সে কিছুক্ষন থাকবে, তারপর একটা ঘোরের মতন করে সেখান থেকে ছুটে এসে বলবে, তার প্রভূ দূতের মাধ্যমে তাকে ধর্মের বানী পাঠিয়েছে। তার স্ত্রী এইগুলি অন্যদের বিশ্বাসযোগ্য করে প্রচার করবে।
    প্রায় দুই দশককাল ধরে চললো এই প্রচেষ্টা। কিন্তু এতে খৃষ্টান, ইহুদী বা কুরাইশ কারো মন গলানো গেলো না। উল্লেখ করা যায় যে, একজনের কাছে শোনা কথা অন্য একজনকে বলতে গেলে কিছুটা পরিবর্তন হয়ে যায়। তার ক্ষেত্রেও তাইই হয়েছিল। যেমন, খৃষ্টান ধর্মের এক সতী নারীকে ঈশ্বরের দ্বারা সন্তানসম্ভবা করার কাহিনীটি তার জবানীতে এলো, তার প্রভূ ফু দিয়ে বা নিজের জিহবাকে লিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করে এ কাজটি করেছিল । অনেক চেষ্টার পর তার নিজের কুরাইশ গোত্রের কিছু লোক তার অনুগত হয়। আসলে এরা ধর্মের আকর্ষনে নয়, বরং তার অদ্ভূত কথা শুনতে বার বার তার কাছে আসতো। এতে তাদের আত্মীয় স্বজনেরা বিরক্ত হয়ে তাদের ত্যাগ করে । তখন তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় তারা তার কাছেই আশ্রয় নিয়েছিল । স্ত্রী ধনী ছিল বলে সেই টাকায়ই তাদের খাওয়া দাওয়া চলতো । কিন্তু এভাবে তার কাছে পড়ে থাকা লোকদের আত্মীয়রা বিরক্ত হয়ে তার ক্ষতি করার ঘোষনা দিল। এই সময় তার স্ত্রী মারা গেলো। এই অবস্থায় পত্নীর আয়ে প্রতিপালিত লোকটি আর তার এই কর্মকান্ড চালিয়ে চালিয়ে যেতে সাহস পেলো না। সে তার স্বল্প সংখ্যক শিষ্য শিষ্যা নিয়ে অন্য দেশে পালিয়ে গেল ।
    মদিনা নামের নতুন জায়গায় কোন চাষাবাদ ছিল না। ব্যবসাবাণিজ্য ছিল তবে ডাকাতিই ছিল প্রধান জীবিকা। ছোট ছোট মরু ডাকাতেরা বড় বাণিজ্য বহরে আক্রমন চালাতে সাহস পেতো না । আবার দলাদলির কারনে ছোট দলগুলি সঙ্ঘবদ্ধ বা বড়ও হতে পারছিল না । লোকটি ভাবলো, যদি সে তার ধর্মের মাধ্যমে এদেরকে সংঘটিত করতে পারে তাহলে তার ডাকাত সর্দার বা রাজা হওয়া কেউ আটকাতে পারবে না। সে দেখলো, মদিনার কিছু মানুষ ইতিমধ্যে তাকে ধর্ম প্রচারক হিসেবে মেনে নিয়েছে। সে বুঝতে পারলো, এখানে তার ধর্মের সাফল্য নির্ভর করছে এই ডাকাতদের তাদের সুযোগ সুবিধা বজায় থাকে এমন একটা ধর্ম প্রচারের উপর ।

    Reply
  • January 19, 2020 at 4:02 AM
    Permalink

    কি ভাবে এলো- এমন উদ্ভট ও নোংরা বেহেস্ত-দোজখ?
    ডাকাতরা ডাকাতি করতো সাধারন মানুষের সম্পদ। সে ঠিক করলো, যারা তার ধর্ম বিশ্বাস করবে তারা হবে ধার্মিক, আর অন্যেরা সব হবে অধার্মিক। তার ধর্মের মূল মন্ত্র হবে আল্লাহ নামের এক দেবতাকে একমাত্র দেবতা বলে মেনে নিতে হবে। সেই সঙ্গে সে (মুহাম্মদ) যে তার একমাত্র প্রতিনিধি তা মানতে হবে। মরুভূমি অঞ্চলে অল্প জল দিয়ে হাত মুখ ধোয়ার একটা পদ্ধতি চালূ ছিল। সে এই পদ্ধতির সাথে তার প্রভূর নাম যুক্ত করে এটিকে তার প্রার্থনার পূর্বে অবশ্য করনীয় হিসেবে যুক্ত করল ।
    একনন “তার বিশেষ ধর্মের নামে জিহাদের মাধ্যমে তার পরিবারের জন্য সমগ্র পৃথিবী দখল করে নিতে হবে” এই গোপন মূল মন্ত্রের মাধ্যমে শুরু হলো তার প্রকল্প । যারা জিহাদ করবে তারা ‘গানি মতের মাল’ এই ধর্মীয় আইন অনুযায়ী লুন্ঠিত সম্পদ ও বন্দীদের তিন পঞ্চমাংশ পাবে । আল্লাহ পাবে এক পঞ্চমাংশ এবং সে নিজে পাবে এক পঞ্চমাংশ। মদিনার ডাকাতেরা এই নিয়ম মহা আনন্দে গ্রহন করেছিল। সে নিজে এক শ’এর বেশী অভিযানে অংশগ্রহন করেছিল। শৃংখলা রক্ষার জন্য সে কঠোর ধর্মীয় নিয়ম চালু করেছিল । যেমন, লুন্ঠিত দ্রব্যের হিসাব না দেয়া বা চুরি করার জন্য হাত কাটা, বিশ্বাস ভঙ্গের জন্য অঙ্গ হানি, ধর্মে অবিশ্বাস করলে বা ধর্ম ত্যাগ করলে গলাকাটা ইত্যাদি । আরবের বাইরে সারা পৃথিবীই তখন অন্য ধর্মের বা বিনা ধর্মের লোকের আবাস। তাই জিহাদের নামে অনন্তকাল ডাকাতি চালিয়ে যেতে কোন অসুবিধা হবার কথা নয়। বিশ্বাস পোক্ত করার জন্য সে দিনে পাচ বার দৈহিক ব্যায়াম সহ উপাসনা এবং বতসরে একমাস উপবাসের বিধান দিলো।
    সে জানতো, ইহূদী আর খৃষ্টান ধর্ম পরকালে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা এরা পছন্দ করে না। সে জানতো, এই ডাকাতেরা চায়, মাংস, মেয়েমানুষ, লুতুকর্ম, মদ, দুধ, মধু, ফল, ছায়া ও ঠান্ডা পানি । তাই সে জানালো, বেহেস্তে জিহাদী ও ধার্মিকদের এসব জিনিসই দেয়া হবে। সে আরো জানালো, যারা তার ধর্ম বিশ্বাস করবে না, সর্দারকে অমান্য করবে, ধর্ম ত্যাগ করবে অথবা জিহাদে অংশ গ্রহন করবে না, পরকালে তাদের স্থান হবে দোযখে, যেখানে শুধুই আগুন।
    ডাকাতদের ইহকালের স্বার্থ নিয়েও তার চিন্তা ছিল। সে জানতো, মদ খেলে মাথা ঠান্ডা রেখে তারা ডাকাতি করতে পারবে না । আর লুতুর কথা মনে হলেই তার নিজেরই কোথাও ব্যাথা লাগতো । কাজেই ইহলোকে সে এই দুইটি আইটেম বাদ দিল। মেয়েমানুষ সহজ লভ্য করার জন্য সে ধর্মীয় বিধান দিলো, পুরুষ মানুষ একসময় সর্বোচ্চ চারটি সহ যে কোন সংখ্যক মেয়ে বিয়ে করতে পারবে এবং তাদের দাসীদের ও গনি মতে প্রাপ্ত নারীদের ভোগ করতে পারবে। যে কোন সময় বিনা কারনে তারা স্ত্রীদের তালাক দিতে পারবে । তা ছাড়া জিহাদের লুন্ঠিত সম্পদ তো আছেই । । ডাকাতেরা আগে যুদ্ধ করতো সম্পদের জন্য । ডাকাতি, যা ছিলো একটি চরম অনৈতিক কাজ, তার ধর্মের বিধানে তা হয়ে গেলো জিহাদ বা ধর্মযুদ্ধ, বেহেস্ত অর্জনের উপায়। সে জানতো, পুরুষকে প্রাধান্য দিতে হলে মেয়েদের অধিকার সংকুচিত করতেই হবে। মেয়েদের ইহকালে ঠান্ডা রাখার জন্য সে রাখলো তালাক, হিল্লা ইত্যাদি। সে আরো বলল, স্বামীদের খুশী না রাখলে এবং ধর্ম পালন না করলে পরকালে তাদের জন্য আছে দোযখের আগুন । পৃথিবীর অন্য ধর্মগুলি বেহেস্ত দোযখ সম্বন্ধে কিন্তু নারী পুরুষের জন্য একই বিধান।
    এমন সব বাস্তবতার পরে যদি কেউ বলে, “পুরুষেরা বেহেস্তে গিয়ে , মাংস, মেয়েমানুষ, লুতুকর্ম, মদ, দুধ, মধু, ফল, ছায়া ও ঠান্ডা পানি পাবে। মেয়েরা স্বামীকে অসন্তুষ্ট করলে দোযখের আগুলে পুড়বে”, তাহলে কি স্পষ্ট বোঝা যায় না যে, একজন কেউ উত্তপ্ত মরুভূমি এলাকায় ডাকাতি পেশায় রত মানুষকে জিহাদ নামের ডাকাতিতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাদেরকে জিনিসের প্রলোভন দেখাচ্ছে? যে কোন সৎ মানুষকে আজকের যুগে “মাংস, মেয়েমানুষ, লুতুকর্ম ও মদ”ীর লোভ দেখালে সে কি অপমানিত বোধ করবে না? একজন মেয়েকে যদি বলা হয়, তোমার কর্তব্য জিহাদী স্বামীকে সন্তুষ্ট করা এবং ধর্ম পালন করা। কর। না হলে তোমাকে আগুনে পোড়ানো হবে”- তাহলে এই ধর্ম সম্বন্ধে সে কি ভাববে?

    Reply
  • January 19, 2020 at 4:03 AM
    Permalink

    কি ভাবে সম্ভব হলো মদিনা রাজের বহিঃবিশ্ব জয় ।
    মদিনায় সাফল্যের পর তার জিহাদী নামের ডাকাত বাহিনী নিয়ে সে চলে গেল মারামারী নিষিদ্ধ বা হারাম মন্দিরের দেশে । নামমাত্র যুদ্ধ হলো। আত্মোত্সর্গকারী জিহাদীদের সঙ্গে যুদ্ধে কে জিতবে ? সেখানে তার কাজ, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা আর আরব উপদ্বীপকে অমুসলিম মুক্ত করা। এখানে দূরের ভক্তদের প্রধান পূজা দেবার জন্য তিন মাস এবং পরে আরো এক মাস সব রকম “হানাহানির জন্য নিষিদ্ধ” হিসেবে ঘোষিত ছিল ।
    ন্যায় নীতিহীন লোক, বিশেষতঃ প্রভূর নামে যার নিজেরই নিয়ম বানানোর সুবিধা আছে, তার জন্য অনেক কাজই সহজ হয়ে যায়। মক্কায় এসে সে বিভিন্ন গোত্র এবং দলের সাথে অনাক্রমন চুক্তি স্বাক্ষর করে । কলে সে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু সময় পেয়ে যায়। এরপর সে পুরানো সকল চুক্তি বাতিল করে ঘোষনা করে, একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর এখানে তার ধর্মের লোক ছাড়া কেউ বাস করতে পারবে না। মৃত্যুর ভয়ে মানুষ তার ধর্মগ্রহন করে। নিয়ম করা হয়, জিহাদ বা ব্যবসা থেকে তাদের যা আয় হবে তা থেকে বার্ষিক শতকরা আড়াই ভাগ ট্যাক্স বা জাকাত দিতে হবে । সমস্যা দেখা দেয় খায়বার নামের এলাকায়। এখানকার লোকেরা কৃষিকাজ করতো বলে তাদের পক্ষে জিহাদে অংশগ্রহন সম্ভব ছিল না। তাদের আয়ের শতকরা পঞ্চাশ ভাগ ট্যাক্স ধার্য্য করা হয়। এই ট্যাক্সের নাম জিজিয়া । পরবর্তী কালে কিছু ইসলামী শাসক অমুসলিমদের জন্য এই জিজিয়া কর প্রবর্তন করে। প্রকৃত সত্য এই যে, ইসলামে অমুসলিমদের জন্য কোন ট্যাক্স নেই । কারন এই ধর্মে এই অমুসলিমদের বেচে থাকারই কোন অধিকার ছিল না। তার ধর্মে আরো বিধান রাখা হয় যে পৃথিবীর যে কোন স্থানে তার ধর্মের লোকের প্রার্থনা করার অধিকার আছে। তার রাজধানী শহরের উন্নয়নের জন্য সে ঘোষনা করে যে, তার ধর্মের সকল লোকের জীবনে কমপক্ষে একবার এই স্থানে ভ্রমন বা হজ করা বাধ্যতামূলক ।
    তার দলে এখন বিপুল জিহাদী। তাদের জন্য কাজ দরকার। তাদেরকে কাজ দেয়া হলো, প্রথমে কাছের এবং পরে দূরের দেশগুলিতে আক্রমন চালিয়ে মুসলমান বানানো। মোহাম্মদের লেখা জিহাদী চিঠি যাতে লেখা ছিল ‘হয় মুসলমান হও, নয় মর’ ইউরোপের বিভিন্ন লাইব্রেরী ও সংগ্রহশালায় রাখা আছে।
    সে দিনে পাচ বার (প্রথমে ছিল তিন বার) ব্যায়াম ভিত্তিক প্রার্থনা এবং বছরে একমাসের উপবাস এর নিয়ম প্রবর্তন করে। সে জানতো, এর মাধ্যমে মানুষের ‘ইমান’ পোক্ত হবে। জীবনের প্রথম ষোল সতের বছর এই গুলি করার পর সবারই ধারনা হয়, “এগুলি মিথ্যা হলে তো আমি পাঠার মতন আমার জীবনের এই মূল্যবান সময় ও শক্তি নষ্ট করেছি।“ কেউই নিজেকে পাঠা ভাবতে চায় না। ঈমান পোক্ত হবার মূল কারন এইটি। যারা একবার এই ধর্মে ঢুকেছে তাদের বেরিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করতে ধর্মত্যাগীদের জন্য করা হয় গলা কাটার বিধান। এমন ধর্মের মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে, এতে আশ্চর্যের কি আছে?
    আগে মরু ডাকাত বাহিনী ডাকাতি করতো, এখন আত্মোতসর্গকারী ডাকাত বাহিনী ‘মহান ধর্মের” প্রচারের নামে বাইরের দেশ আক্রমন শুরু করলো। তারা ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ায় অনেক রাজাকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল। ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় শান্তির ধর্ম প্রচারের নামে তারা গনহত্যা চালিয়ে একটির পর একটি দেশ দখল করতে থাকে। এই সব রাজ্যের শিক্ষিত সেনাবাহিনী মূলতঃ আইন শৃংখলা বজায় রাখতো বা অন্য রাজ্যের শিক্ষিত সৈন্যের সাথে যুদ্ধ করতো। ন্যায়নীতি হীন ডাকাত বাহিনীর সাথে যুদ্ধে তারা পরবে কেন? ডাকাত আর শিক্ষিত সৈন্যের অসম যুদ্ধে ডাকাতের জয়কেই ইসলামী ইতিহাসবিদগন ধর্মের শক্তি হিসাবে উল্লেখ করেছে। তারা রাজাদের মানুষ সৈন্য আর ধর্মের নামে আত্মোতসর্গকারী নরপশুদের পার্থক্যটা পরিষ্কার করে নি। রাজার সৈন্যদের যুদ্ধ ছিল শুধুমাত্র সৈন্যদের সঙ্গে, আর সেখানে সৈন্য হত্যা ছিল জয়ের প্রচেষ্টায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা মাত্র । অথচ ধর্মোন্মাদ সৈন্যদের ক্ষেত্রে যুদ্ধ মানেই ছিল গনহত্যা, সাধারন মানুষদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে, লুট পাট করে, মেয়েদের উপর পাষবিক অত্যাচার করে আক্রান্ত পক্ষের মনোবল ভেঙ্গে দেয়া। সেখানে যুদ্ধজয় মানেই ছিল গানি মতের মাল অর্থাৎ বিজিত সৈন্য ও সেই অঞ্চলের সকল মানুষ ও সম্পত্তির মালিকানা লাভের উল্লাস। আর যুদ্ধে মারা যাওয়া মানে ছিল বেহেস্তে গিয়ে হুর পরী ও অন্য সব জিনিস ভোগ করা । এই সব কিছুর লোভ একটা মানুষকে যে ধরনের উন্মাদ এবং হিংস্র জন্তুতে পরিনত করতে পারে, পৃথিবীর কোন রাজার সৈন্য বাহিনীর পক্ষে তেমন হবার সুযোগ কখনই ছিল না। আর এটাই ছিল এই “ধর্মাশ্রয়ী রাজ্ত্ব বিস্তার লোভী” রাজাদের ‘অভাবনীয়’ সাফল্যের মূল কথা।

    Reply
  • January 19, 2020 at 4:03 AM
    Permalink

    কি ভাবে সম্ভব হলোঃ এত দীর্ঘ সময় টিকে থাকা।
    হ্যা, প্রায় চৌদ্দ শ’ বছর টিকে আছে বটে, তবে সন্মানের সাথে নয় । উন্নত বিশ্বে আজকাল যেখানে সবাইকে সমান নজরে দেখা হয়, সেখানে এই ধর্মের লোক জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। তাদের বিশেষ ভাবে পরীক্ষা করা হয়, কোন কোন স্থানে ঢুকতে দেয়া হয় না, এমন কি প্লেন থাকে নামিয়েও দেয়া হয়। অন্য ধর্মের লোকেরা তাদের প্রচারকের স্বভাব চরিত্র বা ধর্মের খুটি নাটী নিয়ে যেভাবে হাসাহাসি করে । তবে ভদ্রতার খাতিরে তাদের দেখতে পেলেই এই আলোচনা বন্ধ করে দেয়।
    মূলতঃ একজন ব্যাক্তির সারা পৃথিবীকে তার পরিবারের সম্পত্তি করার উদ্দেশ্যে ডাকাত দলের কর্মকান্ড অব্যাহত রেখে তাদের স্বার্থে প্রনীত “অত্যন্ত নীচু মানের ধর্মের নামে একটি রাজনৈতিক মত বাদ” পৃথিবীর বুকে প্রায় চৌদ্দ শ’ বছর ধরে টিকে আছে, এটা ভাবলে একটু অবাকই লাগে। মজার কথা হলো, নিজের পরিবারের স্বার্থে প্রনীত হলেও এই লোকটির পরিবার টেকে নি। তার কোন পুত্র সন্তান ছিল না। জামাইকে নিয়ে তার আশা ছিল। কিন্তু আল্লাহ তার আশা পূর্ন করে নি। তার ধর্মে বিধান ছিল, প্রথমে গনি মতের মাল, পরে যাকাত এবং জিজিয়া হিসেবে প্রাপ্ত সম্পদের এক পঞ্চমাংশ পাবে আল্লাহ, এক পঞ্চমাংশ তার পরিবার আর বাকীটা, প্রথমে ছিল জিহাদীরা পাবে, পরে ঠিক হয়, তা বাইতুল মাল বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে। তার মৃত্যুর পর তার জামাই ঝগড়া করে ইরান চলে যায়। এই জামাইএর পুত্ররা রাজত্ব দাবী করতে গেলে দুজনেই নিহত হয়। তার মৃত্যুর পর তার ‘হাওয়া থেকে পাওয়া’ বানী সঙ্কলন করতে গেলে দেখা গেল, সেখানে ভাগাভাগীর দলিলটিই নেই। সংকলকের দাবী এটি ছাগলে খেয়ে ফেলেছে। যারা তা বিশ্বাস করে নি তারা সংকলককে হত্যা করে। পরিবারতন্ত্রের প্রবাহ এখানেই শেষ।
    এদিকে জামাই ঐ ভাগাভাগির দলিল সহ ধর্মের মূল পুস্তক এর ভিত্তিতে ইরান থেকে শুরু করে এই ধর্মের নতুন সংস্করন। সেখানে শুরু হয় পরিবারতান্ত্রিক শাসন। তবে তা ইরানের বাইরে আর তেমন বিস্তৃত হতে পারে নি। এদিকে ডাকাততন্ত্রের এই ধর্মের বেচে থাকার উপায়ই হচ্ছে, জিহাদ বা আক্রমন। এই আক্রমন দূর দুরান্তে রাজ্য দখলে সফল হলেও এই রাজ্যগুলি আর “হারাম শরীফ-কাবা-মক্কা” কেন্দ্রের অধীনে থাকলো না, বরং বিভিন্ন ডাকাত সর্দারেরা নিজেরাই এগুলির রাজা হয়ে বসলো । এই রাজাদের টিকে থাকার মূলমন্ত্র ছিল দুটি ঃ (১) তাদের অস্ত্র শক্তি এবং (২) তারা যে এই ধর্মকে প্রচন্ড শ্রদ্ধা করে এটা দেখানো। এটার জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরবের সব আইন চালু করা। নানা কারনেই আর তা করা যাচ্ছিল না। এসব দেশে জিহাদী আয়ের অর্থনীতি আর চালানো যাচ্ছিল না। আবার হজের আয় ছিল না। আবার যে সব রাজ্য তারা দখল করেছিল সেখানে ব্যাবসার পাশাপাশি শিল্প, আহরন, রুপান্তর ইত্যাদি অর্থকরী আইটেম চালু থাকায় জিহাদের প্রয়োজনও ছিল না। সেই সঙ্গে সকল নাগরিককে ধর্মান্তরিত করাও বাস্তব সম্মত ছিল না। এমতাবস্থায় এসব দেশে অমুসলিমদের সহ্য করার মনোভাব ও মানিয়ে নেবার পরিবেশ তৈরী হয়। এই প্রেক্ষিতে কৃষিজীবিদের জন্য উদ্ভাবিত জিজিয়া কর অমুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, যদিও তা তাদের সংখ্যা কমিয়ে দেয়।
    সংক্ষেপে বলি, এভাবে চলতে চলতে কিছুটা পরিবেশ, কিছুটা সভ্য মানুষের প্রভাব সব কিছু মিলিয়ে এই ধর্ম রাষ্ট্রীয় ভাবে যে পর্য্যায়ে আছে তা হলো, শ্বশুরের প্রবর্তিত একক ধর্মের দুটি একনায়কতান্ত্রিক দেশ (সৌদী আরব এবং ব্রুনেই), জামাইয়ের প্রবর্তিত কিঞ্চিত পরিবর্তিত একক ধর্মের একটি পরিবার তান্ত্রিক দেশ (ইরান), শ্বশুরের প্রবর্তিত একক ধর্মের মানুষের বেশ কয়েকটি কিছুটা উদার নৈতিক একতান্ত্রিক দেশ, এই ধর্মের লোক বেশী এমন কয়েকটি গনতান্ত্রিক দেশ যার একটিতেও গনতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয় নি। পৃথিবীতে উন্নত দেশের যে মানদন্ড তৈরী হয়েছে তার বিচারে এদের একটিও উন্নত দেশ নয়। এই ধর্মের মূল নীতির সাথে গনতন্ত্রের প্রকাশ্য সঙ্ঘাতের কারনে এই ধর্মের সবগুলি দেশকেই বলা যায়, “গনতন্ত্রের শত্রু দেশ”।
    এর বাইরে পৃথিবীতে রয়েছে গনতান্ত্রিক এবং উন্নতদেশ সমূ্হ, গনতন্ত্রের কারনে স্বাভাবিক কারনেই যেগুলি ধর্ম নিরপেক্ষ । নানা কারনে জিহাদী ধর্মটির কিছুটা চারিত্রিক পরিবর্তন হলেও, এমনকি গনতান্ত্রিক দেশে বসবাসরত তাদের অনেক অনুসারীর এখনও চারিত্রিক পরিবর্তন হয় নি। তারা তাদের ধর্মীয় দেশগুলির উস্কানী ও অর্থ সাহায্যে ( এটি হতে পারে তাদের ডাকাতি-জিহাদের পরিবর্তর্তিত প্রোগ্রাম) সব সময় গনতান্ত্রিক দেশগুলির ক্ষতি করার চেষ্টায় রত।

    Reply
  • January 19, 2020 at 4:04 AM
    Permalink

    মৌলিক সমস্যার স্বরূপ উৎঘাটন
    আজকের পৃথিবীতে মোট প্রায় ৭৫০ কোটী মানুষের মধ্যে জিহাদী ধর্মের মানুষ আছে ১৬০ কোটী (২১%), আর অন্য ধর্মের ও বিনা ধর্মের মানুষ আছে ৫৮০ কোটী (৭৯%)। এই দুই ধরনের মানুষ প্রধানতঃ ছয় ধরনের দেশে বসবাস করে। পৃথিবীর মানুষকে ২১ ও ৭৯ এই দুইভাগে বিভক্ত করে দেখানোর কয়েকটি বিশেষ কারণ আছে। যেমনঃ
    (১) পৃথিবীর মানুষ তাদের সীমিত ৬০-৮০ বৎসরের জীবন শান্তিতে কাটাতে চায় । অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং একনায়কতন্ত্রের ব্যর্থতার পর এখন যে কোন দেশের পক্ষে শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক শাসন পদ্ধতি হচ্ছে গনতন্ত্র। গনতন্ত্রে রাষ্ট্রের প্রতিটি মানূষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। নির্বাচিত সরকার দেশের সম্পদের সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে তার সকল নাগরিকের সাধারন প্রয়োজন (যেমন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থান) এবং স্বীকৃত মানবাধিকার রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত।
    (২) সরকারের যদি কোন বিশেষ ধর্মের প্রতি আকর্ষন বা ঘৃনা থাকে তাহলে তাদের পক্ষে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে পৃথিবীর অনেক ধর্মের লোকের পক্ষে ধর্মীয় ভাবে নিরপেক্ষ আচরন করা সম্ভব হলেও জিহাদী ধর্মের লোকের পক্ষে এখন পর্য্যন্ত তা সম্ভব হয় নি। মূলতঃ এই ধর্মের ইতিহাস ও মূলনীতি পর্য্যালোচনা করলেই এর কারণ জানা যায়।
    এই প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর সকল ধর্মই গনতন্ত্রের পথে কম বেশী বাঁধা হলেও জিহাদী ধর্মটি গনতন্ত্রের প্রমানিত শত্রু। এই আলোকে আমরা যদি বিভিন্ন রাষ্ট্রকে ভালো থেকে খারাপের মানে ভাগ করি তাহলে নিচের চিত্রটি পাওয়া যাবে।
    ০১। গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে সকল ধর্মের এবং ধর্মহীন নাগরিকের সমান অধিকার। পৃথিবীর সকল উন্নত রাষ্ট্র এই গ্রুপে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক কালে এসব দেশে দেশীয় এবং বহিরাগত জিহাদী সন্ত্রাসীদের দমন করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
    ০২। গনতন্ত্রের নামে অগনতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে জিহাদী ধর্মের লোক সংখ্যালঘু , এবং যেখানে রাষ্ট্র সাধারন ভাবে কোন ধর্মকে উতসাহিত করে না। যেমন, চীন, জাপান, উঃ ও দঃ কোরিয়া, মায়ানমার ইত্যাদি। তবে এসব দেশে প্রাচীন ধর্মস্থানকে পর্য্যটনের আয় হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং জিহাদী ধর্মকে দমন করা হয়।
    ০৩। গনতন্ত্রের নামে অগনতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে জিহাদী ধর্মের লোক সংখ্যালঘু , এবং যেখানে রাষ্ট্র সাধারন ভাবে সকল ধর্মকে উতসাহিত করে । যেমন, ভারত ও শ্রীলংকা।
    ০৪। গনতন্ত্রের নামে অগনতান্ত্রিক রাস্ট্র যেখানে জিহাদী ধর্মের লোক সংখ্যাগুরু, এবং যেখানে রাষ্ট্র সাধারন ভাবে সকল ধর্মকে সহ্য করে । যেমন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশীয়া।
    ০৫। গনতন্ত্রের নামে অগনতান্ত্রিক রাস্ট্র যেখানে সকল নাগরিক জিহাদী ধর্মের , এবং যেখানে কেবলমাত্র জিহাদী ধর্মের মানুষের স্বার্থ দেখা হয়। যেমন, ইরাক, ইয়েমেন, কুয়েত, মালদ্বীপ ইত্যাদি।
    ০৬। একনায়ক শাসিত জিহাদী ধর্মের লোকদের জন্য রাষ্ট্র, যেখান থেকে সারা বিশ্বে জিহাদ চালানোর জন্য উৎসাহ ও মদত দেয়া হয়। যেমন, সৌদী আরব, ইরান ও ব্রুনেই।
    উল্লেখ করা যায় যে, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ গনতান্ত্রিক দেশ গঠন করতে পারে, সেখানে জিহাদী ধর্মের বা এমনকি জিহাদী সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের কোন দেশ তা পারে না। শুধু তাই নয়, এরা সন্ত্রাস প্রেরনের মাধ্যমে অন্য দেশের গনতন্ত্র ধংশ করার চেষ্টা করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই ধর্মের জন্মই হয়েছে জিহাদের মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবী দখল করার জন্য। এখন তারা যখন বুঝে গেছে, তা আর সম্ভব নয় তখন তারা ধর্ম সম্প্রসারনের কিছু বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। যেমন, (১) দ্রুত সন্তানসংখ্যা বৃদ্ধি, অভিবাসন বা ধর্মান্তরের মাধ্যমে জিহাদী ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা, (২) অ-জিহাদী দেশে জিহাদী ধর্মের উপাসনালয়, ধর্মীয় স্কুল ও ছাত্রাবাস স্থাপন করা, (৩) সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটিয়ে ত্রাসের মাধ্যমে অ-জিহাদী দেশের সরকারকে তাদের ধর্মের সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহনে বাধ্য করা ইত্যাদি।
    এদিকে জিহাদী ধর্মকে নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য বিভিন্ন দেশ যে সব ব্যবস্থা করেছে তার মধ্যে আছে, (ক) টেকনোলজীর মাধ্যমে তাদের যাতায়াত ও কার্য্যকলাপ নিয়ন্ত্রন করা (যেমন, যুক্তরাষ্ট্র), (খ) তাদেরকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া (যেমন, মায়ানমার), (গ) তাদেরকে ক্যাম্প-এ বন্দী করে রাখা (যেমন- চীন) ইত্যাদি। এই যখন ছিল সামগ্রিক অবস্থা তখন বর্তমান শতাব্দীর শুরুতেই এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা এই জিহাদী ধর্মটির ভিত্তিমূল কাপিয়ে দিয়েছে।

    Reply
  • January 19, 2020 at 4:05 AM
    Permalink

    এমন পোলারে বাঘে খাইলো কেমনে ?
    আগের এপিসোডে “বর্তমান শতাব্দীতে এমন ঘটনা ঘটেছে যা ধর্মটির ভিত্তিমূল কাঁপিয়ে দিয়েছে।“ আজকের আলোচনা, সেই ঘটনা। ইসলামের জিহাদী বাহিনী এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ আক্রমন করতে থাকে। ঐ বিশাল সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রন তখন আর মক্কা থেকে করা সম্ভব ছিল না। জিহাদী সেনাপতিরা নিজেরাই সব নিয়ন্ত্রন হাতে নিয়ে বিজিত দেশগুলির খলিফা হয়ে পড়ে। তারা এখন নিজেরাই আইন তৈরী করতো। তবে ইসলাম বা এর প্রচারকের বিরুদ্ধে যায় এমন কিছু করতে সাহস পেতো না। কারণ এই ধর্মের প্রতি আনুগত্যই ছিল তাদের রাজ্য শাসনের মূল ভিত্তি।
    এই কারনে মোহাম্মদের মৃত্যুর উনিশ বছর পর থেকে পরবর্তী প্রায় ৩০০ বছর এই ধর্ম সম্বন্ধে যে সব বই লেখা হয়েছিল রাজারা কোন রকম পরিবর্তন করতে সাহস করে নি। এই বইগুলি হচ্ছে- (১) কোরান , (২) হাদিস এবং (৩) মাগাজী এবং (৪) সিরাত । এই বইগুলির মধ্যে এমন অসম্ভব, পরস্পরবিরোধী, উদভট, অবাস্তব এবং অতিরঞ্জিত কথা আছে যা যে কোন বুদ্ধিমান লোকই বাদ দিতে চাইবে । কিন্তু উপরে বর্নিত কারনে শত সহস্ত্র বৎসর ধরে সেগুলি অবিকৃত আছে এবং এখন ক্লাসিক বইএর মর্য্যাদা লাভ করেচে । এই গুলি আরবী ভাষায় লেখা । অন্য ভাষাভাষীরা এগুলি জানতো আরবী ভাষা জানা লোকের তরজমায় । মজার ব্যাপার, তরজমাকারীরা সেগুলি শ্রোতাদের মন জয় করার জন্য বিকৃত ভাবে পরিবেশন করতো। ফলে অন্য ভাষার লোকদের মনে এই ধর্ম সম্বন্ধে এক ভ্রান্ত এবং ভালো ধারনার সৃষ্টি হয়। আবার দুর্বোদ্ধতার সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে কোরানের আয়াতগুলি সময়-অনুক্রম অনুযায়ী সাজানো হয় না। সৌদী আরব এই বইগুলি বাংলায় অনুবাদের জন্য প্রচুর অর্থ প্রদান করে। সরকার ধার্মিক ব্যাক্তিদের সহায়তায় এগুলির বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করে। এই গুলি এখন সারা পৃথিবীর মাদ্রাসা, মসজিদ, ধর্মীয় লাইব্রেরী এবং ব্যাক্তিগত সংগ্রহে আছে। আর এর পিডিএফ কপি যে কত কম্পিঊটার, ট্যাব আর স্মার্ট মোবাইলে আছে তার কোন ইয়ত্তা নাই । এই সঙ্গে এসেছে সময় অনুক্রম মেনে তৈরী করা কোরান ।
    এগুলি পড়ে আর এর অর্থ বুঝে ধার্মিকদের চক্ষু চড়ক গাছ। অন্ধ ধার্মিকেরা বলছে, “এটা কিছুতেই হতে পারে না”। কিন্তু পরক্ষনেই শিক্ষিত ছেলেরা কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে মূল বই পড়ে সত্যটা বলে দিচ্ছে। এই বইগুলি স্পষ্ট বলে দেয়, মোহাম্মদ যে নতুন ধর্ম প্রচার করে তাতে সে নিজেকে ইহুদী এবং খৃস্টান ধর্মের পরবর্তী এবং শেষ নবী হিসেবে ঘোষনা করে । দশ বছর এই কাজে সফল না হওয়ায় সে ডাকাতের দেশ মদিনায় চলে যায়। সেখানে সে ডাকাতেরা পছন্দ করবে এমন পরকাল (বেহেস্ত) যেখানে থাকবে মদ, মাংস, মেয়েমানুষ, শিশু, মধু, দুধ, ছায়া, ঠান্ডা পানি ইত্যাদি, এবং ইহকালে বিধর্মীদের সম্পদ লুন্ঠন ও তাদের হত্যা করার নিয়ম বা জিহাদ ঘোষনা করে। বলা হয়, জিহাদে প্রাপ্ত সম্পদ ও বন্দীদের তিন পঞ্চমাংশ তাদেরকে দেয়া হবে। মেয়েদের বিষয়ে বলা হয়, ধর্ম পালন না করলে তারা দোযখের আগুনে পুড়বে। নিজের জন্ম এবং পিতৃ সম্পত্তি না পাওয়ার দুঃখ থেকে তাকে পুত্র বধুকে বিবাহ এবং অনাথের সম্পত্তি না পাওয়ার মত অদ্ভুত আইন চালূ করতে হয়। নিজের পুত্র না থাকায় তার পারিবারিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন সফল হয় নি। তার প্রচারিত ধর্মের সকল তথ্য এখন স্মার্টফোন আর নেট আছে এমন যে কোন বাংলাভাষীর হাতের একেবারে কাছে। সৌদী আরব ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় যে সত্য আজ থলের বাইরে বেড়িয়ে পড়েছে তাকে আর থলেতে ঢোকানো যাবে না । বরং নাড়াচাড়া করলেই তা থেকে ভুরভুরে গন্ধ বের হয়। তাই বলা হয়েছিল, “বর্তমান শতাব্দীর শুরুতেই এমন ঘটনা ঘটেছে যা জিহাদী ধর্মটির ভিত্তিমূল কাঁপিয়ে দিয়েছে।“ এই কাঁপন ভিত্তিকে শক্ত করবে না ভেঙ্গে ফেলবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
    (জিহাদী ধর্মের পর্দা উন্মোচন- শেষ)

    Reply
  • March 14, 2020 at 8:36 AM
    Permalink

    “বানান ভুল বা তথ্যগত ভুল কেউ পেলে বিনা দ্বিধায় সংশোধন করে দিন। আপনার সংশোধনী সঠিক হলে কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হবে ”

    কোথায় এবং কিভাবে এডিট করলে অশুদ্ধ বানান শুদ্ধ করা সম্ভব???

    Reply
  • May 11, 2020 at 11:59 AM
    Permalink

    এখানে কোরআন ঠিক আছে লেখক তার মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে। ভাই ১ লিটারের বোতলের মুখে যদি আজ্ঞুল ঢুকান তাহলে কি তলা খুজে পাবেন??? তলা খুজে না পেলে কি বলবেন তলা নেই???? তেমনি আপনি বুঝতে ভুল করলে কিংবা আপনার বিজ্ঞান অসামর্থ্য হলে কেন বলেন কোরআন ভুল??? নিজের মূর্খতা ও বিজ্ঞানের অসামর্থ্যতা কেন স্বীকার করেন না??? আপনি বললেন ফাতেহা পড়লে মনে হয় না আল্লহর কথা??? আমরা আল্লাহর কাছে কি চাইব সেটা ফাতেহা দ্বারা আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছে। আর সূরা গুলো আমরা পাঠ করি তাই এগুলো আমাদের কথার সাথে মিল রেখে আল্লাহ নাযিল করেছে আর এর গভীরে আরো কি আছে আল্লাহ ভাল জানেন।

    Reply
  • May 12, 2020 at 6:43 AM
    Permalink

    বিকল্প সার্ভারের ব্যবস্থা করুন। আমরা যেন নিয়মিত পড়তে পারি। মানুষ সচেতন হচ্ছে। মেীলবাদীদের মাথায় হাত। সংশয় এর বিরুদ্ধে লেগেছে। বিপ্লবী দমনের চেষ্টা যুগ যুগ ধরে করা হয়েছে। বিপ্লব থেমে থাকেনি। আপনারা সংগ্রাম চালিয়ে যান। নতুন প্রজন্ম আপনাদের মাধ্যম্যে সচেতন হবে। নতুন প্রজন্মকে যেন মেীলবাদ গ্রাস করতে না পারে। সে চেষ্টা আপনাদের চালিয়ে যেতে হবে। আপনারা সফল হবেন। ধন্যবাদ।

    Reply
  • June 6, 2020 at 3:46 AM
    Permalink

    ইসলাম হচ্ছে দিবালোকের মত, কিছু সত্য কিছু মিথ্যা দিয়ে বানোয়াট তথ্য পেশ করে কি সত্য ঢাকা দেয়া যায়? কখনোই না…… তোমাদের মেহনত কোন কাজে আসবে না…. একেবারে দূর্বলতম ঈমানদার ও তোমাদের মিথ্যাচার ধরে ফেলতে পারে অনায়াসে…. যতদিন গড়াবে দলে দলে মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আসবে

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *